দিন ফুরালো । শঙ্খ ঘোষ । প্রশ্ন উত্তর । din furole poem by sankha ghosh | question answer

 দিন ফুরালো
        শঙ্খ ঘোষ

শব্দার্থ : ঠ্যাং –পা। মুচ্ছো- মূৰ্চ্ছা, চৈতনালোপ। দুচ্ছাই- দুরছাই, অবজ্ঞা ও বিরক্তিসূচক ধ্বনি। কুচ্ছিত – কুৎসিত,বিশ্রী, মুচ্ছো, মূৰ্চ্ছা–অচেতন হওয়া, জ্ঞান হারানো। সূয্যি– সূর্য। এক্ষুনি—এখনই। একশো–একশত। গুচ্ছ—গোছা। আঁধার- অন্ধকার। সত্যি- সত্য। বাচ্চা- শিশু। ধুচ্ছি— ধোঁয়া। গঙ্গা- নদীবিশেষ, যার জলপবিত্র।


 হাতে কলমে

 ১. কবিতাটিতে 'চ্ছ’ দিয়ে কতগুলি শব্দ আছে লেখো, প্রত্যেকটি শব্দ ব্যবহার করে একটি করে আলাদা বাক্য লেখো।

উত্তর। ইচ্ছে- আমার মাছ ধরতে যেতে ইচ্ছে করছে।

  দুচ্ছাই-দুচ্ছাই, আমার আর কিছু ভালো লাগছে না।

    মুচ্ছো আমার ভাই ভূতের গল্প শুনলে মুচ্ছো যায়।

       গুচ্ছে- ফুলের গুচ্ছে প্রজাপতি উড়ছে।

      বাচ্চা- বাচ্চারা সব মাঠে খেলা করছে।আচ্ছা-আচ্ছা ঠিক আছে, আমি তবে কালকেই যাব।

      কুচ্ছিৎ—গিরগিটিটা দেখতে বড়ো কুচ্ছিৎ।

     ধুচ্ছি–আমি এখন আমার জামাকাপড় ধুচ্ছি।

 ২. নীচের ছকটি সম্পূর্ণ করো।>

উত্তর। সূর্য > সূয্যি। দুরছাই> দুচ্ছাই। মূৰ্চ্ছা > মুচ্ছো। অন্ধকার > আঁধার। কুৎসিত > কুচ্ছিৎ। সন্ধ্যা> সন্ধে।

*৩. লক্ষ্য শব্দটিতে দুটি পৃথক অর্থে ব্যবহার করে দুটি পৃথক বাক্য লেখো। লক্ষ শব্দটির সঙ্গে এই দুটি অর্থের পার্থক্য দেখিয়ে আরও একটি নতুন বাক্য লেখো।

উত্তর। লক্ষ–এক লাখ->লোকটি লক্ষ টাকার মালিক কিন্তু কিপটে।

লক্ষ্য- দেখা- ছেলেটাকে ভালো করে লক্ষ্য করো।

লক্ষ্য- তোমার জীবনের লক্ষ্য ঠিক করো।

৪.'এক গঙ্গা জল'—শব্দবন্ধটির মানে 'গঙ্গায় যত জল ধরে সব' অর্থাৎ কিনা অনেকখানি জল।

নীচের স্তম্ভদুটির ডানদিক ও বামদিক ঠিকভাবে মেলাতে পারলে আরও কিছু এরকম শব্দবন্ধ তৈরি করতে পারবে। 

                 এক মাথা                  হাসি                       

                 এক ক্লাস                  আম                      

                 এক আকাশ             ধুলো

                 এক  ঘর                   ধান                                         

                এক কাঁড়ি               পায়েস

                এক ঝুড়ি                  ছাত্র                             

                এক হাঁড়ি                  তারা                       

                এক মুঠো                  টাকা

               এক মুখ                     লোক

               এক কাহন                  চিনি

উত্তরঃ    

                 এক মাথা                  ধূলো

                 এক ক্লাস                  ছাত্র

               এক আকাশ                তারা                                      

                 এক  ঘর                   লোক                                        

                এক কাঁড়ি                  টাকা

                এক ঝুড়ি                    আম                      

                এক হাঁড়ি                  পায়েস                 

                এক মুঠো                   চিনি

               এক মুখ                       হাসি

               এক কাহন                     ধান


৫. নীচের বিশেষগুলির আগে উপযুক্ত বিশেষণ বসিয়ে বাক্য রচনা করো।

উত্তর।

সুয্যি-রাঙা সূয্যি-দিনের শেষে রাঙা সুষ্যি অস্ত যাচ্ছে।

দৃশ্য- সুন্দর দৃশ্য → সুন্দর দৃশ্য দেখতে সবারই ভালো লাগে।

বাক্স- শক্ত বাক্স → শন্ত বাক্স বেশি সুরক্ষিত হয়।

বাপ-মা -রাগী বাপ-মা → রাগী বাপ মা হলে ছেলেদের অসুবিধা।

গর্ত- গভীর গর্ত-গভীর গর্ত পড়ে ছেলেটির হাত-পা ভেঙে গেল।

ঠ্যাং-সবল ঠ্যাং-সবল ঠ্যাং হলে হাঁটতে সুবিধে।

গাদা—বিশাল গাদা-সুমনের বাড়িতে বিশাল গাদা করে খড় রাখা রয়েছে।

ঘর—ছোট্ট ঘর-ভালো সম্পর্ক হলে ছোট্ট ঘরেও দশজন থাকা যায়।

ধান – সোনালি ধান-সোনালি ধান হলে দেখতে খুব সুন্দর লাগে।

স্বচ্ছ-স্বচ্ছ জল- স্বচ্ছ জল স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো।

৬. নীচের শব্দগুলির সমার্থক শব্দ কবিতা থেকে খুঁজে বার করো।

উত্তর। বারি—জল। অরুণ—সুয্যি। অম্বর— আকাশ। পেটিকা—বাক্স। অজ্ঞান- মুচ্ছো। গোছা—গুচ্ছে। বিষাদ—মন খারাপ। কন্দর-গর্ত। পা—ঠ্যাং। বিশ্ৰী- কুচ্ছিৎ

৭. নীচের শব্দগুলির বিপরীতার্থক শব্দ কবিতা থেকে খুঁজে নাও :

উত্তর। ভালো-খারাপ। মিথ্যা—সত্যি। বাইরে—ঘরে। বুড়ো— বাচ্ছা। সুশ্রী – কুচ্ছিৎ।

৮. কারক বিভক্তি নির্ণয় করো :

৮.১. চমকে দেবেন লক্ষ রঙের দৃশ্যে।

উত্তর। করণ কারকে- 'এ' বিভক্তি।

৮.২. বাপ-মায়েরা যাবেই তবে মুচ্ছো।

উত্তর। কর্তৃকারকে 'শূন্য' বিভক্তি

৮.৩. কেই বা খুলে দেখছে রঙের বাক্স।

উত্তর। কর্মকারকে 'র' বিভক্তি।

৮.৪. এবার ফিরতে হবে সত্যি নিজের নিজের মন খারাপের গর্তে।

উত্তর। কর্তৃকারকে- 'র' বিভক্তি

৮.৫. এক গঙ্গা জল দিয়ে তাই ধুচ্ছি।

উত্তর। কর্মকারকে শূন্য বিভক্তি।

৯. এক কথায় উত্তর দাও :

৯.১. সূয্য ডুবে যাওয়ায় কথকরা 'দুচ্ছাই' বলছে কেন?

উত্তর। সন্ধে হল বলে।

৯.২. কে এক্ষুনি আকাশ জুড়ে লক্ষ রঙের দৃশ্যে চমকে দেবেন?

উত্তর। ঈশ্বর।

৯.৩. কথকরা কেন সেই দৃশ্য দেখতে পাবে না?

উত্তর। বাড়ি যেতে হবে বলে সেই দৃশ্য দেখতে পাবে না।

৯.৪. কথকরা কেন বলেছে, 'কেই বা খুলে দেখেছে রঙের বাক্স?

উত্তর। বাক্সটি ঈশ্বরের।

৯.৫. বাপ-মায়েরা কী হলে মুচ্ছো যাবেন?

উত্তর। বাচ্চাদের ফিরতে দেরি হলে।

৯.৬. পাখিরা কোথা থেকে কোথায় উড়ে যায়?

উত্তর। ধানের খেত থেকে ঘরের দিকে।

৯.৭. কথকরা কেন বলেছেন তাদের নিজের নিজের ‘মন খারাপের গর্তে' ফিরতে হবে?

উত্তর। খেলা থেকে বাড়ি ফেরাটা বাচ্চাদের কাছে মন খারাপের হয়।

৯.৮. বাবা কী বলবেন?

উত্তর। বাবা বলবেন যে অন্ধকার হওয়ার পরেও এইটুকু সব বাচ্চারা মাঠ ছাড়ে না।

৯.৯. মা- ই বা বাড়ি ফিরলে কী বলবেন?

উত্তর। মা বলবে পাগুলো কুৎসিত তাই একগঙ্গা জল দিয়ে তিনি ধোবেন।

৯.১০ কথকরা কেন 'একগলা জল' দিয়ে পাচ্ছে?

উত্তর। ময়লা লেগেছে বলে।

★১০.ব্যাখ্যা করো :

১০.১. “সূয্যি নাকি........ডুব দিয়েছে?"

উত্তর। সূর্য নাকি সত্যি নিজের ইচ্ছায় সন্ধ্যেবেলা ডুব দিয়েছে।

১০.২. "আকাশ জুড়ে.......লক্ষ রঙের দৃশ্য।”

উত্তর। এক ঈশ্বর আকাশ জুড়ে লক্ষ রঙের দৃশ্য এঁকে চমকে দেবেন।

১০.৩. "লক্ষ্য বা তা হতেও পারে......রঙের বাক্স।”

উত্তর। তা লক্ষ্য না হয়ে একশো হতে পারে কেউ রঙের বাক্স খুলে দেখতে যায়নি।

১০.৪. “আমরা কি আর........যাবেই তবে মুচ্ছো।”

উত্তর। অন্ধকার হবার পরেও মাঠে থাকলে মা-বাবা মুচ্ছা যাবেন

১১. আট দশটি বাক্যে উত্তর দাও : 

১১.১. কবিতাটি অবলম্বনে তোমার দেখা একটি গোধূলির রূপ বর্ণনা করো।

উত্তর। সূর্য পশ্চিম প্রাঙে হেলে পড়েছে। গাছপালার মাথায়, আকাশের মেঘে লালরঙের ছোঁয়া লেগেছে। পুব আকাশে একফালি চাঁদ উঁকি মারছে। আকাশে কোথাও কোথাও দু-একটা তারা ঘুম ভেঙে উঠছে। পাখিরা আকাশে সারি বেঁধে নানারকম নকশা তৈরি করতে করতে ধরে ফিরছে। সন্ধেবেলার মৃদুমন্দ শীতল বাতাস বইতে শুরু করেছে। দিনের শেষে সবাই কাজ থেকে বাড়ি ফিরছে। এই সময়টা বাচ্চাদের খেলার থেকে ঘরে ফিরতে হয়। কোনো কোনো গৃহস্থ বাড়িতে শাঁখ ও ঘণ্টা ধ্বনি শোনা যাচ্ছে।

১১.২. কবিতাটিতে ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের কাদের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। সন্ধেবেলায় ঘরে ফেরাকে ‘মন খারাপের গর্তে’ ফেরা বলে কেন মনে হয়েছে?খেলা থেকে সন্ধেবেলা বাড়ি ফেরার দুঃখ নিয়ে তোমার অনুভূতি লেখো।

উত্তর। কবিতাটিতে ছোটো ছোটো ছেলেমেয়েদের সঙ্গে পাখির তুলনা করা হয়েছে।

খেলা থেকে ফিরে সন্ধেবেলা আবার পড়তে বসতে হয়। বাবা-মার বা বাড়ির অন্যান্য বড়োদের কাছে বকা শুনতে হয়। তাই সন্ধেবেলাতে ঘরে ফেরাকে মন খারাপের গর্তে' ফেরা বলে মনে করা হয়েছে।

খেলা থেকে যখন সন্ধেবেলা, বাড়ি ফিরি তখন পা আর চলে না। ঘড়ির কাঁটা দ্রুত ঘুরতে থাকে। মনে হয় যেন চারিদিকটা শূন্য হয়ে গেছে। বাড়ি ফিরলেই সেই একঘেয়ে 'পড়তে বস', 'পড়তে বস' আওয়াজ শুনতে আর ভালো লাগে। না। মনে হয় কবে যে এর থেকে মুক্তি পাব।

১১.৩. মা পা ধুতে বলেছেন বলে প্রচুর জল ঢেলে অনেক দেরি করে পা-ধোওয়া আসলে দেরি করে পড়তে বসার একটা বাহানা—এইরকম কী কী বাহানা তুমি করো, লিখে ফেলো।

উত্তর। আমার মাথা যন্ত্রণা করছে, চোখে ঝাপসা দেখছি, হাতে ব্যথা, মাথা গুলিয়ে যাচ্ছে ইত্যাদি।


সূয্যি নাকি সত্যি নিজের ইচ্ছেয়

ডুব দিয়েছে? সন্ধ্য হলো? দুচ্ছাই!

আকাশ জুড়ে এক্ষুনি এক ঈশ্বর

চমকে দেবেন লক্ষ্য রঙের দৃশ্যে।

লক্ষ্য, বা তা হতেও পারে একশো-

কেউ বা খুলে দেখেছে রঙের বাক্স!

আমরা কি আর দেখতে পাবো ভাবছো?

বাপ মায়েরা যাবেই তবে মুচ্ছো!

পাখির সারি যেমন ধানের গুচ্ছে

আঁধার ফেলে ঘরের দিকে উড়ছে।

তেমনি এবার ফিরতে হবে সত্যি

নিজের নিজের মন খারাপের গর্তে।

বলবে বাবাঃ এইটুকু সব বাচ্চা-

দিন ফুরোলেও মাঠ ছাড়ে না? আচ্ছা!

মা বলবেঃ ঠ্যাং দুটো কি কুচ্ছিৎ!

এক গঙ্গা জল দিয়ে তাই ধুচ্ছি।



দিন ফুরালো শঙ্খ ঘোষ প্রশ্ন উত্তর
দিন ফুরোলে কবিতার প্রশ্ন উত্তর
দিন ফুরোলে
শঙ্খ ঘোষ
din furole
din furole poem question answer
din furole kobita question answer
class 7 bengali din furole question answer
sankha ghos
sankha ghosh

মন্তব্যসমূহ