চিরদিনের - সুকান্ত ভট্টাচার্য । প্রশ্ন ও উত্তর । CHIRODINER - SUKANTA BHATTACHARYA । CLASS 7 BENGALI WBBSE

 চিরদিনের - সুকান্ত ভট্টাচার্য
প্রশ্ন ও উত্তর 

শব্দার্থ : ধ্বনি- শব্দ, রব। ঢেঁকি - ধান ভাঙবার যন্ত্র বিশেষ। ঘোষিত- প্রচারিত। মজা নদী-বুজে যাওয়া নদী।বৃষ্টিমুখর – বৃষ্টিপতনের ধ্বনিপূর্ণ। জনমত – সাধারণ বা অধিকাংশ লোকের অভিমত। আত্মদান- পরার্থে নিজের জীবন।কিষাণ-কৃষাণ, কৃষক, চাষি। দাওয়া—রোয়াক, বারান্দা আকাল–দুঃসময়, দুর্ভিক্ষ। সান্ধ্য–সন্ধ্যাকালীন। দিশাহারা- দিগ্‌ভ্রান্ত।জনমত–সাধারণ বা অধিকাংশ লোকের অভিমত।



হাতে কলমে

(১) নীচের শব্দগুলির অদ্ভুত দুটি অর্থ লেখো এবং দুটি পার্থক্য প্রয়োগ করো :

কাঁটা, তাল, জোড়া, সারি, মজা, পাশ।

কাঁটা—বাধা—কাঁটা তার দিয়ে রাজু তার বাড়ি বেড়া দিল। 

কাঁটা-গাছের তীক্ষ্ণ অংশ—বেল গাছের কাঁটা খুব তীক্ষ্ণ হয়।

তাল – ছন্দ-মেয়েটি গানের তালে তালে খুব সুন্দর নাঁচছে।

তাল- ফল বিশেষ—তালের ক্ষীর খুব সুস্বাদু খেতে হয়।

জোড়া – দুই–আমার কাছে এক জোড়া পায়রা আছে।

জোড়া- যুক্ত—মনুদা আমাকে বলেছিল যে জোড়া কলা পূজার কাজে লাগে না।

সারি – পঙক্তি— রাজু তার নাম লিস্টের প্রথম সারিতে দেখলে।

মারি - গান বিশেষ—গ্রাম অঞ্চলে এখনো সারি গান হয়ে থাকে।

মজা- বুজে যাওয়া পাশের গ্রামের নদীটি এখন মজা নদী।

মজা- আনন্দ—দুর্গা পূজাতে সবাই খুব মজা করে।

পাশ- পাশ্বস্থ্য -গুরুজনেরা সবসময় ছোটোদের পাশে থাকে।

পাশ—সাফল্য-রাম পঞ্চম শ্রেণিতে পাশ করেছে।

২। নীচের শব্দযুগলের অর্থ পার্থক্য নির্দেশ করে দুটি আলাদা বাক্য তৈরি করো :

কাঁটা         পার         জড়ো          সব           দ্বীপ

কাটা         পাড়          জড়            শব          দ্বীপ

উত্তর – কাঁট (কণ্টক)- রবির পায়ে কাঁটা ফুটে গেছে।

কাটা–(কেটে বাদ দেওয়া) – গাছ কাটা উচিৎ নয়।

পার- (অভিরম)–রাস্তা দেখে পার হওয়া উচিৎ।

পাড় (কাপড়ের পাড়)-লাল পাড় শাড়ি পরে মেয়েটি পূজা নিতে যাচ্ছে। 

জড়ো (গুটিয়ে থাকা) – লজ্জাবতী গাছের পাতায় হাত দিলে পাতাগুলি জড়ো হয়ে যায়।

জড় (অচেতন বস্তু) - মাটি একট জড় পদার্থ।

সব (সকল) – সব পাখিগুলি উড়ে গেল।

শব (মৃতদেহ) -- মানসির শবটি শ্মশানে নিয়ে যাচ্ছে। দীপ (প্রদীপ) - সন্ধ্যাবেলা ঘরে দীপ জ্বলছে।

দ্বীপ (জল বেষ্টিত ভূমি)–গঙ্গায় একটি ব-দ্বীপ আছে।

৩। ঠিক বানানটি বেছে নাও।

ব্যস্ত/ব্যস্ত, সান্ধ্য/সান্ধ, দুর্ভিক্ষ/দুর্ভিক্ষ, বন্ধু/বধূ, ধ্বনি/ধনি, সুবর্ণ/সুবন্।

উঃ ব্যস্ত, সান্ধ্য, দুর্ভিক্ষ, বধূ, ধ্বনি।

৪। নীচের শব্দগুলির কোনটি বিশেষ্য এবং কোনটি বিশেষণ বাছাই করে আলদা দুটি স্তম্ভে সাজাও। এরপর বিশেষ্যগুলির রূপ এবং বিশেষণগুলির বিশেষ্যের রূপ লেখো।

ব্যস্ত, লাজুক, মাঠ, সন্ধ্যা, গ্রাম, ঘর, ঘোষিত, চাষি, জল, ফসল।

উঃ          বিশেষ্য                        বিশেষণ

                ব্যাস্ত                           ব্যাস্ততা

                লজ্জা                         লাজুক

                 মাঠ                            মেঠো

                সন্ধ্যা                            সান্ধ্য

                গ্রাম                             গ্ৰাম্য

                 ঘর                            ঘরোয়া

              ঘোষণা                         ঘোষিত

                চাষি                            চাষাড়ে

               ফসল                           ফসলি


(৫) বিপরীতার্থক শব্দ লেখো : মুখর, অহংকারী, অন্ধকার, একটানা, বিচিত্র।

উঃ মুখর– স্তব্ধ, অহংকারী—নিরহংকারী, অন্ধকার—আলো, একটানা-থেমে থেমে। বিচিত্র—একই রকম।

(৬) 'ঘড়ির কাঁটা'—এখানে 'ঘড়ি' আর 'কাটা'। এই দুটি শব্দের মধ্যে সম্বন্ধ তৈরি করেছে 'র' বিভক্তিটি, 'ঘড়ি কাটা'-কে  আমরা তাই বলবো সম্বন্ধ পদ। এই কবিতায় এইরকম আরো কটি উদাহরণ খুঁজে পাচ্ছো, লেখো।

একটি করে দেওয়া হলো - তালের সারি।

উঃ খেতের চাষি, ভিক্ষের আঁচল, দাওয়ার অন্ধকার, জোড়া দিঘি, মজা নদী, সান্ধ্য শাঁখে।

(৭) সন্ধিবিচ্ছেদ করো : বৃষ্টি, অহংকার, স্বাগত, পরস্পর, দুর্ভিক্ষ।

উঃ বৃষ্টি–বৃ + তি । অহংকার – অহম+ কার। স্বাগত —সু + আগত। পরস্পর- পর + পর। দুর্ভিক্ষ- দুঃ + ভিক্ষ। 

(৮) নিম্নরেখ পদগুলির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো :

৮.১ রাত্রি এখানে স্বাগত সান্ধ্য শাঁখে।

৮.২ এখানে, সকাল ঘোষিত পাখির গানে।

৮.৩ এ গ্রামের পাশে মজা নদী বারো মাস।

৮.৪ ঠাকুমা, গল্প শোনায় যে নাতনিকে।

৮.৫ কৃষক-বধূরা ঢেঁকিয়ে নাচায় পায়ে।

উঃ করণকারকে শূন্য বিভক্তি।

উঃ কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

উঃ অধিকরণ কারকে শূন্য বিভক্তি।

উঃ কর্তৃকারকে ‘এ’ বিভক্তি।

উঃ কর্তৃকারকে অ বিভক্তি।


৯। বাক্য বাড়াও :

৯.১ চলে গেল লোক। (কখন? কেন? কোথায়?)

উঃ গতবারের আকালের সময় দিশেহারা লোকেরা দিকে দিকে চলে গিয়েছিলো।

৯.২ আজ বিদ্ৰোহ বুঝি করে। (কে? কখন?)

উঃ বর্ষাকালে গ্রামের মজা নদী বিদ্রোহ বুঝি করে।

৯.৩ ঘোমটা তুলে দেখে নেয় কোনমতে। কে? কী? কোথায়?

উঃ গ্রামের কৃষক বধূরা রাস্তার ধারের সবুজ ফসলে আগামী সোনালী দিন দেখে নেয়।

৯.৪ এ গ্রাম সবুজ ঘাঘরা পরে। (কেমন? কীসের?) উঃ গ্রাম তাঁর নতুন ঘাসের ঘাঘরা পরে।

৯.৫ দ্বীপ জ্বলে। (কোথায়? কখন?)

উঃ গ্রামে রোজ সন্ধ্যাবেলা সবার ঘরে ঘরে দ্বীপ জ্বলে।

১০। একটি বাক্যে উত্তর দাও :

১০.১। ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা কোথায় গিয়ে থেমে গেছে?

 উঃ গ্রামে এসে ব্যস্ত ঘড়ির কাঁটা থেমে গেছে।

১০.২ তালের সারি কোথায় রয়েছে? 

উঃ তালের সারি গ্রামের যেখানে জোড়া দিদি আছে সেখানে রয়েছে।

১০.৩ কিষাণপাড়া নীরব কেন? 

উঃ অহংকারে কিষাণপাড়া নীরব রয়েছে।

১০:৪ বর্ষায় কে বিদ্রোহ করে? 

উঃ গ্রামের মজা নদী বর্ষাকালে বিদ্রোহ করে।

১০.৫ গোয়ালে ইশারা পাঠায়?

 উঃ গ্রামের গোয়ালে সবুজ ঘাস ইশারা পাঠায়।

১০.৬ রাত্রিকে কীভাবে স্বাগত জানানো হয়। 

উঃ গ্রামে রাত্রিকে সন্ধ্যেবেলায় বধূরা শাঁখ বাজিয়ে স্বাগত জানায়।

১০.৭ কোথায় জনমত গড়ে ওঠে। 

উঃ জনমত গ্রামের বুড়ো বটতলায় গড়ে ওঠে।

১০.৮ ঠাকুমা কাকে, কখন, গল্প শোনান। 

উঃ ঠাকুমা নাতনিদের সূর্য ডোবার পর সন্ধ্যাবেলায় গল্প শোনান।

১০.৯ কোন গল্প তিনি বলেন?

 উঃ সন্ধ্যাবেলায় ঠাকুমা তার নাতনিকে গতবারের আকালের গল্প শোনান।

১০.১০ সকালের আগমন কীভাবে ঘোষিত হয়?

 উঃ গ্রামে সকালের আগমন পাখিদের মিষ্টি গানে ঘোষিত হয়।

১০.১১ কবিতায় কোন্ কোন্ জীবিকার মানুষের কথা আছে? 

উঃ কবিতায় গ্রামের কামার, তাঁতি, কৃষক, কুমোরদের কথা আছে।

১১। আট-দশটি বাক্যে উত্তর দাও :

১১.১ এই কবিতায় বাংলার পল্লি প্রকৃতির যে বর্ণনা আছে তা নিজের ভাষায় সংক্ষেপে লেখো।

উঃ গ্রামে সকাল হয় পাখিদের মিষ্টি গানে। কৃষকেরা চাষ করতে যায়। গ্রামের বধূরা ঢেঁকিতে ধান ভাঙে। সন্ধ্যেবেলায় শাঁখ বাজিয়ে, ঘরে দ্বীপ জ্বালিয়ে সন্ধ্যেবেলাকে স্বাগত জানায়। ঠাকুমা তার নাতনিকে সন্ধ্যেবেলায় গতবারের আকালে কীভাবে লোক নিজেদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে নানান জায়গায় চলে গিয়েছিল সেই গল্প শোনায়। গ্রামে প্রত্যেক বছর নতুন নতুন শস্যে চারিদিক ভরে ওঠে। গ্রামের পাশের সেই মজা নদীটি আছে সেটি বর্ষাকালে ভেসে যায়। তারপর বর্ষায় চারিদিক নতুন সাসে সবুজ হয়ে থাকে।

১১.২ কবিতাটিতে গ্রামীণ মানুষের জীবনযাপনের যে ছবিটি পাও তা নিজের ভাষায় বর্ণনা করো।

উঃ গ্রামের মানুষেরা খুব সাধারণভাবে তাঁদের জীবন-যাপন করে থাকে। চাবিরা মাঠে চাষ করে নানান রকম শস্য উৎপাদন করে। গ্রামের কৃষক বধুরা সবসময় মাথায় ঘোমটা দিয়ে থাকে। তারা ঢেঁকিতে ধান ভাঙে। সন্ধ্যাবেলায় শাঁখ বাজিয়ে ঘরে দীপ জ্বালায়। ঠাকুমারা সন্ধ্যের সময় তার নাতনিকে গতবারের আকালের কথা গল্প করে। আবার সকাল হলে চাষিরা মাঠে, কামার, কুমোর, তাঁতিরা নিজেদের কাজে চলে যায়।

১১.৩ আকাল ও দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপটে মানুষের সম্মিলিত শ্রম আর জীবনীশক্তি কীভাবে বিজয়ী হয়েছে, কবিতাটি অবলম্বনে তা বুঝিয়ে দাও।

উঃ আকাল ও দুর্ভিক্ষ যতই আসুক মানুষ তার মোকাবিলা করেছে। তাঁদের বেঁচে থাকা থামেনি। বছরের পর বছর তারা নানান সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। অনেক মানুষ আকালে মরে যায়, হারিয়ে যায়। তাও তারা লড়াই করে চলে। যারা মরে যায়। বা হারিয়ে যায় তাঁদের পরিবর্তে অন্য অনেক মানুষ আসে। মানুষের জীবনযাত্রা কোনোদিন থেমে থাকেনি। এইভাবেই যুগ যুগ ধরে মানুষ আকালের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকে বা বিজয়ী হয়।


১১.৪ “কোনো বিশেষ সময়ের নয়, বরং আবহমান কালের বাংলাদেশ তার প্রকৃতি ও মানুষকে নিয়ে জীবনের যে জয়গান গেয়ে চলেছে, এই কবিতায় তারই প্রকাশ দেখতে পাই।” উপরের উদ্ধৃতিটির সপক্ষে কবিতাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার করো।

উঃ রাজার রাজত্ব শেষ হয়ে যায়। রাজপ্রাসাদ ভাঙ্গে এবং গড়ে। মন্ত্রীদের মন্ত্রীত্ব মুছে যায় কিন্তু যুগের পর যুগ, বছরের পর বছর নানান অসুবিধের মাঝখান দিয়ে মানুষ বেঁচে আছে। রাজার রাজত্ব চলে গেলেও অমিলের চাষ করা, তাঁতিদের তাঁত বোন, কামার, কুমোরদের কাজ করা থেমে যায়নি। সেটা আজও গ্রামে একইরকমভাবে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষেরা শত আকালের ধাক্কা সামলে আজও সেই একইভাবে তাঁদের জীবনযাপন করে চলেছে। সময়ের সাথে সাথে সেই একই ভাবে তাঁরা জীবন কাটাচ্ছে। কবিতায় কবি যে রূপ উপস্থাপনা করেছেন তাতে কেবল বাংলার অপরূপ সৌন্দর্যই না বাংলার শ্রমজীবী তথা খেটে খাওয়া মানুষের চিরকালের দুঃখ ফুটে উঠেছে। 

সেই দুঃখ থেকে কেউ তাদের বাঞ্চাতে যায় না। চিরকালের নিয়মে তারা নিজেরাই তা জয় করে। আসলে বাংলার প্রকৃতি ও তার মানুষের জীবনযাত্রা একসূত্রে গাঁথা। যখন প্রকৃতি গ্রীষ্মের দাবদাহে রুক্ষ হয়ে যায় তখন বাংলার বুকে কখনও কখনও নেমে আসে .দুর্ভিক্ষের মত অভিশাপ।আবার প্রকৃতি যেমন যুদ্ধ করে চলে তার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তেমনই সেই  খেটে-খাওয়া মানুষগুলোও তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য নিজের কাজ চালিয়ে যায়। আবার বর্ষায় প্রকৃতি সবুজে ভরে উঠলে এই মানুষগুলোও তাদের দুর্ভিক্ষের ভয়াবহ স্মৃতি মুছে শস্যশ্যামলা গ্রামের স্বপ্ন দেখে। এইভাবে চিরকালের নিয়ম চলে এসেছে।তাই কবিতার নাম চিরদিনের ভাবার্থক  নামকরণ  সার্থক হয়েছে।

১২। ব্যাখ্যা করো।

১২.১ 'এখানে বৃষ্টিমুখর....... ঘড়ির কাটা'

উঃ কিছু কিছু জায়গায় সময় থেমে যায়। গ্রামের সময় পাল্টায় না। গ্রামের মানুষদের জীবন আগাগোড়া একইভাবে চলে আসছে। 

১২.২ 'এ গ্রামের পাশে ...... বিদ্রোহ বুঝি করে'

উঃ গ্রামের পাশে যেই জোড়া মজা নদীটি আছে সেটি সারা বছর কোনো বিদ্রোহ করে না। কিন্তু বর্ষাকালে সেই মজা নদীটি জলে ভর্তি হয়ে সব ভাসিয়ে বিদ্রোহ শুরু করে।

১২.৩ 'দুর্ভিক্ষের আঁচল.......কাজ করে।'

উঃ গ্রামে চিরকাল আকাল বা দুর্ভিক্ষ লেগে থাকে। কোনদিনও তা শেষ হয় না। কিন্তু গ্রামের মানুষেরা সারাজীবন বেঁচে থাকে। তাঁদের আকাল বা দুর্ভিক্ষ বেঁচে থাকা থামাতে পারে না। তারা বছরের পর বছর একইভাবে জীবনযাপন করে চলেছে। তাঁদের কোনো কিছু আটকাতে পারেনি।

১২.৪ 'সারাটা দুপুর..........বিচিত্র ধ্বনি ওঠে।'

উঃ গ্রামে যখন চাষিরা মাঠে চাষ করে তখন তারা নানান সুরে নানান ধরনের গান করে। এতে চাষিদের চাষ করতে ক্লান্তি বোধ করে না। আর এই সব গান বিচিত্র ধ্বনি হয়ে ওঠে।

১২.৫ 'সবুজ ফসলে সুবর্ণযুগ আসে।'

উঃ গ্রামের চাষিরা মাঠে চাষ করে যেই সব শস্যে, শাক, সবজী, ফল, উৎপাদন করে সেইসব জিনিস তারা বিক্রি করে অর্থ এনে নিজেদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে এনে বেঁচে থাকে। আর তাদের এই চাষ করা নতুন ফসল নতুন দিনের সম্পূর্ণযুগ এনে দেয়।

১৩। তোমার দেখা একটি গ্রামের কথা ডায়েরিতে লেখো। গ্রামটি কোথায়, সেখানে কোন্ কোন্ জীবিকার কতজন মানুষ থাকেন ইত্যাদি জানিয়ে গ্রামটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, মানুষজনের জীবনযাপন পদ্ধতি, বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধার কথা লেখো। গ্রামটির উন্নতিসাধনে যদি তোমার কোনো পরামর্শ দেওয়ার থাকে অবশ্যই সেকথা লিখবে।

উঃ আমার দেখা একটি গ্রাম হল বাশিচক।  পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একটি গ্রাম। সেই গ্রামে ১৩৫  জন চাষি,  ১৫ জন ছুতোর, ১৫ জন তাতি ৪০ জন কুমোর ও ৬২ জন সাধারণ মানুষ বাস করে। গ্রামের রাস্তা মাটির তৈরি যেটি মাঠের মধ্যে চলে যায়। মাঠ ভরতি সবুজ ঘাস। মাঠের পাশে চাষিদের জমি ভরতি করে ধান চাষ করেছে। রোদে সেটা সোনালি রঙ-এ অপূর্ব দেখাচ্ছে। পুকুরে কত রকমের মাছ। মাছরাঙা পাখি টুপটাপ করে মাছ ধরছে। হাঁস পুকুরের জলে মনের সুখে সাঁতার কেটে যাচ্ছে। চাষিরা মাঠে নানা রকমের ফসল বুনছে। গ্রামের মানুষেরা ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে পড়ে। সকাল হয় তাদের খোরাকের আর পাখিদের তাকে। দূরের মাঠে গ্রামের ছেলেরা একটি সাইকেলের টায়ার নিয়ে ছোটাছুটি করেছে। গ্রামের ছোটো ছোটো মেয়েরা স্কুলে যাচ্ছে হাতে একটি ছোটো চটের ব্যাগ বা পাঠের ব্যাগ তাতে দু-তিনটে বই। গ্রামের বাড়িতে সন্ধ্যাবেলায় সবাই নিজেদের ঘরে ঘরে দীপ, জ্বালিয়ে, শাঁখ বাজিয়ে সন্ধ্যেবেলাকে স্বাগত জানায়। অন্যদিকে সকাল শুরু হয় আজানের শব্দে । গ্রামের বড়ো যেই রাস্তাটি চলে যাচ্ছে তার দুই পাশে তাল গাছ তার বাঁশঝাড়ে ঘেরা। গ্রামের বাড়িগুলো তৈরি মাটির দেওয়াল আর খরের চাল, এখন কিছু বাড়ি পাকা হচ্ছে। অনেকের বাড়িতে নানান রকমের ফল গাছ যেমন আমগাছ, কাঁঠালগাছ, কুলগাছ, জামগাছ, নারকোল গাছ, লিচুগাছ, বেলগাছ ইত্যাদি। শীতকালে সকালে খেজুর গাছের রস পাড়া হয়। আর সেই রস দিয়ে বাড়িতে বসে খেজুরের গুড় বানানো হয়। গ্রামের মাঝখানে দিয়ে একটা বড়ো পুকুর আছে তাঁর এপারে একটি গ্রাম আর অন্যদিকে আর একটি গ্রাম। 

আমার মতে গ্রামটির উন্নতির জন্য একটি হাইস্কুল তৈরি করা দরকার যাতে গ্রামের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার আরো উন্নতি হয়। তাতে তাদের ভবিষ্যত উজ্জ্বল হবে। গ্রামের সেই সরু মাটির পথ আছে যেখানে বড়ো ইট পাথরের বা পিচের তৈরি রাস্তা হওয়া উচিত । যাতে গ্রামের ছেলেমেয়েদের পায়ে হেঁটে না গিয়ে কোন যানবাহন ব্যবহার করতে পারে।



Class 7 চিরদিনের কবিতার প্রশ্ন উত্তর

চিরদিনের কবিতার সারসংক্ষেপ

চিরদিনের কবিতায় বাংলার পল্লী প্রকৃতি

চিরদিনের কবিতার নামকরণ

মন্তব্যসমূহ