নাটকঃ ফণীমনসা ও বনের পরি
নাট্যকার: বীরু চট্টোপাধ্যায়
এখানে পঞ্চম শ্রেণীর একটি নাটক ফণীমনসা ও বনের পরি সম্পর্কে প্রশ্ন উত্তর দেওয়া রয়েছে
লেখক পরিচিতি: লেখক বীরু চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯১৭ সালে। শিশু ও কিশোরদের পাঠ্য উপযোগী রহস্য-রোমাঞ্চ কাহিনির লেখক হিসেবে তিনি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বেশ কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তিনি লিখেছেন। তিনি ১৯৮৪ সালে প্রয়াত হন। ফণীমনসা ও বনের পরি' নাটকটি বাংলার ১৩৭১ সালে 'শিশুসাথী' পত্রিকার প্রকাশিত হয়।
ফনিমনসা ও বনের পরি নাটকের নামকরণের সার্থকতা বিচার কর ?
অনেকগুলি আলাদা আলাদা চরিত্র থাকলেও মূলত দুটি চরিত্রই ‘ফনিমনসা ও বনের পরি' নাটকটিতে ঘুরে ফিরে এসেছে এবং এই দুটি চরিত্রের ঘটনাকে ঘিরেই নাটকটি গড়ে উঠেছে। তাই নাটকটির নামকরণ 'ফণীমনসা ও বনের পরি' যথার্থ হয়েছে।
ফনিমনসা ও বনের পরি নাটকের সারসংক্ষেপ লেখ।
গভীর বনের ভিতরে ছিল একটি ফণীমনসা গাছ। গাছটির মনে খুব দুঃখ যে তার পাতাগুলি ছুঁচলো আর কাটা দেওয়া। সে একদিন বনের পরির কাছে প্রার্থনা করল যে তার পাতাগুলি যেন পালটে যায়। বনের পরি তাঁর প্রার্থনা শুনে প্রশ্ন করল যে সে কী রকম পাতা চায় তখন ফণীমনসা গাছটি বলল যে সে সোনার পাতা চায়। বনের পরি তাই দিল। এমন সময় সেখানে হারে- রেরে শব্দ করে উপস্থিত হল, কানে জবাফুল গোঁজা একদল ডাকাত। সেই পথ নিয়ে যেতে যেতে সোনার পতা দেখতে পেয়ে তারা তুলে নিয়ে গেল। ফনীমনসা গাছটি কান্নায় ভেঙে পড়ল। তখন বনের পরি গাছটির কথা মতো তাকে কাঁচের পাতা দিল। কাচের পাতার ওপর সূর্যের কিরণ পড়ে রামধনুর রং ঝলমলিয়ে উঠল। এমন সময় উঠল ঝড়, সেই ঝড়ে গাছটির সমস্ত কাচের পাতা ধাক্কা খেয়ে গুঁড়ো হয়ে ছড়িয়ে গেল।
এক সময় ঝড়ও থামল আর কান্না শুরু হল। তখন বনের পরি তাকে কচি কচি সবুজ পালংশাকের মতো পাতা দিল। হঠাৎ একটা ছাগল এলো, ছাগলটা এসে অমন সুন্দর কচি কচি পাতা দেখে দেখে কচ কচ করে তা চিবিয়ে খেয়ে নিল। গাছটি তখন আবার কাঁদতে কাঁদতে বনের পরিকে ডাকলো। পরি বলল দেখো যে নিজের অবস্থা আর নিজের চেহারা নিয়ে সন্তুষ্ট হয় না তার তোমার মতো দুর্দশা হয়। তখন নিজের ভুল বুঝতে পেরে ফণীমনসা বনের পরির কাছে প্রার্থনা করল যেন তাকে তার আগের কাঁটা কাঁটা পাতাই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরি তখন সুবুদ্ধি হয়েছে বুঝে ফণীমনসা গাছটিকে আবার তার আগের মতো পাতা ফিরিয়ে দিল। আর ও সে মিছিমিছি বায়না করেনি।
ব্যাকরণের প্রশ্নোত্তর : -
শব্দার্থ: আপশোশ —আক্ষেপ।
বিতিকিচ্ছিরি - কুৎসিত। তথাস্তু-তবে তাই হোক। রামধনু – মেঘ থেকে ঝরে পড়া জলের কণা সূর্যের আলোয় আকাশে ধনুকের মতো নানা রঙের যে প্রতিবিম্ব তৈরি করে। মৃদুমন্দ- আলতো ও মধুর। বরাত - কপাল, ভাগ্য । স্মরি - মনে করি, স্মরণ করি। স্বচক্ষে- নিজের চোখে। ছুঁচালো-সূচের মত শুরু। । অজস্র -অসংখ্য, অনেক। বারেক—একবার। মোদের- আমাদের। নিমেষ - মুহূর্ত। দুর্দান্ত-দূরন্ত, প্রবল। দর্প-অহংকার। পবন-হাওয়া, হাওয়ার দেবতা। পণ–প্রতিঞ্জা। অঝোরে একনাগাড়ে। করুণা-দয়া। দুর্দশা-দুরাবস্থা। হাল-অবস্থা, দশা । দেমাক - অহংকার। নিয়ত- সবসময়।
বিপরীত শব্দ -
গভীর-অগভীর। শান্তি-অশান্তি সুন্দর-কুৎসিত। অদৃশ্য-দৃশ্য। উপস্থিত অনুপস্থিত। জোয়ান বৃদ্ধ। হ'ল—বেহাল। দুর্দান্ত শান্ত সন্তুষ্ট-অসন্তুষ্ট। শিক্ষা অশিক্ষা। ভেঙে-গড়ে। কচি-পাকা।
বাক্য রচনা করো
ডাকাত, সোনা, ছাগল, ঝড়, কাচ, পরি, বন।
ডাকাত -আগে বাংলার গ্রামে গ্রামে অনেক ডাকাত ছিল।
সোনা - সোনা একটি মূল্যবান ধাতু।
ছাগল-ছাগল সব গাছপালা মুড়িয়ে খেয়ে যায়।
ঝড়-চৈএ বৈশাখ মাসে কালবৈশাখী ঝড় হয়ে থাকে।
কাঁচ- ছেলেরা ক্রিকেট খেললেই পাশাপাশি বাড়ির জানালার কাচ ভাঙে।
পরি- রূপকথার গল্পে পরী, রাজকন্যা থাকে।
বন- বন আমাদের পরিবেশ কে রক্ষা করে।
অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর
হাতে-কলমে
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো।
১.১ ফণীমনসা তুমি দেখেছ? কোথায় দেখেছ?
উঃ। হ্যাঁ। আমি ফণীমনসা দেখেছি। আমার বাড়ির পাশের বাগানে ফণীমনসার ঝোপ আছে।
১.২ আর কোন্ কোন্ গাছ তুমি দেখেছ যাদের কাঁটা আছে? উ। আমি বেল ও গোলাপ গাছ দেখেছি, যাদের কাঁটা আছে।
১.৩ গাছের কাঁটা কীভাবে তাকে বাঁচায়?
উঃ। গাছের কাঁটা গাছের ফুল, ফল ও পাতাকে বাইরের শত্রু বা প্রাণীদের হাত থেকে রক্ষা করে। কাঁটা থাকায় সহজে কেউ গাছটিকে ধরে ক্ষতি করতে পারে না।
১.৪ পরির গল্প তুমি কোথায় পড়েছ?
উঃ। পরির গল্প আমি রূপকথার বইতে পড়েছি।
১.৫ সোনার মতো দামি আর কোন ধাতুর কথা তুমি জানো?
উঃ প্লাটিনাম ধাতুটি সোনার মতো দামি।
২. এলোমেলো বর্ণগুলি সাজিয়ে শব্দ তৈরি কর:
দডালকাতা-ডাকাতদল, ন ণী ফ সা ম- ফণীমনসা, রি বি চ্ছি তি কি- বিতিকিচ্ছিরি, কংপাশা ল—পালংশাক।
৩. নীচের এলোমেলো শব্দগুলিকে সাজিয়ে ঠিক বাকটি লেখো :
৩.১ বলো চাও কীরকম তুমি পাতা। টঃ। কীরকম পাতা চাও তুমি বলো।
৩.২ হয়েছে তো সুবুদ্ধি তোমার এই উঃ। এই তো তোমার সুবুদ্ধি হয়েছে।
৩.৩ না আর পাতা চাই সোনার। উ। সোনার পাতা আর চাই না।
৪. নীচের শব্দগুলোর একই অর্থ বোঝায় এমন শব্দ নাটকে ছড়িয়ে আছে। নাটক থেকে খুঁজে নিয়ে যে শব্দটি, যে শব্দটির সঙ্গে মানায়-- দেখো
টিঃ। বিশ্রী- বিতিকিচ্ছিরি
অনেক অজস্র
অবস্থা হাল
বল্লম বর্শা
ভাগ্য বরাত
গর্ব - দেমাক
হঠাৎ- এমন সময়
ভীষণ– ভয়ানক
প্রতিজ্ঞা - পণ
আবদার-বায়না
শরীর - চেহারা
তবে তাই হোক—তথাস্তু
কঙ্কালসার- হাড় জিরজিরে।
ভাগ্য বরাত
সমস্ত সব
৫. নীচের বাক্যগুলির দাগ-দেওয়া প্রতিটি অংশই কোনো না কোনো আওয়াজ বোঝায়। এমন অনেক শব্দ নাটকে ছড়িয়ে আছে। খুঁজে বার করে লেখো:
ছাগল কচকচ করে পাতা খেল।
সরাৎ-সরাৎ শব্দতে ধরে জ্বালা।
হারে রে রে
পত পত পত ওড়াই পাতা।
আরে-রে, আরে-রে ।
টুং-টাং শব্দ হতে লাগল।
মট মট মট ভাঙি মাথা
ঘুরে বেড়ায় ব্যা ব্যা গান গেয়ে গো।
মুখে বললে নীচের দাগ দেওয়া শব্দগুলো কীভাবে বলবে, লেখো
তোমায় স্মরি। উঃ। তোমায় স্মরণ করি।
করুণা করি বঁচাও। উঃ করুণা করে বাঁচাও।
৭. দাগ-দেওয়া অংশে সমার্থক শব্দ বসিয়ে নীচের বাক্যগুলি আবার দেখো।
৭) আহা-হা ব্যথায় মরি। উঃ আহা-হা যন্ত্রণায় মরিচ
৭.২ শুরু হল কচিগাছের অঝোর কান্না। উঃ আরম্ভ হল চারাগাছের অবিরাম করো।
৭.৩ ডাকাতেরা আমার কী হাল করে রেখে গেছে। উঃ ডাকাতেরা আমার কী অবস্থা করে রেখে গেছে।
৭.৪ আকাশ দিয়ে ধেয়ে এল দুর্দান্ত ঝড়। উঃ গগন দিয়ে ধেয়ে এল প্রবল ঝড়।
৮. নীচের বাক্যগুলিতে দাগ দেওয়া অংশগুলি আর কীভাবে লিখতে পারো? বাক্য যদি বদলে যায়, বদলেই দেখো।
৮.১ মন তার রি রি করে ওঠে। উঃ। মন তার হিংসায় জ্বলে ওঠে।
৮.২ ছোট্ট গাছটির এবার দেমাকে যেন মাটিতে পা পড়ে না। উঃ। ছোট্ট গাছটির এবার গর্বে বুক ভরে ওঠে।
৮.৩ জিভে জল ঝরছে তোরে পেয়ে গো। উঃ। লোভ জাগছে তোরে পেয়ে গো।
৮.৪ ঘাট হয়েছে কানে ধরি। উঃ মাফ করে দাও কানে ধরি।
৯. কাচ-ফাচ আর চাই না।—
এই বাক্যে পরপর দুটো শব্দ বসেছে, যেখানে দ্বিতীয় শব্দটির তেমন কোনো মানে নেই। আরও একটা শব্দ
তোমার জন্য দেওয়া হল। কাপড়-চোপড়। এরকম শব্দ তুমি আর কটা লিখতে পারো, লেখো।
উঃ। চা-টা। জামা টামা। খাবার-দাবার। মাথা-টাখা। বুক-টুক। হাত-টাত। পা-টা! বাস-টাস। দোকান-টোকান। বই-টই।
১০. ছাগল খেয়ে ফেলেছিল কচি কচি পালং পাতা।
দাগ দেওয়া অংশে একটা শব্দ পরপর দুবার ব্যবহৃত হয়েই একটার জায়গায় অনেকগুলো পাতা বোঝাচ্ছে। এইরকম আর কটা শব্দ পরপর দুবার ব্যবহার করে একের জায়গায় অনেক বোঝাতে পারবে? নাটকে এমন কটি শব্দ খুঁজে পাও, তাও দেখো।
উঃ। কেঁদে কেঁদে।
মট মট মট।
গত পত।
ছিঁড়ে ছিঁড়ে।
১১. নীচের শব্দগুলির বিপরীতার্থক শব্দগুলি নাটকেই আছে। শব্দগুলি খুঁজে বার করো। সেই সকল শব্দ দিয়ে
বাক্য রচনা করো :
উঃ। দুর্বুদ্ধি সুবুদ্ধি। দুঃখ-সুখ। অসন্তুষ্ট—সন্তুষ্ট। অম্ল-বেশি। অসুন্দর সুন্দর। বুড়ো কচি।
সুবুদ্ধি–শেষে ফণীমনসা গাছটির সুবুদ্ধি হয়েছিল।
বেশি - বেশি লোভ করা উচিত নয়।
সুখ—কাঁটাগাছটির মনে কোনো সুখ ছিল না।
সুন্দর - গোলাপ ফুল দেখতে খুবই সুন্দর।
সন্তুষ্ট—যা সহজে পাওয়া যায় তাতেই সন্তুষ্ট হওয়া উচিত।
কচি- বসন্তকালে গাছে কচিপাতা দেখা যায়।
১২. ‘মৃদুমন্দ বাতাস' শব্দটির মানে ‘হালকা হাওয়া’ আর ‘মন্দ’ কথাটা সাধারণত আমরা ব্যবহার করি 'খারাপ'/'ভালো নয়' অর্থে। দুটো অর্থেই দুটো বাক্য লেখো :
উঃ। মৃদুমন্দ - বসন্তের বিকেলে মৃদুমন্দ বাতাস বইছে।
মন্দ— সুজয় ছেলেটা মন্দ নয়।
১৩. নীচের শব্দগুলি দিয়ে বাক্য লেখো : ওলট-পালট, দূর্দান্ত, ঝিকিমিকি, স্বচক্ষে, দুর্দশা।
ওলট পালট — ঝড়ে সব ওলট পালট করে দিল। ঝিকিমিকি - ভোরবেলা নদীর পাড়ে সূর্যের আলো ঝিকিমিকি করছে।
দুর্দান্ত — রঘু ডাকাত ছিল দুর্দান্ত।
স্বচক্ষে - স্বচক্ষে না দেখে কিছু বিশ্বাস করতে নেই।
দুর্দশা- সঠিক সময়ে কাজ না করলে দুর্দশা দেখা দেয়।
১৪. কোনটি কী ধরনের বাক্য লেখো।
১৪.১ আ। কি শান্তি। উঃ। বিস্ময়বোধক বাক্য। ১৪.২। পাতা পালটাতে চাও? উঃ। প্রশ্নবোধক বাক্য।
১৪.৩ সোনার পাতা আর চাই না। উঃ। না-বাচক বাক্য।
১৪.৪। বেশ তাই হোক। তথাস্তু! উঃ। ইচ্ছাবাচক
১৪.৫ এবার তুমি আমায় কাচের পাতা দাও। উঃ। অনুজ্ঞাসূচক বাক্য।
১৫. ছোটো ছোটো বাক্যে ভেঙে লেখো :
১৫.১ কাচের পাতার উপর সূর্যের কিরণ পড়ে রামধনু রং ঝিকিমিকি খেতে লাগল।
উঃ। কাচের পাতার উপর সূর্যের কিরণ পড়ল। রামধনু রং ঝিকিমিকি খেতে লাগল।
১৫.২ পরি অদৃশ্য হতেই ফণীমনসার গা ভরে দেখা দিল কচি নরম পাতা।
উঃ। পরি অদৃশ্য হল। ফণীমনসার গা
ভরে দেখা দিল কচি নরম পাতা।
১৫.৩ ডাকাতরা সব সোনার পাতা ছিঁড়ে নিয়ে পোঁটলা বেঁধে ওকে একেবারে ন্যাড়া করে রেখে গেল।
উঃ। ডাকাতেরা সব সোনার পাতা ছিঁড়ে পোঁটলা বেঁধে নিল। ওকে একেবারে ন্যাড়া করে রেখে গেল।
১৫.৪ ভয়ানক ঝড়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই ফণীমনসা গাছের সমস্ত পাতা ছড়িয়ে পড়ে গেল।
উঃ। ভয়ানক ঝড় উঠল। ফণীমনসা গাছের সমস্ত পাতা ছড়িয়ে পড়ে গেল।
১৬. পাশাপাশি ছোটো ছোটো বাক্যগুলি যোগ করে একটি বাক্য তৈরি করো।
১৬.১ একসময় ঝড় থামল। আর শুরু হল বাচ্চা গাছের অঝোরে কান্না।
উঃ। এক সময় বাড় থামার পর শুরু হল বাচ্চা গাছের অঝোরে কান্না।
১৬.২ এমন সময় সে পথ দিয়ে যাচ্ছিল বনের পরি। ওর কান্না শুনে থমকে দাঁড়াল সে।
উঃ। এমন সময় সে পথ দিয়ে যেতে যেতে বনের পরি ওর কান্না শুনে থমকে দাঁড়াল।
১৬.৩ গভীর বন। তার ভেতরে ছোট্ট একটি ফণীমনসা গাছ। গাছটির মনে কিন্তু এক ফোঁটাও শান্তি নেই।
উঃ। গভীর বনের ভিতর ছোট্ট ফণীমনসা গাছটির মনে কিন্তু এক ফোঁটাও শান্তি নেই।
১৬.৪ ছোট্ট গাছটির এবার দেমাকে যেন মাটিতে পা পড়ে না। মৃদু মন্দ বাতাসে হেলতে দুলতে লাগল সে মজা করে।
উঃ। ছোট্ট গাছটির দেমাক বেড়ে গেল আর সে মৃদু মন্দ বাতাসে হেলতে দুলতে মজা করতে লাগল।
১৭. আরও বিশেষণ যোগ করতে পারো?
উঃ। কচি নরম সবুজ পাতা।
কাঁটাভরা ফণীমনসা ছোট্ট গাছ।
বাবরিওয়ালা একদা জোয়ান ডাকাত।
নরম আদূরে ছোট্ট মেয়ে।
হাড় জিরজিরে ন্যাড়া চেহারা।
১৮. পাশে পাশে যেভাবে বলা হয়েছে, সেই অনুযায়ী নীচের বাক্যগুলি বদলে আবার লেখো:
১৮.১ আকাশ দিয়ে ধেয়ে এল দুর্দান্ত ঝড়। (ঝড় আগামীকাল এলে কী লিখ ?)
উঃ। আকাশ দিয়ে দুর্দান্ত ঝাড় ধেয়ে আসবে।
১৮.২ বলতে দেরি আছে কিন্তু নিতে দেরি নেই। (কথাগুলো গতকাল হয়েছে বলতে হলে যেভাবে লিখবে)
উঃ। বলতে দেরি করলেও নিতে কিন্তু দেরি করেনি।
১৮.৩ সেপথ দিয়ে যাচ্ছিল বনের পরি। (কথাগুলো এখনই বলা হচ্ছে, এমন হলে কী লিখবে?
উঃ। সেপথ দিয়ে যাচ্ছে বনের পরি।
১৯. একটি বাক্যে উত্তর দাও :
১৯.১ ছোট্ট ফণীমনসা গাছের মনে শান্তি ছিল না কেন?
উঃ। ছোট্ট ফণীমনসা গাছের পাতাগুলি দেখতে ছুঁচালো আর বিশ্রী ছিল। তাই তার মনে
শান্তি ছিল না।
১৯.২ ফণীমনসা গাছের আশপাশের গাছগুলোর পাতা কেমন ছিল?
উঃ। ফণীমনসা গাছের আশপাশের গাছগুলোর সুন্দর সুন্দর পাতা ছিল।
১৯.৩ ফণীমনসা বারে বারে পাতাগুলো পালটে দেওয়ার আবেদন কার কাছে করছিল?
উঃ। বনের পরির কাছে ফলীমনসা বারবার পাতাগুলো পালটে দেওয়ার আবেদন করছিল।
১৯.৪ প্রথমবারের আবেদনে ফণীমনসার গাছ জুড়ে কেমন পাতা হয়েছিল?
উঃ। প্রথম বারের আবেদনে ফণীমনসার গাছ জুড়ে সোনার পাতা হয়েছিল
১৯.৫ সে সব পাতা ফণীমনসা হারালো কী করে? উঃ। সেসব পাতা একদল ডাকাত ছিঁড়ে নিয়ে গিয়েছিল।
১৯.৬ ডাকাতদলকে দেখতে কেমন?
উঃ। ডাকাতদলকে দেখতে ছিল জোয়ান। তারা ছিল বাবরিওয়ালা আর তাদের কানে ছিল জবা ফুল গোঁজা।
১৯.৭ ঝড় এলে ফোনে মনসা গাছের পাতার কি অবস্থা হল ?
ঝড় আসার পর্ব মনসা গাছের গাছের পাতাগুলো ধাক্কা খেয়ে গুঁড়ো গুড়ো হয়ে ছড়িয়ে পড়লো
১৯.৮ ছোট ফণী মনসা গাছের দেমাকে মাটিতে পা পড়ছিল না কেন ?
কারণ ফনিমনসা গাছের গা ভরে কচি নরম সবুজ পালং-এর মতো পাতা গজিয়েছিল।
১৯.৯ সেই দেমাক তার ভেঙে গেল কীভাবে?
একটি ছাগল তা সমস্ত পাতা মুড়িয়ে খেয়ে নেওয়ার ফলে তার দেমাক ভেঙে গেল।
১৯.১০ শেষপর্যন্ত ফণীমনসা কেমন পাতা চাইল নিজের জন্য?
উঃ। শেষ পর্যন্ত ফণীমনসার নিজের জন্য আগের মতোই কাঁটা ভরা ছুঁচালো পাতা চাইল।
২০. সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও
২০.১ বাচ্চা গাছটি তো মহা খুশি। আনন্দে ডগমগ-'এত আনন্দ কখন হলো বাচ্চা গাছের?
উঃ: বনের পরির আশীর্বাদে বাচ্চা গাছটি তার ছুঁচালো কাটা ভরা পাতার বদলে ঝলমলে সোনার পাতা পেল, তাই পেয়ে তার এত আনন্দ হল।
২০.২ ফণীমনসা গাছ কাচের পাতায় ভরে ওঠবার পর তার চেহারাটি কেমন হয়েছিল?
উঃ গাছটির কাচের পাতায় রোদ পড়ে রামধনু রং খেলতে লাগলো মৃদুমন্দ বাতাসের দোলা লেগে সুমধুর টুংটাং শব্দ হতে লাগলো ।
২০.৩ মৃদু বাতাসে মনের আনন্দে দুলছে ফণীমনসা, এমন সময় ছাগল এসে উপস্থিত হওয়ায় কী ঘটল?
উঃ ছাগল এসে এমন সুন্দর কচি কচি সবুজ পাতা দেখে লোভে পড়ে সব পাতা কচ কচ করে মুড়িয়ে খেয়ে নিল।
২০.৪ ছোট্ট গাছটি সত্যিই কি খুব শিক্ষা পেল বলে মনে হচ্ছে তোমার? কেমন সে শিক্ষা?
হ্যাঁ, ছোট্ট কাজটি সত্যই শিক্ষা পেল সে বুঝেছিল নিজের যা আছে তাতে সন্তুষ্ট থাকতে হয় না হলে লোভে পড়ে অন্যরকম কিছু চাইলে পড়ে তা খুবই দুর্দশা হয়।
পাঠ মূল্যায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর।
১. ফণীমনসার কান্নার সময় সেখান দিয়ে কে যাচ্ছিল?
ফনীমনসার কান্নার সময় সেখান দিয়ে বনের পরি যাচ্ছিল
২. ফণীমনসা গাছটি কোথায় ছিল?
ফণীমনসা গাছটি গভীর জঙ্গলে ছিল।
৩. ডাকাত দল ফণীমনসার কোন পাতাগুলি নিয়ে নেয়?
ডাকাত দল ফণীমনসার সোনার পাতা গুলি নিয়ে নেয়।
৪. দ্বিতীয়বার ফণীমনসার কিসের পাতা হয়েছিল?
দ্বিতীয়বার ফণীমনসার কাঁচের পাতা হয়েছিল
৫. ফণীমনসার কাঁচের পাতা গুলি কিভাবে ভাঙলো?
ফণীমনসার কাঁচের পাতা গুলি ঝড়ে ভাঙলো।
৬. তৃতীয়বার ফণীমনসার কীরকম পাতা হয়েছিল?
তৃতীয়বার ফণীমনসার পালংশাকের মত কচি কচি সবুজ পাতা হয়েছিল।
cover topic
ফণীমনসা ও বনের পরী প্রশ্ন উত্তর class 5
ফনিমনসা
গাছের কাঁটা কিভাবে তাকে বাঁচায়
5 বাংলা প্রশ্ন উত্তর
ফণীমনসা ও বনের পরী প্রশ্ন উত্তর পাতাবাহার
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর কবিতার প্রশ্ন উত্তর
মন্তব্যসমূহ