খোকনের প্রথম ছবি - বনফুল
শব্দার্থ: হিজিবিজি -আঁকিবুঁকি আঁকা। পুল-সেতু বা সাঁকো।ঝোঁক- আগ্ৰহ/প্রবণতা। নকল- অনুকরণ।চিত্রকর- শিল্পী, যিনি ছবি আঁকেন। প্রকৃতি-পরিবেশের সবকিছু। মাস্টার- আঁকার শিক্ষক। চমৎকার- সুন্দর।বেকুব- বোকা। সগর্বে-গর্বের সঙ্গে। দীপ্তি-উজ্জ্বলতা।
হতে কলমে
১. গল্প থেকে একইরকম অর্থযুক্ত আর-একটি করে শব্দ খুঁজে নিয়ে লেখো:
উত্তরঃ চিত্রকর, শহর, হাতি, দীপ্তি, নকল।
২. বিশেষ্য থেকে বিশেষণে রূপান্তরিত করো: প্রকৃতি, গাছ, কল্পনা, ফুল, দিপ্ত।
উত্তর। প্রাকৃতিক, গেছো, কাল্পনিক, ফুল, দীপ্তি।
৩.নিম্নরেখ অংশটির কারকবিভক্তি নির্ণয় করো:
৩.১. প্রকৃতি থেকে ছবি আঁকো।
৩.২. তোমার ছবি কই?
৩.৩. একদিন তিনি খোকনদের বাড়িতে এলেন।
৩.৪. ড্রইং খাতার একটা পাতা কালো রঙে ভরে গেল।
উত্তর। কর্মকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
উত্তর। নির্মিত্তকারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
উত্তর। অধিকরণ কারকে 'শূন্য' বিভক্তি।
উত্তর। কর্মকারকে 'এ' বিভক্তি।
৪. বিশেষ্য থেকে বিশেষণে রূপান্তরিত করো:
উত্তর: দীপ্তি—-দীপ্ত। ফুল-ফুলেন। গাছ- গেছো। প্রকৃতি- প্রাকৃতিক। কল্পনা- কাল্পনিক।
৫. গল্প থেকে একইরকম অর্থযুক্ত আর একটি করে শব্দ খুঁজে নিয়ে লেখো:
উত্তর : শিল্পী, নগর, অনুকরণ, উজ্জ্বলতা, ঐরাবত।
শিল্পী - চিত্রকর। নগর- শহর। অনুকরণ- নকল। উজ্জ্বলতা- দীপ্তি। ঐরাবত-হাতি।
৬. নীচের শব্দগুলোর একটি করে বিপরীতার্থক শব্দ তৈরি করো এবং সেই শব্দযুগল ব্যবহার করে একটি করে বাক্যরচনা করো:
উত্তর। অন্ধকার-আলো - জঙ্গলের আলো-অন্ধকার পথটায় আমরা এগিয়ে চললাম।
নকল-আসল - বাজারে আসল-নকল জিনিস এখন চেনাই মুশকিল।
বিখ্যাত-কুখ্যাত - এই সমাবেশে বিখ্যাত-কুখ্যাত সকল মানুষের সমাগম ঘটবে।
নিখুঁত-খুঁত : খুঁত-নিখুঁতের বিচার করতে যাওয়ার সময় কোথায়?
বন্ধু-শত্রু: বন্ধু-শত্ৰু বুঝে নিয়েই সমাজে চলতে হবে।
৭. নীচের প্রশ্নগুলির নিজের ভাষায় উত্তর দাও :
৭.১. 'ড্রইং শিখতে লাগল খোকন'- খোকন কোথায় ড্রইং শিখত?আর প্রথম দিকে কী কী আঁকত?
উত্তর। স্কুলে টুল, টেবিল, চেয়ার, কলশি, কাপ এমনকি একটা গোরুও এঁকে ফেলল একদিন।
৭.২. 'একদিন তো মেঘের ছবি আঁকতে গিয়ে বেকুব হয়ে গেল খোকন'—'বেকুব' শব্দটির অর্থ কী? মেঘের ছবি আঁকতে গিয়ে খোকন বেকুব হয়ে গিয়েছিল কেন?
উত্তর। 'বেকুব' শব্দটির অর্থ বোকা। একদিন সে দেখল আকাশে একটা মেঘ হাতির মতো। ঠিক যেন একটি হাতি পেছনের দু-পায়ে ভর করে শুঁড় তুলে আছে। খোকন তাড়াতাড়ি তার ড্রইং খাতায় ছবিটা আঁকতে লাগল। আঁকা শেষ হবার পর মিলিয়ে দেখতে গেল ঠিক হয়েছে কি না, গিয়ে দেখে হাতি নেই, প্রকান্ড একটা কুমির শুয়ে আছে। হাতি কুমির হয়ে গেছে।
৭.৩. 'এগুলো সব নকল করা ছবি'। -কে কাকে এই কথা বলেছেন? 'নকল করা ছবি' বলতে তিনি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর। খোকনের বাবার একজন বন্ধু বিখ্যাত চিত্রকর। তিনি এই কথাগুলি খোকনকে বলেছেন।নকল করা ছবি অর্থাৎ খোকন যা-কিছু এঁকেছে সবকিছু কাউকে দেখে বা কারোর প্রতিচ্ছবি এঁকেছে। তাই তিনি ছবিগুলিকে নকল করা ছবি বলেছেন।
৮. নীচের প্রতিটি বাক্যকে দুটি বাকো ভেঙে লেখো।
৮.১. সে যখন খুব ছোটো কাগজের উপর বঙিন পেনসিল দিয়ে হিজিবিজি কাটত।
উত্তর। সে খুব ছোটো ছিল। সে তখন কাজের উপর রঙিন পেনসিল দিয়ে হিজিবিজি কাটত।
৮.২. পুলের ছবিটা দেখেও খুব প্রশংসা করলেন মাস্টারমশাই।
উত্তর। পুলের ছবিটা দেখলেন। তারপর খুব প্রশংসা করলেন মাস্টারমশাই।
৮.৩ সূর্যের যে ছবিটা এঁকেছে সেটা তো সূর্যের মতো নয়।
উত্তর। সূর্যের ছবিটা এঁকেছে। কিন্তু সেটা তো সূর্যের মতো নয়।
৮.৪. একদিন তো মেঘের ছবি আঁকতে গিয়ে বেকুব হয়ে গেল খোকন।
উত্তর। একদিন খোকন মেঘের ছবি আঁকল। কিন্তু সে বেকুব হয়ে গেল।
৮.৫. খোকন একদিন নিজের ঘরে চোখ বুজে বসে রইল।
উত্তর। খোকন বসে রইল। সে একদিন নিজের ঘরে চোখ বুজে।
৯. নীচের আলাদা আলাদা বাক্যগুলি জুড়ে একটি বাক্য তৈরি করো।
৯.১. খোকন বড়ো হয়েছে। ক্লাস টেন-এ পড়ে।
উত্তর। খোকন ক্লাস টেন-এ পড়া বড়ো ছেলে।
৯.২. খোকনের বাবার একজন বন্ধু বিখ্যাত চিত্রকর। তিনি লখনউ শহরে থাকেন।
উত্তর। খোকনের বাবার একজন বিখ্যাত চিত্রকর বন্ধু লখনউ শহরে থাকেন।
১.৩. নিজের আঁকা ছবি? তা কী করে আঁকব?
উত্তর। নিজের আঁকা ছবি কী করে আঁকব?
৯.৪. চোখ বুজে বসে কল্পনা করো। কল্পনায় যা দেখবে সেটাই এঁকে ফেলো।
উত্তর। চোখ বুজে কল্পনায় যা দেখবে সেটাই এঁকে ফেলো।
৯.৫. তারপর হঠাৎ দেখতে পেল ওই কালোর ভেতরেই একটা মুখ রয়েছে, চোখও আছে।
উত্তর। তারপর হঠাৎ দেখতে পেল কালোর ভেতরেই একটা মুখ, চোখ আছে।
১০. গল্পে রয়েছে এমন দশটি ইংরেজি শব্দ খুঁজে নিয়ে লেখো।
উত্তর। (১) টেন, (২) পেনসিল, (৩) স্কুল, (৪) ড্রইং, (৫) টেবিল, (৬) চেয়ার, (৭) কাপ, (৮) বুক,
(১) পুল, (১০) টুল।
১১. খোকন জিজ্ঞেস করলে–প্রকৃতি থেকে? প্রশ্ন পরিহার করো।
উত্তর- খোকন জানতে চাইল সেটা প্রকৃতি থেকে কি না।
১২. লখনউ শহরটি কোথায়? সেখানকার একটি বিখ্যাত স্থাপত্যের নাম করো।
উত্তর। উত্তরপ্রদেশ। ভুলভুলাইয়া।
১৩. খোকনের 'ড্রইংয়ের মাস্টারমশাই' কীভাবে খোকনকে প্রকৃতি দেখতে শিখিয়েছিলেন?
উত্তর। তিনি খোকনকে চারপাশের ছবি থেকে ছবি আঁকতে শিখিয়েছিলেন। বাড়ির সামনের গাছ, তার বাড়ির ছাদের পুল ইত্যাদি থেকে অর্থাৎ আশপাশের প্রকৃতি থেকে তিনি ছবি আঁকতে শিখিয়েছিলেন।
১৪. প্রকৃতির দৃশ্যের যে বদল অহরহ হয় তা খোকন কীভাবে বুঝল?
উত্তর। একদিন সে দেখল আকাশে একটা মেঘ হাতির মতো। ঠিক যেন একটি হাতি পেছনের দু-পায়ে ভর করে শুঁড় তুলে আছে। খোকন তাড়াতাড়ি তার ড্রইং খাতায় ছবিটা আঁকতে লাগল। আঁকা শেষ হবার পর মিলিয়ে দেখতে গেল ঠিক হয়েছে কি না, গিয়ে দেখে, হাতি নেই প্রকাণ্ড একটা কুমির শুয়ে আছে। হাতি কুমির হয়ে গেছে। এই দেখে খোকন বুঝল প্রকৃতির দৃশ্যের বদল হয়।
১৫. খোকন অবাক হয়ে গেল; / আর.অবাক হয়ে চেয়ে রইল খোকন।
-এই দুই ক্ষেত্রে খোকনের 'অবাক' হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর। খোকন প্রকৃতির যা-কিছু দেখত তাই দিয়ে ছবি আঁকত। কিন্তু তার নিজের আঁকা কোনো ছবি ছিল না। তাই তার বাবার বন্ধু তাকে যখন জিজ্ঞাসা করল খোকনের নিজের আঁকা ছবি কোথায় তখন সে অবাক হয়ে গেল।
খোকনের বাবার বন্ধু তাকে যখন নিজের কল্পনা করা ছবি আঁকতে বললেন সে তখন নিজের ঘরে বসে অন্ধকারে ছবি আঁকবে ঠিক করল। ড্রইং-এর একটা পাতা কালো রঙে ভরে গেল। সেই কালোর ভেতরে সে একটা মুখ ও চোখ দেখতে পেল। তাই সে অবাক হয়ে চেয়ে রইল।
১৬. 'চিত্রকর চলে গেলেন' - এই চিত্রকরের পরিচয় দাও। চলে যাওয়ার আগে তিনি খোকনকে কী বলে গেলেন?
উত্তর। এই চিত্রকর খোকনের বাবার বন্ধু। তিনি লখনউতে থাকেন। তিনি চলে যাওয়ার আগে খোকনকে নিজের কল্পনা থেকে যা আসবে তাই আঁকতে বলে গেলেন।
১৭. 'এই অন্ধকারেরই ছবি আঁকবে'- কখন খোকন এমন সিদ্ধান্ত নিল? অন্ধকারের সেই ছবির দিকে তাকিয়ে খোকন কী দেখতে পেল?
উত্তর। খোকনের বাবার বন্ধু বিখ্যাত চিত্রকর যখন খোকনের ভুল ভেঙে দিয়ে তাকে বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন যে, খোকন আজ পর্যন্ত যা এঁকেছে সব তার নকল। এবং খোকনকে বুদ্ধি দিয়ে গেলেন সে তার কল্পনা থেকে যা আসবে তাই আঁকবে। সে তখন অন্ধকারে নিজের ঘরে বসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
অন্ধকারে সেই ছবির দিকে তাকিয়ে খোকন সেই কালোর ভেতর একটা মুখ ও চোখ, আর অদ্ভুত হাসি সেই চোখে।
১৮. গল্পে 'খোকনের প্রথম ছবি' হিসেবে তুমি কোন্ ছবিটিকে স্বীকৃতি দেবে এবং কেন তা বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর। খোকনের প্রথম ছবি সেটাই যেটা সে নিজের কল্পনা করে এঁকেছে। প্রকৃতির ছবি কারোর ছবি এসব তো সবাই আঁকতে পারে। কিন্তু মানুষের নিজের মনের থেকে যে ছবি আসে সেটাই আসল। তার মধ্যে কোনো কৃত্রিমতা নেই। সেটাই তার মনের বিকাশ। তার মধ্যে কোনো নকল নেই।
১৯. পাঁচজন সাহিত্যিকের নাম এবং তাদের ছদ্মনাম পাশাপাশি লেখো। সাহিত্যিকেরা কেন ছদ্মনাম ব্যবহার করেন তা শিক্ষক / শিক্ষিকার থেকে জেনে নাও।
উত্তর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর–ভানুসিংহ।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়—নীললোহিত।
বলাইচন্দ্র মুখোপাধ্যায়—বনফুল।
প্যারীচাঁদ মিত্র–টেকচাঁদ ঠাকুর।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-অনিলা দেবী।
২০. তুমি যদি বড়ো হয়ে সাহিত্যিক হও, কোন ছদ্মনাম ব্যবহার করবে এবং কেন তা লেখো।
উত্তর। আমি যদি বড়ো হয়ে সাহিত্যিক হই তাহলে আমি 'কালো মৌমাছি' ছদ্মনাম নেবো।
একটি মৌমাছি ছোট্ট একটি প্রাণী। অথচ তার একান্ত পরিশ্রমে গড়ে ওঠে বিশাল মৌচাক। পাওয়া যায় সুমিষ্ট মধু। আবার সেই মৌমাছিই তার বাসস্থান এবং সমাজকে রক্ষার্থে মরণপণ করে লড়াই করে। ছোট্ট মোমাছিকে হাতির মতো বড়ো প্রাণীরাও ভয় পায়। তার কামড়ের বিষকে ভয় পায়।
আমি সেই মধুর মতো সুমিষ্ট লেখা লিখতে চাই। অথচ প্রয়োজনে যেন আমার লেখা আক্রমণাত্মক হতে পারে। এমন লেখা লিখতে পারি যা কোনো কিছুর ভীত নাড়াতে সক্ষম। আর কালো রংটা আমার অত্যন্ত পছন্দের বলে "কালো মৌমাছি" নাম নিতে চাই।
২১. খোকনের ড্রইংয়ের মাস্টারমশাই আর তার বাবার এক বন্ধু যেভাবে তাকে ছবি আঁকতে অনুপ্রাণিত করেছিলেন তা লেখো। কোন্ রীতিটিকে তোমার পছন্দ হল এবং কেন তা যুক্তিসহ লেখো।
উত্তর। খোকন যেমন ছবিই আঁকত খোকনের মাস্টারমশাই তাতেই তাকে বাহবা দিত। তিনি বলতেন প্রকৃতিকে দেখে সেই প্রকৃতির সাহায্যে ছবি আঁকতে।
খোকনের বাবার বন্ধু বললেন পরিবেশের থেকে কপি করে ছবি আঁকাও ঠিক নয়, তিনি বলেন নিজের থেকে আঁকতে। নিজের সত্ত্বার মধ্যে যে জিনিস আছে ছবি তারই বহিঃপ্রকাশ। তাই তিনি চোখ থেকে যা চোখের সামনে আসবে তাই আঁকতে নির্দেশ দেন।
আমার খোকনের বাবার বন্ধু যেভাবে আঁকতে বলেছেন তা বেশি পছন্দ। কারণ একজন শিল্পীর মনের ভেতরকার ভাবনাকে পাতায় ফুটিয়ে তোলাই তার শিল্পকলার সার্থকতা। তাই তিনি মনের ভেতর থেকে যে আঁকার উদাহরণ দিয়েছেন। তা আমার পছন্দ হয়েছে।
২২. ' খোকনের প্রথম ছবি ' রচনাটির নামকরণ কতদূর সার্থক হয়েছে বিচার করো।
উত্তর। বনফুলের 'খোকনের প্রথম ছবি' রচনাটিতে সার্থক সৃষ্টির গোপন কথা ব্যক্ত হয়েছে। খোকন ছোটোবেলা থেকেই ছবি আঁকতে ভালোবাসে। তারপর স্কুলে ভর্তি হয়ে ড্রইং-এ আরো পারদর্শী হয়ে উঠল। চোখের সামনে সে যা দেখত তাই লিখে ফেলত। একদিন ড্রইংয়ের মাস্টারমশাই তাকে প্রকৃতির ছবি আঁকতে বলেন। খোকন তার বাড়ির সামনের বড়ো ইউক্যালিপটাস গাছটা এঁকে ফেলল। তারপর আঁকল তাদের ছাদ থেকে দেখা পুলটাও। এমনিভাবে চলতে থাকে খোকনের আঁকা শেখা। একদিন তাদের বাড়িতে এলেন এক বিখ্যাত চিত্রকর। তিনি লক্ষ্ণৌতে থাকেন, সে সম্পর্কে খোকনের বাবার বন্ধু। তিনিই প্রথম খোকনের আঁকার ভুলগুলি ধরিয়ে দেন। কোনো কিছু দেখে হুবহু আঁকাকে নকল ছবি বলে তিনি জানালেন। কল্পনাহীন সৃষ্টির কোনো মূল্য নেই। খোকন এতদিন যা এঁকেছে সবই নকল ছবি। তারপর তিনি খোকনকে চোখ বন্ধ করে কল্পনা করতে বললেন। কল্পনায় যা ধরা পড়বে তাই আঁকতে বললেন। খোকন চোখ বন্ধ করে শুধুই অন্ধকার দেখতে পেল। সেই অন্ধকারের ছবিই সে আঁকল। তারপর অবাক হয়ে দেখল সেই ছবির মধ্যে একটি মুখ এবং চোখও রয়েছে। সেই চোখে হাসি। খোকন তখন বুঝল এটাই তার প্রথম ছবি। রচনার এই মর্মসত্যে নামকরণটি সার্থক।
২৩. 'তোমার নিজের আঁকা ছবি কই?'-- কে, কাকে একথা জিজ্ঞাসা করেছিলেন? এমন কথা জিজ্ঞাসার কারণ কী?
উত্তর। একথা খোকনের বাবার চিত্রকর বন্ধু খোকনকেই জিজ্ঞাসা করেছিলেন। লক্ষ্ণৌবাসী চিত্রকর খোকনের আঁকা অনেক ছবিই দেখেছিলেন। সেই ছবিগুলি ছিল কোনো কিছুকে দেখে হুবহু তার প্রতিলিপি। চিত্রকর খোকনের কল্পনার দ্বারা আঁকা ছবি খুঁজছিলেন। কিন্তু সেই ছবিগুলোর মধ্যে কোথাও কল্পনার ছবি ছিল না। সেই কারণেই তার এমন জিজ্ঞাসা।
২৪. ‘প্রকৃতির ছবি ঠিক আঁকা যায় না' - খোকন কখন বুঝেছিল যে, প্রকৃতির ছবি ঠিক আঁকা যায় না?
উত্তর। খোকন একদিন সূর্যের ছবি এঁকেছিল। তারপর দেখল সেটা ঠিক সূর্যের মতো নয়। তার দীপ্তি ছবিতে তেমনভাবে ফোটেনি। গোলাপ ফুলের ছবিতেও সে সৌন্দর্য ঠিকমতো ফোটাতে পারেনি। তখনই সে বুঝল প্রকৃতির ছবি ঠিক আঁকা যায় না।
বিষয়
খোকনের প্রথম ছবি অনুশীলনী
খোকনের নিজের ছবি কিভাবে আঁকা হল
খোকনের প্রথম ছবি গল্পের প্রশ্ন উত্তর class 7
সপ্তম শ্রেণী বাংলা খোকনের প্রথম ছবি প্রশ্নোত্তর
Class 7 Bengali Khokoner prothom chobi
মন্তব্যসমূহ