মেঘচোর
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
শব্দার্থ : রকেট—পৃথিবীর অভিকর্ষের টান ছাড়িয়ে মহাশূন্যে যাওয়ার দ্রুতগামী যান। কম্পিউটার-যন্ত্রগণক। পুরন্দর—ইন্দ্ৰ। দিগ্বিজয়- সর্বদিক বা নানাদেশ জয়। তুষারযুগ – হিমযুগ। যুগান্তকারী-নতুন যুগ, শুরু করার মতো গরুত্বপূর্ণ বিষয়। এয়ারকন্ডিশানড- শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, বাতানুকুল। প্রাগৈতিহাসিক-যে যুগ থেকে ইতিহাস জানা গেছে তার পূর্ববর্তী যুগের। নিশ্চিহ—অদৃশ্য, উধাও। মার্কারি- পারদ। অ্যালয় – ধাতৃসংকর।এয়ারটাইট–বায়ু নিরোধক। স্পাই-চর, গোয়েন্দা। সকেট-কোটর। অকেজো–অকর্মণ, অব্যবহার্য। সাহারা মরুভূমি- আফ্রিকা মহাদেশের প্রায় গোট
উত্তরাংশ জোড়া ৯,৪০০,০০০ বর্গ কিমি বিস্তৃত পৃথিবীর বৃহত্তম উষ্নমরুভূমি। রাষ্ট্রসংঘ- মানবাধিকার ও বিশ্বশান্তির লক্ষে প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়- আমেরিকার ম্যাসাচুসেট্স-এ অবস্থিত ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়। বোস্টন- ম্যাসাচুসেট্স এর রাজধানী। আলাস্কা- আমেরিকার উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম প্রদেশ। এক্সিমো –পূর্ব সাইবেরিয়া, আলাস্কা, কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড জুড়ে বসবাসকারী জনজাতি। ইগলু–এক্সিমোদের তৈরি বরফের বাড়ি। মাউন্ট চেম্বারলিন – অনাম্বার ব্রকস পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্খ। উচ্চতা ২৭৪৯ মিটার।
১. সন্ধি করো। বৃষ+তি, গো+এষণা, আবি+কার, অপ+ইক্ষা, পরি+ঈক্ষা, কিম্+তু।
উত্তর। বৃষ্টি, গবেষণা, আবিষ্কার, অপেক্ষা, পরীক্ষা, কিন্তু।
২. সন্ধিবিচ্ছেদ করো: নিরুদ্দেশ, বিয়োগ, উত্তাপ, নির্জন, যুগান্ত।
উত্তর। নিঃ + উদ্দেশ, বি + যোগ,উৎ + তাপ, নিঃ+ জন, যুগ + অন্ত।
৩. নীচের শব্দগুলোতে ব্যবহৃত নঞর্থক উপসর্গগুলো দিয়ে নতুন শব্দ তৈরি করো:
উপসর্গ যেমন উপসর্গ যেমন
অ অচেনা নিঃ নিশ্চিন্ত
নি নিখুঁত বে বেবন্দোবস্ত
বি বিদেশ
উত্তর- অ- অজানা। নি- নিখুঁত। বি- বিশিষ্ট। নিঃ- নিশ্বেস। বে- বেসামাল।
৪. নঞর্থক উপসর্গ ছাড়া অন্যান্য উপসর্গের ব্যবহারে তৈরি শব্দও এই গল্পে কম নেই। এখানে সেই ধরনের একটি করে শব্দ দিয়ে দেওয়া হল। প্রতিটি উপসর্গ দিয়ে তৈরি আরও পাঁচটি করে শব্দ লিখতে হবে তোমাকে।
প্র- প্রশংসা। আ- আলাপ। বি- বিজ্ঞানী। প্রাক্- প্রগৈতিহাসিত। সম-সংক্ষেপ। অধি– অধিকার। বি- বিশ্বাস।
উত্তর।
উপসর্গ যেমন নতুন তৈরি শব্দ।
প্র প্রশংশা প্রজ্ঞা, প্রকৃষ্ট, প্রবীণ, প্রচণ্ড,প্রবল।
আ আলাপ আগমন, আলেখ্য, আনন্দ,
আতপ, আজীবন।
বি বিজ্ঞানী বিজন, বিচিন্তা, বিশিষ্ট,
বিদ্বেষ,বিমোচন।
প্রাক্ প্রাগৈতিহাসিক প্রাক্কথন, প্রাক্তন,
প্রাক্-কলন, প্রাগবর্তী, প্রাক্কাল।সম্ সংক্ষেপ সংবাদ, সংরচন, সংরক্ষণ,
সংসাধন, সংবেদন।
অধি অধিকার অধিকৃত, অধিকরণ,
অধিবেশন, অধিগ্রহণ, অধিগত।
বি বিশ্বাস বিকার, বিলাপ, বিষয়,
বিকল, বিচার।
৫. 'অসীমা বলল না তা নয়...আমি তো মেঘের ব্যবসাদার নই' – উত্তাংশটিতে 'ফেরিওয়ালা' ও 'ব্যবসাদার' শব্দ দুটি পাচ্ছি। এই ‘ওয়ালা' এবং 'পার' অনুসর্গ ছুটি ব্যবহার করে অন্তত পাঁচটি করে নতুন শব্দ বানাও।
উত্তর। ওয়ালা – মাছওয়ালা, বাসনওয়ালা, গানওয়ালা, সবজিওয়ালা, ফুলওয়ালা।
পার—আড়ৎদার, জমিদার, মৌজাদার, মনসবদার।
৬. এই গল্পটিতে অজস্র শব্দদ্বৈত ব্যবহৃত হয়েছে। কোন্টি কোন্ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে বুঝে নিয়ে অথবা গঠনগত বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নীচের খোপগুলোতে শব্দবাক্স থেকে শব্দ নিয়ে সঠিক স্থানে বসাও। একটি করে উদাহরণ দিয়ে দেওয়া হল।
খালবিল, গাছপালা, হইচই, ঠিকঠাক, আত্মীয়স্বজন, জল্পনা-কল্পনা, খোঁড়াখুঁড়ি, ঝকঝক, জীবজন্তু, একটু একটু, হা-হা, যোগ-বিয়োগ, খোঁজাখুঁজি, নিজে নিজে, মেঘ-মেঘ, চাঁচামেচি, মাঝে মাঝে, কমেবাড়ে, পরে পরে, কোথাও কোথাও, বোমা- টোমা, বিন্দু বিন্দু, উচিয়ে উড়িয়ে মুচকি মুচকি, সত্যি সত্যি, টলটলে, এদিক-ওদিক, জানলা-টানলা।
উত্তর। দ্বিরুক্তি অর্থে—উড়িয়ে-উড়িয়ে, পরে পরে, মুচকি মুচকি, সত্যি সত্যি, নিজে নিজে।
ঈষদর্থে/অদৃশ্য অর্থে—মেঘ-মেঘ, কোথাও কোথাও, কিছু কিছু, একটু একটু।
প্রকৃত শব্দ + বিকৃত শব্দ- হইচই, খোঁড়াখুঁড়ি, গোঁজাখুঁজি, বোমা-টোমা, ঠিকঠাক, জানলা-টানলা, টলটলে।
বিপরীতার্থক শব্দ যুগ্ম– যোগ-বিয়োগ, কমে-বাড়ে, এদিক-ওদিক।
্বন্যাত্মক অনুকরণাত্মক- হা-হা, ঝকঝক।
সমার্থক শব্দ – খালবিল, গাছপালা, জল্পনা-কল্পনা, জীবজন্তু, আত্মীয়স্বজন।
৭. সমার্থক শব্দ লেখো :
জব্দ, নিরুদ্দেশ, কারবার, লুপ্ত, নিখুঁত, কৃত্রিম, ধ্বংস, শ্রাদ্ধ, অনুগ্রহ, স্থির।
উত্তর। জব্দ-শায়েস্তা। নিরুদ্দেশ- হারিয়ে যাওয়া। কারবার- ব্যাবসা। লুপ্ত-বিলীন, বিনষ্ট। নিখুঁত- খুঁতহীন। কৃত্রিম- নকল। ধ্বংস-নাশ। শ্রাদ্ধ– সম্মান, ভক্তি। অনুগ্রহ- উপকার, দয়া। স্থির- অনড়, স্থাণু।
৮. নীচের শব্দগুলোর দুটি করে পৃথক পৃথক অর্থ বানিয়ে প্রত্যেকটি মানের জন্য আলাদা আলাদা বাক্য লেখো:
উত্তর। কাণ্ড→ঘটনা-আজকে একটি কাণ্ড হয়ে গেছে।
কান্ড→গাছের শরীর- বট গাছের কাণ্ড খুব মোটা।
বল→গোলক–আমরা কাগজের বল দিয়ে খেলি।
বল→শক্তি– যার বল আছে পৃথিবী তার কেনা।
যোগ→ যুক্ত—আমি ফুটবল দলে যোগ দেবো।
যোগ→ যোগাসন—আমি রোজ সকালে উঠে যোগাসন করি।
আলাপ→রামবাবুর সঙ্গে আমার বহুদিনের আলাপ (পরিচয়)।
আলাপ→এ বিষয়ে আমি তোমার সঙ্গে পরে আলাপ করব (আলোচনা)।
ব্যাপার→(ঘটনা)- ওখানে এত লোক কেন? এতদূর থেকে দেখে ব্যাপার কিছু বোঝা যাচ্ছে না।
ব্যাপার→ (বিষয়ে)—এ ব্যাপারে আমার কিছুই জানা নেই, তাই তোমাকে সাহায্য করতে পারছি না।
অঙ্ক→ (গণিত)–আমার এখনও পাঁচটি অঙ্ক কথা বাকি আছে।
অঙ্ক→ (নাটকের পর্ব)- শেক্সপিয়রের সব নাটকই পাঁচ অঙ্কের হয়।
পর (অন্য)–তুমি আমাকে এত সহজে গর করে দিলে।
পর→( কোনো কিছুর শেষে) — খাওয়ার পর আমি পড়তে বসব।
ধার→(ঋণ)—আমি তোমার কাছ থেকে কোনো ধার নিইনি।
ধার→ (তীক্ষ্ণতা)—আমাদের বাড়ির ছুরিতে খুব ধার।
চেয়ে→(তুলনায়)—আমি সুমিতের চেয়ে বেশি লম্বা।
চেয়ে→ (তাকিয়ে)—ওইভাবে হাঁ-করে চেয়ে থেকো না।
জন→(ব্যক্তি) — সে আমার আপনজন।
জন→ (শ্রমিক, মজুর)—ইউসুফ ও ইন্দ্র দুজনেই বাবুদের খেতে জন খাটে।
৯. সমোচ্চারিত/ প্রায়-সমোচ্চারিত ভিন্নার্থক শব্দগুলোর অর্থ লিখে আলাদা আলাদা বাক্য রচনা করো :
উত্তর। চাপা→চাপা-পড়া—তুমি ওই ছেলেটিকে আর একটু হলে চাপা দিচ্ছিলে।
চাঁপা→ ফুল বিশেষ—আমাদের বাড়িতে চাঁপাফুলের গাছ আছে।
যোগ→ যুক্ত হওয়া—আমি ফুটবল দলে যোগ দেব।
যুগ→ সময়ের মাপ- দশ হাজার বছর আগে হিমযুগ ছিল।
লক্ষ→ সংখ্যার একক- আজ থেকে লক্ষ লক্ষ বছর আগে ডাইনোসরেরা ছিল।
লক্ষ→ নজর করা–আমি ওকে লক্ষ করছি।
দেশ → নিজের জন্মভূমি- আমার দেশ ভারতবর্ষ।
দ্বেষ→হিংসা-বিদ্বেষ পুষে রাখা ভালো নয়।
চুরি→তস্করতা–ওই ছেলেটা চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়েছে।
চুড়ি → অলংকার- মেয়েরা হাতে চুড়ি পরে।
১০. স্থূলকার পদগুলোর কারক-বিভক্তি নির্ণয় করো :
১০.১. আমেরিকার হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে সে ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করে।
উত্তর। কর্তৃকারকে 'এ' বিভক্তি।
১০.২. অসীমা ইতিহাসের ছাত্রী হলেও ভূগোলও বেশ ভালো জানে।
উত্তর। কর্মকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
১০.৩. তারমধ্যে আশি হাজার কিউবিক মাইলই যায় সমুদ্র থেকে।
উত্তর। অধিকরণ কারকে 'এ' বিভক্তি।
১০.৪. সাইবেরিয়ায় বড়োজোর এক ইঞ্চি বেশি বরফ জমে।
উত্তর। অধিকরণ কারকে ‘এ’ বিভক্তি।
১০.৫. তাঁর নিজস্ব রকেটে তিনি অসীমাকে নিয়ে বহু জায়গায় বেড়াচ্ছেন।
উত্তর। করণকারকে 'এ' বিভক্তি।
১১. সঠিক বানানটির পাশে (/) চিহ্ন দাও।
উত্তর। (ক) আবিষ্কার √ / আবিষ্কার। (খ) পরিক্ষা/পরীক্ষা√। (গ) সাক্ষি / সাক্ষী √।
১২. গল্পের মধ্যে অনেক ইংরেজি শব্দ আছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচটি শব্দ বেছে নিয়ে লেখো:
উত্তর। কিউবিক, এয়ারকন্ডিশানড্, অ্যালয়, লেক, কম্পিউটার।
১৩. পদান্তর করো:
উত্তর। পৃথিবী— পার্থিব। জল–জলীয়। সমুদ্র- সামুদ্রিক। প্রমানিত- প্রমাণ। উত্তাপ—উত্তপ্ত। ভূগোল-ভৌগোলিক।
১৪. সঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো :
(ক) বিজ্ঞানী (I) স্ত্রীলিঙ্গ, (ii) পুংলিশ, (iii) উভয় লিঙ্গ
উত্তর। উভয়লিঙ্গ।
(খ) 'সাইকেল' শব্দটি (I) সংস্কৃত, (ii) বাংলা, (iii) ইংরেজি।
উত্তর। ইংরেজি।
(গ) 'প্রশংসা' শব্দের বিপরীতার্থক শব্দ হল (1) নিন্দা, (ii) তিরস্কার, (iii) মীমাংসা।
উত্তর। নিন্দা।
১৫. একটি-দুটি বাক্যে উত্তর দাও।
১৫.১. ‘মেঘচোর'-এর মতো তোমার পড়া দু-একটি কল্পবিজ্ঞানের গল্পের নাম লেখো।
উত্তর। পাগলা গণেশ, নীল মানুষ।
১৫.২. এই গল্পে ক-জন চরিত্র? তাদের নাম কী?
উত্তর। এই গল্পে চারজন চরিত্র। তাদের নাম হল, পুরন্দর, অসীমা, দিক্বিজয় এবং কারপভ।
১৫.৩. 'মেঘচোর' কাকে বলা হয়েছে?
উত্তর। 'মেঘচোর' বলা হয়েছে পুরন্দরকে।
১৫.৪. পুরন্দরের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর। পুরন্দর চৌধুরি একজন নামকরা বৃষ্টি বিজ্ঞানী। অসামান্য প্রতিভাধর এবং তাত্যন্ত অহংকারী।
১৫.৫. অসীমা সম্বন্ধে দু-একটি বাক্য লেখো।
উত্তর। অসীমা অত্যন্ত বুদ্ধিমতী এবং দক্ষ অভিনেত্রী। ইতিহাস, ভূগোল এবং কম্পিউটারেও তার জ্ঞান আছে।
১৫.৬. পুরন্দর কী সাংঘাতিক কান্ড করেছেন?
উত্তর। পুরন্দর এক দেশের মেঘ উড়িয়ে এনে অন্য দেশে বৃষ্টি করিয়েছেন।
১৫.৭. রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন দেশ কী দাবি তুলছে?
উত্তর। রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন দেশ মেঘ চুরি আইন বন্ধের দাবি তুলছে।
১৫.৮. হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কোথায়?
উত্তর। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস্-এ অবস্থিত।
১৫.৯. পুরন্দরের মুখটা হাঁ হয়ে গেল কেন?
উত্তর। রকেটটি মহাশূন্যে চলে এসেছে শুনে।
১৫.১০. জ্ঞান ফিরে পুরন্দর অবাক হয়েছিল কেন?
উত্তর। অসীমাকে বসে থাকতে দেখে।
১৫.১১. দিগ্বিজয় কে ছিলেন?
উত্তর। দিগ্বিজয় ছিলেন পুরন্দরের ভাই।
১৫.১২. গল্পের ঘটনা যখন ঘটেছে তখন চরিত্রগুলো কোথায় ছিল?
উত্তর। গল্পের ঘটনা যখন ঘটেছে তখন চরিত্রগুলো রকেটে আলাস্কার আকাশে ছিল।
১৫.১৩. ইগলুর পরিবর্তে সেখানে তখন কী দেখা যাচ্ছিল?
উত্তর। ইগলুর পরিবর্তে সেখানে এয়ারকন্ডিশনড বিল্ডিং দেখা যাচ্ছিল।
১৫.১৪. কেন বলা হয়েছে 'অসীমা ভূগোলও বেশ ভালো জানে'?
উত্তর। অসীমা মেরু অঞ্চলের পাহাড় এবং হ্রদকে নিখুঁতভাবে চিনতে পেরেছিল।
১৫.১৫. কে কোথা থেকে কোথায় মেঘ এনেছিল? উত্তর। পুরুন্দর সাইবেরিয়া থেকে সাহারায় মেঘ এনেছিল।
১৫.১৬ তুষার যুগ কাহাকে বলে?
উত্তর। দশ হাজার বছর আগে পৃথিবীর তুষারে ঢেকে যাওয়াকে তুষার যুগ বলে।
১৫.১৭. পৃথিবী থেকে কত মাইল জল সারা বছর বাষ্প হয়ে উড়ে যায়?
উত্তর। পঁচানব্বই হাজার কিউবিক মাইল।
১৫.১৮. মানুষের জন্য বেশি বৃষ্টি দরকার কেন?
উত্তর। মানুষের সংখ্যা বাড়ছে তাই।
১৫.১৯. আটলান্টিস কী?
উত্তর। গ্রিক পুরাণে বর্ণিত শহর।
১৫.২০, পুরন্দরের মতে আটলান্টিকের অবস্থান কোথায়?
উত্তর। লেক শ্রোভারের নীচে।
১৫.২১. সাইবেরিয়া কোথায়?
উত্তর। রাশিয়ায়।
১৫.২২. অসীমা কেন পুরন্দরকে ফেরিওয়ালা বলে ব্যঙ্গ করেছে?
উত্তর। পুরন্দর মেঘ বিক্রির কথা বলেছিলেন, তাই।
১৫.২৩. অ্যালয় কী?
উত্তর। অ্যালয় হল ধাতুসংকর।
১৫.২৪. পুরন্দরের তৈরি গোলকটিতে আছে এমন কোন্ ধাতুর নাম গল্পে পেলে?
উত্তর। পারদ।
১৫.২৫. পুরন্দরের তৈরি গোলকটি এয়ারটাইট রাখা হয় কেন?
উত্তর। জলীয় বাষ্পের সংস্পর্শে এলে গরম হয়ে বলে।
১৫.২৬. 'প্রকৃতিকে ধ্বংস করা একটি অপরাধ' – কে কাকে বলেছে?
উত্তর। অসীমা, পুরুষ্পরকে বলেছে। যখন পুরন্দর শ্রেভার লেকের জলকে মোষে পরিণত করতে চাইছিল তখন।
১৫.২৭. অসীমার প্রকৃত পরিচয় কী?
উত্তর। অসীমা বিজ্ঞানী কারপভের মেয়ে। সে একজন কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ।
১৫.২৮. 'তাহলে আমরা গুঁড়ো হয়ে যাবো'-কে, কাকে, কেন বলেছে?
উত্তর। অসীমা পুরুন্দরকে বলেছে। ঝরণ তারা তখন মহাশূন্যে ছিল এবং পুরুন্দর রকেটের জানালা খুলতে যাচ্ছিল।
১৫.২৯. অসীমার বিশেষ আগ্রহ কোন বিষয়ে? উত্তর। অসীমার বিশেষ আগ্রহ কম্পিউটারে।
১৫.৩০.'পৃথিবীর জল যেমন আছে তেমনই থাকুক'- কে, কখন এই কথা বলেছে?
উত্তর। অসীমা পুরন্দরের গোলকটিকে মহাশূন্যে ফেলে দিতে দিতে এ কথা বলেছে।
১৫.৩১. এক্সিমো কারা?
উত্তর। পূর্ব সাইবেরিয়া, আলাস্কা, কানাডা ও গ্রিনল্যান্ড জুড়ে বসবাসকারী জনজাতিকে এক্সিমো বলা হয়।
১৫.৩২. পুরন্দর কথার অর্থ কী?
উত্তর। পুরুন্দর কথার অর্থ ইন্দ্র
১৫.৩৩. মাউন্ট চেম্বারলিনের উচ্চতা কত?
উত্তর। মাউন্ট চেম্বারলিনের উচ্চতা ২,৭৪৯ মিটার।
১৫.৩৪। 'আমি এটা বাইরে ছুঁড়বই'–কে, কী, বাইরে ছুঁড়তে চেয়েছেন?
উত্তর। পুরন্দর তাঁর ধাতব গোলকটি বাইরে ছুঁড়তে চেয়েছেন।
১৫.৩৫। কারপভ কে?
উত্তর। কারণত একজন বিজ্ঞানী এবং গরে বর্ণিত অসীমার পিতা।
১৬. আট-দশটি বাক্যে উত্তর দাও:
১৫.৩৬। 'তুমি একটা স্পাই'- 'স্পাই' কথার অর্থ কী? উত্তর। স্পাই' কথার অর্থ হল চর বা গোয়েন্দা।
১৬.১. এই গল্পে কাকে কেন 'মেঘচোর' বলা হয়েছে? তার মেঘ-চুরির কৌশলটি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর। এই গল্পে বৃষ্টি বিজ্ঞানি পুরুন্দর চৌধুরিকে মেঘচোর বলা হয়েছে।
তিনি একদেশের মেঘ এনে অন্য দেশে বৃষ্টিপাত ঘটান বলে এমন বলা হয়েছে।
তিনি একস্থানে উৎপন্ন মেঘকে বৈজ্ঞানিক কুশলতার সাহায্যে অন্য স্থানে নিয়ে যান। এই পদ্ধতি তিনিই পারেন। সেই স্থানে নিয়ে গিয়ে তিনি সেখানকার আকাশের উপর মেঘকে রেখে তার আর্দ্রতা বাড়িয়ে দেন। জলীয়বাষ্প বেশি হয়ে গেলে মেঘ স্বভাবতই বৃষ্টির আকারে ঝরে পড়ে। এইভাবে তিনি মেঘ চুরি করেন।
১৬.২. “বিজ্ঞান মানুষকে দিয়েছে অমিত বল, কিন্তু অযোগ্য মানুষের হাতে সেই ক্ষমতা হয়ে উঠতে পারে
বিপজ্জনক ও প্রাণঘাতী” — পঠিত গল্পটির অবলম্বনে উপরের উদ্ধৃতিটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর। বৃষ্টি বিজ্ঞানী পুরন্দর চৌধুরি। অসামান্য প্রতিভার অধিকারী। আকাশের মেঘ যেন তাঁর বশীভূত। কিন্তু এই পুরন্দর চৌধুরি ক্ষমতাবলে অন্ধ হয়ে গিয়ে শ্রেভার লেককে শুকিয়ে দিয়ে মেখে পরিণত করতে চান। তিনি বৃষ্টি দিয়ে সাইবেরিয়ার বরফ বাড়িয়ে দিতে চান। তিনি চান আকাশের সব মেঘকে একত্রিত করে তাঁর ইচ্ছে এবং তাঁর কাছে করা মানুষদের প্রার্থনা অনুসারে এক এক জায়গায় বৃষ্টিপাত ঘটাতে। এই সকল কাজের কী বিরাট
চাপ প্রকৃতির উপর যে কত বড়ো বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে তা সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ উদাসীন। তাই উক্তির সারবক্তা এখানে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে।
১৬.৩. পুরন্দর চৌধুরির চরিত্রটি তোমার কেমন বলে মনে হয়েছে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর। পুরন্দর চৌধুরি অসম্ভব প্রতিভাধর। সারাবিশ্ব তাঁকে চেনে। তিনি নিজের ইচ্ছামতো মেঘ তৈরি করতে পারেন। নিজের ইচ্ছামতো মেঘকে কোনো দেশের উপর নিয়ে গিয়ে বৃষ্টি দিতে পারেন। কিন্তু এই পুরন্দর চৌধুরি অত্যন্ত অহংকারী। তিনি অন্যান্য বিজ্ঞানীদের জব্দ করতে চান। তিনি চান মানুষ তাঁর কাছে হাত পেতে বৃষ্টির প্রার্থনা করুক। তিনি চান ভগবানের পরবর্তী স্থানটিই যেন তাঁর হয়।
১৬.৪. গল্পটি অবলম্বনে অসীমা চরিত্রটি সম্বন্ধে তোমার মতামত জানাও।
উত্তর। অসীমা সুন্দরী একজন মহিলা। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করছে। অত্যন্ত চালাক, ঠাণ্ডা মাথার অধিকারী। ভূগোল বিষয়েও তাঁর জ্ঞান আছে। অসাধারণ অভিনেত্রী। বিজ্ঞানী কারপভের মেয়ে। পুরন্দরকে তার উন্মাদ উদ্দেশ্য থেকে নিবৃত্ত করতে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে পুরন্দরকে থামায়। এক কথায় অসীমা চরিত্রটি অনবদ্য।
১৬.৫. এই গল্পে পুরন্দর এবং অসীমা আসলে দুটি পৃথক এবং পরস্পর বিরোধী বিজ্ঞান চেতনার প্রতিনিধিত্ব করেছে। কে, কোন্ ধারণার প্রতিনিধিত্ব করেছেন জানিয়ে তুমি এঁদের মধ্যে কাকে কেন সমর্থন করো বিশদে লেখো।
উত্তর। পুরন্দর প্রতিনিধিত্ব করেছে সেই শ্রেণির যারা মনে করে বিজ্ঞানের শক্তি দিয়ে তারা পৃথিবীতে যা খুশি করতে পারে।
অসীমা প্রতিনিধিত্ব করেছে সেই শ্রেণির যারা মনে করে বিজ্ঞান দিয়ে প্রকৃতির সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে কাজ করা উচিত। নয়তো বিপর্যয় অনিবার্য।
আমি অসীমার দর্শনকে সমর্থন করি। কারণ প্রকৃতিকে তছনছ করে, তাকে বিপদগ্রস্ত করে কখনও উন্নতি সম্ভব নয়। প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে কখনোই তা মেরামত করা সহজ ব্যাপার নয়। তার থেকে প্রাকৃতিক ভারসাম্য যাতে নষ্ট না-হয় তা দেখা উচিত।
১৬.৬. গল্পটিতে যতগুলো স্থানের নাম আছে তার একটি তালিকা বানিয়ে প্রত্যেকটি স্থান সম্বয়ে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তর। বোস্টন, সাহারা, আলাঙ্কা।
বোস্টন—বোস্টন হল ম্যাসাচুসেটস্-এর রাজধানী
সাহারা- সাহারা হল পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মরুভূমি। এটি আফ্রিকায় অবস্থিত। মোট আয়তন ৯৪,০০,০০০
বর্গকিমি।
আলাস্কা- আমেরিকার উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম প্রদেশ। এর উত্তরে সুমেরু মহাসাগর, পূর্বে কানাডা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগর।
মেঘ চোর সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় pdf
মেঘ চোর গল্পের প্রশ্ন উত্তর
মেঘ চোর গল্পের অনুশীলনী
মেঘ চোর গল্পের প্রশ্ন উত্তর class 7 pdf
পুরন্দরের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও
Megh chor class 7 question answer
মন্তব্যসমূহ