বইটই
প্রেমেন্দ্র মিত্র
বই তো পড়ো, টই পড়ো কি?
তাই তো কাটি ছড়া।
বই পড়া সব মিছে-ই যদি
না হল টই পড়া।
টই পড়া যায় পড়তে কোথায়?
বলছি তবে শোনো।
বই-এর মাঝে লুকিয়ে থাকে
টই সে কোনও কোনও।
আর পাবে টই সকালবেলা
বই থেকে মুখ তুলে
হঠাৎ যদি বাইরে চেয়ে
মনটা ওঠে দুলে।
টই থাকে সব রোদ- মাখানো
গাছের ডালে পাতায়,
টই থাকে সেই আকাশ- ছোঁয়া
খোলা মাঠের খাতায়।
টই চমকায় বিজলি হয়ে
আঁধার- করা মেঘে,
খই হয়ে টই ফোটে দিঘির
জলে বৃষ্টি লেগে।
টই কাঁপে সব ছোট্ট পাখির
রংবেরঙের পাখায়
খোকা- খুকুর মুখে আবার
মিষ্টি হাসি মাখায়।
বই পড়ো খুব, যত পার,
সঙ্গে পড়ো টই।
টই নইলে থাকত কোথায়
এতরকম বই।।
শব্দার্থ :- টই-বইয়ের অনুষঙ্গারূপে ব্যবহৃত হয়েছে। পাখা- ডানা, আধার- অন্ধকার, মিছে- মিথ্যা, ছোঁয়া- স্পর্শ করা, বিজলি- বিদ্যুৎ, দিঘি- বড়ো জলাশয়।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
সঠিক বানানটা বেছে নাও।
১. পরো/ পড়ো, ২. টঈ / টই, ৩. সোনো /শোনা,
৪. ছোঁয়া/ছোয়া, ৫. আঁধার/ আধার, ৬.বিজলী/ বিজলি, ৭. কাঁপে/ কাপে, ৮. দিঘী / দিঘি।
উঃ ১.পরো,২. টই, ৩. শোনো, ৪. ছোঁয়া, ৫. আঁধার, ৬. বিজলি, ৭. কাঁপে, ৮. দিঘি।
২. বাক্য রচনা করো। ১. বই, ২. মিছে, ৩. লুকিয়ে,
৪. সকালবেলা, ৫. মনটা, ৬. রোদ, ৭. আকাশ ছোঁয়া, ৮. মাঠ,৯. বিলি, ১০. মেঘ, ১১. দিখি, ১২. বৃষ্টি,
১৩. কাঁপে, ১৪. আঁধার, ১৫. পাখি।
উঃ বই- রোজ সন্ধ্যেবেলা বই পড়তে ভালো লাগে না।
মিছে- দাদু বলে কাউকে মিছে কথা বলতে নেই।
লুকিয়ে –মাতুর মা তাকে লুকিয়ে পায়েস খেতে দিল।
সকালবেলা–গ্রামে সকালবেলা পাখিদের গানে ঘুম ভাঙে সবার।
মনটা – আর পরীক্ষার রেজাল্ট, মনটা কেমন করছে ভয়ে।
রোদ- শীতকালে রোদে বসে থাকতে খুব ভালো লাগে।
আকাশ-ছোঁয়া - বাজারে সব্জীর আকাশ ছোঁয়া দাম।
মাঠ- আজ বিকালে বড় মাঠে ফুটবল খেলার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
বিজলি- বিজলি চমকালে ঘরের বাইরে বেরোতে নেই।
মেঘ – আজ বৃষ্টি হবেই, কারণ আকাশটা মেঘে ঢেকে রয়েছে।
দিঘি- আমরা মামারবাড়ি যাওয়ার পথে নৌকো করে দিঘি পার হবো।
বৃষ্টি- রোজ রাতে বৃষ্টি হলে খুব ভালোলাগে।
কাঁপে – বাঘের ভয়ে সিকু কেঁপে ওঠে।
আঁধার - আঁধার রাতে কখনো বনে যেতে নেই।
পাখি — শীতকালে আমাদের দেশে নানান রকমে পাখিরা উড়ে আসে বিদেশ থেকে।
গ. শব্দার্থ লেখো – ১. মিছে ২. মাঝে, ৩. চেয়ে
৪. মন ৫. রোদ ৬. বিজলি ৭. আঁধার, ৮. দিঘি,
৯. পাখায়, ১০.বেরঙের।
উঃ ১. মিথ্যা কথা ২. মাঝখানে / মধ্যেখানে, ৩. দেখা, ৪. হৃদয়, ৫. সূর্য, ৬. বিদ্যুৎ, ৯. অন্ধকার, ৮. নদী, ৯. ডানায়,১০. বেরঙিন।
ঘ. কবিতাটির প্রথম ১২টি লাইন লেখো :
উঃ বই তো পড়ো টই পড়ো কি?
তাই তো কাটি ছড়া,
বই পড়া সব মিছে-ই যদি
না হল ঢই পড়া।
টই পড়া যায় পড়তে কোথায়?
বলছি তবে শোনো,
বই-য়ের মাঝে লুকিয়ে থাকে
টই সে কোনো কোনো।
আর পাবে টই সকালবেলা
হঠাৎ যদি বাইরে চেয়ে
মনটা ওঠে দুলে।
সঠিক শব্দ বসিয়ে শূন্যস্থান পূরণ করো।
১. আর পাবে টই _____ (সন্ধ্যাবেলা / সকালবেলা)।
2. _____ থেকে মুখ তুলে (বই / খাতা)।
৩. হঠাৎ যদি ___ চেয়ে (ঘরে / বাইরে)।
৪. মনটা ওঠে ___ (দুলে / নেচে)।
৫. টই থাকে সব __ (রঙ মাখানো / রোদ মাখানো)।
৬. গাছের ডালে ____ (ফুলে / পাতায়)।
৭. টই থাকে সেই ___ (সূর্য ছোঁয়া / আকাশ ছোঁয়া)।
৮. খোলা ___ খাতায় (জমির / মাঠের)।
৯. ___ করা মেঘ (আঁধার / আলো)।
১০. ____ লাগে (মেঘ / বৃষ্টি)।
উঃ ১. সকালবেলা, ২. বই, ৩. বাইরে, ৪. দুলে, ৫. রোদমাখানো, ৬. পাতায়, ৭. আকাশছোঁয়া, ৮. মাঠের, ৯. আঁধার, ১০. বৃষ্টি।
ছ. বিপরীত শব্দ লেখো : মিথ্যে, সকালবেলা, আকাশ, আঁধার, রং, খোকা, হাসি, লুকিয়ে।
উঃ সত্যি, সন্ধ্যেবেলা, পাতাল, আলো, বেরং, কান্না, প্রকাশ্যে।
এক কথায় উত্তর দাও :
১. 'বইটই' কবিতাটি কার লেখা ?
উঃ প্রেমেন্দ্র মিত্রের লেখা
২. টই কোথায় কাঁপে।
উঃ টই কাঁপে ছোট ছোট পাখির রং বেরঙের পাখায়।
৩. টই কাদের মুখে মিষ্টি হাসি মাখায়?
উঃ ছোট ছোট খোকা-খুকুর মুখে মিষ্টি হাসি মাথায়।
৪. রোদ-মাখানো কোথায় টই থাকে?
উঃ টই রোদ-মাখানো গাছের ডালে এবং পাতায় থাকে।
৫. কবি কী জন্য ছড়া কাটেন?
উঃ আমরা বই পড়ি কিন্তু টই পড়ি কিনা তার জন্য ছড়া কাটছেন কবি।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরঃ
১. 'জলে বৃষ্টি লেগে'- জলে বৃষ্টি লেগে কী হয়? কোন প্রসঙ্গে কৰি এ কথা বলেছেন?
উঃ জলে বৃষ্টি লেগে খই টই হয়ে ফুটে ওঠে।
আমরা সবাই বই পড়ি কিন্তু বইয়ের বাইরে 'টই' পড়ি কিনা জানতে চেয়েছেন কবি। টই না পড়লে বই পড়ার কোন সার্থকতা থাকে না। এই টই এর উপস্থিতি বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ভাবে। এই টই-এর উপস্থিতির কথা বলতে গিয়ে কবি বলেছেন – টই কখনো আঁধার করা মেঘে বিজলি হয়ে চমকায়, আবার কখনো দিঘির জলে বৃষ্টি লেগে খই হয়ে ফোটে।
বইটই
প্রেমেন্দ্র মিত্র
boitoi Premendra mitra
question answer
প্রশ্ন উত্তর
মন্তব্যসমূহ