স্মৃতিচিহ্ন কামিনী রায় । স্মৃতিচিহ্ন কামিনী রায় প্রশ্ন উত্তর । স্মৃতিচিহ্ন কবিতার অনুশীলনী । Smriti Chinho Class 7 bangla kobita

স্মৃতিচিহ্ন    
কামিনী রায়

* শব্দার্থ : হম্য- প্রাসাদ। ইষ্টক-ইট। ভগ্ন-ভাঙা। লুপ্ত- হারিয়ে যাওয়া। তৃণ-ঘাস। আছিল—ছিল। প্ৰস্তর- পাথর। হেব—দেখো। ধৌত—ধোয়া। সমুজ্জ্বল—অত্যন্ত উজ্জ্বল। আপনার- নিজের। মনোহর- সুন্দর। বিশাল-বিরাট। অক্ষরে– বর্ণের দ্বারা খোদিত। মূঢ়–মূর্খ। মনস্কাম—মনের বাসনা। স্তূপ- জড়ো হওয়া  বস্তু। শুষ্ক- শুকনো। কাল নদী-মহাকাল রুপ নদী। হৃদয় ভূমি—হৃদয় রূপ ভূমি। দৃঢ়-শক্ত। অক্ষুণ্ণ–চিরস্থায়ী। নিত্য—চিরকাল।



(ক) মহৎ মানুষদের জীবন কথা আমরা পাঠ করে থাকি কেন?

উত্তর। তাঁদের জীবন থেকে শিল্প নিয়ে তাঁদের মতো হয়ে ওঠার জন্য।

(খ) অত্যাচারী কোন্ কোন্ সাম্রাজ্যলোভী জাতির কথা তুমি ইতিহাস পড়ে জেনেছ?

উত্তর। হূন, মুঘল ইত্যাদি।

(গ) অতীত ইতিহাসের ধূসর হয়ে আসা কোন স্মারক/সৌধ/মিনার তুমি দেখেছ?

উত্তর। কুতুব মিনার দেখেছি।

(ঘ) তোমার দৃষ্টিতে কাদের কথা সমাজের সকলের চিরকাল মনে রাখা উচিত? 

উত্তর। যারা সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকে তাদের জন্য কাজ করেছে।

(ঙ) মানুষ নিজেকে স্মরণীয় করে রাখতে চায় কেন? উত্তর। আত্মতৃপ্তির জন্য।

১. নীচের বিবৃতিগুলির মধ্যে যেগুলি ঠিক তাদের পাশে '✅' চিহ্ন আর যেগুলি ভূল তাদের পাশে '❌' চিহ্ন দাও। 

১.১. ইট-পাথরে গড়া সৌধ কাউকে চিরস্মরণীয় করে রাখে না।

উত্তর- ✅

১.২. যাঁরা নিজেদের সৌধ গড়ে কীর্তিকে অমর করে রাখতে চান তারা বরেণ্য।

উত্তর-❌

১.৩. সাধারণ মানুষের মনে যাঁরা স্থান পেয়েছেন, তাঁদের নাম ভেসে যায়।

উত্তর-

১.৪. এমন বহু সহায় সম্বলহীন, দরিদ্র মানুষ আছেন, মহাকাল যাঁদের স্মৃতি মুছে দিতে পারেনি।

 উত্তর- ✅

১.৫. মানবহৃদয়-ভূমি অধিকার করতে গেলে মানুষের জন্য কল্যাণকর কাজ করতে হবে।

উত্তর- ✅

২. কবিতা থেকে শব্দ চয়ন করে নীচে প্রদত্ত কবিতাংশের শূন্যস্থান পূরণ করো:

২.১. “ওরা ভেবেছিল___আপনার নাম।"

উত্তর-মনে। 

২.২. মনোহর__বিশাল___। 

২.৩. ইষ্টক_রচি চিরদিন___।

২.৪. রেখে___। 

৩.নীচে দেওয়া শব্দগুলির বিপরীতার্থক শব্দ লেখো।

উত্তর। মনোহর>একরকম। বিশাল> ক্ষুদ্র। মূঢ়>বিদ্যান। ব্যর্থ>সফল। ভগ্ন> অভগ্ন। লুপ্ত> প্রচলিত। শুষ্ক> আদ্র। অধিকার> অনধিকার। দৃঢ়> শিথিল। অক্ষুণ্ণ>ক্ষুণ্ণ। ধৌত> অনির্মল। নিত্য> অনিত্য। সমুজ্জ্বল> অনুজ্জ্বল।

৪. নীচের বিশেষ্যগুলিকে বিশেষণে ও বিশেষণ গুলিতে বিশেষ্যে রূপান্তরিত করো ।

উত্তর। নাম→নামক। মনোহর→মনোহারী।প্রস্তর→গ্রস্তরময়। মূঢ়→ সমৃঢ়তা। ব্যর্থ→ব্যর্থতা। ভগ্ন→ভগ্নাংশ/ভগ্নশেষ। স্তুপ→স্তূপাকার। স্মৃতি→স্মর্তব্য। রক্ষা→রক্ষিত। মানব→মানবিক। হৃদয়→হৃদয়গ্রাহী। প্রতিষ্ঠা→ প্রতিষ্ঠিত। দৃঢ়→পুঢ়তা। দরিদ্র→দারিদ্র্য।


৫. নীচের শব্দগুলিকে বাক্যে ব্যবহার করো।

উত্তর। অক্ষর -সোনার অক্ষরে তাদের নাম লেখা আছে।

চিরদিন—যাঁরা গুণিজন, তাঁদের নাম লোকে চিরদিন মনে রাখে।

স্মৃতি- মুখের স্মৃতি অমলিন থাকে।

মানব-মানব জাতি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জাতি।

রক্ষা–দেশকে রক্ষা করা প্রতিটি দেশবাসীর কর্তব্য।

অধিকার – স্বাধীনতা সকলের জন্মগত অধিকার।

সম্বল- সহায় সম্বলহীন ব্যক্তিরাও দেশের জন্য অনেক কিছু করে।

প্রতিষ্ঠা–মন্দিরে দেবতা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

৬. নীচের শব্দগুলির সন্ধিবিচ্ছেদ করো।

উত্তর- মনোহর-মন + হর। মনস্কাম- মনঃ + কাম। ব্যর্থ-বি + অর্থ। সিংহাসন- সিংহ + আসন। প্রতিষ্ঠা- প্রতি + ইষ্ঠা। সমুজ্জল- সমঃ + উজ্জ্বল প্রপ্তর-প্রঃ + তর।

৭. নীচের শব্দগুলির গদ্যরূপ লেখো।

উত্তর। আপনার- আপনার। রচি–রচিত। তবে–জন্য। খসিছে- খসছে। ভূমে–ভূমিতে/পৃথিবীতে। আছিল-

এসেছিল। হের-দেখো।

৮. সমার্থক শব্দ লেখো। উত্তর। মন- চিত্ত/হৃদয়/মানস। হম-প্রাসাদ, অট্টালিকা। মূঢ়-মূর্খ, বোকা। দরিদ্র- গরিব,নিঃসহায়। নদী- স্রোতস্বিনী।

৯. পদান্তর করো: উত্তর। অক্ষর—আক্ষরিক লুপ্ত—লোপ। নিত্য – নিত্যতা। কাল—কালিক।

১০. দুটি ভিন্নার্থে প্রকাশ করো। উত্তর। অক্ষর। তার অক্ষর জ্ঞান নেই (বর্ণপরিচয়)।

অক্ষর: আমার কথা সে অক্ষরে অক্ষরে পালন করল।

(যথাযথভাবে)।

কাল : আগামীকাল সে কলকাতা যাবে। (দিন) কাল : কাজটি করতে গিয়ে তার কাল ঘাম ছুটে গেল (মৃত্যু)।

১১. নীচের প্রশ্নগুলির সংক্ষিপ্ত ও যথাযথ উত্তর দাও :


11.1. ‘স্মৃতিচিহ্ন' কবিতাটি কার রচনা?

উত্তর৷ ‘স্মৃতিচিহ্ন' কবিতাটি কামিনী রায়ের রচনা।

১১.২. কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত? উত্তর। কবিতাটি তাঁর নির্মাল্য কাব্যগ্রন্থের অন্তর্গত।

১১.৩. কবিতাটি কী জাতীয় রচনা?

উত্তর। কবিতাটি একটি সনেট।

১১.৪. কবিতাটিতে কবি কাদের 'মূঢ়’ ও ‘ব্যর্থ মনস্কাম' বলেছেন?

উত্তর। যারা অর্থ ও প্রতিপত্তির দ্বারা নিজেদেরকে চিরস্মরণীয় করতে চায় তাদের।

১১.৫. তাদের স্মৃতি কীভাবে লুপ্ত হয়ে যায়। উত্তর। তাদের তৈরি সৌধের সঙ্গে।

স্মৃতিও লুপ্ত হয়ে যায়।

১১.৬. কারা মানুষের মনে চিরস্থায়ী আসন লাভ করে? উত্তর। যারা মানুষের জন্য কাজ করে তারা।

১১.৭. 'কালকে' কবিতায় কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?

উত্তর। 'কালকে' কবিতায় সময়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

১১.৮. কবিতায় ‘শুষ্ক তৃণ' বলতে কী বুঝিয়েছেন?

উত্তর। কবিতায় ‘শুষ্ক তৃণ' বলতে কবি সেই সকল লোকেদের নাম বুঝিয়েছেন।

১২. তিন-চারটি বাক্যে নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর দাও :

১২.১. 'ওরা ভেবেছিল মনে'—কাদের কথা বলা হয়েছে। তারা কী ভেবেছিল?

উত্তর। যশলোড়ী বড়ো বড়ো সাম্রাজ্যবাদীদের কথা বলা হয়েছে।

তারা ভেবেছিল, তাদের করে যাওয়া সব গৌধের দ্বারা মানুষ তাদের চিরকাল মনে রাখবে।

১২.২. 'মূঢ় ওরা'- কবিতায় তাদের মূঢ় বলার কারণ কী?

উত্তর। তারা ভেবেছিল মানুষের নির্মিত সৌধ তাদের চিরস্মরণীয় করে রাখে। কিন্তু তা আসলে ভুল। মানুষকে মনে রাখে তার কাজের জন্য। যারা সাধারণের জন্য কাজ করে মানুষ তাদের মনে রাখে।

১২.৩. 'কে বা রক্ষা করে'-  কী রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে? তা রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না কেন?

উত্তর। প্রাচীনকালে নির্মিত স্মৃতিসৌধের কথা বলা হয়েছে।

কালের প্রকোপে সবকিছুই বিনাশ হবে। যতই চেষ্টা করো তা রাখা সম্ভব নয়। তাই এই সকল সৌধ রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।

১২.৪. 'দবিদ্র আছিল তারা'-কাদের কথা বলা হয়েছে? তাদের রাজত্ব কীভাবে অক্ষুণ্ণ রয়েছে বলে কবি মনে করেন? 

উত্তর। যারা মানুষের মনে সিংহাসন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন, তাঁদের কথা বলা হয়েছে।

তাদের কর্মের ফলে তাঁদের নাম মানুষের মনে গাঁথা হয়ে থাকে, যা পুরুষানুক্রমে চলতে থাকে।

১২.৫. কালস্রোতে কাদের নাম ধুয়ে যায়?সেই স্রোত কাদের স্মৃতি গ্ৰাস করতে পারে না?

উত্তর। কালস্রোতে সাম্রাজ্যবাদীদের নাম ধুয়ে যায়। যারা ইট-কাঠের সৌধ তৈরি করে তাদের নাম লিখে রাখতে চায়। 

সেই স্রোতে যারা মানুষের হৃদয় অধিকার করে রয়েছে তাদের নাম মুছে দিতে পারে না।

১২.৬.'নবহৃদয়-ভূমি করি অধিকার'—কারা কীভাবে মানবহৃদয়-ভূমি অধিকার করে?

উত্তর। যারা মানুষের জন্য কাজ করে, যারা মানুষের মধ্যে মিশে থাকে, তারা মানবহৃদয় অধিকার করে।

১২.৭. 'ভেসে যায় নামগুলি'—কোন্‌ নামগুলি ভেসে যায়?

উত্তর। যারা ক্ষমতালোভী, অত্যাচারী তাদের নামগুলি কাল নদীর স্রোতে ভেসে যায়। অচিরেই তাদের কথা ভুলে যায়।

 ১২.৬. কবিতাটির নাম 'স্মৃতিচিহ্ন' কেন?

উত্তর। মানুষ মরে যায়, কিন্তু স্মৃতি বেঁচে থাকে। তবে সব স্মৃতি অমর হয় না। কল্যাণব্রতী মানুষের স্মৃতি অমরত্ব লাভ করে। ক্ষমতাদী শাসকের স্মৃতি বিস্মৃতির আড়ালে চলে যায়। কবিতার মধ্যে মহান মানুষদের স্মৃতিকেই অমর বলে ঘোষণা করা

হয়েছে। অত্যাচারী শাসকের নাম ভেসে যায় কালস্রোতে। তাঁরা মানুষের হৃদয়ে স্থান লাভ করতে পারে না। কিন্তু মহান মানুষ তাঁর সৃষ্টির ও কর্মের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকেন। তাঁদের স্মৃতিচিহ্ন অক্ষয়, অবিনশ্বর। এই সত্যের প্রকাশে কবিতাটির নামকরণ সার্থক।

১২.৭. কবিতায় কবি কোন্ স্মৃতিকে কেন 'অবিনশ্বর' ও 'নিত্যসমুজ্জ্বল' বলেছেন?

উত্তর। যারা দরিদ্র, সহায় সম্বলইন ছিল, যারা মানুষের মনের মধ্যে দৃঢ় সিংহাসন স্থাপন করেছিল, কবি তাদের কথা বলেছেন। কারণ তাদের নাম কোনো প্রস্তর নির্মিত সৌধ নয় যে কালের প্রভাবে জীর্ণ হবে।

১২.৮. তোমার দৃষ্টিতে মানুষের স্মরণীয় হয়ে থাকার শ্রেষ্ঠ পন্থাটি কী?

উত্তর। আমার দৃষ্টিতে মানুষের স্মরণীয় হয়ে থাকার শ্রেষ্ঠ পন্থাটি হল মানুষের জন্য কাজ করা। মানুষের মধ্যে মিশে যদি তাদের দুঃখ দূর করা যায় ও তাদের মুখে হাসি ফোটানো যায় তবে তাকেই লোকে স্মরণীয় করে রাখে।

১২.৯, স্মরণীয় কয়েকজন বাঙালি মনীষীর চিত্র ও বাণী সম্বলিত একটি চার্ট তৈরি করো।

 উত্তর। নিজে করো।

১৩. তুমি যাঁর জীবনের কথা জেনে অনুপ্রাণিত, এমন একজন মনীষীর কোনো বিশেষ ঘটনার কথা বন্ধুকে লিখে জানাও/সে সম্বন্ধে দেওয়াল পত্রিকায় লেখা প্রকাশ করো।

উত্তর। আমার জীবনের আদর্শ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।


         রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন

তখন শান্তিনিকেতনে মাটির বাড়ি ছিল। তার খড়ের চাল থেকে জল পড়ত। অর্থাভাবে তা ঠিক করা হচ্ছিল না। একদিন কয়েকজন মাস্টার মশাই মিলে রবীন্দ্রনাথের কাছে যান এই বিষয়ে বলতে। রবীন্দ্রনাথ তাঁদের সামনে আসাতে তাঁরা দেখেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চোখ-মুখ ফুলে আছে। চোখের তলায় কালসিটে। কারণ জানতে চাওয়াতে রবীন্দ্রনাথ বলেন যে, রাতে জল পড়ার ফলে তাকে বারবার খাট এদিক থেকে ওদিকে, ওদিক থেকে সেদিকে নিয়ে যেতে হয়। তাই ঘুম হচ্ছে না। এ কথা সোনার পর সেই শিক্ষকরা আর কিছু না বলে চলে আসেন।

* কবিতাটি থেকে যে শিক্ষা পেলে সে-বিষয়ে একটি অনুচ্ছেদ রচনা করো।

উত্তর। মানুষ অনেক রকমের হয়। কেউ কেউ হয় লোভী, আগ্রাসী আবার কেউ কেউ অন্যের জন্য নিজের সর্বস্ব দিতেও রাজি থাকে।

প্রায় প্রতিটি মানুষ চায় যে তাঁদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে থাক। তাই সাধারণত মানুষ বড়ো বড়ো সৌধ, প্রাসাদ ইত্যাদি বানায়। কিন্তু এইভাবে নাম চিরকালের জন্য লিখে রাখা যায় না। কালের প্রভাবে তা ক্রমশ জীর্ণ থেকে জীর্ণতর হয়ে পড়ে। একসময় বিলীন হয়ে যায়।

 কিন্তু যারা সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করে, তাদের মনের মধ্যে সিংহাসন স্থাপন করে, তার। না চাইতেও তাদের নাম থেকে যায়। কালের প্রভাব তার উপর পড়ে না। তাদের নাম প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যেতে কে। 


স্মৃতিচিহ্ন কামিনী রায় প্রশ্ন উত্তর
স্মৃতিচিহ্ন কবিতার ভাবার্থ
কামিনী রায় ছবি
স্মৃতিচিহ্ন কবিতার অনুশীলনী
স্মৃতিচিহ্ন কবিতাটি কার রচনা
স্মৃতিচিহ্ন কবিতাটি কি জাতীয় কবিতা

মন্তব্যসমূহ