আছেন কোথায় স্বর্গপুরে
লালন ফকির
শব্দার্থ: স্বর্গপুরে- দেবলোকে। ভেদ–অর্থ। খোদা—ঈশ্বর। দিব্যজ্ঞানে- সাধনালন্দজ্ঞানে। রজনী- রাত।
অহর্নিশি-দিনরাত্রি।
১. 'আছেন কোথায় স্বর্গপুরে'- গানটির মর্মকথা নিজের ভাষায় লেখো:
উত্তর। মানুষের সংস্কারগত ধারণা ঈশ্বর স্বর্গপুরীতে থাকেন। তাই কেউ ঈশ্বরের কথা জিজ্ঞাসা করলে সকলে আকাশ দেখিয়ে দেয়। পৃথিবী গোলাকার। আপনা আপনিই সেটা ঘুরছে। আর তাতেই দিনরাত হচ্ছে। একদিকে যখন দিন, অন্যদিকে তখন রাত। তাহলে ঈশ্বর কোথায় থাকেন? আসলে সবাই আকাশ দেখে। ঈশ্বরকে দেখে না। ঈশ্বর আছেন মানুষের হৃদয়ে।
২. 'কেউ নাহি তার ভেদ জানে' – কোন ভেদের কথা বলা হয়েছে ?
উত্তর। ঈশ্বর স্বর্গপুরে কোথায় থাকেন- এই ভেদ বা তত্ত্বকথা জানার ব্যাপারে আলোচ্য উক্তিটিকরা হয়েছে।
৩. 'আকাশ তো দেখে সকলে / খোদা দেখে কয় জনে।'—খোদাকে দেখা সম্ভব কীভাবে?
উত্তর। সাধারণ মানুষের ধারণা ঈশ্বরের অবস্থান ঊর্ধ্বলোকে স্বর্গপুরীতে। তাই ঈশ্বরকে দেখার জন্য মানুষ আকাশের দিকে তাকায়। কিন্তু সে সেখানে ঈশ্বর দেখতে পায় না। কারণ ঈশ্বর তো আকাশে বা স্বর্গপুরীতে থাকেন না। তিনি আছেন মানুষের পবিত্র হৃদয়ে। মানুষ দিব্যজ্ঞান বা তত্ত্বজ্ঞান লাভ করলে আপন হৃদয় মাঝেই ঈশ্বরের দর্শন পায়।
৪. 'আপন ঘরে কে কথা কয়'- আপন ঘর বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর। আপন ঘর বলতে মানবদেহকেই বোঝানো হয়েছে। এই মানব দেহেই হল ঈশ্বরের প্রকৃত গৃহ।
৫. 'তাইতে হয় দিন রজনী' - কীভাবে দিন রজনী হয়?
উত্তর। পৃথিবী প্রতিনিয়ত সূর্যের চারিদিকে নিজের কক্ষপথে ঘুরছে। একেন আহ্নিক বলে।
এই আহ্নিক গতির ফলেই পৃথিবীতে দিনরাত হয়।
৬. প্রতিশব্দ লেখো: (২টি করে)
উত্তর। পৃথিবী – জগৎ, বসুন্ধরা। নিশি- রাত্রি, রজনী। আশমান—আকাশ, বিমান।
৭. বিপরীত শব্দ লেখো :
উত্তর। স্বর্গ-নরক। রজনী—দিবস। আকাশ–পাতাল। ঞানী-মূর্খ। আশমান- জমিন।
আছেন কোথায় স্বর্গপুরে লালন ফকির । গানের বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ | সারাংশ | achen kothay sargo pure gan । আছেন কোথায় স্বর্গপুরে লালন ফকিরের গান
মন্তব্যসমূহ