দেবতাত্মা হিমালয় । প্রবোধকুমার সান্যাল । দেবতাত্মা হিমালয় প্রশ্ন উত্তর | debatatma himalaya question answer

 দেবতাত্মা হিমালয়
  প্রবোধকুমার সান্যাল

শব্দার্থ: শ্বেতশ্মশ্রু— সাদা দাড়ি। প্রাতরাশ – সকালের আহার। গিরিসংকট— পর্বতশ্রেণির মধ্যে সংকীর্ণ নিম্নভূমি, যা পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভারতবরেণ্য- ভারতের বরণীয় বা শ্রেষ্ঠ মানুষ। কুঠিবাড়ি- রাজপুরুষ বা পদস্থ কর্মচারীর কার্যালয় ও বাসস্থান। সংকীর্ণ- মরু, অপ্রশস্ত। দিগ্বলয়- দিগন্তরেখা। বন্দোবস্ত- ব্যবস্থা। নধর- সরস, কোমল। মূর্ছনা—সুরের আরোহণ ও অবরোহণ। বিলুপ্ত - সম্পূর্ণ লোপ। অস্তিত্ব—সত্বা। মায়াচ্ছন্ন—মায়ায় ঢাকা। স্বপ্নলোক স্বপ্নের রাজ্য। বিদীর্ণ-ভগ্ন। ড্রাইভার—গাড়িচালক। গৃহিণী—গিন্নি। ডাইনিং হল—খাবার ঘর। দুর্যোগ—প্রাকৃতিক বিপর্যয় ভরা সময়। দুঃসাধ্য– যা সাধন করা কষ্টকর। নিকটবর্তী- নিকটস্থ বা নিকটে বর্তন করে যা। সীমানা—সীমা। জগৎপ্ৰসিদ্ধ—জগং বিখ্যাত। তদানীন্তন—তৎকালীন বা সেইসময়। গর্ব-অহংকার বা দর্প। নির্মল—বিশুদ্ধ। বোধিসত্ব-বুদ্ধত্বলাভের পূর্ববর্তী।



জন্ম ও অবস্থায় বুদ্ধদেবের নাম-  গৌতম- বুদ্ধদেব। কুলগুরু-বংশপরম্পরায় সকলেই যে গুরুর শিষ্য। ইতিবৃত্ত -ইতিহাস। পোষণ–পালন। ছদ্মবেশ- আত্মস্বরূপ গোপন করবার জন্য অন্য বেশ বা পোশাক। সর্বাধিক- সবচেয়ে বেশি।স্বীকারোক্তি–স্বীকারসূচক বাক্য। রাজপুত্র- রাজার পুত্র। লামা-বৌন্দ পুরোহিত। রাজকীয়- সরকারি। সম্বর্ধনা–সম্মান জানানোর অনুষ্ঠান। কীর্তি—সুখ্যাতি বা যশ। অগম্য—সেখানে সহজে যাওয়া যায় না। ব্যবসা- কারবার। নিদর্শন—দৃষ্টান্ত। ল্যান্ডমার্ক—ভূমির সীমানা নির্দেশক চিহ্ন। পল্লী-পাড়া। চত্বর–চাতাল। ঝুপসি আলো-বাতাসহীন ঝোপঝাড়ের পরিবেশে অবস্থিত। ব্যক্তিত্ব—ব্যক্তি-স্বাতন্ত্র্য। অপরাহ্ন- দিনের শেষভাগ। বৈদান্তিক- বেদান্ত দর্শনে অভিজ্ঞ। রেখচিত্র—রেখা দিয়ে আঁকা ছবি। মহাভারত–মহাকাব্য, কৃষ্ণ দ্বৈপায়ন ব্যাসদেব রচনা করেছিলেন। দুরূহ- কষ্টসাধ্য। রক্তিমাভা— রক্তের মতো লাল আভা বিশিষ্ট। শ্বেতশ্মশ্রুময় – সাদা দাড়ি ভরা। পরিহাস- রসিকতা বা তামাশা। নবরচিত—নতুন রচনা করা হয়েছে। বেতারযোগে—রেডিয়োর মাধ্যমে। কর্তৃপক্ষ- যাদের ওপর পরিচালনার ভার। উদ্বোধন – সম্পাদন।টেলিফোন–দূর কথন যন্ত্র। অর্থব্যয়—অনেক টাকা খরচ। ব্রডকাস্ট- সম্প্রচার করা। স্বনামখ্যাত- যিনি নিজের নামে বিখ্যাত। দাপটে—প্রতাপ বা প্রভাব। আশঙ্কা— ভয় বা সন্দেহ। তৎক্ষণাৎ- তখনই। ও-কে—সব ঠিক আছে। বেল- (ইংরেজি শব্দ)—ঘণ্টা। পুলক—আনন্দ। রোমাঞ-পুলক, হর্ষ। নিশনা—সংকেত। উচ্ছ্বসিত- স্ফুরিত, উৎফুল্ল। ছাড়পত্র-রসিদ। মায়াচ্ছন্ন- মায়ায় ঢাকা।

হাতে কলমে

১. বন্ধনীতে দেওয়া একাধিক উত্তরের মধ্যে ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে নীচের বাক্যগুলি আবার লেখো :

১.১. লামারা রাজকীয় সম্বর্ধনা জানিয়েছিলেন রাজপুত্র (তিষ্য রক্ষিত/শান্ত রক্ষিত/কুমার রক্ষিত)-কে।

উত্তর। লামারা রাজকীয় সম্বর্ধনা জানিয়েছিলেন রাজপুত্র শান্ত রক্ষিতকে।

১.২. তিব্বতীদের প্রধান ব্যাবসা (পশম / রেশম/ তাঁতবস্ত্র)-এর।

উত্তর। তিব্বতীদের প্রধান ব্যবসা পশম-এর।

.১.৩. কালিম্পঙের ল্যান্ডমার্ক (বড়ো মন্দির / বড়ো মসজিদ / বড়ো গির্জা)।

উত্তর। কালিম্পঙের ল্যান্ডমর্ক বড়ো গির্জা।

১.৪. রবীন্দ্রনাথের হাতে লেখক তুলে দিয়েছিলেন (অমৃতবাজার পত্রিকা / যুগান্তর / আনন্দবাজার পত্রিকা)-র রবীন্দ্রজয়ন্তী সংখ্যা।

উত্তর। রবীন্দ্রনাথের হাতে লেখক তুলে দিয়েছিলেন যুগান্তর পত্রিকার রবীন্দ্রজয়ন্তী সংখ্যা।

১.৫. নবরচিত একটি কবিতা রেডিয়োতে আবৃত্তি করতে রবীন্দ্রনাথের সময় লেগেছিল (আধ ঘণ্টা / পঁয়তাল্লিশ মিনিট / পনেরো মিনিট)।

উত্তর। নবরচিত একটি কবিতা রেডিয়োতে আবৃত্তি করতে রবীন্দ্রনাথের সময় লেগেছিল পনেরো মিনিট।


৩. নীচের বাক্যগুলিতে দাগ-দেওয়া শব্দগুলো অনুরূপ শব্দ পাঠ্য অংশটিতে পাবে। উপযুক্ত শব্দ খুঁজে নিয়ে বাক্যগুলি আবার লেখো।

৩.১. শরৎচন্দ্র দাসের ভ্রমণের বিবরণ থেকেই প্রথম তিব্বতের কথা জানা যায়।

উত্তর। শরৎচন্দ্র দাসের ভ্রমণবৃত্তান্ত থেকেই প্রথম তিব্বতের কথা জানা যায়।

৩.২. এই পথে তিনজন বিশ্ববিখ্যাত বাঙালি তিব্বতে গিয়েছিলেন।

উত্তর। এই পথে তিনজন জগৎবিখ্যাত বাঙালি তিব্বতে গিয়েছিলেন।

৩.৩. সবার অগোচরে আত্মগোপনের জন্য অন্যরকম পোশাক পরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র একদিন কলকাতা ছেড়ে গিয়েছিলেন।

উত্তর। সবার অগোচরে ছদ্মবেশে নেতাজি সুভাষচন্দ্র একদিন কলকাতা ছেড়ে গিয়েছিলেন।

৩.৪ ভুল মানুষ মাত্রেরই হতে পারে, তবে নিজের দোষ স্বীকার করে নেওয়ার সাহসও থাকা উচিত।

উত্তর। ভুল মানুষ মাত্রেরই হতে পারে, তবে স্বীকারোক্তির সাহসও থাকা উচিত।

৩.৫ যাদের ওপর পরিচালনার ভার, এ কাজের জন্য আগে তাদের দাবি-ত্যাগের প্রমাণপত্র প্রয়োজন।

উত্তর। কর্তৃপক্ষের, এ কাজের জন্য আগে তাদের ছাড়পত্র প্রয়োজন।

৩.৬ যাঁরা নিজের নামেই বিখ্যাত, ভারতের সেই বরণীয় মানুষদেরই সম্মাননার আয়োজন হয়েছে এই সভায়।

উত্তর। স্বনামখ্যাত, ভারতবরেণ্য, সম্বর্ধনার আয়োজন হয়েছে এই সভায়।

৪. নীচের বাক্যগুলিতে যে ইংরেজি শব্দগুলি আছে, তার বদলে বাংলা শব্দ বসিয়ে বাক্যগুলি আবার লেখো: (বাংলা শব্দের জন্য পাশের শব্দগুলির সাহায্য নিতে পারো)।

উত্তর। পথনির্দেশক, চিহ্ন, সম্প্রচার, ঘণ্টা, মহাকাব্য, দূরভাষ, খাবার ঘর, গাড়িচালক।

৪.১. ডাক্তার গৃহিণীর ডাইনিং হলে প্রাতঃরাশ সারা হল।

উত্তর। চিকিৎসক গৃহিণীর খাবারঘরে প্রাতঃরাশ সারা হল।

৪.২. অত বড়ো এপিক পৃথিবীর কোনো কালের কোনো সাহিত্যে নেই।

উত্তর। অত বড়ো মহাকাব্য পৃথিবীর কোনো কালের কোনো সাহিত্যে নেই।

৪.৩. কালিম্পঙে টেলিফোন ছিল না।

উত্তর। কার্লিম্পঙে দূরাভাষ ছিল না।

৪.৪. বেতার কর্তৃপক্ষ তাঁর কণ্ঠস্বর সঙ্গে সঙ্গে ব্রডকাস্ট করবেন।

উত্তর। বেতার-কর্তৃপক্ষ তাঁর কন্ঠস্বর সঙ্গে সঙ্গে সম্প্রচার করবেন।

৪.৫. ভোরে আমার ড্রাইভার এল গাড়ি নিয়ে।

উত্তর। ভোরে আমার গাড়িচালক এল গাড়ি নিয়ে।

৪.৬. একটি বুঝি বেল বাজল।

উত্তর। একটা বুঝি ঘণ্টা বাজল।

৪.৭. গির্জাটি হল কালিম্পঙের ল্যান্ডমার্ক।

উত্তর। গির্জাটা হল কালিম্পঙের পথনির্দেশক।

৫. নীচের বিশেষণগুলির পরে উপযুক্ত বিশেষ্য বসিয়ে বাক্য রচনা করো।

মেঘময়, ভীষণ, মায়াচ্ছন্ন, সুক্ষ্ম, দীপ্ত, অগম্য, বিপুল, ঝুপসি। 

উত্তর : মেঘমর –(আকাশ)—আকাশ অত মেঘময় বৃষ্টি হবে মনে হয়।

ভীষণ—(গরম)—গ্রীষ্মকালে ভীষণ গরম পড়ে।

মায়াচ্ছন্ন-—(পৃথিবী)—মহাপুরুষেরা বলে গেছেন এই পৃথিবী মায়াচ্ছন্ন।

সূক্ষ্ম -(যন্ত্র)—আওয়াজটির দাপটে সূক্ষ্ম যন্ত্রটা বিদীর্ণ হয়ে যাবে।

দীপ্ত কণ্ঠে- কবির দীপ্ত কণ্ঠের মূর্ছনা উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল।

 অগম্য- (পর্বত)- পর্বতের অগম্য পথ চলা খুব মুশকিল।

বিপুল – (জলরাশি) — সমুদ্রের বিপুল জলরাশি দেখে অবাক হলাম।

ঝুপসি—(ঘর) — গরিব লোকদের ঝুপসি ঘরেই দিন কেটে যায়।

৬. নীচের বিশেষ্যগুলির আগে উপযুক্ত বিশেষণ বসিয়ে বাক্য রচনা করো

কন্ঠস্বর, স্বপ্নলোক, ব্যক্তিত্ব, আশঙ্কা, ইতিবৃত্ত, কীর্তি, রেখাচিত্র, দিগ্বলয়।

(দীর্ঘ)→ কণ্ঠস্বর- কবির দীর্ঘ কন্ঠস্বর পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়ল।

(মায়াচ্ছন্ন)→ স্বপ্নলোক—মায়াচ্ছন্ন স্বপ্নলোকের মধ্যে আমরা হারিয়ে যাচ্ছিলুম।

(বিরটি)→ ব্যক্তিত্ব—মহাকবি রবীন্দ্রনাথের বিরাট ব্যক্তিত্ব।

(আশঙ্কা)→তীব্র আশঙ্কা- পরীক্ষায় ফেল করার ব্যাপারে তার তীব্র আশঙ্কা আছে।

(আনুপূর্বিক)→ইতিবৃত্ত—তাঁর আনুপূর্বিক ইতিবৃত্ত আমার জানা নেই।

(অমর)→ কীর্তি—বিপ্লবীদের অমর কীর্তি আমাদের সবার মনে করা উচিত।

(একখানা)→ রেখাচিত্র—প্রথম পৃষ্ঠায় ছিল কবির একখানা রেখাচিত্র।

(দিগ্বলয়)→শূন্য দিগ্বলয়- শূন্য দিগ্বলয় কল্পনাতীত।

৭. নীচের দাগ দেওয়া শব্দগুলি কী জাতীয়? শব্দগুলির বিশিষ্টতা উল্লেখ করে শব্দগুলি দিয়ে নতুন বাক্য রচনা করো। 

৭. শীতের হাওয়া ছিল কনকনে।

উত্তর। কনকনে (বিশেষণ)— কনকনে শীতে ঘুরতে যেতে খুব আনন্দ হয়।

৭.২. ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয়েই চলেছে।

উত্তর। ঝিরঝিরে (বিশেষণ)—ঝিরঝিরে বৃষ্টিতে খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজা খেতে ভালো লাগে।

৭.৩. পায়ের নীচে কালিম্পং থর থর করতে লাগল কি না আর মনে রইল না।

উত্তর। থরথর (বিশেষণ)—বাঘের ভয়ে জঙ্গলে সবাই থরথর করে কাপতে লাগল।

৮. নীচের বাক্যগুলি থেকে তারতম্যসূচক শব্দগুলি খুঁজে বার করো। কোন্‌টি দুয়ের মধ্যে তুলনা, আর কোন্‌টি বহুর মধ্যে তুলনা, তা নির্দেশ করে শব্দগুলি দিয়ে নতুম বাক্য রচনা করো :

৮.১. পৃথিবীর উচ্চতম শিখর তিনি জয় করেছিলেন।

উত্তর। উচ্চতম- বহুর মধ্যে → এভারেস্ট পৃথিবীর উচ্চতম শিখর।

৮.২. এর চেয়ে মহত্তর উদ্যোগ আর দেখিনি।

উত্তর। মহত্তর—দুয়ের মধ্যে → আমার আগের চেয়ে এই উদ্যোগ মহত্তর বলে মনে হয়েছে।

৮.৩. বাংলার এই পথই সর্বশ্রেষ্ঠ।

উত্তর। সর্বশ্রেষ্ঠ- বহুর মধ্যে→ রবীন্দ্রনাথ সর্বশ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন।

৮.৪. পাশের গলিটি সংকীর্ণতর হয়ে এসেছে।

উত্তর। সংকীর্ণতর- দুয়ের মধ্যে→ডানদিকের রাস্তাটা সংকীর্ণতর।

৮.৫. অল্প আয়োজনে শুরু হল দীর্ঘতম যাত্রা।

উত্তর। দীর্ঘতম – বহুর মধ্যে→কেদার যাবার এই রাস্তাটিই দীর্ঘতম।

৯. নীচের বাক্যগুলি থেকে সংখ্যাবাচক শব্দ, অনির্দেশক সংখ্যাবাচক শব্দ আর পূরণবাচক শব্দগুলি খুঁজে বার করে লেখো:

৯.১. গ্যাংটক থেকে নাথুলা গিরিসংকট হল মাত্র ছাব্বিশ মাইল।

উত্তর। ছাব্বিশ মাইল।

৯.২. তিনি তেরো বছর সেখানে বাস করেছিলেন।

উত্তর। তেরো বছর।

৯.৩. দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন আধুনিক ভারতের কুলগুরু রাজা রামমোহন রায়।

উত্তর। দ্বিতীয়।

৯.৪. শরৎচন্দ্র দাস গিয়েছিলেন উনিশ শতকের শেষ ভাগে।

উত্তর। উনিশ।

৯.৫. অষ্টম শতাব্দীতে রাজপুত্র তিব্বতে যান।

উত্তর। অষ্টম।

৯.৬. বিমানে গেলে কলকাতা থেকে দিল্লি পৌঁছাতে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগে। সেই গতিতে গেলে লামা পৌঁছাতে ঘণ্টা তিনেক লাগে কি?

উত্তর। সাড়ে তিন ঘণ্টা, তিন ঘণ্টা।

৯.৭. একটু-আধটু দেখে বেড়াতেই ঘণ্টাখানেক সময় লাগল।

উত্তর। ঘণ্টাখানেক।

৯.৮. মনে পড়ে সেই ২৫ বৈশাখের অপরাহু।

উত্তর। ২৫।

৯.৯. যেখানে বছর চোদ্দো আগে একটি রাত্রিবাস করে গিয়েছিলাম।

উত্তর। চোদ্দো, একটি।

৯.১০. কবি মাত্র পনেরো মিনিটকাল তাঁর কবিতা পাঠ করবেন।

উত্তর। পনেরো মিনিট।

১০. নীচের বিশেষ্যগুলিকে বিশেষণে বদলে লেখো :

প্রণাম, অনুরোধ, পৃথিবী, উদ্‌বোধন, পূজা, উদ্‌বেগ, পুলক, আশঙ্কা।

উত্তব। প্রণাম-প্রণম্য।

পৃথিবী—পার্থিব।

উদ্‌বোধন—উদ্‌বোধিত।

পুলক—পুলকিত।

আশঙ্কা—আশঙ্কিত।

অনুরোধ-অনুরুন্ধ।

পূজা–পূজিত।

উদ্‌বেগ—উদ্বিগ্ন।

১১ নীচের বিশেষণগুলিকে বিশেষ্যে বদলে লেখো।

উত্তর। বৈদান্তিক—বেদান্ত। অভিজাত–আভিজাত্য। নবরচিত—নবরচনা। উচ্ছ্বসিত–উচ্ছ্বাস। প্রসিদ্ধ - প্রসিদ্ধি। প্রচুর-প্রাচুর্য। প্রচলিত–প্রচলন। প্রধান- প্রাধান্য।

১২. নীচের শব্দগুলির সন্ধি ভেঙে লেখো :

উত্তর। শশাঙ্ক= শশ + অঙ্ক।

       হিমালয়=হিম+আলয়।

     সর্বাপেক্ষা = সর্ব + অপেক্ষা। 

     রথীন্দ্র= রথী + ইন্দ্র।

      নৃপেন্দ্ৰ= নৃপ + ইন্দ্ৰ।

   স্বীকারোপ্তি = স্বীকার+ উক্তি।

অন্যান্য= অন্য + অন্য               শয়ন=শৈ + অন।

রক্তিমাভা= রক্তিম+ আভা।  সম্বধনা=সম+অভ্যর্থনা।

যুগান্তর= যুগ অন্তর                 উন্নতি -উৎ+নতি।

মায়াচ্ছন্ন= মায়া+আ+ছন্ন।  অপরিচ্ছন্ন=অ+পরি+ছন্ন

অপরাহ্ন= অপর + অহ্ন।    দিগ্বলয়= দিক + বলয়।

সর্বাধিক= সর্ব অধিক।         বারম্বার= বারং বার।

উদ্‌বোধন= উৎ+ বোধন।    উচ্ছ্বসিত= উৎ + শ্বাসিত।

১৩. নীচের প্রতিটি শব্দের মধ্যেই দুটি করে শব্দ আছে, বুঝে নিয়ে ভেঙে লেখো:

উত্তর।     জগৎপ্রসিদ্ধ          জগৎ             প্রসিদ্ধ

                কুলগুরু               কুল                গুরু

              ঠাকুরবাড়ি            ঠাকুর              বাড়ি

              ভ্রমণবৃত্তান্ত            ভ্রমণ              বৃত্তান্ত

                রাজপুত্র              রাজ                পুত্র

               কুঠিবাড়ি              কুঠি                বাড়ি

               অর্থব্যয়                অর্থ                  ব্যয়

              নবরচিত                নব                  রচিত

               মহাকবি                মহা                  কবি

           ভারতবরেণ্য             ভারত              বরেণ্য

            স্বনামখ্যাত             স্বনাম               খ্যাত

            স্বপ্নলোক                স্বপ্ন                 লোক

             জন্মদিন                 জন্ম                 দিন

১৪. নিম্নরেখাঙ্কিত পদগুলির কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো :

১৪.১. তিব্বতীবাসীরা তাঁর মূর্তিকে আজও বোধিসত্ত্ব নামে পূজা করে।

উত্তর। সম্বন্ধপদ কর্মকারকে- ‘এ’ বিভক্তি।

১৪.২. তিনি ছদ্মবেশে গিয়েছিলেন তিব্বতে।

উত্তর। করণকারকে—'এ' বিভক্তি।

১৪.৩. কবি তাঁর ঘরের আসনে বসে টেলিফোনে কবিতা পাঠ করবেন।

উত্তর। কর্মকারক ও করণ কারকে- 'এ' বিভক্তি।

১৪.৪. কবি সে-দিন আমাকে বাগে পেয়েছিলেন।

উত্তর। কর্মকারকে—'এ' বিভক্তি।

১৪.৫. শরৎচন্দ্র দাসের ভ্রমণবৃত্তান্ত থেকেই তিনি সর্বধিক সাহায্য লাভ করেছিলেন।

উত্তর। করণ কারকে—'শূন্য' বিভক্তি।

১৫. একটি বাক্যে উত্তর দাও :

১৫.১. প্রাচীন পথ ধরে কোন্ তিনজন প্রসিদ্ধ বাঙালি অতীতে তিব্বতে গিয়েছিলেন? 

উত্তর। অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান, রাজা রামমোহন রায়, শরৎচন্দ্র দাস।

১৫.২. কোন প্রাচীন পথের রেখা ধরে তাঁরা গিয়েছিলেন?

উত্তর। গ্যাংটক থেকে নাথুলা গিরিসংকট হল মাত্র ছাব্বিশ মাইল। এখান থেকে জেলাপ-লা-এ গিরিসংকট। তারপর তিব্বত সীমানা। 

১৫.৩. এখনকার পর্যটকরা এই প্রাচীন পথটি পরিহার করেন কেন?

উত্তর। প্রাচীন পথে দুর্যোগ বেশি এবং দুঃসাধ্যও বটে।

১৫.৪. কোন্‌ দুই বিখ্যাত বাঙালি তিব্বতে গিয়ে বোধিসত্ত্ব উপাধি লাভ করেছিলেন?

উত্তর। অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান ও যশোরের রাজপুত্র শান্ত রক্ষিত।

১৫.৫. ছদ্মবেশে কে গিয়েছিলেন তিব্বতে?

উত্তর। শরৎচন্দ্র দাস। 

১৫.৬. স্যার ফ্রান্সিস ইয়ং হাসব্যান্ডকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিল তিব্বত বিষয়ক কোন্ বইটি? 

উত্তর। শরৎচন্দ্র দাসের বইটি।

১৫.৭. কালিম্পঙের কোথায় পড়াশুনো করে অ্যাংলো ইন্ডিয়ান ও ইংরেজ অনাথ ছেলেমেয়েরা?

উত্তর। গ্ৰেহামস হোম।

১৫.৮. গৌরীপুর প্রাসাদে কারা ছিলেন রবীন্দ্রনাথের সঙ্গী?

উত্তর। এটর্নি হীরেন দত্ত, রথীন্দ্রনাথ, প্রতিমা দেবী, অনিলচন্দ্র, মৈত্রেয়ী আর চিত্রিতা।

১৫.৯. লেখকের অনুরোধে কোন পত্রিকার জন্য অনেকবার লেখা দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ?

উত্তর। যুগান্তর।

১৫.১০ ২৫ বৈশাখের সেই বিশেষ দিনটি যে ছিল শুক্লপক্ষ, লেখা থেকে সেকথা জানতে পারো কেমন করে?

উত্তর। সেই দিন ছিল জ্যোৎস্না।

★১৬. চার-পাঁচটি বাক্যে উত্তর দাও।

১৬.১. কীভাবে গেলে পৌঁছানো যায় কালিম্পঙের গ্ৰেহামস হোম-এ? এই হোমটির বিশিষ্টতা কী?

উত্তর। বড়ো গির্জাটা হল কালিম্পঙের ল্যান্ডমার্ক। তারই পাশ দিয়ে চলে গেছে চড়াই-পথ এদিক-ওদিক ঘুরে অনেক উঁচুতে হোমস্ হোমের দিকে।

এই হোমটিতে অ্যাংলো ইন্ডিয়ান এবং সাহেব সুবার অভিভাবকহীন ছেলেমেয়েরা পড়াশুনা করে মানুষ হয়। সমগ্র পাহাড় নিয়ে এ এক বিরাট কীর্তি। পরিচালন ব্যবস্থা সমস্তই খাঁটি সাহেব-মেমদের হাতে।

১৬.২. ২৫ বৈশাখের 'যুগান্তর' পত্রিকার প্রথম পাতায় শিল্পীর আঁকা যে বিশেষ রেখাচিত্রটি প্রকাশ পেয়েছিল, তার বিষয় কী ছিল? রবীন্দ্র-জন্মদিনের শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে ছবির এই বিষয়টি তোমার যথার্থ মনে হয় কি না লেখো।

উত্তর। কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রেখাচিত্র।

রবীন্দ্র-জন্মদিনের শ্রধার্থা হিসেবে এই ছবিটি যথার্থ। একজন দেশবরেণ্য কবির প্রতি এর চেয়ে ভালো শ্রদ্ধার্ঘ্য হতে পারে না। হিমালয়ের চেয়ে তিনি বড়ো। পৃথিবীর উচ্চতম শিখর তিনি। তাই তাঁকে তাঁর চিত্র এঁকে দেওয়া খুবই আনন্দজনক এবং গর্বের বিষয়।

১৬.৩. 'কাজটি দুরূহ, অনেকদিন সময় লাগবে'—কোন কাজটি সম্পন্ন করবার ইচ্ছে লেখককে জানিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ? কেন সে কাজ করার ইচ্ছে হয়েছিল তাঁর? কার সাহায্য প্রত্যাশা করেছিলেন ওই কাজে?

উত্তর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সমগ্র মহাভারতখানা নিজের হাতে একবার লিখতে চান। কারণ এতো বড়ো মহাকাব্য পৃথিবীর কোনো কালের কোনো সাহিত্যেই নেই।

এই কাজে তিনি বৈদান্তিক এটর্নি হীরেন দত্তের সাহায্য প্রত্যাশা করেছিলেন।

১৬.৪, 'এ ছাড়া আর ঠাকুরবাড়ি কোথায় হে?'—কোন্ প্রসঙ্গে এই পরিহাস রবীন্দ্রনাথের?

উত্তর। লেখক প্রবোধকুমার সান্যাল কালিম্পঙে এসে ঠাকুরবাড়িতে উঠলেন। লেখকের সঙ্গে ২৫ বৈশাখের অপরাহ্নে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেখা হল। লেখক কবিকে জানালেন তিনি এখানকার এক ঠাকুরবাড়িতে এসে উঠেছেন। তখন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরিহাস করে লেখককে বলেছিলেন এ ছাড়া আর ঠাকুরবাড়ি কোথায়।

১৬.৫. 'কবি যে দিন আমাকে বাগে পেয়েছিলেন।'—বাগে পেয়েছিলেন'-

এই বিশিষ্ট ক্রিয়াপদটির অর্থ কী? তাকে কবির ‘বাগে পাওয়ার' কী পরিচয় রয়েছে লেখকের সে দিনের বিবরণে?

উত্তর। এই বিশিষ্ট ক্রিয়াপদটির অর্থ সামনে পাওয়া বা সুযোগ পাওয়া।

লেখক যখন কবিকে বললেন এখানকার এক ঠাকুরবাড়িতে এসে উঠেছি, তখন কবি বললেন এ ছাড়া আর ঠাকুরবাড়ি কোথায়। এরপর দু-চারটি কথার পরে তাঁর পরিহাস-সরস বাক্যবাণ ছুটতে লাগল। সেই বাণে লেখক বিদ্ধ হচ্ছেন বারংবার এবং হাসির রোল উঠছে এপাশে-ওপাশে।

১৬.৬. কালিম্পঙে টেলিফোন ছিল না, এই উপলক্ষ্যে আজ ‘প্রথম উদ্‌বোধন'—কোন্ বিশেষ উপলক্ষ্যে, কীভাবে এই উদ্‌বোধন সম্পন্ন হল? 

উত্তর। বৈশাখের সন্ধ্যায় কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে একটি নবরচিত কবিতা বেতার যোগে পাঠ করবেন। সেজন্য কলকাতার বেতারকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ কলকাতা কালিম্পঙের মধ্যে টেলিফোনের বন্দোবস্ত করেছিলেন।

সেজন্য পাহাড়ে পাহাড়ে টেলিফোনের খুঁটি বসানো এবং তার খাটানো হয়েছে গত কয়েকদিন থেকেই। টেলিফোনের কর্তৃপক্ষ এজন্য প্রচুর অর্থবায় করেছেন। কবি তাঁর ঘরের আসনে বসে টেলিফোনে কবিতা পাঠ করবেন এবং বেতার কর্তৃপক্ষ তাঁর কন্ঠস্বরটি ধরে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ব্রডকাস্ট করবেন, এই ছিল ব্যবস্থা।

১৬.৭. 'কিন্তু নৃপেন্দ্রবাবুর ফরমাশ শুনতেই হল'—নৃপেন্দ্রবাবু কে? কী ছিল তাঁর ফরমাশ। কীভাবে তা শুনেছিল লেখক? 

উত্তর। নৃপেন্দ্রবাবু একজন বেতার-বিশেষজ্ঞ।

তিনি লেখককে কবি যে চেয়ারে বসবেন এবং কবিতা পাঠ করবেন সেই চেয়ারে বসে কলকাতাকে একবার ডাকতে বললেন। যদি লেখকের গলা না-ফাটে তবে আর ভয় নেই।

লেখক নরম মখমল বসানো চেয়ারে বসে কয়েকবার ডাকলেন হ্যালো, ক্যালকাটা, হ্যালো। কলকাতা থেকে তৎক্ষণাং জবাব এল 'ও. কে'।

১৬.৮. জন্মদিনে কবির স্বকণ্ঠে বেতার সম্প্রচারিত কবিতা শোনাবার মুহূর্তটি কীভাবে ধরা দিয়েছিল তাঁর শ্রোতাদের চেতনায়?

উত্তর। কবি উঠে গিয়ে বসলেন যন্ত্রের সামনে। একটি আলোর নিশানা পেয়ে কবির দীর্ঘ দীপ্ত কণ্ঠের মূর্ছনা উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল। একটা মায়াচ্ছন্ন স্বপ্নলোকের মধ্যে সবাই যেন হারিয়ে গেল। সবাই ভুলে গেল পরস্পরের অস্তিত্ব। শ্রোতাদের পায়ের নীচে কালিম্পং থরথর করতে লাগল কি-না সে কথা তখন আর কারো মনে রইল না। কবির কণ্ঠ ফিরে আসবে যন্ত্রে সেই ভেবে তাঁদের রোমাঞ্জ পুলক।

১৭. দশটি বাক্যের মধ্যে উত্তর দাও :

১৭.১. এ লেখায় একটা হারিয়ে যাওয়া সময়ের ছবি আছে, ভারতবর্ষ তথা বাংলার শ্রেষ্ঠ কয়েকজন সন্তানের কথা আছে, যাঁদের সঙ্গে একসময় তিব্বতের নিবিড় যোগ রচিত হয়েছিল। লেখাটি অনুসরণ করে বাংলার ওই শ্রেষ্ঠ মানুষগুলি সম্পর্কে তোমার যে ধারণা হয়েছে, নিজের ভাষায় লেখো।

উত্তর। ভারতবর্ষ তথা বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মধ্যে তিনজন জগৎপ্রসিদ্ধ বাঙালি গিয়েছিলেন তিব্বতে। তার মধ্যে বাংলার চিরদিনের গর্ব ঢাকা বিক্রমপুরের সন্তান অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান। লেখক প্রবোধকুমার সান্যালের এই রচনাটির মধ্য দিয়ে বাংলার তথা ভারতবর্ষের এইসব শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সঙ্গে তিব্বতের যোগ যে কত নিবিড় ছিল তা ধরা পড়েছে। জ্ঞান ঋষি দ্বীপঙ্কর তিব্বতে গিয়ে বৌদ্ধধর্মের নির্মল স্বরূপকে প্রচার করেছিলেন। গৌতম বুদ্ধের পরেই তিব্বতবাসীরা তাঁর ূর্তিকে আজও বোধিসত্ত্ব নামে পূজা করে। এরপরে গেছেন রাজা রামমোহন রায়। তৃতীয় যে ব্যক্তি ছদ্মবেশে গিয়েছিলেন তাঁর নাম শরৎচন্দ্র দাস। তাঁর কাছে আধুনিক ভারতবর্ষ ঋণী। তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্ত শুনে আমরা তিব্বতের বিষয় জানতে পারি। অতীশ দীপঙ্করের আগে আর একজন গিয়েছিলেন তার নাম শান্ত রক্ষিত। বাংলা তথা ভারতবর্ষের গর্ব এইসব শ্রেষ্ঠ কয়েকজন বাঙালি তিব্বতে গিয়ে ভারতবর্ষের নাম শ্রেষ্ঠ আসনে বসিয়ে এসেছেন। আর যার কথা না বললেই নয় তিনি হলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এক ২৫ বৈশাখে কবি যেখানে উপস্থিত থেকে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে একটি নবরচিত কবিতা বেতার যোগে পাঠ করেন। তখন কালিম্পঙে টেলিফোন ছিল না। প্রচুর অর্থব্যয় করে টেলিফোনের ব্যবস্থা করা হল। কবির কবিতা কবির দীপ্ত কন্ঠের মূর্ছনা পাহাড় থেকে পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়ল। সবাই যেন মায়াচ্ছন্ন স্বপ্নলোকের মধ্যে হারিয়ে গেল। কালিম্পঙের এই দুর্যোগ দুঃসাধ্য পথকে জয় করে এঁরা সবাই তাদের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে গেছেন। এই সমস্ত শ্রেষ্ঠ সন্তান শুধু আমার কাছে কেন ভারতবর্যের কাছে নমস্য। এঁদের নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

১৭.২. এই লেখার একটি প্রধান চরিত্র রবীন্দ্রনাথ আর তাঁর ব্যক্তিত্বময় উপস্থিতি। কালিম্পং শহরে অতিবাহিত তাঁর একটি বিশেষ জন্মদিন উদযাপনের সম্পূর্ণ ছবিটি যেভাবে এখানে ফুটে উঠেছে তার পরিচয় দাও।

উত্তর। ২৫ বৈশাখের কোনো এক অপরাহ্নে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কালিম্পঙে ছিলেন। কবির সঙ্গে ছিলেন বিশিষ্ট সব ব্যক্তি ও গুণীজন এবং লেখক স্বয়ং নিজে। সেইদিনকার সেই ২৫ বৈশাখের সন্ধ্যায় তিনি দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে একটি নবরচিত কবিতা বেতারযোগে পাঠ করবেন, সেইজন্য কলকাতার বেতারকেন্দ্রের কর্তৃপক্ষ কলকাতা ও কালিম্পঙের মধ্যে টেলিফোনের বন্দোবস্ত করেছিলেন। কালিম্পং-এ তখন টেলিফোন ছিল না। টেলিফোন কর্তৃপক্ষ এজনা প্রচুর অর্থব্যয় করেছেন। কবি তাঁর ঘরের সামনে আসনে বসে টেলিফোনে কবিতা পাঠ করবেন এবং বেতার কর্তৃপক্ষ তাঁর কণ্ঠস্বরটি ধরে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ব্রডকাস্ট করবেন, এই ছিল ব্যবস্থা। স্বনামখ্যাত নৃপেন্দ্র মজুমদার বেতার বিশেষজ্ঞও ছিলেন উপস্থিত। মহাকবি মাঝে মাঝে ভীষণ শব্দে গলা ঝাড়া দেন। কিন্তু আজ কাব্য পাঠকালে সেই আওয়াজটির দাপটে সূক্ষ্ম যন্ত্রটা বিদীর্ণ হয়ে যাবে কি না তার জন্য নৃপেন্দ্রবাবু নিজে পরীক্ষা করতে বসলেন। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা কিংবা আটটা কবি উঠে গিয়ে বসলেন যন্ত্রের সামনে। কবি মাত্র মিনিট পনেরো কবিতা পাঠ করলেন। কবির দীর্ঘ দীপ্ত কন্ঠের মূর্ছনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। সেদিন জ্যোৎস্না ছিল বাইরে। মায়াচ্ছন্ন স্বপ্নলোকে সবাই হারিয়ে গেল এবং ভুলে গেল নিজেদের অস্তিত্ব।

১৭.৩. ইতিহাস ভূগোলের ইতিবৃত্তে জড়ানো কালিম্পং নামে একটা শহরকে নতুন করে চিনতে তোমার কেমন লাগল,একটা অনুচ্ছেদে তা লেখো।

উত্তর। কালিম্পং শহরটি লেখকের বর্ণনা থেকে জানা গেল। লেখক প্রবোধকুমার সান্যাল এই শহরটির খুব সুন্দর বর্ণনা দিয়েছেন। কালিম্পঙের উপর দিয়ে চলছে রেনক্ রোড তিব্বতের দিকে। এই পথ দুর্যোগ এবং দুঃসাধ্য, রেনক্ রোড গিয়েছে 'জেলাপ-লা' গিরিসংকটে, তারপরেই তিব্বত সীমানা। এই পথ দিয়ে তিনজন জগৎ প্রসিদ্ধ বাঙালি গিয়েছিলেন তিব্বতে। কাশ্মীরের পূর্ব প্রান্তে ভারত-তিব্বত বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হল সারকট, ওখানে তাকলাকোট হল তিব্বতিদের ঘাঁটি। নেপালেও আছে নামছে বাজার দিয়ে তিব্বত। বাংলার এই পথই সর্বশ্রেষ্ঠ। তিব্বতিদের প্রধান ব্যাবসা হল পশম।এখানে শীত কনকনে, বড়ো গির্জাটা হল কালিম্পঙের ল্যান্ডমার্ক। এখানে অনেক উঁচুতে গ্ৰেহামস হোম। এখানে অভিভাবকহীন ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করে। এখানকার সবই সুন্দর, প্রকৃতি যেন এখানে আপন খেয়ালে নিজে হাতে সবকিছু রচনা করেছে। ইতিহাস ও ভূগোলের ইতিবৃত্তে জড়ানো শহরটি আমার খুব ভালো লেগেছে।

 দেবতাত্মা হিমালয় 

 প্রবোধকুমার সান্যাল ।

 দেবতাত্মা হিমালয় প্রশ্ন উত্তর |

 debatatma himalaya question answer

class 7 bengali wbbse

মন্তব্যসমূহ