অষ্টম অধ্যায়
পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য
পরিবেশের সংকট ও দৈহিক স্বাস্থ্য
জ্বর মাপার জন্য আমরা কোন যন্ত্র ব্যবহার করি? থার্মোমিটার।
ইলেকট্রিক বালব বা টিউবলাইটের বদলে রাস্তায় ইদানীং কোন ধরনের আলো ব্যবহার করা হচ্ছে? ফ্লুরোসেন্ট বালক।
থার্মোমিটারে বা ফ্লুরোসেন্ট বালব তৈরি করতে একটি বিশেষ ধাতুর বাষ্প ব্যবহার করা হয়। ধাতুটি তরল প্রকৃতির। ধাতুটি কী? পারদ।
এবার তোমরা জানার চেষ্টা করো মানুষের দেহে আর কোন কোন উৎস থেকে পারদ প্রবেশের ঝুঁকি থাকতে পারে। (১)আয়না, (২) লাইট, (৩) শাকসবজি, (৪)জল।
এবার তোমরা জানার চেষ্টা করো মানুষের দেহে আর কোন কোন উৎস থেকে আর্সেনিক ও ফ্লুওরাইড প্রবেশের ঝুঁকি থাকতে পারে। (১) জল, (২) কাটনাশক, (৩) ফসল।
পাশের ছবিগুলোর মতো এমন পেশায় অসংখ্য মানুষ আজ যুক্ত। দেখা যায়, দীর্ঘদিন এই পেশায় যুক্ত থাকার পর ওইসব মানুষরা কোনো না কোনো রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাহলে কী ওপরের ছবির মানুষরাও নানা রোগে আক্রান্ত? নীচের তালিকায় ওই সকল পেশায় যুক্ত মানুষদেরহ সমস্যাগুলো লক্ষ করের। সংশ্লিষ্ট পেশা ও রোগের মধ্যে সমতা বিধান করো। (একই অসুবিধা/রোগ একাধিক পেশার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে)
উপরের ছবিতে উল্লিখিত বিভিন্ন পেশা
১। মোটর গাড়ি চালানো
২। কারখানায় কাজ করা
৩। মাটি কাটা
৪। ফুটবল খেলা
৫। উনুনের সামনে রান্না করা
৬। খনিতে কাজ করা
৭। মাঠে ধান গোওয়া ও চাষ করা
৮। ল্যাবরেটরিতে কাজ করা
৯। মাথায় করে ভারী জিনিস বহন করা
১০। মাংস কাটা
১১। হাতুড়ি ও ছেনি দিয়ে কাজ করা
১২। চাষের জমিতে ফসল কাটা
সংশ্লিষ্ট রোগ
(ক) পিঠে ও ঘাড়ে ব্যথা, চোখের সমস্যা
(খ) পায়ের পাতার হাড়ে সূক্ষ্ম চিড়, ক্যানসার
(গ) পিঠে ও ঘাড়ে ব্যথা
(ঘ) হাড় ভেঙে যাওয়া, কার্টিলেজ ছিঁড়ে যাওয়া
(ঙ) হাঁটু মুচড়ে কার্টিলেজ ছিঁড়ে যাওয়া
(চ) ফুসফুসে কয়লার গুঁড়ো জমে যাওয়া
(ছ) পিঠে ও ঘাড়ে ব্যথা
(জ) হাতে ও ঘাড়ে ব্যথা
(ঝ) ঘাড়ে ব্যথা ও চোখের সমস্যা
(ঞ) হাতের সমস্যা
পেশাগত রোগের বিভিন্ন কারণ
মানুষ বিভিন্ন ভৌত ও রাসায়নিক পরিবেশের মধ্যে দীর্ঘ সময় থেকে কাজ করে। এ সকল ভৌত ও রাসায়নিক প্রভাবক মানুষের শরীরে নানারকম প্রভাব ফেলে। এবার এসো দেখি কোন্ কোন্ প্রভাবকের জন্য মানুষের শরীরে নানা পেশাগত ব্যধির সৃষ্টি হয়।
ভৌত পরিবেশ:
আলো: আলোর উৎসের ক্ষেত্রে নীচের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করো—
কেমন বাড়িতে থাকেন? খুব খোলামেলা/অল্প খোলামেলা/কম খোলামেলা
কীরকম জায়গায় কাজ করেন? কারখানা/স্টুডিও/মাঠ/রাস্তা/বাজার/বাস/ট্রেন/খনি।
বাড়িতে ও কাজের জায়গায় আলোর উৎস কৃত্রিম না প্রাকৃতিক? প্রাকৃতিক।
বাড়িতে ও কাজের জায়গায় আলোর উজ্জ্বলতা কেমন? ভালো।
বাড়িতে ও কাজের জায়গায় থেকে আলোর উৎসের দূরত্ব কত (পায়ে মেপে দেখো)? ৩০ পা।
বাড়িতে ও কাজের জায়গায় আলো এক জায়গায় লাগানো নাকি হাতে নিয়ে ঘোরাফেরা করা যায়? এক জায়গায় লাগানো।
বাড়িতে ও কাজের জায়গায় ব্যবহৃত আলোর রঙের বৈশিষ্ট্য কী? সাধারণত মান, উজ্জ্বল।
এবার ওপরের আলোচনার সাপেক্ষে নীচের পেশায় কী কী সমস্যা হতে পারে বাগে তোমার মনে হয়?
অথকার খনিতে বা ডার্করুমে যারা একটানা অনেকক্ষণ ধরে কাজ করেন চোখের সমস্যা।
চোখ ঝলসানো আলোর নীচে দীর্ঘ সময় বসে কাজ করতে থাকলে চোখ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সমস্যা।
মৃদু আলোতে দীর্ঘ সময় ধরে লেখালেখির কাজ করলে চোখের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা।
এক্স রশ্মি : রোগীর শরীরের ভেতর আঘাতপ্রাপ্ত বা রোগাক্রান্ত বিভিন্ন অঙ্গের ছবি তুলাঙল্পে রশ্মি ব্যবহার করা হয়। এই রশ্মি বেশি এবং বারবার সরাসরি কোশের সংস্পর্শে এলে কোশের ক্রিয়া অস্বাভাবিক করে দিতে পারে। এমনকি কোশ ধ্বংস করে দিতে পারে। ফলে মানবদেহের নানা আঙ্গে কী কী প্রভাব পড়তে পারে তা নীচে লেখো। (শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করে লেখো)।
খাদ্যনালী বমির ভাব থিদের ভাব না হওয়া, পাতলা পায়খানা।
ফুসফুস শ্বাসকষ্ট।
অস্থিমজ্জা ক্যানসার, ঠিক মতো রডকোশ তৈরি না হওয়া, রক্তক্ষরণ।
শব্দভাণ্ডার : রক্তকোশ ঠিকমতো তৈরি হওয়া, বমির ভাব, খিদের ভাব না হওয়া, পাতলা পায়খানা, শ্বাসকষ্ট।
এছাড়াও একাধিক ভৌত কারণে বিভিন্নরকম বিপদের সম্ভাবনা থাকে এবং মানবদেহে নানা ঝধি সৃষ্টি হতে পারে। নীচের তালিকাটি তোমরা বন্ধু বা শিক্ষক/শিক্ষিকার সঙ্গে আলোচনা করে পূরণ করো।
পেশাগত ক্ষেত্রে ব্যধি সৃষ্টিকারী
অন্যান্য ভৌত কারণসমূহ
১। বিদ্যু
২। তাপ
৩। শৈত্য
৪। শব্দ
৫। তেজস্ক্রিয় পদার্থ
সৃষ্ট রোগ/উপসর্গসমূহ
শক লাগা, দুর্বল স্নায়ুরোগ
পুড়ে যাওয়া, ক্ষত হওয়া
তুষার ক্ষত, সর্দিকাশি, জ্বর
বধিরতা, মাথাধরা
রপ্তাল্পতা, ক্যানসার
রাসায়নিক পরিবেশ : মানুষ অতি প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে এসেছে। নানারকম রোগও এর ফলে মানুষের শরীরে বাসা বেঁধেছে। এবার তোমরা নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করো।
প্রাচীন মিশরীয়রা পোড়ামাটির বাসনপত্র অলংকৃত করতে কোন ধাতুর যৌগ ব্যবহার করতো? (লোহা/তামা/জিঙ্ক)
খনির বদ্ধ বাতাসের মধ্যে কোন গ্যাস থাকলে শ্রমিকদের মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে? কার্বন মনোক্সাইড। (হাইড্রোজেন/অক্সিজেন/কার্বন মনোক্সাইড)।
প্রসাধনী সামগ্রী, সৃতিবস্ত্র ইত্যাদি রং করতে কোন রাসায়নিক যৌগ ব্যবহার করা হয়? সংশ্লেখিত জৈব রঞ্জক (অল/সোডিয়াম ক্লোরাইড/সংশ্লেষিত জৈব রঞ্জক)।
দেওয়ালের রং, খেলনা, গাড়ির ব্যাটারি তৈরি করতে কোন ধাতু বা ধাতুর যৌগ ব্যবহার করা হয়? সিসা (লোহা/ সোডিয়াম/সিসা)।
ওপরের আলোচনায় আমরা রাসায়নিক পরিবেশের নানা ধরনের উপাদানের সঙ্গে পরিচিত হলাম। রাসায়নিক প্রকৃতি অনুযায়ী এরা হলো-
রাসায়নিক প্রকৃতি
১। গ্যাস
২। ধাত
৩। সংশ্লেষিত যৌগ
উপাদানের নাম
কার্বন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার
পারন, ফ্লোরাইড
জৈব রক্ষক, রাসায়নিক পদার্থ
ডাই-অক্সাইড
আদিম মানুষকে শিকার, পশুপালন কিংবা অন্যান্য কাজের প্রয়োজনে প্রচুর শক্তি ব্যয় করতে হতো। ফলে রক্তের ফাট বা গ্লুকোজকে অনবরত পোড়াতে হতো। কিন্তু যন্ত্র যখন থেকে মানুষের নানা কাজে বেশি বেশি করে ব্যবহৃত হতে থাকলো পরিশ্রম ততই কমতে থাকলো। বহু মানুষ এমন পেশায় যুক্ত হতে থাকলেন যেখানে বাড়িও শ্রমের তুলনায় মানসিক শ্রম বেশি। চেয়ার-টেবিলে বসে লেখা, হিসেব-নিকশে করা, কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করার মতো পেশায় নিযুক্ত ব্যক্তিদের পেশির সঞ্চালন কম হয়। বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সরবরাহ কমে যায়। এই পেশাগুলিতে নিযুক্ত ব্যক্তিদের রক্তের গ্লুকোজ বা ফ্যাটকে সেভাবে পোড়ানোর দরকার হয় না। অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও ফ্যাট রক্তে ক্রমাগত জমা হতে থাকে। এবার বন্ধুদের শিক্ষক/শিক্ষিকা বা ডাক্তারবাবুর সঙ্গে আলোচনা করে জানার চেষ্টা করো এধরনের পেশায় কোন কোন রোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
(১) ডায়াবেটিস, (২) উচ্চ রক্তচাপ, (৩) ঘাড়ে ব্যথা, (৪) অনিদ্রা, (৫) সুগার, (৬) বাতের ব্যথা।
তাহলে তোমরা বুঝতে পারলে যেকোনো পেশাতেই কোনো না কোনো রোগের প্রকাশ ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এবার নীচের পেশাগুলিতে নিযুক্ত ব্যক্তিদের কী কী রোগ হয় বা সমস্যা প্রকাশ পায় তা লেখার চেষ্টা করো।
পেশার নাম
১। যাঁরা চা পাতা তোলার কাজ করেন।
২। যাঁরা ট্রাফিক পুলিশের কাজ করেন
৩ যারা কাঠের কাজ করেন
৪। যাঁরা মাল বহন করেন
৫। যাঁরা বিকৃশা টানেন
৬। যাঁরা উনোনের সামনে দীর্ঘ সময় রান্না করেন
৭। যাঁরা তুলো নিয়ে কাজ করেন
৮। যাঁরা হাসপাতালে কাজ করেন
৯। যাঁরা বিভিন্ন খনিতে অঞ্জ করেন
১০। যাঁরা নির্মাণ শিল্পে কাজ করেন।
১১। যাঁরা ল্যাবরেটরিতে কাজ করেন
১২। যারা নানা ধরনের কারখানায় কাজ করেন।
১৩। যারা পাটকলে কাজ করেন
১৪। যাঁরা বিভিন্ন জিনিস ফেরি করেন
সংশ্লিষ্ট রোগ/সমস্যা
আঙুলের ডগায় পচন
শ্বাসকষ্ট, দৃষ্টিশক্তি কমে যায়,
তঅস্থিরতা
শ্বাসকষ্ট, পেশিতে খিঁচ ধরা
ঘাড়ে ব্যথা, রক্তয়া
বাত, পেশিতে খিঁচ ধরা
চোখঝালা, শ্বাসকষ্ট, বমি ভাব
শ্বাসকষ্ট, রক্তায়তা
বমি ভাব, ক্যানসার
শ্বাসকষ্ট, বমি ভাব, রক্তাল্পতা
বাত, ক্যানসার, ত্বকে ক্ষত
চোখ জ্বালা, শ্বাসকষ্ট, বমি ভাব
বধিরতা, অস্থিরতা
বেঁহুশ হারে যাওয়া, রক্তাল্পতা
পায়ের শিরার অসুখ
শব্দভাণ্ডার : বাত, পেশিতে খিঁচধরা, ঘাড়ে ব্যথা, বমিবমিভাব, কম বা বেশি খিদে পাওয়া, চোখছালা, শ্বাসকষ্ট, মাথাঘোরা,ত্বকে ক্ষত, হাড় ভেঙে যাওয়া, অস্থিরতা, বধিরতা, আগুনে পুড়ে যাওয়া, ক্যানসার, দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, রক্তাল্পতা, বেহুঁশ হয়ে যাওয়া, হিট ক্র্যাম্প, আঙুলের ডগায় পচন, পায়ের শিরার অসুখ।
স্বাস্থ্যের প্রকৃতি (দৈহিক, মানসিক)
স্বাস্থ্য বলতে দৈহিক, মানসিক এবং সামাজিক সুস্থতাকে বোঝায় কেবল নীরোগ অবস্থাকে নয়। অনেক সময় আমাদের শরীরের মধ্যে রোগ প্রক্রিয়া চলতে থাকে, যা বাইরে ধরা পড়ে না। সেক্ষেত্রে বাইরে থেকে নীরোগ দেখালেও ভিতর থেকে আমর অসুস্থ্য।
তুমি তোমার স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কি কি করো?
সকালে ১। হাত ও মুখ ধুই। ২। প্রাতঃশরাস। ৩। শরীরচর্চা। ৪। খাবার খাওয়া।
দুপুরে ১। কাজকর্ম। ২। পড়াশোনা ও স্নান। ৩। দুপুরের খাবার খাওয়া। ৪। হালকা বিশ্রাম।
বিকালে ১। খেলাধুলা। ২। ধ্যান। ৩। ঠাকুর প্রণাম। ৪। হালকা খাবার খাওয়া।
রাত্রে ১। পড়াশোনা। ২। হালকা খাবার খাওয়া। ৩। গল্প বই পড়া। ৪। ঘুমানো।
Unicef, WHO পরিকল্পিত দশটি জীবনকুশলতা আমরা আলোচনা করবো।
ভাবার কুশলতা
১। আত্মসচেতনতা
২। বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা
৩। সিন্ধান্ত নেওয়া
৪। সমস্যা দূর করা
৫। সৃজনশীল চিন্তা
সামাজিক কুশলতা
৬। পারস্পরিক সংযোগস্থাপন
৭। পারস্পরিক সম্পর্ক
৮। সহানুভূতি
বাধাবিপত্তি এড়ানোর কুশলতা
৯। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ
১০। আবেগ নিয়ন্ত্রণ
প্রত্যেক ছাত্রছাত্রীকে চারটি করে কার্ড দেওয়া হলো। এবার ১টপট লিখে ফেলো তো।
১। ওপরের ছবিগুলোতে কি কি দক্ষতা দেখানো হয়েছে? খেলা, লেখা, নৃত্য, কাটাকুটি খেলার দক্ষতা দেখানো হয়েছে।
২। তোমার কি কি দক্ষতা আছে বলে মনে করো? (আলাদা কার্ডে লেখো) আমার ছবি আঁকার দক্ষতা আছে?
৩। তোমার কোন্ কোন্ কুশলতার বিকাশের প্রয়োজন আছে বলে মনে করো? সৃজনশীল দক্ষতার বিকাশের প্রয়োজন আছে। লেখা শেষে কার্ডগুলো নিয়ে আলোচনা করো।
World Health Organisation (WHO)
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রাষ্ট্রসংঘের অধীন। বিশ্বের মানবসম্পদের স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা করে। ১৯৪৯ সালে ৯ই এপ্রিল স্থাপিত হয়। হেডকোয়ার্টার হলো সুইজারল্যান্ড জেনিভায়।
UNICEF– United Nations International Children's Emergency Fund
উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিশু ও মায়েদের স্বাস্থ্য নিয়ে মানবিকতার সঙ্গে কাজ করে চলেছে। ১৯৪৬ সালের ১১ই ডিম্বের রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনে এই সংস্থা গঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ক্ষতি ও শিশুদের জরুরিকালীন খাদ্য এবং স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের জন্যই এই সংস্থা গঠিত হয়।
পাশের ছবিটিতে দেখানো গল্পটি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করো। তারপর নীচের কাজটি করে ফেলো।
গিয়ে তাক কীভাবে তার সমস্যার মোকাবিলা করেছিলো?
নিজেকে জানো
নীচের ছবিগুলিতে কি কি ধরনের অনুভূতির প্রকাশ পেয়েছে তা নীচের বক্সে লিখো ফেলো।
১। আমার নাম অরিন্দম পাল।
২। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ।
৩। আমার সবথেকে ভালো লাগে আঁকা আঁতি করতে।
৪। আমার প্রিয় রং সবুজ।
৫। আমার হব আনন্দ হয় যখন সকলে মিলে কোথাও বেড়াতে যাই।
৬। আমার খুব দুঃখ হয় যখন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া হয়।
৭। আমার খুব রাগ হয় যখন আমার সাথে কেউ কথা বলে না।
৮। আমার শরীরে যা যা অসুবিধা হয় সর্দি, কাশি, জ্বর, পাতলা পায়খানা।
৯। অসুবিধা হলে আমার মনের অবস্থা খুব খারাপ বোধ হয়।
১০। মেসকল অসুবিধ আমি কাটিয়ে উঠতে পেরেছি সর্দি-কাশি, মাথার যন্ত্রণা
১১। যে সকল অসুবিধা এখনও রয়ে গেছে পায়ের যন্ত্রণা, জ্বর।
১২। বন্ধুদের নানা সমস্যা সমাধানের জন্য আমি যা যা করি সমস্যা নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা এবং তার সমাধানের বিভিন্ন উপায়।
স্নায়ু ও মনের স্বাস্থ্য
সার্বিক স্বাস্থ্য অর্জনের লক্ষ্যে শারীরিক এবং মানসিক দু-ধরনের স্বাস্থ্যই সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং এরা একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িতে।। মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা আমাদের স্নায়ুর ওপর চাপ ফেলে, যা থেকে শারীরিক সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এটা উল্টোদিক থেকেও সত্য।
মানসিক সমস্যার কারণ
১। জন্মগত ত্রুটি গর্ভাবস্থায় অপুষ্টি, বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ জন্মের পর শিশুর মন ও বুদ্ধির বিকাশকে ব্যহত করতে পারে।
২। মানসিক চাপ আশেপাশের পরিবেশ পরিস্থিতির চাপ (বিভিন্ন হিংসাত্মক ঘটনা, অপ্রত্যাশিত ঘটনা) আমাদের মনকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়। অনেক সময় সেই মানসিক চাপ আমরা সহ্য করতে পারি না।
৩। আমাদের বাড়ির অভ্যন্তরের নানা টানাপোড়েন।
৪। মানসিক দ্বন্দ্ব ও সিদ্ধান্ত নিতে না পারা।
৫। নেশা।
ওপরের কারণগুলির জন্য কী কী সমস্যা হতে পারে তা জানার চেষ্টা করো।
১। ডিসলেক্সিয়া (পড়া বুঝতে মনে রাখতে আর লিখতে অসুবিধা হয়। অক্ষর চিনতে ও লিখতে, বানান মনে রাখতে, অঙ্কের হিসাব করতে, নানা তথ্য মনে রাখতে আর বুঝতে অসুবিধা হয়।)
মনোবিদ ও মনোচিকিৎসক
মনোবিদরা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্বন্ধে দেখভাল করেন। বিভিন্ন দ্বন্দ্ব এবং টানাপোড়েনে আমরা মনোবিদদের সাহায্য নিউ। তাঁরা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা শনাক্তকরণ ও তার থেকে মুক্তির উপায় বাতলে দেন।
মনোচিকিৎসকদের কাজ প্রায় মনোবিদদেরই মতো। তবে অনেকসময় যেখানে ওষুধের দ্বারা মানসিক রোগ নিরাময় সম্ভব এবং যেখানে শারীরিক ও মানসিক অসুখ পরস্পর সম্পর্কযুক্ত সেখানে মনোচিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে।
মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে আমরা যা কিছু করি
১। ব্যবহারিক পরিবর্তন (কু-অভ্যাস শনাক্তকরণ ও দুরীকরণ) ২। মনোবল বৃদ্ধি (কোনো কু-অভ্যাস ছাড়ার জন্য মনের জোরকে বাড়িয়ে তোলা)। ৩।মনের কথা খুলে বলা। ৪। বিতর্কিত ব্যাপারে খোলাখুশি আলোচনা করা। ৫। ধ্যান ও একাগ্রতা বৃদ্ধি। ৬। পাঠক্রম বহির্ভূত ব্যাপারে চর্চা ছবি আঁকা, গান, খেলাধুলা ইত্যাদি।
ওপরের বিষয়গুলি দেখে তুমি তোমার মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য কি কি করবে তার তালিকা তৈরি করো
১। সর্বদা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবো।
২। অহেতুক তর্ক করবো না এবং পরিমিত কথা বলবো।
৩। সহঝে রেগে যাবো না যাতে মানসিক চাপ বাড়ে।
৪। গল্প বই পড়বো বা গান শুনাবো।
৫। মনের মধ্যে কোন জটিলতা না রেখে সকলের সাথে খোলামেলা কথা বলবো।
৬। হালকা শরীর চর্চা, ধ্যান, প্রাণায়াম ইত্যাদি করবো।
নীচের ছবিগুলো থেকে তুমি কোনগুলোকে বেছে নেবে তোমার রাগ কমানোর জন্য এবং কেন? গান শোনা, ব্যায়াম করা,গান গাওয়া, বই পড়া, খেলা, মুখোমুখি কথা বলা, গানের তালে নাচা, বাগানের গাছে জল দেওয়া, প্রাণায়াম করা/ধ্যান করা।
রাগ কমানোর উপায়
বই পড়বো
ধ্যান/প্রাণায়ন করা
গানের তালে নাচবো
খেলা করবে
গাছপালা লাগিয়ে বাগান তৈরি
রাগ কমানোর উপায়টি কেন বেছে নিলে
বই মনের অস্থিরতা দূর করে
মানসিক চাপ কমে
এতে সব দুঃখ দূর হয়
মনের একাগ্রতা, অস্থিরতা বারে
সৃজনশীল মনোভাব মানসিক তৃপ্তি এনে দেয়।
আমহার্স্ট আমেরিকানদের এই স্পর্ধা সহ্য করতে পারলেন না। তাঁর কথামতো অবরুদ্ধ দূর্গের ক্যাপ্টেন সাইমন ইকুইয়েয়ার সন্ধির প্রস্তাব পাঠালেন আমেরিকান উপজাতির সর্দারের কাছে। আর সঙ্গে পাঠালেন দুটি কম্বল ও রুমাল। ওই কম্বলগুলো আসলে ছিল বসন্ত রোগ।
তোমার পরিবারের বা তোমার পাড়ায় তুমি কী কী রোগ দেখছো তার একটা তালিকা তৈরি করো। একইসঙ্গে ওই রোগগুলি কীভাবে ছড়াতে পারে সেটা একটু ভেবে লেখার চেষ্টা করো তো।
রোগের নাম
১। সাধারণ সর্দিকাশি
২। আমাশয়
৩। ম্যালেরিয়া
৪। প্লেগ
৫। জলাতঙ্ক
কীভাবে ছড়ায়
১। বায়ুর মাধ্যমে
২। জলের মাধ্যমে
৩। মশার মাধ্যমে
৪। ইঁদুরের মাধ্যমে
৫। কুকুরের মাধ্যমে
সাধারণ সর্দি-কাশি কীভাবে ছড়ায়
১। হাঁচির মাধ্যমে
২। থুতুর বা কফের মাধ্যমে
৩। আক্রান্ত রোগীর সঙ্গে কথা বললেও
৪। বায়ুর মাধমে
সাধারণ সর্দি-কাশি হয়েছে এমন ব্যক্তির
১। মুখে রুমাল দিয়ে ছাঁচা উচিত
২। যত্রতত্র থুতু বা কফ না ফেলা
৩। খুব কাছাকাছি কথা না বলা
৪। যত্রতত্র ঘোরাফেরা না করা
কী কী করা উচিত যাতে ওই রোগটি না ছড়ায়?
নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে আর শিক্ষক/শিক্ষিকা বা বাড়ির বড়োদের সঙ্গে আলোচনা করে নীচের সারণিটি পুরণ করো। প্রয়োজনে তোমার চেনা ডাক্তারবাবুর সাহায্যও নিতে পারো।
কাঠের গুঁড়ো, ফুলের রেণু আর হাঁচি-কাশি
সেদিন স্কুলের মিড-ডে মিলে ডিমের তরকারি হয়েছে। অমিত বলল, আমি ডিম খাবো না। ডিম খেলে আমার গায়ে লাল লাল দাগ বেরিয়ে যায়, হাঁচি হয়, কখনও বমিও হয়।
রফিক বলল, সে কীরে, তুই ডিম খেতে পারিস না। তাহলে তোর ডিমটা আমাকে দিস। তোর কী কষ্ট রে! অমিত ফল, ডাক্তারবাবু বলেছেন যে আমার ডিমে অ্যালার্জি আছে।
প্রেরণা বলল, অ্যালার্জি কীরে?
আয়েষা বলল, ঠিক জানি না। তবে জানিস তো আমারও না অমিতেরই মতো সমস্যা আছে। তবে ডিমে না, ধুলোয়। বাড়িতে বইপত্তর, লেপ-তোশকের ধুলো আমার নাকে গেলেই হাঁচি শুরু হয়, চোখ নাক জ্বলা করতে থাকে আর জল পড়ে।
তোমরাও বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করো। আর নিজেরাও ভেবে দেখো তো, তোমাদের কার কার এই ধরনের সমস্যা হয়। আর ওই সমস্যার মূলে কোন জিনিসটা দায়ী, সেটাও লিখে ফেলার চেষ্টা করো।
কী জিনিস থেকে সমস্যা
১। ডিম খেলে
২। ধূলো নাকে গেলে
কী সমস্যা হয়েছিলো
গায়ে লাল দাগ
হাঁচি
কী করে সমস্যা থেকে মুক্তি
ওষুধ খেয়ে
নাকে রুমাল দিয়ে ঢেকে
পেয়েছিলে
বিভিন্ন বস্তুর কাছাকাছি এলে বা খেলে তোমাদের দেহে যে নানারকম সমস্যা (গায়ে লাল লাল দাগ, হাঁচি, চোখ নাক জ্বালা করা, বমি ইত্যাদি) দেখা যায়, সেটাই হলো অ্যালার্জি। আর যেসব বিভিন্ন বস্তু তোমাদের দেহে অ্যালার্জি সৃষ্টি করে, তারাই হলো অ্যালার্জেন। কয়েকটি অ্যালার্জেন হলো ডিম, ধুলো।
বায়ুবাহিত বিভিন্ন রোগের হাত থেকে বাঁচতে সাধারণভাবে কী কী করা উচিত এসো তো লিখে ফেলি।
বায়ুবাহিত বিভিন্ন রোগের হাত থেকে বাঁচার উপায়
১। অসুস্থ অবস্থায় ইডি/কাশির সময় মুখে আর নাকে রুমাল চাপা দেওয়া। ২। যেখানে সেখানে পুতু না ফেলা।
বায়ুবাহিত আরো কিছু রোগ সম্বন্ধে জেনে নীচের সারণিটি পূরণ করো। প্রয়োজনে তোমার শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নিতে পারো।
রোগের নাম
১। সাধারণ সর্দিকাশি
২। যক্ষ্মা
জীবাণুর ছবি
জীবাণুর প্রকৃতি
ভাইরাস
ব্যাকটেরিয়া
প্রথম তিনটে ছবিতে কী দেখতে পাচ্ছো? তিনটি ছবিতেই ঠান্ডা পানীয় খাচ্ছে।
শেষ দুটো ছবিতে কী দেখতে পাচ্ছো? ঠান্ডায় সর্দি, কাশি ও জ্বরে ভুগছে।
ছবিগুলো একসঙ্গে দেখে তোমার কী মনে হলো? আমাদের নিজেদের রোগ নিজেরাই ডেকে আনি।
আসলে ওপরের ছবিগুলোতে যেসব খাদ্য বা পানীয়ের কথা বলা হয়েছে, তাদের প্রধান উপাদান হলো জল। অনেকসময় ওইসব খাদ্য বা পানীয় তৈরি করতে বিশুদ্ধ পানীয় জল ব্যবহার করা হয় না। আর ওই দূষিত জল থেকেই আমাদের শরীরে ঢুকতে পারে কলেরার মতো বিভিন্ন রোগের জীবাণু। তার ফলে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারি।
তোমার কি কখনও এই রকম অসুখ হয়েছিলো? কী হয়েছিলো আর কীভাবে সেরেছিলো সেটাও নীচের সারণিতে লেখো।
কবে হয়েছিলো
১৮ জুন ২০১৩
কী সমস্যা হয়েছিলো
সর্দি-কাশি, জ্বর
কীভাবে অসুখ সেরেছিলো
বৃষ্টিতে ভিজে
জানো কি কলেরা রোগের পিছনে কে রয়েছে?
জল জল সংক্রমণ থেকেই ছড়ায় কলেরা রোগ।
প্রতি ৪ সেকেন্ডে এই গ্রহে একজনের মৃত্যু হচ্ছে জল সংক্রমণের কারণে।
জল আমরা কী কী কাজে ব্যবহার করি চট করে লিখে ফেলো।
জলের ব্যবহার
১। পানীয় জল হিসাবে
২। জামাকাপড় কাচতে
৩। স্নান করতে
ওই জলে জীবাণুর সংক্রমণ ঘটে থাকলে আমাদের কী কী ভাবে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে?
১। পেটের ভেতরে জীবাণু গিয়ে সংক্রমণ ঘটায়।
২। জামাকাপড়ের মধ্যে থাকা জীবাণু সংক্রমণ ঘটায়।
৩। হাতে, পায়ে, মাথায়, গায়ে জীবাণু লেগে গিয়ে সংক্রমণ ঘটায়।
নীচের সারণিতে দেখো জলের বেশ কিছু উৎসের নাম লেখা আছে। এদের মধ্যে কোন্ কোন্ উৎসের জলকে তুমি পানীয় জল হিসাবে বেছে নেবে? আর কোনগুলোকেই বা তুমি পানীয় জল হিসেবে বেছে নেবে না? তোমার মতামতের পেছনে যে কারণগুলো আছে সেটাও নীচের সারণিতে লেখো। প্রয়োজন মনে করলে, তুমি তারও কয়েকটা উৎসের নাম নীচের সারণিতে যোগ করতে পারো। এই সারণি পূরণ করার সময় তোমরা আগের পাতার ছবিগুলো সাহায্য নিতে পারো।
ওপরের তালিকাটা থেকে তোমরা তাহলে বুঝতে পারলে যে পানীয় জলের উৎস সঠিক হওয়াটা কতটা জরুরি। পানীয় জলের বিভিন্ন উৎসে নানা ধরনের বর্জ্য পদার্থ এসে মেশে। তেমনই আমাদের অসাবধানতার জন্য নানা রোগের জীবাণুও অনেক সময় পানীয় জালে এসে মেশে আর সেই জলের মাধ্যমেই ছড়ায়। জালের মাধ্যমে যেসব রোগ ছড়ায় তারাই হলো অপবাহিত রোগ
জলের মাধ্যমে ছড়ায় এমন বিভিন্ন রোগে তুমি নিজেও হয়তো কখনও ভূগেছো। এমনও হতে পারে, তুমি নিজে না ভুগলেও তোমার পরিবারে বা পাড়ায় হয়তো কাউকে এই রোগে ভুগতে দেখেছো। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বা তোমার বাড়ির/পাড়ার বয়স্ক ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে পরের পাতার কর্মপত্রটি পূরণ করার চেষ্টা করো।
কর্মপত্র
১। তোমার নাম সন্তোষ দোলুই।
২। তুমি নিজে বা তোমার বাড়ির কেউ কখনও জলবাহিত রোগে ভুগেছো? বাবে ভূগেছো?
হ্যাঁ ভুগেছে। ২০১৩ সালের ১৫ জুন
৩। ওই রোগের লক্ষণ কী কী ছিলো? ১। বমি ও পাতলা পায়খানা। ২। অলতেষ্টা ও পেটব্যথা। এ অবসন্নবোধ।
৪। ওই রোগ সারাতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিলো? ১। ডাক্তারবাবুর পরামর্শ মতো ঔষুধ খাওয়া। ২। সেলাইন দেওয়া। ৩।ORS খায়ানো এবং হালকা খাবার খাওয়া।
৫। কতদিন লেগেছিলো এই রোগ সারতে। এই রোগ সারতে প্রায় ৪-৫ দিন সময় লেগেছিলো।
৬। ডাক্তার দেখিয়েছিলে কি? দেখিয়ে থাকলে ডাক্তারবাবু ওই রোগের কী নাম বলেছিলেন?
ভাক্তার দেখিয়েছিলাম, ডাক্তারবাবু এই রোগের নাম বলেছিলেন 'কলেরা'।
৭। আগে থেকে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ওই রোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যেত বলে তোমার মনে হয়। ১। বিশুদ্ধ জল পান করলে। ২। জল ফুটিয়ে খেলে। ৩। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকলে।
৮। তোমার শেষ করে শরীর খারাপ হয়েছিলো? তখন কি হয়েছিলো? ৬ মে ২০১৩ সালে শেষ শরীর খারাপ হয়েছিলো। তখন জ্বর হয়েছিলো।
৯। তখন কি কি অসুবিধা হয়েছিলো? জ্বর, মাথার যন্ত্রণা, গা-হাত-পায়ের যন্ত্রণা, সর্দি-কাশি।
বিভিন্ন ধরনের জলবাহিত রোগ ও তার লক্ষণ
নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে আর শিক্ষক/শিক্ষিকা বা বাড়ির বড়োদের সঙ্গে আলোচনা করে নীচের পাতার সারণিটি ভর্তি করো। প্রয়োজনে তোমার চেনা ডাক্তারবাবুর সাহায্যও নিতে পারো।
রোগের নাম
১। কলেরা
২। বমি
৩। হাত পায়ে সুচ ফোটানোর মতো অনুভূতি।
লক্ষণ প্রতিকার
১। বারেবারে পাতলা জ্বলের মতো মল ত্যাগ, মলের রং চাল ধোয়া জালের মতো।
১। জল পান করে শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া জলের ঘাটতি পূরণ করা। ORS (Oral Rehydration Solution) পান করানো। ২। বিশুদ্ধ/ফোটানো জল পান করা। ৩। হালকা খাবার খাওয়া।
২। সাধারণ ডায়ারিয়া। ১। বারেবারে খড়-ধোয়া জলের মতো মল ত্যাগ। ২। শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া।
১। ORS পান করানো। ২। হালকা খাবার খাওয়া।
৩। পোলিও ১। হাত পায়ের মাংসপেশির অস্বাভাবিক শিথিলতা সমতে পক্ষাঘাত (Flaccid Paralysis)। ২। ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া। ৩। জ্বর (উচ্চ তাপমাত্রা)
১। পোলিও ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
জলবাহিত বিভিন্ন রোগের হাত থেকে বাঁচতে সাধারণভাবে কী কী করা উচিত এসো লিখে ফেলি।
জলবাহিত বিভিন্ন রোগের হাত থেকে বাঁচার উপায়
১। বিশুদ্ধ পানীয় জল পান করা।
২। মাটির নীচে আর ছাদের ওপরের জলাধার নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত করা।
৩। প্রয়োজনে জলকে ফুটিয়ে খাওয়া।
৪। পানীয় জলকে আঢাকা না রাখা।
৫। বাড়ির টিউবওয়েলের জলকে মাঝে মাঝে পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করানো।
৬। ব্রিচিং বা ফিটকিরি দিয়ে জলকে বিশুদ্ধ করা।
জলবাহিত আরো কিছু রোগ সম্বন্ধে জেনে নীচের সারণিটি পূরণ করো। প্রয়োজনে তোমার শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নিতে পারো।
ম্যালেরিয়া রোগটি কে ছড়ায় লেখো। মশা।
আচ্ছা আরও কয়েকটি রোগের নাম লেখার চেষ্টা করো, যে রোগগুলো ছড়ানোর ক্ষেত্রে কোনো না কোনো জীবের ভূমিকা আছে। প্রয়োজনে তোমার শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নিতে পারো।
রোগের নাম
১। ম্যালেরিয়া
২। ডেঙ্গু
৩। টাইফয়েড
৪। প্লেগ
৫। কলেরা
৬। জলাতঙ্ক
রোগ ছড়ানোতে যে জীবের ভূমিকা আছে
মশা
মশা
মশা
ইঁদুর
মাছি
কুকুর
৭। চিকেনগুনিয়া
৮।গো বসন্ত
মশা
গরু
মশা-মাছি আর বিভিন্ন রোগ
মশা
খাবার খাওয়ার জন্য আমরা আমাদের দেহের কী কী অঙ্গ ব্যবহার করি তোমরা তো জানো। এবারে এসো দেখি মশা কীভাবে রক্ত পান করে।
মাছি কীভাবে রোগ ছড়ায়, তার একটা ধারণা তোমরা পেলে। আর মশা কীভাবে রোগ ছড়ায় সেটাও তোমরা জেনেছো। ম্যালেরিয়ার গল্পটাও তো পড়েছো। বলো তো মশা আর সাধারণ মাহির রোগ সংক্রমণের মধ্যে তুমি কি কোনো পার্থক্য খুঁজে পেলে?
মশা
১। মশার দেহে রোগজীবাণু বংশবৃদ্ধি করে।
২। মশা দিন ও রাত্রি উভয় সময় বের হয়।
সাধারণ মাছি
১। সাধারণ মাছির দেহে রোগজীবাণু বংশবৃদ্ধি করে না
২। মাছি রাত্রে বেলা বের হয়।
তাহলে এবারে জৈব বাহক আর যান্ত্রিক বাহকের মধ্যে কয়েকটা পার্থক্য লিখে ফেলো তো।
জৈব বাহক
১। রোগজীবাণুটিকে তার নিজের দেহে বংশবৃদ্ধি করতে দেয়।
২। এরা দিনরাত্রি বের হয়।
৩। উদাহরণ– মশা
যান্ত্রিক বাহক
১। স্থানীয় রোগজীবাণুটিকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করে।
২। এরা সাধারণত রাত্রিবেলা বের হয়।
৩। উদাহরণ-মাছি।
বিভিন্ন ধরনের মাছি আর তারা কী ঝাঁক রোগ ছড়ায় সেটা তো জানালাম। এমনকি এরা কীভাবে রোগ ছড়ায় সেটাও জানালাম। এবারে এসো, মাছিকে আমরা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন রোগের হাত থেকে বাঁচতে পারি সেটা জানার চেষ্টা করি। কয়েকটি উপায় লিখে দেওয়া আছে। তুমি দেখো তো, আরো কয়েকটা উপায় লিখতে পারো বিনা।
মাছি নিয়ন্ত্রণের উপায়
১। যেকোনো ধরনের খাবার সবসময় ঢাকা দিয়ে রাখা উচিত।
২। ঘরের মেঝেঝ/খাওয়ার জায়গা প্রতিদিন ফিনাইল দিয়ে মোছা।
৩। বাড়ির জানালাতে সূক্ষ্ম নেট লাগানো।
৪। কয়েল অথবা জীবাণু নাশক সুগন্থি দ্রুত স্প্রে করা।
৫। নিকটবর্তী মাছিদের আবর্জনা ধ্বংস করা।
নষ্ট হওয়া খাবার
১। ওপরের ছবিতে দেওয়া ফল দুটোর মধ্যে কোনটা তুমি খাবে? ভালো হলদের রঙের পাকা কলাগুলি।
২। অন্য ফলটাকে বেছে না নিয়ে কেন ওই ফলটাকে তুমি বেছে নিলে। কারণ অন্যটা পচে গেছে।
৩। অন্য ফলটা খেলে তোমার কোনো ক্ষতি হতো কী? কী ক্ষতি হতে পারতো বলে তোমার মনে হয়। নষ্ট হওয়া পদের মধ্যে জীবাণু থাকে তাই খেলে রোগ হবে।
১। ওপরের ছবিতে দেখানো পাউরুটিগুলোর মধ্যে কোন পাউরুটি তুমি খাবে? ভালোটি যেটি কালো হয়নি।
২। অন্য পাউরুটিটা না বেছে তুমি ওই পাউরুটিটাকে বেছে নিলে কেন? অন্যটা নষ্ট হয়ে গেছে, ওটিতে ব্যাকটেরিয়া জন্মে গেছে ওটা খেলে পেট খারাপ হতে পারে।
৩। অন্য পাউরুটিটা খেলে তোমার কোনো ক্ষতি হয়তো কিছু ক্ষতি হতে পারতো বলে তোমার মনে হয়। ক্ষতি হতো, পেট খারাপ হতো।
নানাধরনের খাবার পড়ে যাওয়া বা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণ হলো এইসব খাবারে বিভিন্ন অণুজীবদের আক্রমণ। সাধারণত এইসব অণুজীবেরা হলো ব্যাকটেরিয়া আর ছত্রাক।
কী কী ধরনের খাবার তোমরা পচে যেতে বা নষ্ট হয়ে যেতে দেখেছো, তার একটা তালিকা তৈরি করে ফেলো।
পচে যায় এমন/নষ্ট হয়ে যায় এমন খাবার
১। ফল আপেল, আঙুর
২। কাঁচা সবুজি আলু, বেগুন,
৩। মাছ/মাংস/ডিম
৪। রান্না করা খাবার
৫। অন্যান্য খাবার ত্রুটি, কেক, চাউমিন সবুজ হয়ে যায়, টক লাগে।
কীভাবে বুঝলে খাবারটা নষ্ট হয়ে গেছে (রং বদল(বাহ্যিক চেহারার বদল/বিশেষ গন্ধ/বিশেষ স্বাদ)
কালো হয়ে যায়, চুপসে যায়, ছোপছোপ দাগ হয়ে যায়।
পটল আলু কালো হয়ে যায়, নরম হয়।
দুর্গন্ধ ওঠে, স্বাদ বদলে যায়।
তরকারী সময়ে নষ্ট হয়ে যায়, গল্প ওঠে।
১। বাহ্যিক চেহারায় অস্বাভাবিক বদল এসেছে এমন ফল/সবুদ্ধি না খাওয়া।
২। খারাপ স্বাদ বা গন্ধযুক্ত খাবার না খাওয়া।
৩। কোনো কোনো খাবার থেকে জল বের করে দিয়ে (অর্থাৎ শুকিয়ে ফেলে) সেই খাবারকে অনেকদিন অবধি খাওয়ার যোগ্য রাখা যায়। যেমন
৪। মাছ, ডিম বাসি খেলে তাকে ভালো করে ভোজ রাখতে হবে।
৫। ফ্রিজের মধ্যে খাবার ও সবজি রাখা।
খাবারে পরজীবী প্রাণী আর জীবাণুর সংক্রমণ
১। ওপরের ছবিতে দেওয়া মাংসগুলোর মধ্যে কোন্টা তুমি পাবে? ভালোভাবে সিদ্ধ করে রান্না করা মাংস।
২। কেন তুমি এই মাংসটাকে পাওয়ার জন্য বেছে নিলে? ওটা শরীরে হজম হবে।
৩। অন্য মাংসটাকে বেছে নিলে তোমার কি কোনো ক্ষতি হতো? ক্ষতি হলে কী ক্ষতি হতে পারতো? পায়খানা, বমি, পেট ব্যথা হতে পারতো।
এবারে লিখে ফোলা দেখি, খাবারে জীবাণুর সংক্রমণ বা পরজীবী রোগের হাত থেকে বাঁচার কী কী করা যেতে পারে?
১। পচা, বাসি খাবার না খাওয়া।
২। দুধ, তরকারী গরম করে খাওয়া।
৩। মাংস, ডিম, সবুঝি ভালোভাবে সেদ্ধ করে খাওয়া
৪। টাটকা খাবার খাওয়া।
কোনো খাবার খেয়ে তোমার কি কখনও অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা গেছিলো? যদি তোমার নিজের ক্ষেত্রে এমনটা নাও ঘটে থাকে, বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের ক্ষেত্রে এমনটা ঘটেছে কিনা। আর নীচে লিখে ফেলো।
অ্যালার্জি হওয়ার কারণ কী বলে মনে হয় অ্যালার্জির কী কী লক্ষণ দেখা গেছিলো কীভাবে সেরেছিলো
ডিম, চিংড়ি, লেখুন খাওয়া সারা শরীরে চুলকানো, হালকা জায়গা জায়গা চাকাচাকা দাগ ডাক্তারবাবুর পরামর্শ মতো এই ধরনের খাবার না খাওয়া এবং ওষুধ খাওয়া।
এবারে এসো এমন কয়েকটা খাবারের নাম জানি যাদের থেকে অ্যালার্জি হতে দেখা গেছে। তোমরাও শিক্ষক/শিক্ষিকা বাড়ির বড়োদের সঙ্গে আলোচনা করে আরও কিছু নাম যোগ করতে পারো।
১।ডিম। ২। সরবে। ৩। চিংড়ি মাছ, কাঁকড়া 18 শামুক, ঝিনুক। ৫। দুষ/দুগ্ধজাত খাবার। ৬। গম। ৭। সয়াবিন। ৮। দুধ। ৯। বাদাম ১০। বেগুন
খাবার থেকে হওয়া অ্যালার্জির সাধারণ লক্ষণ
১। গা-হাত-পায়ে লাল লাল চাকাচাকা দাগ। ২। গা-হাত-পা চুলকানো। ৩। মুখ, ঠোঁট, গলা, জিভ ফুলে যাওয়া। ৪। গলায় অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট। ৫। চোখ-মুখ লাল হয়ে যাওয়া। ভাবমি।। পেটে ব্যথা। ৮। ডায়ারিয়া। ৯। শরীর হালকা আয়গ্য আয়গা লাল হয়ে যায়। ১০। অস্থিরতা।
এবারে লিখে ফেলো দেখি, খাবার থেকে হওয়া অ্যালার্জির হাত থেকে বাঁচতে কী কী করা যেতে পারে?
১। ডিম না খাওয়া। ২। চিংড়ি না খাওয়া। ৩। শামুক, ঝিনুক না খাওয়া। ৪। গম, বেগুন, সয়াবিন না পাওয়া।
অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে কী করবে?
১। ডাক্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অস্বস্তি থেকে সাময়িক আরাম পাওয়ার ব্যবস্থা করা।
২। কোন খাবার থেকে আলার্জি হলো খুঁজে বার করার চেষ্টা করা। যাতে ভবিষ্যতে ওই খাবার খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা যায়।
খাবারে ভেজাল
তোমরা তো অনেক সময়ই কথাটা শোনো খাবারে ভেজাল মেশানো আছে। বলতে পারবে এই ভেজালটা কী? কী ক্ষতি করে আমাদের?
নীচের সারণিটি ভরতি করার চেষ্টা করো। প্রয়োজনে তোমার শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্য নাও।
কোন কোন খাবারে ভেজাল মেশানোর কথা তুমি জানো বা শুনছো কী মেশানো হয়েছে জানো কি? ওই খাবার খেলে কী ক্ষতি হতে পারে?
হলুদ কাঠগুড়ো পেটের অসুখ, বমি।
সবজি উজ্জ্বল করার জন্য পেটের অসুখ, পায়খানা।
আম, কলা, লেবু ইত্যাদি পাকানোর জন্য কার্বাইড গ্যাস, অম্বল, বদহজম
মিষ্টি কেমিক্যাল পেট খারাপ, পেটবাঘা, বুকজ্বালা ইত্যাদি।
কাকে ভেজাল খাবার বলবে, সে সম্বন্ধে তোমাদের তো একটা ধারণা হলো। তোমরা প্রতিদিন বাড়ির রান্না করা খাবারের বাইরে আর কী কী খাবার খাও তার একটা তালিকা তৈরি করো। এবারে বলার চেষ্টা করো তো ওইসব খাবারের মধ্যে কোন্ কোন্ খাবারে ভেজাল থাকতে পারে।
খাবারের নাম
মিষ্টি
বেকারি দ্রব্য
আইসক্রিম
ভেজাল থাকতে পারে কিনা
ভেজাল থাকতে পারে
ভেজাল থাকতে পারে
ভেজাল থাকতে পারে
কীভাবে থাকতে পারে
বিভিন্ন কেমিক্যাল মেশানো হয়।
বাসি, পচা, ময়দা, আটা থেকে তৈরি হয়।
রাসায়নিক রং।
অনেক সময় খাবারে/খাবারের কোনো উপাদানের কৃত্রিম ক্ষতিকারক কিছু রাসায়নিক রং মেশানো হয়, যা স্বীকৃত নয়। এসো এবারে সেইসব রঙের কয়েকটা সম্বন্ধে একটু জেনেনি।
কৃত্রিম রঙের নাম হতে পারে বলে তোমার মনে হয়।
১। মেটানিল ইয়োলো (Metanil Yellow)
২। ম্যালাকাইট গ্রিন (Malachita Green)
রং
হলুদ
সবুজ
কোন কোন খাবার/খাবারের উপাদানে মেশানো হতে পারে
গুঁড়ো হলুদ, লাড্ডু, তরকারি
উচ্ছে, লঙ্কা, পটল, ঢ্যারস, ঝিঙা
শরীরে কী ক্ষতি
অনেকদিন ধরে শরীরে প্রবেশ।
অনেকদিন ধরে শরীরে প্রবেশ।
প্রবেশ করলে ক্যানসারও হতে পারে।
খাবারের মাধমে সংক্রামিত রোগের হাত থেকে বাঁচতে কী কী করা যেতে পারে বলে তোমার মনে হয়?
১। যতটা সম্ভব বাড়ির খাবার খাওয়া।
২। যে ধরনের খাবারে ভেজাল থাকার সম্ভাবনা বেশি সেই ধরনের খাবার কম খাওয়া
সরষে বীজের চেয়ে শিয়ালকাটার বাজ বেশি কালো রঙের হয়। আর বীজের গাটা অনসৃণ হয় না, বীজের ভেতরটা হয় সাদা রঙের।
মন্তব্যসমূহ