বুনো হাঁস - লীলা মজুমদার । Buno has| Class 5| Question- Answer| বুনো হাঁস | প্রশ্ন-উত্তর সমাধান

 বুনো হাঁস  - লীলা মজুমদার



এ খন যদি আকাশের দিকে চেয়ে দ্যাখো, দেখতে পাবে দলে দলে বুনো হাস, তিরের ফলার।
আকারে, কেবলই উত্তর দিকে উড়ে চলেছে। কেউ এত উঁচুতে উড়ছে যে কোনো শব্দ নেই; কারো শুধু
ডানার শোঁ শোঁ শোনা যাচ্ছে; আবার কেউ বা বলছে গাঁক গাঁক গাঁক। ওরা গরম দেশে শীত কাটিয়ে
এখন শীতের শেষে আবার নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছে। ওদের বেশি গরমও সয় না, আবার বেশি
শীতও সয় না।

কেউ কেউ হিমালয়ের উত্তর দিক থেকে, বরফের পাহাড় পেরিয়ে আসে। অনেকে নাকি ভারতের
মাটি পার হয়ে, সমুদ্রের ওপর দিয়ে উড়ে ছোটো ছোটো দ্বীপে গিয়ে নামে। সেখানে মানুষের বাস
নেই। নিরাপদে তাদের শীত কাটে। পৃথিবীর দক্ষিণের আধখানায় আমাদের শীতের সময় গরম, আবার
আমাদের গরমের সময় শীত।লাডাকের একটা বরফে ঢাকা নির্জন জায়গাতে আমাদের জোয়ানদের একটা ঘাঁটি ছিল।

তখন শীতের শুরু। মাথার ওপর দিয়ে দলে দলে বুনো হাঁস দক্ষিণ দিকে উড়ে যেত। বাড়ির জন্যওদের মন কেমন করত; চিঠিপত্র বিশেষ পৌঁছোত না, শুধু রেডিয়োতে যেটুকু খবর পেত।

একদিন একটা বুনো হাঁস দল ছেড়ে নীচে নেমে পড়ল। একটা ঝোপের ওপর নেমে থরথর করেকাঁপতে লাগল। তারপর ওরা অবাক হয়ে দেখল আরেকটা বুনো হাঁসও নেমে এসে, এটার চারদিকেউড়ে বেড়াচ্ছে। বরফ পড়তে শুরু করতেই জোয়ানরা গিয়ে আগের হাঁসটাকে তাঁবুতে নিয়ে এল। অন্যহাঁসটা প্রথমে তেড়ে এসেছিল, তারপর ওদের সঙ্গে সঙ্গে নিজেই গিয়ে তাঁবুতে ঢুকল। ভিতরে ছেড়ে দিতেই দেখা গেল প্রথম হাঁসটার ডানা জখম হয়েছে। তাই বেচারি উড়তে পারছিল না। জোয়ানদের মুরগি রাখার খালি জায়গা ছিল। সেখানে বুনো হাঁসরা রইল। টিনের মাছ, তরকারি, ভুট্টা, ভাত, ফলের কুচি, এইসব খেত।

ওদের দেখাশোনা করা জোয়ানদের একটা আনন্দেরই কাজ হয়ে দাঁড়াল। পরের হাঁসটা ইচ্ছাকরলেই উড়ে চলে যেতে পারত, কিন্তু সঙ্গীকে ছেড়ে গেল না। সারা শীতকাল দুজনে ওখানে থেকে গেল। আস্তে আস্তে হাঁসের ডানা সারল। তখন সে একটু একটু করে উড়তে চেষ্টা করত। তাঁবুর ছাদ অবধি উঠে, আবার ধুপ করে পড়ে যেত।

এমনি করে সারা শীত দেখতে দেখতে কেটে গেল। নীচের পাহাড়ের বরফ গলতে শুরু করল।আবার সবুজ ঝোপঝাপ দেখা গেল। ন্যাড়া গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল। তারপর পাখিরা আবার আসতে আরম্ভ করল, এবার দক্ষিণ থেকে উত্তরে। দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে, বাচ্চা তুলবে।

এদের হাঁসরা আজকাল তাঁবুর বাইরে চরত আর মাথার ওপর দিয়ে হাঁসের দল গেলেই চঞ্চল হয়ে উঠত। তারপর একদিন জোয়ানরা সকালের কাজ সেরে এসে দেখে হাঁস দুটি উড়ে চলে গেছে। জোয়ানদের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে এল।

ঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখো :

১.১ আকাশের দিকে তাকালে তুমি দেখ _____ (ঘরবাড়ি/ গাছপালা/ পোকামাকড়/ মেঘ-রোদ্দুর) ।

উত্তর : আকাশের দিকে তাকালে তুমি দেখ মেঘ-রোদ্দুর ।

১.২ হিমালয় ছাড়া ভারতবর্ষের আরো একটি পর্বতের নাম হলো _____ (কিলিমানজারো/ আরাবল্লী/ আন্দিজ/ রকি) ।

উত্তর : হিমালয় ছাড়া ভারতবর্ষের আরো একটি পর্বতের নাম হলো আরাবল্লী ।

১.৩ এক রকমের হাঁসের নাম হলো _____ (সোনা/ কুনো/ কালি/ বালি) – হাঁস ।

উত্তর : এক রকমের হাঁসের নাম হলো বালি হাঁস ।

১.৪ পাখির ডানার _____ (বোঁ বোঁ/ শন শন/ শোঁ শোঁ/ গাঁক গাঁক) শব্দ শোনা যায় ।

উত্তর : পাখির ডানার শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যায় ।



২. ‘ক’ এর সঙ্গে ‘খ’ স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো :

বরফশুরু
বুনোহিমানী
কুঁড়িবন্য
চঞ্চলকলি
আরম্ভঅধীর

উত্তর :

বরফহিমানী
বুনোবন্য
কুঁড়িকলি
চঞ্চলঅধীর
আরম্ভশুরু
৩. সঙ্গী – ( ঙ্ + গ্ ) – এমন ‘ঙ্গ্’ রয়েছে – এরকম পাঁচটি শব্দ লেখো :

উত্তর : বঙ্গ, অঙ্গ, গঙ্গা, পতঙ্গ, মঙ্গল ।

৪. ঘটনাক্রম সাজিয়ে লেখো :

৪.১ দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে, বাচ্চা তুলবে ।

৪.২ হাঁসের ডানা জখম হল ।

৪.৩ সারা শীত কেটে গেল ।

৪.৪ বুনো হাঁস দক্ষিণ দিকে উড়ে যেত ।

৪.৫ আরেকটা বুনো হাঁসও নেমে এসে এটার চারদিকে উড়ে বেড়াচ্ছে ।

উত্তর :

১) ৪.৪ বুনো হাঁস দক্ষিণ দিকে উড়ে যেত ।

২) ৪.২ হাঁসের ডানা জখম হল ।

৩) ৪.৫ আরেকটা বুনো হাঁসও নেমে এসে এটার চারদিকে উড়ে বেড়াচ্ছে ।

৪) ৪.৩ সারা শীত কেটে গেল ।

৫) ৪.১ দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে, বাচ্চা তুলবে ।

৫. শূন্যস্থান পূরণ করো :

৫.১ লাডাকের একটা বরফে ঢাকা নির্জন জায়গাতে আমাদের জোয়ানদের একটা ঘাঁটি ছিল ।

৫.২ জোয়ানদের মুরগি রাখার খালি জায়গা ছিল ।

৫.৩ আস্তে আস্তে হাঁসের ডানা সারল ।

৫.৪ দলে দলে বুনো হাঁস তীরের ফলার আকারে, কেবলই উত্তর দিকে উড়ে চলেছে ।

৫.৫ ন্যাড়া গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল ।

৬. শব্দঝুড়ি থেকে বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো :
বুনো, জখম, লাডাক, শীতকাল, বরফ, তাঁবু, গরম, ন্যাড়া, সঙ্গী, নির্জন, বেচারি, চঞ্চল

উত্তর :

বিশেষ্য – লাডাক, শীতকাল, বরফ, তাঁবু, সঙ্গী ।

বিশেষণ – বুনো, জখম, গরম, ন্যাড়া, নির্জন, বেচারি, চঞ্চল

৭. ক্রিয়ার নীচে দাগ দাও :

৭.১ বাড়ির জন্য ওদের মন কেমন করত ।

উত্তর : বাড়ির জন্য ওদের মন কেমন করত

৭.২ পাখিরা আবার আসতে আরম্ভ করল ।

উত্তর : পাখিরা আবার আসতে আরম্ভ করল

৭.৩ দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে ।

উত্তর : দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে

৭.৪ সেখানে বুনো হাঁসরা রইল ।

উত্তর : সেখানে বুনো হাঁসরা রইল

৭.৫ নিরাপদে তাদের শীত কাটে ।

উত্তর : নিরাপদে তাদের শীত কাটে

৮. বাক্য বাড়াও :

৮.১ একদিন একটা বুনো হাঁস দল ছেড়ে নেমে পড়ল । (কোথায় নেমে পড়ল ?)

উত্তর : একদিন একটা বুনো হাঁস দল ছেড়ে নীচে একটা ঝোপের উপর নেমে পড়ল ।

৮.২ ওরা গরম দেশে শীত কাটিয়ে আবার ফিরে যাচ্ছে । (কোথায় এবং কখন ফিরে যাচ্ছে ?)

উত্তর : ওরা গরম দেশে শীত কাটিয়ে শীতের শেষে আবার নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছে ।

৮.৩ পাহাড়ের বরফ গলতে শুরু করল । (কোথাকার পাহাড় ?)

উত্তর : লাডাক অঞ্চলের নীচের দিকের পাহাড়ের বরফ গলতে শুরু করল ।

৮.৪ আবার ঝোপঝাপ দেখা গেল । (কেমন ঝোপঝাপ ?)

উত্তর : আবার সবুজ ঝোপঝাপ দেখা গেল ।

৮.৫ গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল । (কেমন গাছে ?)

উত্তর : ন্যাড়া গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল ।

৯ বাক্য রচনা করো - 

 রেডিয়ো- আমি আর দাদু রেডিয়োতে  সকালবেলা খবর শুনি।
 চিঠিপত্র- পোস্টমাস্টার রমেনবাবু চিঠিপত্র নিয়ে সাইকেলে করে বিলি করতে বেরিয়েছেন। 
 থরথর- কুকুর ছানাটি ঠাণ্ডায় থরথর করে কাঁপছিল।
 জোয়ান- ভারতীয় জোয়ানরা সমস্ত বিপদ তুচ্ছ করে আমাদের দেশের সীমানা পাহারা দেয়। 
 তাঁবু-  মাঠের মধ্যে তাঁবুতে সার্কাস দেখাচ্ছে।

১১ নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো

১১.১ জোয়ানদের ঘাঁটি কোথায় ছিল?

উঃ লাডাকের একটা বরফে ঢাকা নির্জন জায়গাতে জোয়ানদের ঘাঁটি ছিল।

১১.২ জোয়ানরা কী কাজ করে?

উঃ জোয়ানরা সমস্ত বিপদ তুচ্ছ করে আমাদের দেশের সীমান্ত পাহারা দেয় ও বাইরের শত্রুর আক্রমনের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে।

১১.৩ দুটো বুনো হাঁস দলছুট হয়েছিল কেন?

উঃ শীতকালে গরম দেশে উড়ে যাওয়ার সময় একটা বুনো হাঁসের ডানা জখম হয়ে যাওয়ায় সে নিচে একটা ঝোপের ধারে নেমে পড়েছিল। তখন তার সঙ্গী আর একটি বুনো হাঁস ও তার পিছনে পিছনে নেমে পড়ে। এইভাবে দুটো বুনো হাঁস দলছুট হয়ে যায়।

১১.৪ বুনো হাঁসেরা জোয়ানদের তাঁবুতে কি খেত?

উঃ বুনো হাঁসেরা জোয়ানদের তাঁবুতে টিনের কৌটোর মাছ, তরকারি, ভুট্টা, ভাত, ফলের কুচি এইসব খেত।

১১.৫হাঁসেরা আবার কোথায় কখন ফিরে গেল?

উঃ হাঁসেরা শীতের শেষে আবার নিজেদের দেশে ফিরে গেল।

১১.৬ ‘এমনি করে সারা শীত দেখতে দেখতে কেটে গেল’- কেমন করে সারা শীত কেটে গেল? এরপর কি ঘটনা ঘটল?

উঃ একটি ডানা জখম হওয়া বুনো হাঁস ও তার সঙ্গীকে জোয়ানরা তাদের তাবুতে আশ্রয় দিয়েছিল, তাদের টিনের কৌটোর মাছ, তরকারী , ফলের কুচি ইত্যাদি খেতে দিত। মুরগী রাখার খাচায় তারা আশ্রয় পেয়েছিল। তাদের দেখভাল করতে করতে জোয়ানদের সারা শীতকাল কেটে গেল।


১২. কোনো পশু বা পাখির প্রতি তোমার সহমর্মিতার একটা ছোট্ট ঘটনার কথা লেখো।

 কয়েক বছর আগের কথা।  তখন শীতকাল, পড়ে বাড়ি ফিরছি , একটা ছোট্ট কুকুরছানা কোথা থেকে যেন এসে পড়েছে। ভয়ে ছানাটি কাঁদছিল। মা বলল, খুঁজে দেখ কোথায় ওর মা আছে, আমি চারিদিক খুঁজতে লাগলাম কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পেলাম না, ছানাটি কাঁদছে, আমি তাকে কোলে করে বাড়ি নিয়ে এলাম।    তাকে দুধ খাওয়ালাম।   রাতে বাচ্চাটাকে খাইয়ে, কাপড় মুড়ি দিয়ে দিলাম। পরের দিন সকালে উঠে বাচ্চাটাকে নিয়ে গিয়ে ওর দলের কাছে দিয়ে এলাম। সেখানে কুকুরছানাটির মা-ও ছিল। বাচ্চাটা মায়ের কোল ঘেঁষে বসে দুধ খেতে লাগল। আমিও খুশি হয়ে বাড়ি ফিরে এলাম।

১৩.১ লীলা মজুমদারের জন্ম কোন্ শহরে?

 উঃ। লীলা মজুমদারের জন্ম কলকাতা শহরে।

১৩.২ তাঁর শৈশব কোথায় কেটেছে?

 উঃ। তাঁর শৈশব কেটেছে শিলং পাহাড়ে।

১৩.৩ ছোটোদের জন্য তাঁর লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো।

উঃ। ছোটোদের জন্য তাঁর লেখা দুটি বই হল—'হলদে পাখির পালক’ ও ‘মাকু'।


পাঠ মূল্যায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :

১. এখন আকাশের দিকে চাইলে কী দেখা যাবে?

উঃ। আকাশের দিকে চাইলে দেখা যাবে দলে দলে বুনো হাঁস উড়ে চলেছে উত্তর দিকে।

২. হাঁসেরা কীভাবে সার বেঁধে উড়ে যাচ্ছে? 

উঃ। হাঁসেরা তিরের ফলার মতো আকারে সার বেঁধে উড়ে যাচ্ছে।

৩. পাখির ডানার কীরকম শব্দ শোনা যায়? 

উঃ। পাখির ডানার শোঁ শোঁ শব্দ শোনা যায়।

৪. হাঁসেরা কোথায় শীত কাটায়?

 উঃ। হাঁসেরা গরম দেশে শীত কাটায়

৫. কেউ কেউ কোন্ দিক থেকে আসে? 

উঃ। কেউ কেউ হিমালয়ের উত্তর দিক থেকে বরফের পাহাড় পেরিয়ে আসে।

৬. সমুদ্রের উপর দিয়ে উড়ে হাঁসেরা কোথায় গিয়ে নামে?

 উঃ। সমুদ্রের উপর দিয়ে উড়ে হাঁসেরা ছোটো ছোটো দ্বীপে গিয়ে নামে।

৭. ছোটো ছোটো দ্বীপে হাঁসেদের কেমন কাটে?

উঃ। ছোটো দ্বীপগুলোতে মানুষের বাস না থাকায় নিরাপদে হাঁসেদের শীত কাটে।

৮. পৃথিবীর দক্ষিণের আধখানায় আমাদের গরমের সময় কোন্ ঋতু থাকে?

উঃ। পৃথিবীর দক্ষিণের আধখানায় আমাদের গরমের সময় শীত ঋতু থাকে।

৯. জোয়ানদের ঘাঁটি কোথায় ছিল? 

উঃ। লাডাকের নির্জন জায়গাতে জোয়ানদের ঘাঁটি ছিল।

১০. জোয়ানরা কীসের মাধ্যমে খবর পেত?

 উঃ। জোয়ানরা রেডিয়োর মাধ্যমে খবর পেত।

১১. কোন্ কাজ জোয়ানদের কাছে আনন্দের ছিল? 

উঃ। হাঁসেদের দেখাশোনা করা জোয়ানদের কাছে আনন্দের কাজ ছিল।

১২. ‘বেচারি উড়তে পারছিল না' কাকে বেচারি বলা হয়েছে?

উঃ। ডানা জখম হওয়া বুনো হাঁসটিকে বেচারি বলা হয়েছে।

১৩. বুনো হাঁসটি কোথায় নেমে কেমন করতে লাগল? 

উঃ। বুনো হাঁসটি ঝোপের ওপর নেমে থরথর করে কাঁপতে লাগল।

১৪. জোয়ানরা কখন আগের হাঁসটিকে তাঁবুতে নিয়ে এল?

 উঃ। বরফ পড়া শুরু হতেই জোয়ানরা আগের হাঁসটিকে তাবুতে নিয়ে এল।

১৫. বুনো হাঁসেরা কোথায় রইল? 

উঃ। জোয়ানদের মুরগি রাখার খালি জায়গায় বুনো হাঁসেরা রইল।

১৬. আহত হাঁসটি প্রথম প্রথম কতদূর উড়তে পারত?

উঃ। আহত হাঁসটি প্রথম প্রথম তাঁবুর ছাদ পর্যন্ত উড়তে পারত।

১৭. সারা শীতল হাঁসগুলি কোথায় রইল?

 উঃ। সারা শীতকাল হাঁসগুলি জোয়ানদের তাবুতে রইল।

১৮. কোথাকার বরফ গলতে শুরু করল? 

উঃ। নীচের পাহাড়ের বরফ গলতে শুরু করল।

১৯. বরফ গলার পর দেখা গেল? 

উঃ বরফ গলার পর আবার সবুজ ঝোপঝাপ দেখা গেল।

২০. ন্যাড়া গাছে কী ধরল? 

উঃ। ন্যাড়া গাছে পাতার ও ফুলের কুঁড়ি হল।

২১. 'ওদের বেশি গরমও সয় না আবার বেশি শীতও সয় না'-ওদের বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে? 

উঃ। এখানে বুনো হাঁসেদের কথা বলা হয়েছে।

২২. হাঁস দুটি কখন উজ্জ্বল হয়ে উঠত?

উঃ। মাথার ওপর দিয়ে হাঁসের দল গেলেই হাঁস দুটি চঞ্চল হয়ে উঠত।

২৩. কাদের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে এল? 

উঃ জোয়ানদের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে এল ।

২৪. এরপর পাখিরা কোন্‌দিক থেকে আসতে আরম্ভ করল? 

উঃ। এরপর পাখির দক্ষিণ থেকে উত্তরে আসতে আরম্ভ করল।

২৫. দেশে ফিরে পাখিরা কী করবে? 

উঃ। দেশে ফিরে পাখিরা বাসা বাঁধবে, বাচ্চা তুলবে।

২৬. একদিন জোয়ানরা এসে কী দেখল? 

উঃ। একদিন জোয়ানরা এসে দেখল হাঁসঁদুটি উড়ে চলে গেছে।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর ঃ- 

১. জোয়ানদের দিন কীভাবে উন্ড?

উঃ। লাডাকে বরফ ঢাকা এক নির্মান আয়গাতে জোয়ানদের ঘাঁটি ছিল। শীতের শুরুতে যখন বুনো হাঁসের দল দক্ষিণ দিকে উড়ে যেত, তখন বাড়ির জন্য জোয়ানদের মন কেমন করত। কারণ লাডাকের ওই নির্জন খাঁটিতে চিঠিপত্র বিশেষ পৌছোঁত না। শুধু রেডিয়োতেই জোয়ানরা যা কিছু খবর পেত।

২. বুনো হাঁসেরা কোথা থেকে কীভাবে আসে?

উঃ। বুনো হাঁসের দল কেউ কেউ হিমালয়ের উত্তর দিক থেকে বরফের পাহাড় পেরিয়ে আসে। অনেকে ভারতের মাটি পার হয়ে, সমুদ্রের ওপর দিয়ে উড়ে ছোটো ছোটো দ্বীপে গিয়ে নামে। সেখানে মানুষের বাস না থাকায় তারা নিরাপদে শীত কাটায়।

৩. সঙ্গী হাঁসটি জখম হাঁসটির পাশে কীভাবে ছিল?

উঃ। ডানা জখম হওয়ার একটি বুনো হাঁস দল ছেড়ে কোপের ওপর নেমে থরথর করে কাঁপছিল। তার সঙ্গী আরেকটি বুনো হাঁসও নেমে এসে তার চারদিকে ঘুরে বেড়াতে লাগল। বরফ পড়া শুরু হাতে জোয়ানরা যখন প্রথম হাঁসটিকে তাঁবুতে নিয়ে আসছিল তখন সঙ্গী হাঁসটি প্রথমে তেড়ে এলেও পরে নিজেই ওদের সঙ্গে তাঁবুতে ঢুকেছিল। সারা শীতকাল সঙ্গী হাঁসটি প্রথম হাসটির পাশে থেকে গিয়েছিল, ইচ্ছে করলেই সে উড়ে যেতে পারত কিন্তু সঙ্গীকে ছেড়ে সে যায়নি।

৪. শীতকাল কেটে যাবার পর কী হল?

উঃ। সারা শীতকাল কেটে যাবার পর নীচের পাহাড়ে বরফ গলতে শুরু করল। আবার সবুজ ঝোপঝাড় দেখা গেল। ন্যাড়া গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল। তারপর দক্ষিণ থেকে উত্তরে আবার পাখিরা আসতে আরম্ভ করল।

৫. হাঁস দুটি জোয়ানদের কাছে কীভাবে থাকত?

উঃ। জোয়ানদের তাঁবুতে মুরগি রাখার খালি জায়গা ছিল। বুনো হাঁসদুটি সেখানে থাকত। টিনের মাছ, তরকারি, ভুট্টা, ভাত, ফলের কুচি এইসব খাবার তারা খেত। হাঁসদুটিকে দেখাশুনো করা জোয়ানদের কাছে একটা আনন্দের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

৬. “একদিন জোয়ানরা সকালের কাজ সেরে এসে দেখে হাঁসদুটি উড়ে চলে গেছে। জোয়ানদের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে এল"।- তোমার পাঠে লীলা মজুমদারের বুনো হাঁস গল্পের এই শেষ দুটি লাইন পড়ে কি তুমি লিখতে পার হাঁসেদের উড়ে যাওয়ার সঙ্গে জোয়ানদের বাড়ি ফেরার মধ্যে কী মিল রয়েছে?

উঃ। হাঁসদুটি জখম হয়ে জোয়ানদের কাছে ছিল। হাঁসেরা তাদের দেশে যেতে চাইলেও পারছিল না। সুস্থ হতেই তারা ফিরে গেল। জোয়ানদেরও কাজ শেষ হয়ে গেলে তারাও নিজের বাড়ি ফিরে যাবে। কাজ সেরে নিজের বাসায় সব প্রাণীই ফিরে যায় এমনকি মানুষও এর থেকে আলাদা নয়। তাই হাঁস ও জোয়ান কাজ শেষে সময় হলে বাড়ি ফিরে যেতে চায়।



ঠিক শব্দটি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখো :

(ক) হাঁসেরা উড়ে বেড়ায় (বাসাতে/সাগরে/মাটিতে/আকাশে)। 

উঃ। হাঁসেরা উড়ে বেড়ায় আকাশে।

(খ) জোয়ানদের ঘাঁটি ছিল (শিলং-এ/কলকাতায়/লাডাকে/পাটনাতে)। 

উঃ। জোয়ানদের ঘাঁটি ছিল লাডাকে।

(গ) জোয়ানরা খবর পেত (টিভিতে/চিঠিতে/রেডিয়োতে/ ফোনেতে)।

 উঃ। জোয়ানরা খবর পেত রেডিয়োতে।

(ঘ) মাথার উপর দিয়ে বুনো হাঁস (পুর/দক্ষিণ/উত্তর/পশ্চিম) দিকে উড়ে যেত।

উঃ। মাথার উপর দিয়ে বুনো হাঁস দক্ষিণ দিকে উড়ে যেত।

(ঙ) ওদের দেখাশোনা করা জোয়নেদের একটা (বিরক্তির/ আনন্দের/ রাগেরই) কাজ হয়ে দাঁড়াল।

উঃ। ওদের দেখাশোনা করা জোয়ানদের একটা আনন্দেরই কাজ হয়ে দাঁড়াল।

(চ) নিরাপদে তাদের (গ্রীষ্ম/বর্ষা/শরৎ/শীত) কাটে।

 উঃ। নিরাপদে তাদের শীত কাটে।

(ছ) হাঁস বেচারি (চরতে/ঘুরতে/নামতে/উড়তে) পারছিল না। 

উঃ। হাঁস বেচারি উড়তে পারছিল না।

৩. শূন্যস্থান পূরণ করো :

(ক) দেখতে পাবে দলে দলে_________    হাঁস।

 (খ) ________ ফলার আকারে কেবলই __________ পেরিয়ে আসে।

(গ) কেউ কেউ __________  উত্তর দিক থেকে, _______ পাহাড় পেরিয়ে আসে ।

 (ঘ) সেখানে _________ বাস নেই।

উঃ। (ক) বুনো। (খ) তিরের, উত্তর। (গ) হিমালয়ের, বরফের। (ঘ) মানুষের। 

৪. বাক্য বাড়াও - - 

(ক) কেবলই উত্তর দিকে উড়ে চলেছে। (কারা উড়ছে)? 

উঃ। হাঁসেরা কেবলই উত্তর দিকে উড়ে চলেছে।

(খ) আবার নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছে। (কখন ফিরছে)? 

উঃ। শীতের শেষে আবার নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছে।

(গ) তাদের শীত কাটে। (কেমনভাবে কাটে)?

 উঃ। নিরাপদে তাদের শীত কাটে।

(ঘ) নির্জন জায়গাতে আমাদের জোয়ানদের একটা ঘাঁটি ছিল। (কেমন জায়গা)?

উঃ। বরফে ঢাকা নির্জন জায়গাতে আমাদের জোয়ানদের একটা ঘাঁটি ছিল।

(ঙ) চিঠিপত্র বিশেষ পৌঁছুত না, শুধু যেটুকু খবর পেত। (কীভাবে পেত)?

উঃ। চিঠিপত্র বিশেষ পৌঁছুত না, শুধু রেডিয়োতে যেটুকু খবর পেত।

(চ) এটার চারদিকে উড়ে বেড়াচ্ছে। (কে)?

 উঃ। আরেকটা বুনো হাঁস নেমে এসে এটার চারদিকে উড়ে বেড়াচ্ছে।

(ছ) জোয়ানরা দিয়ে আগের হাঁসটাকে তাবুতে নিয়ে এল। (কখন)?

উঞ্জ। বরফ পড়তে শুরু করতেই জোয়ানরা গিয়ে আগের হাঁসটাকে তাঁবুতে নিয়ে এল।

(জ) বাড়ি ফেরার সময় হয়ে এল। (কাদের)? 

উঃ। জোয়ানদের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে এল।

৫. ঘটনাক্রম সাজিয়ে দেখো

(ক) আস্তে আস্তে হাঁসের ডানা সারল। উঃ। কেবলই উত্তরের দিকে উড়ে চলেছে। (চ)

(খ) জোয়ানদের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে এল। উঃ। নিরাপদে তাদের শীত কাটে। (ছ)

(গ) তখন শীতের শুরু। উঃ। তখন শীতের শুরু। (গ)

(ঘ) বুনো হাঁস দক্ষিণে উড়ে যেত। উঃ। বুনো হাঁস দক্ষিণে উড়ে যেত। (ঘ)

(ঙ) দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে, বাচ্চা তুলবে। উঃ। শুধু রেডিয়োতে খবর পেত। (জ)

(চ) কেবলই উত্তরের দিকে উড়ে চলেছে। উঃ। হাঁসটার ডানা অথম হয়েছে। (ঞ)

(ছ) নিরাপদে তাদের শীত কাটে। উঃ। আস্তে আস্তে হাঁসের ডানা সারল। (ক)

(জ) শুধু রেডিয়োতে খবর পেত। উঃ। ন্যাড়া গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল। (ঝ)

(খ) ন্যাড়া গাছে পাতার আর ফুলের কুঁড়ি ধরল। উঃ। দেশে ফিরে ওরা বাসা বাঁধবে, বাচ্চা তুলবে। (ঙ)

(ঞ) হাঁসটার ডানা জখম হয়েছে। উঃ। জোয়ানদের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে এল। (খ)

৬. এলোমেলো শব্দগুলিকে সাজিয়ে অর্থপূর্ণ বাক্য তৈরি করো 

(ক) কোনো যে এত কেউ উড়ছে উঁচুতে নেই।

 উঃ। কেউ এত উঁচুতে উড়ছে যে কোনো শব্দ নেই।

(খ) নিজেদের শেষে ফিরে আবার দেশে যাচ্ছে শীতের। 

উঃ। শীতের শেষে আবার নিজেদের দেশে ফিরে যাচ্ছে।

(গ) হিমালয়ের কেউ উত্তর কেউ থেকে দিক, পাহাড় আসে পেরিয়ে বরফের।

উঃ। কেউ কেউ হিমালয়ের উত্তর দিক থেকে, বরফের পাহাড় পেরিয়ে আসে।

(ঘ) ওখানে শীতকাল সারা দুজনে থেকে গেল। 

উঃ  সারা শীতকাল দুজনে ওখানে থেকে গেল।

(ঙ) দলে দক্ষিণ দলে মাথার দিয়ে ওপর হাঁস যেত দিকে উড়ে বুনো।

উঃ। মাথার ওপর দিয়ে দলে দলে বুনো হাঁস দক্ষিণ দিকে উড়ে যেত।

(চ) পৌঁছোত চিঠিপত্র না বিশেষ, শুধু খবর যেটুকু রেডিয়োতে পেত।

উঃ। চিঠিপত্র বিশেষ পৌঁছোত না, শুধু রেডিয়োতে যেটুকু খবর পেত।

৭. এলোমেলো অক্ষরগুলি সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো ?

 শে কার আ-আ কা শের। দের নিজে নিজেদের ও রমগ গরমও। ল মায়ের হি-হিমালয়ের।

র দ্রে স মু–সমুদ্রের। পরা সে নি-নিরাপদে। য়ো ডি তে রে- রেডিয়োতে। ন য়া দের জো–জোয়ানদের।

ড়ে হার পা-পাহাড়ের! লজ কা আ – আজকাল।

৮. এককথায় উত্তর দাও :

(ক) লীলা মজুমদারের বাবার নাম কী?

উঃ। লীলা মজুমদারের বাবার নাম প্রমদারঞ্জন রায়।

(খ) লীলা মজুমদারের বাবার লেখা বিখ্যাত বইটির নাম কী?

উঃ। লীলা মজুমদারের বাবার লেখা বিখ্যাত বইটির নাম—‘বনের খবর'।

(গ) লীলা মজুমদারের জ্যাঠামশাই কে ছিলেন?

উঃ। লীলা মজুমদারের জ্যাঠামশাই ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী।

(ঘ) লীলা মজুমদারের কোন্ বই থেকে ‘বুনো হাঁস' গল্পটি নেওয়া হয়েছে?

উঃ। লীলা মজুমদারের 'গল্পসঙ্গ' বই থেকে 'বুনো হাঁস' গল্পটি নেওয়া হয়েছে।

(ঙ) লীলা মজুমদারের লেখা প্রথম ছোটোদের বই কোন্‌টি?

উঃ। লীলা মজুমদারের লেখা প্রথম ছোটোদের বই ‘বদ্যিনাথের বড়ি'।


COVER TOPIC

বুনো হাঁস গল্পের সারাংশ

বুনো হাঁস লীলা মজুমদার pdf

বুনো হাঁস লীলা মজুমদার গল্প

বুনো হাঁস গল্পের ঘটনাস্থল

এখানে বুনো হাঁস বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে

বুনো হাঁস পাখি


মন্তব্যসমূহ