সপ্তম অধ্যায়
পরিবেশের সংকট, উদ্ভিদ ও পরিবেশের সংরক্ষণ
পাঠ্যপুস্তকের প্রশ্নোত্তর
জলবায়ুর পরিবর্তন :
প্রশ্ন ১। ওপরের ছবিগুলোতে কী ঘটেছে বলো? এর কারণ কী হতে পারে তা লেখার চেষ্টা করো।
(পাতা-227, ছবি, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ)
উত্তর। ঘূর্ণবাত বিধ্বস্ত সমূদ্র, ঘরবাড়ির ক্ষতি, বরফে ঢাকা সমূদ্র, কন্যা কবলিত গ্রাম, বন্যা কবলিত শহরের পরিস্থিতি। এসবই জলবায়ুর হঠাৎ পরিবর্তন ও খামখেয়ালিপনার প্রভাব।
প্রশ্ন ২। এবার বলো তো আবহাওয়া আর জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর। আবহাওয়া
(ক) কোনো এক স্থানের এক নির্দিষ্ট বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থা যেখানে রোদ, ঝড়, বৃষ্টি দিনে দিনে ঘণ্টায় ঘণ্টায় এমনকি মুহূর্তেও বদলায় এমন অবস্থাকে আবহাওয়া বলে।
(খ) কাছাকাছি থাকা দু'টি স্থানের মধ্যে আবহাওয়া বদলায়।
জলবায়ু
(ক) আবহাওয়ার দীর্ঘসময়ের (বড়া) গড়ে অবস্থাকে
অলবায়ু বলে।
(খ) বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নির্দিষ্ট সময়ে জলবায়ু দেখা যায়।
প্রশ্ন ৩। নীচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করো।
(ক) আম গাছে কখন মুকুল আসে?
উত্তর বসন্তকালে আমগাছে মুকুল আসে।
(খ) বাইরের দেশ থেকে পরিযায়ী পাহিরা কখন এদেশে আসে?
উত্তর। শীতকালে বাইরের দেশ থেকে পরিযায়ী পাখিরা আসে।
(গ) ইলিশ মাছ কখন ডিম পাড়ে?
উত্তর। বর্ষাকালে ইলিশ মাছ ডিম পাড়ে।
(ঘ) পলাশফুল কখন ফোটে?
উত্তর। বসন্তকালে পলাশফুল ফোটে।
(ঙ) এইরকম আরও কিছু প্রাকৃতিক ঘটনার কথা লেখো যেগুলো বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে হয়।
উত্তরঃ (১) গরমকালে তাপমাত্রা বাড়ে। (২) শীতকালে তাপমাত্রা শুনে। (৩) শরৎকালে ভোরবেলা শিশির পড়ে। (৪) শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যায়।
প্রশ্ন ৪। প্রতিটি ঋতুর স্থায়িত্ব স্বাভাবিক সময়ের থেকে বেশি বা কম হলে কি কোনও সমস্যা দেখা দিতে পারে? নীচের সারণিতে লেখো।
উত্তর। ঋতুর নাম
1. গৃষ্ম
2. বর্ষা
স্থায়িত্ব স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি বা কম হলে কী সমস্যা হতে পারে
1. স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি হলে খরা হবে।
2. স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি হলে বন্যা হবে।
প্রশ্ন ৫। বাবা-মা বা এলাকার বয়স্কদের সঙ্গে আলোচনা করে নীচের কর্মত্রটা ভরতি করার চেষ্টা করো।
উত্তর। কর্মপত্র
(ক) আপনার নাম কী? উত্তর। কেদার হালদার
(খ) আপনার বয়স কত? উত্তর। ২৯ বছর
তারিখ: ১৫.১১.২০২১
গ) আপনি যে অঞ্চলে থাকেন সেই অঞ্চলের নাম ও আবহাওয়ার বৈশিষ্ট্য কী? উত্তর। হাওড়া। সাধারণত গরম অঞ্চল
(ঘ) আপনার অঞ্চলে ছোটোবেলার জলবায়ুর সঙ্গে এখনকার জলবায়ুর (উষ্নতা, বৃষ্টিপাত ইত্যাদি) কী কী পরিবর্তন লক্ষ করেছেন? উত্তর। (i) উচ্চতা আগের থেকে বেড়েছে। (ii) আর্দ্রতাও বেড়েছে। (iii) শীত আগের থেকে অনেক কমেছে। (iv) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম এবং অনিয়মিত।
(ঙ) এখনকার জলবায়ুর সঙ্গে ২০ বছর আগেকার জলবায়ুর কী কী পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন?
উত্তর। বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, উচ্চতার তারতম্য, শীতের প্রকোপ হ্রাস।
৯। তোমার বাড়ি বা স্কুলের আশেপাশে যেব জীবেরা থাকে তাদের একটা তালিকা তৈরি করো। এর বাইরেও কোনও জায়গায় কোনও জীবকে দেখলে তাদেরও এই তালিকায় যুক্ত করো।
উত্তর।
বাসস্থানের প্রকৃতি
(ক) জল
(খ) ভিজে আল
(গ) পুকুরের পাড়ের ঘন ঝোপ
(ঘ) ইঁদুরের গর্ত
(ঙ) পুরোনো মোটা গাছের গুঁড়ির কোটর
(চ) উই ঢিবি
(ছ) পুরোনো বাড়ির ইটের ফাটল
(জ) খালপাড়
(ঝ)ঘরের ঘুলঘুলি
কী কী উদ্ভিদ দেখেছ (বীরুৎ/গুল্ম/বৃক্ষ)
শ্যাওলা (বীরুৎ)
শ্যাওলা, ঘাস (বীরুৎ)
ছোটো ছোটো গাছ (গুলু), ঘাস (বীরুৎ)
–
ব্যাঙের ছাতা (বীরুৎ)
শ্যাওলা (বীরুৎ), বট, অশ্বত্থ (বৃক্ষ)
শ্যাওলা (বীরুৎ),
ছোটো গাছ (গুল্ম)
কী কী প্রাণী দেখেছ (মেরুদণ্ডী/অমেরুদণ্ডী)
ব্যাং, ছোটো মাছ (মেরুদণ্ডী)
কেঁচো, মাকড়সা (অমেরুদণ্ডী সাপ, ব্যাং (মেরুদণ্ডী), পিঁপড়ে, কেঁচো (অমেরুদণ্ডী)
ইঁদুর (মেরুদণ্ডী)
পাখি, সাপ (মেরুদণ্ডী)
উইপোকা (অমেরুদণ্ডী)
সাপ (মেরুদণ্ডী), বিছে (অমেরুদন্ডী),পিঁপড়ে (অমেরুদণ্ডী)
পিঁপড়ে (অমেরুদণ্ডী), সাপ, বাং (মেরুদন্ডী),
চড়াই (মেরুদণ্ডী)
জীব বৈচিত্র্য ও ভারত
১০। এই যে এসব উদ্ভিদ আব প্রাণী – এদের কাছ থেকে কি আমরা কোনো উপকার পাই? এসো তো লিখে ফেলার চেষ্টা করি। এই তালিকায় তোমরা আরও অন্যান্য উদ্ভিদ আর প্রাণীদের নাম যোগ করতে পারো।
উত্তর।
উদ্ভিদের নাম
(ক) ধান
(খ) বট
(গ) নিম
(ঘ) সেগুন
উপকার
চাল পাওয়া যায়
আশ্রয় প্রদান করে
জ্বালানির কাঠ জোগন দেয়
রোগীর পথ্য, ওষুধ তৈরি, দাঁতন
উন্নতমানের আসবাব
প্রাণীর নাম
(ক) তেচোখ মাছ
(খ) সাপ
(গ) বাদুড়
(ঘ) কাক
উপকার
মশার লার্ভা খায়।
পোকামাকড়, ব্যাং, ইঁদুর ইত্যাদি প্রাণী খায়।
মশা, মাকড়সা, ক্ষুদ্র প্রাণী খেয়ে পরিবেশ রক্ষা করে
নোংরা আবর্জনা খেয়ে উপকার করে
৬। জলবায়ুর এই পরিবর্তনের পিছনে কী কী কারণ থাকতে পারে বলে আপনার মনে হয়?
উত্তর। (ক) অধিকতর উষ্ণতা (খ) অনিয়মিত বৃষ্টিপাত (গ) বায়ুপ্রবাহের হঠাৎ গতি পরিবর্তন (ঘ) হিমবাহের গলন।
৭। জলবায়ুর এই পরিবর্তনের ফলে কোনো শারীরিক সমস্যার কথা কী আপনার জানা আছে?
উত্তর। (ক) রোগের প্রকোপ (খ) মশা, মাছি ও জীবাণু সংক্রমণ (গ) ভাইরাস ইনফেকশন (ঘ) ফুসফুসের প্রদাহ।
৮। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে শারীরিক সমস্যা ছাড়াও আর কী কী সমস্যা আপনার এলাকায় হচ্ছে বলে আপনার মনে হয়?
উত্তর। (ক) স্বাভাবিক কৃষিকার্য ব্যাহত (খ) খাদ্যশস্যের ফলনের হ্রাস (গ) পানীয় জলের স্তর নিম্নগামী (ঘ) মহামারির প্রকোপ।
৯। জলবায়ুর পরিবর্তন যাতে ভয়াবহ আকার ধারণ না করে, সেই বিষয়ে করণীয় কী বলে আপনার মনে হয়?
উত্তব। (ক) আগাম সতর্কতা (খ) চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া (গ) পানীয় জলের সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণ (ঘ) প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা।
পৃথিবীর ঘোমটা
৭। (ক) ওপরের ছবিগুলো থেকে কী দেখতে পাচ্ছ? (পাতা-২৩০, ছবি মধ্যশিক্ষা পর্ষদ)
(খ) বিভিন্ন উৎস থেকে বেরোন ধোঁয়া কোথায় যায়?
উত্তর। (ক) ওপরের ছবিগুলো থেকে বিষাক্ত কালো পোড়া ধোঁয়া বেরোচ্ছে বিভিন্ন উপায়ে।
(খ) বিভিন্ন উৎস থেকে বেরোন বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে মিশছে। এই পদার্থগুলো (ধুলো, কার্বন, মিথেন ইত্যাদি) বায়ুমণ্ডলে গিয়ে জমা হয়ে পরিবেশে এইসব গ্যাসীয় পদার্থের পরিমাণ অধিকতর বেড়ে যায়।
৮। তোমরা তো খবরের কাগজ বা ম্যাগাজিন পড়ো। দেখো বিশ্ব উন্নায়ন আর জলবায়ুর পরিবর্তন সংক্রান্ত কী কী খবর পাও। এই বিষয়ে তোমরা যা যা পড়লে নীচের সারণিতে ছোটো করে লেখো।
উত্তর। বিষয়
(ক) হিমবাহের গলন
(গ) সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা বৃদ্ধি
(গ) জীববৈচিত্র্য ধ্বংস
খবর
২০০৭ সালে অমরনাথের গুহায় জমা বরফের উচ্চতা অনেক কমে যায়।
একটি গবেষণায় বলছে ২১০০ সালের মধ্যে সমুদ্রের জলতলের উচ্চতা ৭০ সেমি বাড়তে পারে।
১৯৮৮ সালে পৃথিবীর প্রায় ১৬ শতাংশ প্রবাল সম্পদ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।
১১। জীববৈচিত্র্য অর্থাৎ বিচিত্র রকম জীবের এই স্যার আমাদের সবসময় নানাভাবে সাহায্য করছে। এসো এবারে দেখে নেওয়া যাক। জীববৈচিত্র্য কীভাবে আমাদের নানা কাজে লাগে। জীববৈচিত্র্যের বিভিন্ন গুরুত্বের কথা পরের দুটো পাতায় দেখানো হয়েছে। জীববৈচিত্র্যের আরও কিছু গুরুত্ব তোমরাও যোগ করতে পারো।
উত্তর। খাদ্যের উৎস
(১) খাদ্যশস্যের বিচিত্র সম্ভার কৃষিজ উৎপাদন
বাড়াতে সাহায্য করে।
(২) বিভিন্ন উদ্ভিদ, তৃণভোজী প্রাণীর খাদ্যের উৎস।
পরিবেশের দূষণ রোধে
(ক) অনুজীবরা বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থকে ভেঙে ফেলে এইসব পদার্থের ক্ষতিকর প্রভাব দূর করতে সাহায্য করে।
(২) বড়ো বড়ো উদ্ভিদ পরিবেশকে দুষিত হওয়ার থেকে রক্ষা করে।
জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব :
জলবায়ুর স্থিতাবস্থা
(ক) পরিবেশে CO2 পরিমাণ বাড়লে তাপমাত্রা বাড়তে পারে।একমাত্র উদ্ভিদ আর কিছু অনুজীবীরাই CO2 শোষণ করে পরিবেশে O2 - CO-এর ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে।
(খ) উদ্ভিদরা মূল দিয়ে যে জল শোষণ করে, তার অতিরিক্ত অংশ বাষ্প করে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। বৃষ্টিপাত বজায় রাখতে। বনভূমি তথা উদ্ভিদরা এইভাবে সাহায্য করে।
(গ) উদ্ভিদ শ্বাসকার্যের সময় যে O, নির্গত করে তা প্রাণীসকল CO2 গ্রহণ করে বেঁচে থাকে এবং প্রাণীজগতের ছাড়া গ্রহণ করে পরিবেশ নির্মল করতে সাহায্য করে।
পরিবেশের বিভিন্ন মৌলের ভারসাম্য রক্ষা
(ক) মাটিতে উপস্থিত বিভিন্ন অনুজীব অন্যান্য মৃতজীবের দেহ বা বর্জ্য পদার্থগুলিকে মাটিতে মিশিয়ে দেয়। ফলে মাটি তার হারানো মৌলগুলিকে আবার ফিরে পায়।
(খ) পরিবেশের বিভিন্ন মৌলের উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিভিন্ন বিপাকীয় ক্রিয়ায় বিভিন্ন মৌলের ভারসাম্য রক্ষা হয়।
মৃত্তিকা সংরক্ষণ
(ক) ঘাস জাতীয় উদ্ভিদরা মাটির গঠন রক্ষা করতে সাহায্য করে।
(খ) মূলযুক্ত উদ্ভিদ মাটির জলধারণ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
(গ) ছত্রাক ও ব্যাকটেরি মাটিতে উপস্থিত উদ্ভিদের বৃদ্ধি সহায়ক বিভিন্ন উপাদানের পরিমাণ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
(ঘ) রাস্তাঘাট নির্মাণ ও আবাস্থল অটুট রাখতে।
সাহায্য করে।
ওষুধের উৎস
(১) সিনকোনা – কুইনাইন (২) সর্পগন্ধা - রেসারপিন
(৩) পেনিসিলিয়াম – পেনিসিলিন (৪) ধুতুরা- ডাটুরিন (৫) ইস্ট- অ্যালকোহল (৬) স্টেপটোমাইসেস- স্ট্রেপটোমইসিন (৭) তামাক – নিকোটিন (৮) বেলেডোনা- অ্যাট্রোপিন।
কাঠ
(১) জ্বালানি রুপে
(২) কাগজ তৈরিতে
(৩) আসবাব তৈরিতে।
জীববৈচিত্র্যের অন্যান্য গুরুত্ব :
অন্যান্য শিল্প
(ক) রেশম শিল্প- রেশম কীট তুঁত গাছে বাসা বাঁধে।
(খ) লাক্ষা শিল্প- লাক্ষা কটি পলাশ গাছে বাসা বাঁধে।
(গ) মধু - মৌমাছি গাছে চাক তৈরি করে।
(ঘ) পশম শিল্প ভেড়া, চমরী গাই ও বড়ো বড়ো লোমযুক্ত প্রাণী।
বিনেদন এবং ভ্রমণ
(ক) পশুপাখিদের তাদের স্বাভাবিক বাসস্থানে দেখার আনন্দ।
(খ) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনুভব করার জন্য শুকালে ভ্রমণ।
(গ) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনুভব করার জন্য পাহাড় ও সমুদ্র ভ্রমণ |
শিল্প ও সাহিত্যে প্রভাব
(ক) কোনো কোনো গাছ ও পশুপাখি অরণ্যে বসবাসকারী আদিবাসীদের উপাস্য।
(খ) সাহিত্য
(গ) চিত্রশিল্প
বিভিন্ন জীবদের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা
(ক) খাদ্য-দিক সম্পর্ক
(খ) বাস্তুতন্ত্র স্বাভাবিক রাখা।
১২। নীচের কর্মপত্রটা তোমার পরিবারের বা পাড়ার কোনো বয়স্ক ব্যক্তির সাহায্যে ভরতি করো
কর্মপত্র
প্রশ্ন ১। তোমার এলাকায় আগে দেখা যেত, এখন আর দেখা যায় না। এইরকম কয়েকটা উদ্ভিদের নাম লেখো।
উত্তর। লজ্জাবতী, শালুক, ঝাউ, দেবদারু ।
প্রশ্ন ২। তোমার এলাকায় আগে দেখা যেত, অথচ এখন আর দেখা যায় না। এইকরম কয়েকটা প্রাণীর নাম লেখো।
উত্তর। চড়াই, কোকিল, দোয়েল, ফিঙে, ফড়িং, ভার্ম, শিয়াল, দাঁড়কাক, শকুন, ময়ূর, ঈগল।
প্রশ্ন ৩। এইসব উদ্ভিদ বা প্রাণীর হারিয়ে যাওয়ার পিছনে কী কী কারণ আছে বলে মনে হয়?
উত্তর।
হারিয়ে যাওয়া উদ্ভিদ বা প্রাণীর নাম
(ক) বট, দেবদারু
(খ) কদম, শালুক
(গ) শালিক, দাঁড়কাক, শকুন
হারিয়ে যাওয়ার কারণ
(ক) কেটে ফেলা হচ্ছে।
(খ) পরিবেশের উন্নায়ণ।
(গ) আকাশচুম্বী অট্টালিকা ও শহরের সীমা প্রসার।
প্রশ্ন ৪। এইসব প্রাণী বা উদ্ভিদরা হারিয়ে যাওয়ায় তোমাদের কি কোনো ক্ষতি হয়েছে? ক্ষতি হয়ে থাকলে সেগুলো কী কী?
উত্তর। হ্যাঁ। ক্ষতি হয়েছে। বড়ো গাছগুলি মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখতো। এখন সেগুলি কেটে ফেলায় মাটি আলগা হয়ে যাচ্ছে। শালিক, দাঁড়কাক, শকুন ইত্যাদি পাখিরা মাটির পোকামাকড়। মৃত জীবজন্তুদের খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করত। এদের সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ায় পরিবেশে দূষণ বেশি হচ্ছে।
প্রশ্ন ৫। তোমার এলাকায় আগে দেখা যেত না, অথচ এখন দেখা যাচ্ছে এখন নতুন ধরনের কোনও উদ্ভিদ ও প্রাণী কি এসেছে? যদি এসে থাকে, তাদের নাম লেখো।
উত্তর। না। নতুন কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণী আসেনি।
প্রশ্ন ৬। এই নতুন ধরনের উদ্ভিদ বা প্রাণী তোমার এলাকায় আসার ফলাফল কী হতে পারে বলে মনে হয়?
উত্তর। কোন্ প্রাণী বা উদ্ভিদ এসেছে
নতুন কোনও প্রাণী বা উদ্ভিদ আসেনি।
কী ক্ষতি বা লাভ হয়েছে,
কোনও পরিবর্তন হয়নি।
প্রশ্ন ৭। তোমার এলাকায় কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদের সংখ্যা কী আস্তে আস্তে কমছে? তাদের নাম লেখো।
উত্তর। উদ্ভিদ
বট, দেবদারু, কদম, শালুক, লজ্জাবতী
প্রাণী
শালিক, শিয়াল, দাঁড়কাক, শকুন, ভোঁদর, ময়ূর, ঈগল।
প্রশ্ন ৮। এইসব উদ্ভিদ বা প্রাণীর সংখ্যা কমার পিছনে কী কারণ থাকতে পারে বলে তোমার মনে হয়?
উত্তর। জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি। শহরের সীমা প্রসার, অবাধে গাছ কেটে ফেলে পরিবেশ নষ্ট করা, জীবদের থাকার বাসস্থান হারিয়ে যাওয়া, বিশ্ব উন্নয়ন, চোরাশিকারীদের অবৈধ চোরাশিকার, বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের
অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, কৃষিক্ষেত্রে যথেচ্ছ কীটনাশক ব্যবহারের ফলে বহু শস্যভুক পাখির হারিয়ে যাওয়া, বিভিন্ন শিল্পের বর্জ্য পদার্থ খাল, বিল, নদীতে মেশা, নদীর জলে বিভিন্ন কলকারখানার দূষিত পদার্থের মিশ্রণের কারণে উদ্ভিদ বা প্রাণীর সংখ্যা ক্রমশ ধ্বংসের মুখে।
প্রশ্ন ৯। তোমার এলাকায় জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কী কী করা যেতে পারে নীচে লেখো।
উত্তর। (ক) দূষণ প্রতিরোধে রাস্তার ধারের বৃক্ষরাজির সুরক্ষা ও বনসৃজন।
(খ) শহরের জনসংখ্যা বৃদ্ধির নিয়ন্ত্রণ।
(গ) অবৈধ চোরাশিকারীদের থেকে জীবদের রক্ষা করা।
(ঘ) বর্জ্য পদার্থের সঠিক নিষ্কাশন ও সম্পূর্ণভাবে বিষযুক্তিকরণ।
১৩। জীবের থাকার জায়গা নানা কারণে ধ্বংস হতে পারে। চট করে কয়েকটা কারণ লেখার চেষ্টা করো।
উত্তর। জীবের থাকার জায়গা ধ্বংস হওয়ার কারণ – (ক) কাঠের জন্য জঙ্গলের গাছ কেটে ফেলা। (খ)জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধির ফলে শহরের সীমা প্রসার। (গ) বাস্তুতন্ত্রের অপব্যবহার ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। (ঘ) জলবায়ুর পরিবর্তন।
১৪। কাঠের জোগানের জন্য সুন্দরবনের পুরো অপাল একদিন উধাও হয়ে গেল, এমন যদি হয়—কী হবে ভেবে দেখো তো?
উত্তর। এরকম অবস্থা হলে খাদ্যশৃঙ্খল, বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়ার। বন্যপ্রাণীরা তাদের বাসস্থান হারাবে। সুন্দরবনের বিখ্যাত বাঘেরা খাবারের জন্য জনবসতি এলাকায় প্রবেশ করে গবাদি পশু ও মানুষকে আক্রমণ করবে। এককথায় পরিবেশের ভারসাম্য সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হবে।
১৫। এসো তো খুঁজে দেখার চেষ্টা করি কোন কোন প্রাণী এইসব জিনিসের জন্য চোরাশিকারীদের লোভের বলি হয়?
উত্তর। প্রাণীদের হত্যা করে পাওয়া জিনিসের নাম
(ক) দাঁত
(খ) চামড়া
(গ) শিং
(ঘ) লোম বা ফার
(ঙ) মৃগ নাভি
কোন্ কোন্ প্রাণী হত্যা করে পাওয়া যায়
হাতি, বুনো শুয়োর
বাঘ, হরিণ, ভাল্লুক
হরিণ, বাইসন, গণ্ডার
ভেড়া, ভাল্লুক, চমরী গাই
কস্তুরী মৃগ
কী কাজে ব্যবহার করা হয়
শৌখিন জিনিসপত্র তৈরিতে
ঘর সাজাতে
শোখিন জিনিসপত্র তৈরিতে
পশমের উল, বন্ধু সুগন্ধি দ্রব্য তৈরিতে
প্রাণী হত্যা না করেও কীভাবে ওই জিনিস পাওয়া সম্ভব।
স্বাভাবিক মৃত্যুর পর
স্বাভাবিক মৃত্যুর পর
স্বাভাবিক মৃত্যুর পর
স্বাভাবিক মৃত্যুর পর
স্বাভাবিক মৃত্যুর পর
১৬। চোরাশিকারের ফলে একটা বনে বাঘ বা অন্য বড়ো মাংসাশী প্রাণীর সংখ্যা খুব কমে গেল—এমন যদি হয় কী হবে ভেবে দেখো তো?
উত্তর। বনে বাঘ বা অন্য বড়ো মাংসাশী প্রাণীর সংখ্যা খুব কমে গেলে তৃণভোজী প্রাণীদের সংখ্যা অসংখ্য বৃদ্ধি পাবে। ফলে ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ, ছোটো গাছের সংখ্যা মারাত্মক ভাবে কমে যাবে এবং পরিবেশ নষ্ট হবে তৃণভোজী প্রাণীদের অবাধ বিচরণের প্রভাবে।
১৭। একটা জলাশয়ে এমন কিছু মাছ এনে ছেড়ে দেওয়া হল যারা অন্য ছোটো মাছদের খেয়ে নেয়, এমন যদি হয় - কী হবে ভেবে দেখো তো?
উত্তর। বড়ো মাছগুলো জলাশয়ের অন্য ছোট মাছদের খেয়ে নিলে জলাশয়ের ছোটো মাছগুলোর আর বংশবৃদ্ধি হবে না। এই ছোটো মাছ মৌরলা, পুঁটি, খলসের মতো মাছদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। এই ছোটো মাছ খেয়ে মানুষেরা তাদের চোখের দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণে রাখত তা ব্যাহত হবে।
১৮। কোনো অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ কমে গেল- এমন যদি হয় কী হবে ভেবে দেখো তো?
উত্তর। কোনো অঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ কমে গেলে জলের অভাবে ওই অঞ্চলের উদ্ভিদ সব শুকিয়ে যাবে। বৃষ্টির অভাবে মাটি শুকিয়ে যাবে। ফলে চাষবাসের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হবে। ওই অঞ্চলে বসবাসকারী বিভিন্ন পাখি ও গবাদি পশুদের নানারকম অসুবিধা হবে।
১৯। 'নদীর জলে কলকারখানার দূষিত পদার্থ ফেলা হল'-এমন যদি হয় কী হবে ভেবে দেখো তো?
উত্তর: কলকারখানার দূষিত বর্জ্য পদার্থ বা বিভিন্ন অপরিশোধিত যৌগ বা ধাতু নদীর জলে ফেলা হলে জলে বসবাসকারী জলজ প্রাণীরা সাধারণভাবে বিচরণ করতে না পারায় মরে যাবে। তাছাড়া নদীর জল সাধারণ মানুষেরা স্নানের জন্য ব্যবহার করে, ফলে দুষিত জলে চর্মরোগ, স্নায়ুরোগ, হাড়ের যন্ত্রণা এমনকি ক্যানসারও হতে পারে।
২০। এসো এবারে লিখে ফেলি অর্থনৈতিক গুরুত্ব আছে এমন কোন্ কোন্ জীবকে আমরা খুব বেশি মাত্রায় আমাদের কাজে লাগাচ্ছি।
উত্তর। জীবের নাম
(ক) রেশম মথ
(খ) মৌমাছি
(গ) হাঁস, মুরগি
(ঘ) কস্তুরী মৃণ
(ঙ) সাপ
কী কী প্রয়োজনে ব্যবহার করা হয়।
রেশম সুতো দিয়ে মূল্যবান সিল্কের কাপড়, চাদর তৈরি করা হয়।
মধু পুষ্টিকর খাদ্য হিসেবে এবং সর্দি, কাশি, জ্বর ইত্যাদি প্রতিরোধে, ত্বকের উজ্জ্বল বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়।
হাঁস, মুরগির ডিম আমাদের শরীর গঠনের পক্ষে বিশেষ প্রয়োজন। মুরগির মাংস থেকে প্রোটিন পাওয়া যায়।
সুগন্ধি দ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
বিভিন্ন প্রজাতির সাপের বিষ ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
২১। গাছের কোনো অংশ থেকে ওষুধ তৈরি হয়, এমন গাছকে কাজে লাগানো-এমন যদি হয় কী হবে ভেবে দেখো তো?
উত্তর। গাছের কোনও অংশ থেকে ওষুধ তৈরি হয় এমন গাছকে বেশিমাত্রায় কাজে লাগালে গাছের বৃদ্ধি কমে যাবে এবং ওই গাছের সংখ্যা দ্রুত হ্রাস পাবে।
বর্জ্য ও মানব স্বাস্থ্যের ঝুঁকি
২২। ওপরের ছবিগুলোতে কোন্ কোন্ উৎস থেকে বর্জ্য বেরোচ্ছে তা ছবির নীচে উল্লেখ করো। (পাতা ২৪৫, ছবি মধ্যশিক্ষা পর্ষদ)
উত্তর। (ক) নোংরা ট্যাঙ্কের জল (খ) কলকারখানার ধোঁয়া (গ) ফেলে দেওয়া সব্জি (ঘ) হাসপাতাল (ঙ)ডাস্টবিন (চ) ময়লা ফেলার গড়ি।
৩৫। এবার বলো তো – (১) বাতাসের গতি কমাতে গেলে গাছের সারি কেমন হওয়া উচিত? (২) তুমি এরকম বাতাস ভাঙা আর কোন কোন গাছের কথা জানো?
উত্তর। (১) বাতাসের গতি কমাতে গেলে গাছের সারির প্রত্যেক দুটি গাছের মধ্যে ফাঁকা স্থান রাখতে হবে।
(২) গরাণ, সুন্দরী, হেঁতাল।
৩৬। এছাড়াও রাস্তার ধারে চলার সময়ে তুমি লক্ষ করবে কোন কোন গাছের পাতা ওই ধরনের? আবার যেসব গাছে যৌগিক পাতা দেখা যায় তারাও ধোঁয়া শুষে নেয়। ধূলো পাতার উপর জমতে থাকে। এরকম গাছগুলি হল:
উত্তর। (ক) বৃচূড়া (খ) গুলমোহর (গ) শিরীষ (ঘ) ইউক্যালিপটাস (ঙ) নিম।
৩৭। তোমার বাড়ির পাশে যদি কোনও আম/বট/অশ্বত্থ/শিমূল/তেঁতুল বা অন্য কোনো বড়ো গাছ থাকে তবে ভালোভাবে লক্ষ করে দেখো তো গাছে কোন্ কোন্ প্রাণী বাস করে?
উত্তর। (ক) পোকামাকড় – পিঁপড়ে, মাকড়সা। (খ) পাখি – কাক, কোকিল, বক। (গ) স্তন্যপায়ী – বাদুড়,
হনুমান। (ঘ) সরীসৃপ- গিরগিটি, সাপ।
৩৮। একটা গাছ যদি এত প্রাণীকে আশ্রয় দেয়, তবে বুঝতেই পারছ একটা বনে কত রকমের প্রাণী থাকতে পারে। এবার বলো তো নীচের অরণ্যগুলিতে কোন্ কোন্ প্রাণী থাকে বা থাকতে পারে?
উত্তর। (ক) সরলবর্গীয় বৃক্ষের অরণ্যে – - তুষারচিতা, শ্বেতভল্লুক, পান্ডা, কস্তুরী ইঁদুর।
(খ) পর্ণমোচী বৃক্ষের অরণ্যে– বাঘ, ভল্লুক, শিয়াল, হাতি, নেকড়ে।
(গ) ম্যানগ্রোভ জাতীয় উদ্ভিদের অরণ্যে- বাঘ, বুনো শূকর, বাঁদর, শঙ্খচূড় সাপ।
(ঘ) ঘাস জাতীয় উদ্ভিদের অরণ্যে- একশৃলা গন্ডার, বাইসন, হরিণ, জেব্রা।
(ঙ) জলাভূমির আগাছা অরণ্যে - বেজি, গোসাপ, শূকর, কেউটে সাপ।
(চ) বাড়ির আশপাশের ঝোপঝাড়ে - গোসাপ, গিরগিটি, ভাম, ইঁদুর।
৩৯। গাছ ধ্বংস হওয়ার জন্যই আজ পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে কত প্রাণী। এইরকম কয়েকটি বিপন্ন প্রাণীর নাম করো যারা বেঁচে থাকে গাছের উপর নির্ভরশীল হয়ে।
উত্তর। প্রাণীর নাম
(ক) হাড়গিলে
(খ) প্যাঁচা
(গ) ভাম
(ঘ) হনুমান
খাদ্য / আশ্রয়দাতা গাছের নাম
মৃত, পচা গলা মাছের দেহাবশেষ।
ইঁদুর (আম, জাম, অশ্বত্থ, বট বৃক্ষ)।
ইঁদুর, ছুঁচো, পাখির ছানা, মুরগি।
ফল, বড়ো বৃক্ষ (আম, কাঁঠাল, জাম, বট)।
৪০। শব্দকে জব্দ করতে পারে বেল, ছাতিম ও জারুলের মতো গাছ। বনের গভীরতা যত বাড়ে শব্দের প্রাবল্য তত কমে। শব্দের প্রাবল্য কমানোর জন্য তুটি কোথায় কোথায় অরণ্য সপ্তাহে গাছ পুঁতবে?
উত্তর। (ক) রাস্তার দু'পাশে (খ) বাজার এলাকায় (গ) বাড়ির আশেপাশে (ঘ) হাসপাতালের পাশে (ঙ) কারখানার আশেপাশে।
৪১। এবার তাহলে পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে তোমরা পরিবেশকে বাঁচার এমন কোন কোন গাছ পুঁতলে তা লিখে ফেলো।
উত্তর: (ক) বিদ্যালয়ে– দেবদারু, পেয়ারা, আম
(খ) রাস্তার দু'ধারে – কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, ইউক্যালিপটাস, শিমুল।
(গ) চাষের জমির আশেপাশে– নারকেল, তাল, খেজুর।
(ঘ) পুকুর পাড়ে - নারকেল, সুপারি, ডালিম।
মন্তব্যসমূহ