কবি পরিচিতি । সুনির্মল বসু
বাংলা সাহিত্যের এক স্মরণীয় শিশুসাহিত্যিক। তিনি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯০২ সালে বিহারের গিরিডিতে। সাঁওতাল পরগনার মনোরম পরিবেশই তাঁকে কবিতা রচনায় অনুপ্রেরণা জাগায়। প্রধানত ছোটোদের জন্য ছড়া, কবিতা, গল্প, কাহিনি, উপন্যাস, ভ্রমণ কাহিনি, রূপকথা, কৌতুক নাটক প্রভৃতি সরস সাহিত্য তিনি রচনা করেছেন। তিনি ভালো ছবি আঁকতেও পারতেন। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য বইগুলি হল—হাওয়ার দোলা, ছানাবড়া, হইচই, বেড়ে মজা, ছন্দের টুংটাং, বীর শিকারী, কথাশেখা প্রভৃতি।
তার রচিত আত্মজীবনী ‘জীবনখাতার কয়েক পাতা' (১৯৫৫)। ১৯৫৬ সালে তিনি ‘ভুবনেশ্বরী’ পদক পান। তাঁর সম্পাদিত বই হল — ‘ছোটদের চয়নিকা’ ও ‘ছোটদের গল্পসংকলন।‘গল্পবুড়ো’ কবিতাটি 'সুনির্মল বসুর শ্রেষ্ঠ কবিতা' থেকে নেওয়া হয়েছে।
কবিতা সংক্ষিপ্তসার : গল্পবুড়ো
একজন বৃদ্ধলোক ভোরবেলা তার থলেতে করে হরেকরকম গল্পের পসরা নিয়ে বেরিয়ে ছোটোদের ডাক
দেন। তিনি বলেন তাঁর থলেতে রয়েছে রূপকথার গল্প। তাই তিনি সবাইকে শোনান। তাই কবিতাটির গল্পবুড়ো নামকরণ সার্থক।
সারমর্ম : এক থুথুড়ে বুড়ো শীতের সকালে পথ ধরে হেঁটে চলেছে এবং চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে বলছে রূপকথা চাই রূপকথা। সে ছোটো ছোটো ছেলেদের হাঁক ছেড়ে ডাকছে তার তল্লিতে কী আছে তা দেখার জন্য। বুড়োটি বলছে তার ঝুলিতে মনভরানো গল্প আছে। পক্ষীরাজ, রাজপুত্তুর, দত্যি, দানো, যক্ষিরাজ তার ঝুলিতে সব আছে। তার এই ভঙ্গিটায় সার-বাঁধা কড়ির পাহাড়, হীরা-মাণিক, তেপান্তরের মাঠ, হট্টমেলা, ময়নামতি নদী সবই রয়েছে। কেশবর্তী নন্দিনীও এই থলেতেই বন্দি রয়েছে। যে এই সমস্ত দেখার জন্য এই প্রবল শীতের ভোরে উঠে আসবে না সে শত্রু। গল্পবুড়ো তাদের মূর্খতা ভাঙবে এবং তাদের রূপকথা শোনাবে না।
ব্যাকরণ বিষয়ক প্রশ্নোত্তর
শব্দার্থ:-
উত্তুরে হাওয়া—উত্তর দিক থেকে বয়ে আসা হাওয়া।
সত্বরে—জলদি, দ্রুত/তাড়াতাড়ি।
রূপকথা—কাল্পনিক গল্প।
হাঁক-জোরে ডাক।
তল্লি-ঝোলা/থলে।
আজগুবি—অদ্ভুত।
সার বাঁধা—পরপর সাজানো।
প্রত্যুষ—ভোর।
ঝলমলে উজ্জ্বল।
পক্ষীরাজ—রূপকথার গল্পে কাল্পনিক ডানাযুক্ত ঘোড়া।
কেশবর্তী—অনেক চুল আছে এমন মেয়ে।
মূর্খতা–বোকামি।
হট্টমেলা—হইচই এর উৎসব।
মোর—আমার।
প্রখর—তীব্র।
চোখ ধাঁধা—যা দৃষ্টিকে ধাঁধিয়ে দেয়।
নন্দিনী— মেয়ে/কন্যা।
বিপরীত শব্দ :-
বইছে—থামছে।
উত্তুরে–দক্ষিণা।
চলছে—থামছে।
ছোট্টরা—বড়োরা।
ভর্তি—খালি।
জলদি—আস্তে।
| ভাঙব—গড়ব।
মোর—তোর।
বাক্য রচনা করো :
উত্তুরে—শীতের ভোরে উত্তুরে হাওয়া বইতে থাকে।
রূপকথা—ছোটোবেলায় সবাই রূপকথার গল্প শুনতে ভালোবাসে।
জলদি—স্কুলে যেতে দেরি হচ্ছে, জলদি পা চালিয়ে আয়।
টলটলে—আমাদের গ্রামের দিঘির জল টলটলে।
শত্রু–না বুঝে কাউকে শত্রু ভাবা উচিত নয়।
মূৰ্খতা—না বুঝে কোনো বিষয়ে কথা বলা একরকম মূর্খতা।
আজগুবি—রূপকথায় অনেক আজগুবি ঘটনা ঘটে থাকে।
ভর্তি—শীতকালে পাহাড়ে বরফ ভর্তি থাকে।
পক্ষীরাজ—রূপকথার গল্পে এক ডানাওয়ালা ঘোড়া হল পক্ষীরাজ।
ব্যথা—খেলতে গিয়ে পা মচকে খুব ব্যথা হয়েছে।
হাঁক—রাতে রাস্তায় পাহারাওয়ালা হাঁক দেয়।
গল্পবুড়ো কবিতার অনুশীলনীর প্রশ্ন-উত্তর
১. ঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখ :
১.১. উত্তুরে হাওয়া বলতে বোঝায় হাওয়া যখন উত্তর দিক থেকে বয়ে আসে। এমনভাবে ___(গ্রীষ্ম/ শরৎ/ শীত/ বর্ষা) কালে হাওয়া বয়।
উত্তর :-শীত
১.২. থুত্থুরে শব্দটির অর্থ__( চনমনে /জড়োসড়ো/ জ্ঞানী/ নড়বড়ে)
উত্তর- নড়বড়ে।
১.৩. রূপকথার গল্পে যেটি থাকে না___( দৈত্য দানব/ পক্ষীরাজ /রাজপুত্তুর/ উড়োজাহাজ)।
উত্তর-উড়োজাহাজ।
১.৪. রূপকথার গল্প সংগ্রহ করেছেন এমন একজন লেখক এর নাম বেছে নিয়ে লেখো। (আশাপূর্ণা দেবী/ দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার/ সত্যজিৎ রায়/ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)।উত্তর- দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার।
২. প্রশ্ন ও উত্তর
২.১ লেখালেখি ছাড়াও সুনির্মল বসু আর কোন কাজ ভালো পারতেন।
উঃ। লেখালেখি ছাড়াও সুনির্মল বসু ভালো ছবি আঁকতে পারতেন।
২.২ তাঁর লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উঃ। তাঁর লেখা দুটি বই হল—'ছানাবড়া' ও 'হইচই'।
৩. এলোমেলো বর্ণগুলিকে সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো :
থাতৃ রূপ, রতুজরাপু, জ ক্ষী রাপ, ব প মনন, জগুবি আ।
উঃ। থা রূ ক প—রূপকথা।
র ত্তু জ রা পু;
উত্তরঃ - রাজপুত্তুর।
লক্ষী রা প—পক্ষীরাজ।
ব প ম নন-মনপবন।
জগুবি আ-আজগুৰি।
৪. অন্ত্যমিল আছে এমন পাঁচজোড়া শব্দ কবিতা থেকে খুঁজে নিয়ে লেখো :
বাঁধা, ধাঁধা।-- ১) উত্তুরে, থুত্থুরে ২) ঝোলা ,ভোলা ৩) যক্ষীরাজ, পক্ষীরাজ ৪) নন্দিনী ,বন্দিনী ৫) ঝলমলে, টলটলে।
৫. বাক্য বাড়াও --
৫.১ শীতকালে হাওয়া বইছে। (কেমন হাওয়া?) উঃ। শীতকালে উত্তুরে হাওয়া বইছে।
৫.২ গল্পবুড়ো ডাকছে। (কেমন বুড়ো?) উঃ। খুখুড়ে গল্পবুড়ো ডাকছে।
৫.৩ গল্পবুড়োর মুখ ব্যথা। (মুখ ব্যথা কেন?) উঃ। চেঁচিয়ে ডাক পেড়ে গল্পবুড়োর মুখ ব্যথা।
৫.৪ গল্পবুড়োর ঝোলা আছে। (কোথায় ঝোলা ?) উঃ। গল্পবুড়োর কাঁধে ঝোলা আছে।
৫.৫ দেখবি যদি আয়। (কীভাবে আসবে?) উঃ। ছেলেরা ছুটে আসবে।
গল্পবুড়ো কবিতার প্রশ্ন-উত্তর
পঞ্চম শ্রেণি বাংলা
পাতাবাহার বাংলা পঞ্চম শ্রেণি
৭) 'ডাকছে রে'আর 'ডাক ছেড়ে' শব্দ জোড়ার মধ্যে কি পার্থক্য তা দুটি বাক্য রচনা করে দেখাও।
উদাহরণ- বাছুরটি ডাক ছেড়ে মাকে ডাকছে রে।
উত্তর- ডাক ছেড়ে - ছোট ছেলেটা ডাক ছেড়ে কাঁদছে ।
ডাকছে রে - সীতাকে তার বাড়িতে ডাকছে রে।
৮) শব্দ ঝুড়ি থেকে নিয়ে বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো।
উত্তর- বিশেষ্য - তল্পি, ঝোলা, শীত, রাজপুত্তুর, কারখানা, জলদি, সত্বর।
বিশেষণ- উত্তুরে, থুত্থুরে,আজগুবি
৯) পক্ষীরাজ এর মতো( ক্ +ষ্= ক্ষ) রয়েছে এমন পাঁচটি শব্দ তৈরি করো।
উত্তর- বৃক্ষ, শিক্ষা, রক্ষা, পক্ষ, বক্ষ।
১০) ক্রিয়ার নিচে দাগ দাও।
১০.১) বইছে হাওয়া উত্তুরে।
উত্তর - বইছে হাওয়া উত্তুরে।
১০.২) ডাক ছেড়ে সে ডাকছে রে ।
উত্তর- ডাক ছেড়ে সে ডাকছে রে ।
১০.৩) আয়রে ছুটে ছোট্টরা।
উত্তর - আয়রে ছুটে ছোট্টরা।
১০.৪) দেখবি যদি জলদি আয় ।
উত্তর- দেখবি যদি জলদি আয়।
১ ০.৫) চেঁচিয়ে যে তার মুখ ব্যথা ।
উত্তর - চেঁচিয়ে যে তার মুখ ব্যথা।
১২. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
১২-১. গল্পবুড়ো কখন গল্প শোনাতে আসে?
গল্পবুড়ো শীতকালের ভোরবেলায় গল্প শোনাতে আসে।
১২-২ গল্পবুড়োর ঝোলায় কী কী ধরনের গল্প রয়েছে?
উ-। গল্পবুড়োর ঝোলাতে দত্যি-দানব, যক্ষিরাজ, রাজপুত্তুর, পক্ষীরাজ, কেশবতী রাজকন্যার গল্প রয়েছে!
১২.৩ গল্পবুড়ো শীতকালের ভোরে ছোটোদের কীভাবে ঘুম' থেকে ওঠাতে চায়?
গল্পবুড়ো হাঁক দিয়ে ডেকে, লোভনীয় গল্পের কথা বলে ছোটদের শীতকালের ভোরে ঘুম থেকে উঠাতে চাই।
১২.৪ 'রূপকথা'র কোন্ কোন্ বিষয় কবিতাটিতে রয়েছে?
উঃ। পৃথ্বীরাজ, যক্ষিরাজ, রাজপুত্তুর, দত্যি-দানব, তেপান্তরের মাঠ, হট্টমেলার হাট, বেশবর্তী রাজকন্যা প্রভৃতি
রুপকথার বিষয় কবিতাটিতে রয়েছে।
১২.৫ গল্পবুড়ো কাদের তার গল্প শোনাবে না?
উঃ। যেসব ছেলে এই প্রবল শীতের ভোরে আসবে না, গল্পবুড়ো তাদেরকে তার গল্প শোনাবে না।
১৩. তোমার পড়া অথবা শোনা একটি রূপকথার গল্প নিজের ভাষায় লেখো।
উঃ। অনেকদিন আগে এক দেশে এক রাজা ছিলেন। তার বিরাট রাজপ্রাসাদ, অনেক দাস-দাসী, হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। রাজার ছিল রানি ও একটা ছোট্ট সুন্দর ফুটফুটে রাজকন্যা। এইভাবে
তো সেই রাজার বেশ আনন্দে দিন কাটছিল। এমন সময় হঠাৎ পাশের দেশের রাজা সেই দেশ আক্রমণ করায় রাজা রাজকন্যা ও রানিকে সাবধানে থাকতে বলে অনেক দূরে যুদ্ধ করতে গেলেন।
সেই নগরের শেষে এক পাহাড়ে এক রাক্ষস থাকত। সে ছদ্মবেশ ধরে মানুষ সেজে নগরে আসত আর খালি ভাবত কীভাবে রাজকন্যাকে চুরি করা যায়। কিন্তু রাজা থাকায় তার সুযোগ হত না। এইবার সে
দেখল এইবার খুব ভালো সুযোগ এসেছে। সে অপেক্ষা করতে থাকল একলা রাজকন্যাকে পাওয়ার জন্য। একদিন রাতে রাজকন্যা একা রাজবাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে আছে। রাক্ষস সেই সুযোগে এক বিরাট পাখির রূপ ধরে রাজকন্যাকে নিয়ে উড়ে গেল।
চারদিকে খোঁজ পড়ে গেল। রানি মেয়ের শোকে জ্ঞান হারালেন। রাজা খবর পেয়ে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ছুটে এলেন। কিন্তু কোথাও রাজকন্যাকে পাওয়া গেল না। শেষে উপায় না দেখে রাজা ঘোষণা করলেন যে তার মেয়ের সন্ধান দিতে পারবে তার সাথে বা তার ছেলের সাথে তিনি নিজের মেয়ের বিয়ে দেবেন। সেই রাজ্যে এক গরিব ব্রাহ্মণ ছিলেন। তার একটি ছেলে ছিল। ছেলেটি অত্যন্ত ভালো। সে খুব পরিশ্রম করত এবং বাবা-মায়ের সেবা করত। সেই ব্রাহ্মণটি খুব ভালো হাত গুনতে জানতেন। ব্রাহ্মণটি একদিন রাজার কাছে গিয়ে বললেন তার গুণের কথা। রাজা সাগ্রহে রাজি হলেন। তাঁর যা যা জিনিস দরকার সব আনিয়ে দিলেন। ব্রাহ্মণ এরপর তার বিদ্যা প্রয়োগ করলেন এবং রাজাকে বললেন যে তার মেয়েকে রাক্ষস সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে, তেপান্তরের মাঠ ছাড়িয়ে এক পাহাড়ের গুহায় লুকিয়ে রেখেছে।
রাজা তৎক্ষণাৎ সৈন্য নিয়ে বেরিয়ে পড়লেন। সেই গুহায় পৌঁছতে বছর পেরিয়ে গেল। তিনি গুহায় পৌঁছে রাক্ষসের সঙ্গে যুদ্ধ করে রাক্ষসকে মেরে রাজকন্যাকে ফিরিয়ে আনলেন। তারপর কথামতো ব্রাহ্মণের ছেলের সাথে নিজের মেয়ের বিয়ে দিলেন। সাত দিন, সাত রাত ধরে অনুষ্ঠান চলল। তারপর তারা সবাই মিলে সুখে শান্তিতে রাজপ্রাসাদে বসবাস করতে লাগলেন।
পাঠ মূল্যায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর:
১. গল্পবুড়ো কখন হেঁটে চলেছে?
উঃ। গল্পবুড়ো শীতের ভোরে হেঁটে চলেছে।
২. সে কাদের আসতে বলছে?
উঃ। সে ছোটোদের আসতে বলছে।
৩. হাওয়া কোনদিক থেকে বইছে? উঃ। হাওয়া উত্তর দিক থেকে বইছে।
৪. গল্পবুড়ো কী নিয়ে এসেছে? উঃ। গল্পবুড়ো রূপকথা নিয়ে এসেছে।
৫. সে ছোটোদের কী দেখতে আসতে বলছে? উঃ। সে ছোটোদের তার তল্লি দেখতে আসতে বলছে।
৬. গল্পবুড়োর ঝোলা কোথায় আছে? উঃ। গল্পবুড়োর কাঁধের উপর ঝোলা আছে।
৭. গল্পবুড়োর তল্লিতে কী রয়েছে? উঃ। তার তল্পিতে দত্যি-দানব, যক্ষিরাজ, রাজপুত্তুর, পক্ষীরাজ, প্রভৃতি আছে
৮. কড়ির পাহাড় কীভাবে রয়েছে? উঃ। কড়ির পাহাড় সার বাঁধা হয়ে রয়েছে।
৯. ময়নামতী কী? উঃ। ময়নামতী একটি টলটলে জলে ভরা দীঘি।
১০. কোথাকার হাট গল্পবুড়োর থল্লিতে আটকে গেছে? উঃ। হট্টমেলার হাট গল্পবুড়োর ভঙ্গিতে আটকে গেছে।
১১. গল্পবুড়োর থলিতে কে বন্দিনী হয়ে রয়েছে? উঃ। কেশবতী নন্দিনী গল্পবুড়োর থলেতে বন্দিনী হয়ে রয়েছে।
২. নিসচা
ধাঁধা ও ঝলমলে? উঃ। মানিক হীরা চোখ ধাঁধা আর সোনার কাঠি ঝলমলে।
.
১৩. কারা শত্রু হয়ে যাবে? উঃ গল্প বুড়োর ডাকে যে আসবে না সে শত্রু হয়ে যাবে।
১৪. সুনির্মল বসুর লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো? উঃ ছানা বড়া, হইচই।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর
১. গল্পবুড়ো কখন কী বলতে বলতে হেঁটে চলেছে?
উঃ। শীতের ভোরে যখন উত্তুরে হাওয়া বইছে সেই সময় থুথুড়ে এক গল্পবুড়ো চেঁচিয়ে মুখ বাথা করে 'রূপকথা চাই রূপকথা চাই" বলতে বলতে তাড়াতাড়ি হেঁটে চলেছে।
২. গল্পবুড়ো কাদের কীভাবে ডেকে কী বলছে?
উঃ। শীতের ভোরে গল্পবুড়ো হাঁক ছেড়ে ছোটোদের ডাকছে। ডাক ছেড়ে সে ছোটোদের ঘুম ছেড়ে তাড়াতাড়ি ছুটে আসতে বলছে এবং তার তল্লি বা ঝোলাটায় কী আছে তা দেখতে বলছে।
৩. গল্পবুড়োর কাঁধের তল্পিটায় কী কী গল্প ভরা আছে?
উঃ। গল্পবুড়োর কাধের ঝোলা বা তল্পিটায় অনেক মন ভোলানো গল্প ভরা আছে। যার
মধ্যে দত্যি, দানব, যক্ষিরাজ, রাজপুত্তুর এর কথা এবং পক্ষীরাজ ও মনপবনের দাঁড়ের
আজগুবি সব কারখানার কাহিনি ভর্তি হয়ে রয়েছে।
৪. গল্পবুড়োর ঝোলায় আর কী কী আটকে আছে?
উঃ। সার-বাঁধা কড়ির পাহাড়, চোখ ধাঁধানো হীরা-মাণিক, ঝলমলে সোনার কাঠি,
ময়নামতীর টলটলে জল এবং তেপান্তরের মাঠ ও হট্টমেলার হাট সবই গল্পবুড়োর
বেলায় আটকে আছে। কেশবতী নন্দিনী অর্থাৎ রাজকন্যাও তার থলেতে বন্দিনী হয়ে
রয়েছে।
৫. ‘তেপান্তরের মাঠখানা' – রূপকথার গল্পে এই মাঠের কথা কীভাবে পাওয়া যায় নিজের ভাষায় লেখো।
উঃ। রূপকথার গল্পে আমরা এক জনহীন বিশাল প্রান্তর বা মাঠের কথা পাই যা তেপান্তরের মাঠ নামে পরিচিত। গল্পে এই মাঠটির এপার ওপার দেখা যায় না। এই সুবিশাল মাঠটিতে দিনের বেলাতেই গা ছমছম করে। সেখানে গরম হাওয়ার ঘূর্ণি পাক খায়। আরও দেখা যায় মাঠটিতে এখানে ওখানে বড়ো বড়ো গাছ রয়েছে যার নীচে রাজপুত্র বা গল্পের নায়ক বিশ্রাম করে। সেই গাছটির ওপর সাধারণত ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমী পাখি বাসা বেঁধে থাকে। কোনো গল্পে এই মাঠে পথ হারিয়ে কারও মৃত্যু হয়েছে জানা যায়। তবে রূপকথার গল্পে এই মাঠ পেরোলেই পাওয়া যায় রাজবাড়ি বা রাক্ষসপুরী অথবা
বড়ো জলাশয় যেখানে থাকে রাক্ষসের প্রাণভোমরা। ঘুমন্ত রাজকন্যাও অনেক সময় এইসব রাক্ষসপুরীতে বন্দিনী হয়ে থাকে। যাকে রাজপুত্র উদ্ধার করে।
নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন ও উত্তর :
১. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো :
। (ক) চলছে হেঁটে পথ ধরে (শীতের/গ্রীষ্মের/বর্ষার) ভোরে সত্বরে। উঃ। শীতের।
(খ) আয়রে ছুটে (বড়রা/মেজোরা/ ছোট্টরা)–উঃ। ছোট্টরা।
(গ) কী আছে মোর ভল্পিটায় (পড়বি / দেখবি / শুনবি) যদি জলদি আয়। উঃ। দেখবি।
(ঘ) সোনার কাঠি – (ঝকমকে/ঝলমলে/ ঝিকিমিকি)। উঃ। ঝলমলে।
(ঙ) ভাঙব তাদের মূর্খতা বলব নাকো - (গল্পকথা/ সকথা/রূপকথা)। উঃ। রূপকথা।
(চ) প্রত্যুষ শব্দটির অর্থ – (সন্ধ্যা/সকাল/ ভোর)। উঃ। ভোর।
(ছ) গল্পবুড়োর ঝোলায় বন্দিনী – (পাখি / যক্ষিরাজ/কেশবতী নন্দিনী)। উঃ। কেশবতী নন্দিনী।
২। বাক্য বাড়াও --
(ক) চলছে হেঁটে পথ ধরে (কে চলছে।) । গড়ে পথ ধরে হেঁটে চলেছে।
(খ) 'ঘুম ছেড়ে আজ ওঠ তোরা' (কারা উঠবে?) উঃ ছোটরা ঘুম ছেড়ে উঠবে।
(গ) বলছে ডেকে (কীভাবে ডেকে বলছে?) উঃ হাঁক ছেড়ে ডেকে বলছে।
(ঘ) পাহাড় সার-বাঁধা (কীসের পাহাড়?) উঃ। কড়ির পাহাড় সার-বাঁধা।
(ঙ) শীতের প্রত্যুষে (কেমন প্রত্যুষ) উঃ শীতের প্রখর প্রত্যুষ।
(চ) এই থলেতে বন্দিনী (কে বন্দিনী) উঃ। কেশবতী নন্দিনী এই থলেতে বন্দিনী।
৩. এলোমেলো শব্দগুলি সাজিয়ে তৈরি করো
দু চা ড়ো গ—গল্পবুড়ো। রা ক্ষি জ য—যক্ষিরাজ!, র না খা কা-কারখানা
না য় ম তী ম-ময়নামতী।
Golpoburo|Class 5| Question Answer|গল্পবুড়ো - Somadhan
মন্তব্যসমূহ