স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী । কমলা দাশগুপ্ত । sadhinota songrame nari question answer । komola dasgupta

 স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী
      কমলা দাশগুপ্ত

কবি পরিচিয় : কবি কমলা দাশগুপ্ত ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতার জন্য আমাদের ভারতবর্ষের অনেক নারীরা ইংরেজ সরকারের সঙ্গে লড়াই করেছেন। তার মধ্যে কবি কমলা দাশগুপ্ত একজন। কবি ভারতবর্ষের বিপ্লবীদের অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। এর জন্য তাকে অনেকবার জেলেও যেতে হয়েছে। কবি কমলা দাশগুপ্তর লেখা 'স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলার নারী' প্রকাশিত হয় ১৯৬৩ সালে। কবির লেখা 'রক্তের অক্ষরে' গ্রন্থটি ১৯৫৪ সালে প্রকাশিত হয়। কবি ২০০০ খ্রিস্টাব্দে পরলোক গমন করেন।

রচনা পরিচয় : স্বাধীনতা সংগ্রামের নারী রচনাটিতে দুটি মহান নারীর কথা বলা হয়েছে। এই নারীরা কীভাবে আমাদের পরাধীন ভারতবর্ষকে স্বাধীন করার জন্য, ইংরেজ সরকারের সাথে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছে। কোনো অত্যাচারই তাদের এই কাজ আটকে রাখতে পারে নি। ারাংশ: ননীবালা দেবী এক মহান নারী ছিলেন। দেশ স্বাধীন করার জন্য বিপ্লবীদের অনেক অসময় তাদের সাহায্য করেছেন। ছদ্মবেশে জেলে গিয়ে গোপন খবর সংগ্রহ করেছেন। যখন পুলিশ সে কথা মানতে পারে তখন ননীবালা দেবীতে কাশীর অন্ধকার হাওয়া বন্ধ ছেলে রোজ আধঘন্টা করে কাটাতে হতো। তিনি ইন্দিরা বিপ্লবীদের আশ্রয়দাত্রী ছিলেন। কলকাতার প্রেসিডেন্সি জেলের আই. বি. পুলিশ স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট গোল্ডি (Goldie) কে তিনি চড় মেরেছিলেন কারণ ননীবালা দেবীর দরখাস্ত ছিঁড়ে ফেলে তাকে অসম্মান করেছিলেন।

দুকড়িবালা দেবী তিনিও এক স্বাধীনতা সংগ্রামী নারী ছিলেন। কার্তুজ বোঝাই বাক্স তিনি গেরুর গাড়ি করে অন্য জায়গায় পাচার করেছিলেন। দুকড়িবালা দেবীর বাড়ি একদিন পুলিশ তল্লাশি করেন তাতে ৭টি মসার (Mauser) পিস্তল পায় এর জন্য তার দু বছরের জেল হয়। তবুও এই নারীরা ভয় পেয়ে পিছু-পা হয়নি।

শব্দার্থ : তল্লাশি —খোঁজ। জেরা-জবাবদিহি। গ্রেপ্তার- আটক। জেটি সরকার—  বন্দরে বা ঘাটে মালপত্র ওঠানামার হিসেব রাখেন যিনি। দীক্ষা—উপদেশ। পলাতক–নিরুদ্দেশ। গুপ্ত- গোপন। হাগিল- উদ্ধার। হুলিয়া—পলাতক আগামীকে গ্রেপ্তার করার আদেশ পত্র।

হাতে কলমে

১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো :

১.১ ননীবালা দেবী বিপ্লবের দীক্ষা পেয়েছিলেন (অমরেন্দ্র চ্যাটার্জী/যাদুগোপাল মুখার্জী/ভোলানাথ চ্যাটার্জী)-এর কাছে। উঃ অমরেন্দ্র চ্যাটার্জী।

১.২ ননীবালা দেবী (রিষড়াতে/চুঁচুড়াতে/চন্দননগরে) অমর চ্যাটার্জী ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে আশ্রয় দেন। উঃ রিষড়াতে।

১.৩ চন্দননগর থেকে পালিয়ে ননীবালা দেবী যান (পেশোয়ারে/কাশীতে/ রিষড়াতে)। উঃ পেশোয়ারে।

১.৪ কাশীর ডেপুটি পুলিশ সুপার (জিতেন ব্যানার্জী/হিতেন ব্যানার্জী/যতীন ব্যানার্জী) ননীবালা দেবীকে জেরা করতেন। উঃ জিতেন ব্যানার্জী।

১.৫ পুলিশ সুপার গোল্ডির কাছে ননীবালা দেবী (সারদামণি দেবী/ভগিনী নিবেদিতা/দুকড়িবালা দেবী)-র কাছে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। উঃ সারদামণি দেবী।

১.৬ দুবড়িবালা দেবী বিপ্লবের অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন (বোনাপা/ভাইপো/ভাই) নিবারণ ঘটকের কাছে। উ: বোনপোর কাছে।

১.৭ বিপ্লবী হরিদাস দত্ত (গাড়োয়ান/পুলিশ/খালাসি)-র ছদ্মবেশে পিস্তল চুরি করেন।

উঃ গাড়োয়ান-এর ছদ্মবেশে পিস্তল চুরি করেন।


২. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও :

২.১ বিপ্লবী রামচন্দ্র মজুমদারের 'মসার' (পিস্তল)-এর খোঁজ নেওয়ার জন্য ননীবালা দেবী কী কৌশল অবলম্বন করেছিলেন?

উঃ বিপ্লবী রামচন্দ্র মজুমদারের ‘মসার' (পিস্তল)-এর খোঁজ নেওয়ার জন্য ননীবালা দেবী রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে, রামবাবুর সঙ্গে প্রেসিডেন্সি জেলে ইন্টারভিউ নিয়ে পিস্তলের গোপন খবর নিয়ে এসেদ্বিলেনা।

২.২ 'এঁদের সকলেরই মাথায় অনেক হাজার টাকার হুলিয়া ছিল'—'হুলিয়া' শব্দটির অর্থ কী? এঁরা কারা? এঁদের আশ্রয়দাত্রী কে ছিলেন? হুলিয়া থাকার জন্য এঁরা কীভাবে চলাফেরা করতেন?

উঃ 'হুলিয়া' শব্দটির অর্থ হল পালিয়ে যাওয়া বা লুকিয়ে থাকা ব্যক্তির জন্য পুরস্কারের ঘোষণা করা। এরা বলতে ডোলানাথ চ্যাটার্জী, অমর চ্যাটার্জী, যাদুগোপাল মুখার্জী, অতুল ঘোষ। ননীবালা দেবী এঁদের আশ্রয়দাত্রী ছিলেন। হুলিয়া থাকার জন্য এই বিপ্লবীরা রাতে বেরোতেন ও সূর্যের আলোতে মানে সকাল থেকে বিকালে ঘরে থাকবেন।

২.৩ 'ননীবালা দেবী পলাতক হলেন' ননীবালা দেবী পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন কেন? তিনি পালিয়েকোথায় গিয়েছিলেন? সেখানে তিনি কোন অসুখে আক্রান্ত হন?

উ: চন্দননগরের ভাড়াবাড়িতে গৃহকর্ত্রীর বেশে বিপ্লবীদের সাথে থাকাকালীন পুলিশের তল্লাশিতে বিপ্লবীরা পালিয়ে গেল। ফলে পুলিশ তৎপর হয়ে উঠল তাঁকে গ্রেপ্তার করতে।তাই তিনি পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।  ননীবালা দেবীর বাল্য বন্ধুর দাদা প্রবোধ মিত্র কর্মেপিলেক্ষে পেশোয়ার যাচ্ছিলেন। তাই তিনি পেশোয়াতে গিয়েছিলেন।  সেখানে তিনি কলেরা রোগে আক্রান্ত হন। 

২.৪ 'ননীবালা দেবী সবই অস্বীকার করতেন'- ননীবালা দেবী কোন কথা অস্বীকার করতেন? তার ফলশ্রুতিই বা কী হতো? 

উ: ননীবালা দেবী অস্বীকার করেছিলেন যে তাঁর সাথে বিল্পবীদের যোগাযোগ ছিলো।  তাকে প্রায় রোজ আধঘণ্টা পানিশমেন্ট চেম্বারে রাখা হতো। 

২.৫ কাশীর জেলের 'পানিশমেন্ট সেল-টির অবস্থা কেমন ছিল? সেখানে ননীবালা দেবীর ওপর কী ধরনের অত্যাচার করা হতো? 

উঃ কাশীর জেলের পানিশামেন্ট সেন্সটি ছিল মাটির নীচে আর সেই সেনটিতে আলো-হাওয়া ঢোকার কোনো জায়গা ছিলো না। তাতে একটি মাত্র দরজা ছিল। ননীবালা দেবীকে প্রায় রোজ আধঘণ্টা সেই অন্ধকার বাতাসহীন সেলটিতে কাটাতে হতো। এই ভাবে তাকে দিনের পর দিন অত্যাচার করা হতো। 

২.৬ 'ননীবালা দেবীদরখাস্ত লিখে দিলেন'- ননীবালা দেবী কাকে দরখাস্ত লিখে দিয়েছিলেন? দরখাস্তের বিষয়বস্তু কী ছিল? শেষ পর্যন্ত সেই দরখাস্তের কী পরিণতি হয়েছিল?

উ: পুলিশ সুপার গোল্ডিকে ননীবালা দেবী দরখাস্ত লিখে দিয়েছিলেন। ননীবালা দেবী পুলিশ সুপার গোল্ডিকে যে দরখাস্ত দিয়েছিলেন সেটিতে তিনি লিখেছিলেন যে তিনি বাগবাজারে রামাকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্ত্রীর কাছে গিয়ে থাকতে চান। ননীবালা দেবীর দেওয়া দরখাস্তটি যখন পুলিশ সুপার গোল্ডিকে দেওয়া হল তখন তিনি সেই দরখাস্তটি ছিড়ে ফেলেছিলেন। 

২.৭ 'এবার আমায় দলে নিয়ে নাও' -কে, কাকে এই অনুরোধ জানিয়েছিলেন? তিনি কেন, কোন দলে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক ছিলেন?

উ: নিবারণ ঘটককে, দুকড়িবালা দেবী এই অনুরোধটি জানিয়েছিলেন। মুকড়িবালা দেবী স্বদেশির সঙ্গে দেশ স্বাধীনতার কাজের জন্য তাঁদের সাথে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলেন।

২.৮ পুলিশ কোন অভিযোগে দুকড়িবালা দেবীকে গ্রেপ্তার করেন? বিচারে তার কী শাস্তি হয়?

উ. দুকড়িবালা দেবীকে পুলিশ অস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেন। অস্ত্র রাখার অভিযোগে বিচারে দুকড়িবালা দেবীর দু-বছর সময় কারাদন্ড হয়।


৩.আট-দশটি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

৩.১ স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী স্বনামধন্য খ্যাতনামা বিপ্লবীদের তুলনায় ননীবালা দেবী ও দুকড়িবালা দেবীর অবদান সামান্য নয়–এ বিষয়ে তোমার মতামত জানাও

উঃ আমাদের দেশের স্বাধীনতার জন্য অনেক নারীরা নিজেদের বলিদান দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে ননীবালা দেবী ও দুকড়িবাল দেবীর মতো নারীরাও রয়েছেন। ননীবালা দেবী স্বাধীনতা সংগ্রামী বিপ্লবীদের খুব সাহায্য করেছিলেন। 'হুলিয়া' বিপ্লবীদের আশ্রয় দিয়েছিলেন ননীবালা দেবী। তিনি আমাদের দেশের বিপ্লবীদের নানান ভাবে সাহায্য করেছেন যেমন বিপ্লবী রামচন্দ্র মজুমদারের রাখা 'মসার' খোঁজ নেওয়ার জন্য বিধবা হওয়া সত্ত্বেও সেই দিনের মেয়ে হয়েও তিনি তাঁর স্ত্রী সেজে জেলে গিয়ে খবর নিয়ে আসেন। পুলিশ যখন জানতে পেরেছিলেন যে ননীবালা দেবী দেশের বিপ্লবীদের সাথে যোগাযোগ রাখেন বা তাদের সাহায্য করেন তখন তাকে জেলে নিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করা হয়। ননীবালা দেবী এই কথা অস্বীকার করায় তাকে কঠিন শাস্তি পেতে হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন তাকে বন্ধ অন্ধকার, যেখানে হাওয়া-বাতাস, আলো কিছু ঢোকেনা সেরকম জায়গাতে আধঘণ্টা করে কটিতে হতো। এতো কিছুর পরেও সে নিজের লক্ষ্য থেকে ভয়ে সরে দাঁড়ায়নি।

ননীবালা দেবীর মতো আর এক মহান নারী ছিলেন দুকড়িবালা দেবী, তিনিও দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা বিপ্লবীদের অনেক ভাবে সাহায্য করেছিলেন। চুরি করা অস্ত্র নিজের বাড়িতে লুকিয়ে রেখে বিপ্লবীদের সাহায্য করেছিলেন

৩.২ ননীবালা দেবী ও দুকড়িবালা দেবীর অনমনীয়া বৈপ্লবিক মনোভাব কীভাবে পরবর্তীকালের বিপ্লবী নারীকে পথ দেখিয়েছে?-- পাঠ্য গদ্যাংশ অবলম্বনে তোমার মতামত জানাও।

উঃ নারী ননীবালা দেবী ও বুকড়িবালা দেবীর মতো সাহসী নারীদের মতো আমাদের দেশের অনেক সাধারণ নারীরা মনবল পেয়েছে। তাদের মনে এই মহান সাহসী নারীরা অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে। এই নারীরা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে পরাধীন ভারতবর্ষকে কীভাবে স্বাধীন করা যায়। ভয় পেয়ে নিজের দেশকে অন্যদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত নয়। যারা জোর করে এই ভারতবর্ষকে কেড়ে নিতে চাইছে তাদের কাছ থেকে দরকার পড়লে লড়াই করে, নিজেদের বলিদান দিয়ে সেটা আদায় করে নেবো। নিজেদের মধ্যে লুকিয়া থাকা সাহসকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা উচিত। এই সাহসী নারীদের আমরা চিরকাল মনে রাখবো কারণ তাঁদের অনুপ্রেরণায় অনেক নারীই অঞ্চলের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন।

৪. ননীবালা দেবী এবং দুকড়িবালা দেবী ছাড়া তুমি স্নার কোন কোন মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামীর কথা জানো? তাঁদের অবদানের কথা শিক্ষক-শিক্ষিকার কাছ থেকে জেনে নাও এবং খাতায় লেখো।

উঃ স্বাধীনতা সংগ্রামী মহিলাদের মধ্যে অনেকেই আছেন। যেমন—মাতঙ্গিনী হাজরা – মাতঙ্গিনী হাজরা হল মহাত্মা গান্ধিজির আদর্শে শিক্ষিতা নারী। তিনিও দেশের জন্য নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন।

৫. ঘটনার ক্রমানুসারে সাজিয়ে লেখো :

৫.১ চন্দননগরে যাদুগোপাল মুখার্জী, অমর চ্যাটার্জী, অতুল ঘোষ প্রমুখ বিপ্লবীকে আশ্রয়দান ও সেখান থেকে পলায়ন করলেন ননীবালা দেবী।

৫.২ পেশোয়ার থেকে গ্রেপ্তার করে কাশীতে পাঠানো হল ননীবালা দেবীকে এবং আলোবাতাসহীন বদ্ধ ঘরে তালাবদ্ধ করে শাস্তি দেওয়া হত।

৫.৩ বাগবাজারে মা সারদার কাছে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করে দরখাস্ত লিখলেন ননীবালা দেবী।

৫.৪ আই. বি. পুলিশের স্পেশাল সুপারিনটেডেণ্ট গেল্ডি, ননীবালা দেবীকে জেরা করতেন।

৫.৫ অমর চ্যাটার্জী ও তাঁর সহকর্মীকে রিষড়াতে দুইমাস আশ্রয় দিলেন ননীবালা দেবী।

৫.৬ পুলিশ সুপার গোল্ডি দরখাস্ত ছিঁড়ে ফেলায় ক্ষিপ্ত ননীবালা দেবী এক চড় বসিয়ে দিলেন গোল্তির মুখে।

৫.৭ ভাইপো অমরেন্দ্র চ্যাটার্জীর কাছে বিপ্লবের দীক্ষা পেলেন ননীবালা দেবী।

৫.৮ রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে প্রেসিডেন্সি তোল থেকে ননীবালা দেবী সংগ্রহ করলেন পিস্তলের গুপ্ত খবর।

উ: ৫.৭ ভাইপো অমরেন্দ্র চ্যাটার্জীর কাছে বিপ্লবের দীক্ষা পেলেন ননীবালা দেবী।

৫.৫ অমর চ্যাটার্জী ও তাঁর সহকর্মীকে রিষড়াতে দুইমাস আশ্রয় দিলেন ননীবালা দেবী।

৫.৮ রামচন্দ্র মজুমদারের স্ত্রী সেজে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে ননীবালা দেবী সংগ্রহ করলেন পিস্তলের গুপ্ত খবর।

৫.১ চন্দননগরের যাদুগোপাল মুখার্জী, অমর চ্যাটার্জী, অতুল ঘোষ প্রমুখ বিপ্লবীকে আশ্রয়দান ও সেখান থেকে্ পলায়ন করলেন ননীবালা দেবী।

৫.২ পেশোয়ার থেকে গ্রেপ্তার করে কাশীতে পাঠানো হল ননীবালা দেবীকে।

৫.৪ আই. বি. পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট গোল্ডি নদীবালা দেবীকে জেরা করতেন।

৫.৩ বাগবাজারে মা সারদার কাছে থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করে দরখাস্ত দিলেন ননীবালা দেবী।

৫.৬ পুলিশ সুপার গোল্ডি দরখাস্ত ছিঁড়ে ফেলার ক্ষিপ্ত ননীবালা এক চড় বসিয়ে দিলেন গোল্ডির মুখে।

৬. কে কোন আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মিলিয়ে লেখো :

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার – আইন অমান্য আন্দোলন।

মাতঙ্গিনী হাজরা-সিপাহী বিদ্রোহ।

সরোজিনী নাইডু—ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ।

আসির রানী লক্ষ্মীবাহ-লবণ সত্যাগ্রহ।

উঃ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার – ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণ।

মাতঙ্গিনী হাজরা-আইন অমান্য আন্দোলন।

সরোজিনী নাইডু—— লবণ সত্যাগ্রহ।

ঝাঁসির রানী লক্ষ্মীবাই - সিপাহী বিদ্রোহ।

৭. নিম্নলিখিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে দু-চার কথা লেখো :

অমরেন্দ্র চ্যাটার্জী, প্রবোধ মিত্র, তিন ব্যানার্জী, গোল্ডি, নিবারণ ঘটক, হরিদাস দত্ত।

অমরেন্দ্র চ্যাটার্জী -- দেশ স্বাধীনতার এক মহান বিপ্লবী অমরেন্দ্র চ্যাটার্জী। ননীবালা দেবীর ভ্রাতুষ্পুত্র এই অমরেন্দ্র চ্যাটার্জী। 

প্রবোধ মিত্র -- স্বাধীনতা সংগ্রামের নারী ননীবালা দেবীর ছোটোবেলার বন্ধুর দাদা হল প্রবোধ মিত্র। ননীবালা দেবীকে পুলিশের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন এবং তিনি তাকে পেশোয়ার নিয়ে গিয়েছিলেন।

জিতেন ব্যানার্জী -- জিতেন ব্যানার্জী অত্যাচারী কাশীর পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট ছিলেন। ননীবালা দেবীকে যখন কাশির ফেলে রাখা হয়েছিলো তখন জিতেন ব্যানার্জী বিপ্লবীদের নাম জানার জন্য ননীবালা দেবীকে মানসিক ভাবে অত্যাচার করতেন।

গোল্ডি -  কলকাতা প্রেসিডেন্সি জেলের আই. বি. পুলিশের স্পেশাল সুপারিনটেন্ডেন্ট ছিলেন এই ব্যক্তি। ননীবাল দেবী যখন মা সারদার কাছে থাকতে চেয়েছিলেন তখন তাকে একটি দরখাস্ত লিখে দিতে বলা হয়। যখন ননীবালা দেবী সেই দরখাস্তটি লিখে গোল্ডির কাছে নিয়ে যায় তখন তাকে অসম্মান করে সেটি ছিঁড়ে ফেলেছিলেন।

নিবারণ ঘটক - দুকড়িবালা দেবীর বোনপো এই নিবারণ ঘটক। তিনি ছিলেন মাইনিং ক্লাসের ছাত্র। নির্ধারণ ঘটক রডা কোম্পানি থেকে চুরি করে আনা সাতটি মসার পিস্তল মাসিমা দুঝড়িবালা দেবীকে লুকিয়ে রাখতে দিয়েছিলেন।

হরিদাস দত্ত  - হরিদাস দত্ত মহান বিপ্লবী ছিলেন। তিনি গাড়োয়ানের ছদ্মবেশে পিস্তল ও কার্তুজ বোঝাই গোরুর গাড়ি পুলিশের হাত থেকে বাঁচিয়ে বিপ্লবীদের হাতে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

৮. অর্থ লেখো ও বাক্যে রচনা করো:  হুলিয়া, মসার, দরখাস্ত, কারাদণ্ড, নিশাচর।

হুলিয়া : আসামিকে গ্রেপ্তার করার জন্য নির্দেশ নামা খবরের কাগজে হুলিয়া ছাপা হয়েছে।

মসার : এক প্রকার বন্দুক। অনেকদিন পরে আজ সেই পুলিশটির হাতে মদার দেখলাম।

দরখাস্ত - আবেদন পত্র। কাল আফিস থেকে ছুটি নেবে বলে ম্যানেজারকে একটা দরখাস্ত লিখে দাও।

কারাদণ্ড - ফেলে রেখে শাস্তি। খুনের পায়ে ডাকাতটির ৫ বছরের কারাদন্ড হল।

নিশাচর - যে রাতে চরে। অনলের মা অতো রাতে নিশাচরের মতো ঘুরছে দেখলাম।

৯. নীচে স্থুলাক্ষর অংশগুলির কারক ও বিভক্তি নির্ণয় করো :

৯.১ বিপ্লবী অমরেন্দ্র চ্যাটার্জীর কাছে বিপ্লবের দীক্ষা পেলেন ননীবালা দেবী।

উঃ অমরেন্দ্র চ্যাটার্জীর কর্তৃকারকে 'র' বিভক্তি।

৯.২ ১৯১৫ সালে চন্দননগরে আবার বাড়ি ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।

উ: 'চন্দননগরে' অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।

৯.৩  স্নায়ুর শক্তিকে চূর্ণ করে দেবার চূড়ান্ত প্রচেষ্টা।  উঃ 'শক্তিকে’ কর্মকারকে 'কে' বিভক্তি।

৯.৪ এগুলি ছিল রডা কোম্পানি থেকে চুরি করে আনা মাল।

ট: 'রডা কোম্পানির থেকে' অধিকরণ কারকে ‘থেকে' অনুসর্গ।

৯.৫ ছখানা গাড়ি তিনি রজা কোম্পানির গুদামে পৌঁছেদেন। 

উঃ কর্তৃকারকে-র বিভক্তি।

৯.৬ তল্লাশিতে পাওয়া যায় সাতটা মসার পিস্তল। 

উঃ নিমিত্ত কারকে ‘এ’ নিভক্তি, কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

৯.৭ শত জেরাতেও মাসিমার মুখ থেকে বের করতে পারলো না।

 উঃ অপাদান কারকে 'র' বিভক্তি।

৯.৮ এক কথায় লেখো:

পলায়ন করেছেন যিনি-              উঃ পলাতক।

একসঙ্গে কাজ করেন যিনি-        উঃ সহকর্মী।

বাজ পাখির মতো তীক্ষ্ণ দৃষ্টি—     উঃ শ্যেনদৃষ্টি।

বাল্যকালের বন্ধু-                         উ: বাল্যবন্ধু।

আবেদন জানিয়ে লিখিত পত্র--    উ: দরখাস্ত।

মহান কর্মে ব্রতী নারী-                   উঃ মহীয়সী।

এগিয়ে থাকেন যিনি/অগ্রে             উঃ অগ্রগামী।

বাস করেন যিনি-                              বাসিন্দা



স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী | কমলা দাশগুপ্ত | প্রশ্ন উত্তর | sadhinota songrame nari question answer

স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী প্রশ্ন উত্তর

sadhinota songrame nari question answer

স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী কমলা দাশগুপ্ত

west bengal board of secondary education

স্বাধীনতা সংগ্রামে নারী গল্পের প্রশ্ন উত্তর

class 7 bengali sadhinota sangrame nari question answer



মন্তব্যসমূহ