কবিতা : মায়াতরু
কবিঃ অশোকবিজয় রাহা
কবি পরিচিতিঃ অশোকবিজয় রাহা ১৯১০ সালে বাংলাদেশের শ্রীহট্টে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে কবি এবং প্রাবন্ধিক। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলি হল 'ভানুমতীর মাঠ', 'রুদ্রবসন্ত', 'ডিহং নদীর বাঁকে', 'জলডম্বুর পাহাড়', ‘রক্তসন্ধ্যা’, ‘উড়ো চিঠির ঝাঁক', সেথা এই চৈত্রের শালবন। নদী, পাহাড়, অরণ্য প্রকৃতি ছিল তাঁর কবিতার কেন্দ্রভূমি। ১৯৯০ সালে তাঁর জীবনাবসান হয়।
মায়াতরু কবিতার নামকরণের সার্থকতা বিচার কর।
একটা গাছ যে দিনের এক এক সময় রূপ পরিবর্তন করে, এক এক রকম হাবভাব করতে থাকে। গাছটির এইরূপ ভাবভঙ্গী ও কাজকর্মের জন্য কবি গাছটিকে মায়াতরু বলেছেন। কবিতাটি যেহেতু মূলত গাছটিতে নিয়ে তাই গাছটির নানারকম মায়ারূপ ধরার জন্য কবিতাটির নামকরণ 'মায়াতরু' সার্থক হয়েছে।
মায়াতরু' কবিতাটি অশোকবিজয় রাহার লেখা 'ভানুমতীর মাঠ' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
মায়াতরু কবিতার সারমর্ম বা সারসংক্ষেপ লেখ।
একটি গাছ ছিল। গাছটি সন্ধ্যা হবার সাথে সাথেই দু-হাত তুলে ভূতের নাচ নাচত। তারপর বনের মাথারযেই ঝিঁলিক মেরে চাঁদ উঠত তখন আবার সে ভালুক সেজে ঘাড় ফুলিয়ে গরগর করত। বৃষ্টি হলে তার আবার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসত। তারপর এক পশলা বৃষ্টির শেষে আবার যখন চাঁদ হেসে উঠত তখন দেখা যেত লক্ষ হীরার মাছ যেন মুকুট হয়ে ঝাঁক বেঁধেছে। তারপর আবার ভোরবেলায় আবছায়াতে গাছটি তার এক কান্ড করত। যা কবি নিজেও ভেবে পাননি। তারপর আবার সকাল হলে দেখা যেত, একটিও মাছ নেই, সেখানে কেবল রূপালী আলোর এক ঝিকিমিকির ঝালর পড়ে আছে।
• ব্যাকরণের প্রশ্নোত্তর :
শব্দার্থ : পশলা—একবারের বৃষ্টি। কম্প-কাপুনি। ঝিকিমিকির ঝিকিমিকি। ঝিলিক—তীব্র কিন্তু অল্পক্ষণ স্থায়ী আলো, চমক। আবছায়!—- আবছা, অস্পষ্ট ছায়ার মতো। ঝালর—যা ঝলমল করে ঝুলতে থাকে। বিষ্টি—বৃষ্টি। ঝাঁক—দল। কাণ্ড—ঘটনা। কেবল- শুধুমাত্র, রূপালি-রূপার মতো রঙের।
বিপরীত শব্দ: সন্ধে—সকাল। জুড়ত-খুলতো। শেষে শুরুতে। চাঁদ-সূর্য। রূপলি-সোনালি। বিষ্টি-রোদ্দুর। ফুলিয়ে - চুপসে
বাক্য রচনা করো
নাচ - নাচ দেখতে সবাই ভালোবাসে।
চাঁদ—এক পশলা বৃষ্টির পর আকাশে চাঁদ উঠেছে।
জ্বর-মশা কামড়ালে ম্যালেরিয়া জ্বর হতে পারে।
মাছ - বাঙালিরা মাছ খেতে ভালোবাসে।
মুকুট-হাজার মুকুট সোনা ও মণিমুক্তে দিয়ে তৈরি।
রূপালি—রূপালি রঙের এক ঝালর নিয়ে মন্দির সাজানো হয়েছে।
বাঁক-এক ঝাঁক পাখি আকাশে উড়ে যাচ্ছে।
অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর
১. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
১.১ তোমার চেনা এমন দুটি গাছের নাম লেখো অন্ধকারে যাদের দেখলে মনে হয় যেন মানুষের মতো হাত নেড়ে ডাকছে।
উঃ। আমার চেনা এমন দুটি গাছ হল কলা গাছ ও খেজুর গাছ অন্ধকারে তাদের দেখলে মনে হয় যেন মানুষের মতো হাত নেড়ে ডাকছে।
১.২ দুই বন্ধু আর ভালুককে নিয়ে যে গল্পটি আছে তা তোমরা শুনেছ? যদি না শুনে থাকে, তাহলে শিক্ষকের
থেকে জেনে নিয়ে গল্পটি নিজের খাতার লেখো।
উঃ। দুই বন্ধু একদিন ঘুরতে বেড়িয়ে অনেক দূর চলে গেল। তাড়াতাড়ি বাড়ি ফেরা দরকার। তারা তখন সোজা বনের পথ ধরে বাড়ি ফিরছিল। দুই বন্ধু কথা বলতে বলতে হাঁটছিল। তখন একটি ভালুক তাদের পিছনে পিছনে আসছিল তা তাদের নজরে পড়েনি। দুজনে যখন জানতে পারল তখন তারা ভীষণ ভয় পেল। প্রথম বন্ধু অন্যজনকে বলল এসো বন্ধু আমরা সামনের ওই উঁচু গাছটায় উঠে পড়ি। অন্য বন্ধু ভয়ে বলল, আমি গাছে চড়তে পারি না। অন্য কোনো উপায় বলো। প্রথম বন্ধুটি অন্য কথা না ভেবে গাছে উঠে পড়ল। অন্য বন্ধুটি শুনেছিল যে ভালুক মরা মানুষ ছোঁয় না। সে তখন দম বন্ধ করে মড়ার মতো পড়ে রইল। ভালুকটি তাঁর কাছে এসে চোখ, কান, নাক ও মুখ শুকল। ভালুকটি ভাবল লোকটি মড়া, তাই সে জঙ্গলে ঢুকে গেল। ভালুক চলে যেতেই প্রথম বন্ধুটি গাছ থেকে নেমে অন্য বন্ধুটির কাছে বলল ভালুকটি তোমার কানে কানে কী কথা বলল? বন্ধুটি বললো ভালুক আমার কানে এই কথা বলে গেল, যে লোক বন্ধুকে বিপদে ফেলে পালায়, তার উপর ভরসা করতে নেই।
১.৩ নানারকম রঙিন মাছ তুমি কোথায় দেখেছ?
উঃ। চিড়িয়াখানার মাছঘরে আমি নানারকম রঙিন মাছ দেখেছি।
১.৪ ভোরের আলো তোমার কেমন লাগে? তখন তোমার কোথায় যেতে ইচ্ছে করে?
উঃ। ভোরের আলো আমার খুব ভালো লাগে। তখন আমার নদীর ধারে বেড়াতে যেতে ইচ্ছে করে।
১.৫ আলোয় এবং অন্ধকারে একই গাছের দূরকম চেহারা তোমার চোখে কীভাবে ধরা পড়ে?
উঃ। আলো অন্ধকারে কলা গাছকে দুরকম চেহারায় দেখা যায়। দিনের বেলায় গাছ এবং রাতের খেলায় মনে হয় কে যেন হাত নেড়ে ডাকছে।
২. 'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তস্ত মিলিয়ে লেখো:
গাছ বৃক্ষ
বন অরণ্য
ভূত অশরীরী
ঝালর পর্দা
কম্প কাঁপুনি
. কবিতা অবলম্বনে শূন্যস্থান পূরণ করো :
৩.১ এক যে ছিল – উঃ
এক যে ছিল গাছ।
৩.২ বৃষ্টি হলেই আসত – কম্প নিয়ে – উঃ। বৃষ্টি হলেই আসত আবার কম্প দিয়ে জ্বর।
৩.৩ – হয়ে ঝাঁক বেঁধেছে লক্ষ হীরার মাছ। উঃ মুকুট হয়ে ঝাঁক বেঁধেছে লক্ষ হীরার মাছ।
৩.8 _পশলার _
উঃ এক পশলার শেষে।
৩.৫ বনের মাথায় ঝিলিক মেরে _উঠত যখন / ভালুক হয়ে ঘাড় _করত সে __ I
উঃ। বনের মাথায় ঝিলিক মেখে চাঁদ উঠত যখন / ভালুক হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে করত সে গরগর।
৪. কৰিডাটি অবলম্বনে একটি গল্প তৈরি করোঃ
উঃ। একটি গাছ ছিল যে সন্ধ্যা হলেই ভূতের মতো নাচ নাচত। আবার কখন হঠাৎ বনের মধ্যে ভালুকের মতো হয়ে ঘাড় ফুলিয়ো গরগর করত। যখন এক পশলা বৃষ্টি শেষ হয়ে গিয়ে আকাশে চাঁদ উঠত, তখন সেই গাছের মাথায় লক্ষ হীরার মাছ মুকুট হয়ে ঝাঁক বাধত। ভোরবেলায় আবছা অন্ধকারে সেই গাছকে ঘিরে কত রকমের কাণ্ড ঘটে যেত। আবার যখন সকাল হত তখন দেখা যেত কোথায় সেই মাছ ঝিকিমিকি আলোর এক রূপোলি ঝালর সেখানে পড়ে আছে।
৫. শব্দগুলির অর্থ লিখে তা দিয়ে বাক্যরচনা করো ঝাঁক, ঝিলিক, ঘাড়, মুকুট, বিকিমিকির।
ঝাঁক (দল)—আকাশে একদল হাঁস উড়ে যাচ্ছে।
ঝিঁলিক (তীব্র স্বল্প আলো)–মেঘের মধ্য দিয়ে বিদ্যুতের তীব্র আলো দেখা যাচ্ছে।
ঘাড় (গ্রীবা)- রাজহাঁসের গ্রীবা তার সৌন্দর্য।
মুকুট (তাজ) – ভারত ক্রিকেট বিশ্বকাপে আয়ের তাজ ছিনিয়ে এনেছে।
ঝিকিমিকির (ঝিকমিক)— তাঁরাগুলি আকাশে ঝিকমিক করে জ্বলছে।
৬. কোনটি কী জাতীয় শব্দ শব্দৰুড়ি থেকে বেছে নিয়ে আলাদা করে লেখো:
নিজে নিজে কর।
-
৭. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো সন্ধে, হঠাৎ শেষে, হেসে, আলো।
উঃ। সন্ধে—সকাল। হঠাৎ জানান দিয়ে। শেষে শুরুতে। হেসে কেঁদে । আলো অন্ধকার।
৮. সমার্থক শব্দ লেখো : গাছ, ভূত, বন, বৃষ্টি, মাছ, চাঁদ
উঃ। গাছ - মহীরুহ, তরু, বৃক্ষ।
ভূত-অশরীরী, প্রেত, কায়াহীন ।
বন-জঙ্গল, অরণ্য, কানন
বৃষ্টি বর্ষা, বর্ষণ বারিধারা
মাছ মীন মৎস্য
চাঁদ চন্দ্র বিধু শশী
৯. প্রতিটি বাক্য ভেঙে আলাদা দুটি বাক্যে দেখো
৯.১ এক যে ছিল গাছ, সন্ধে হলেই দুহাত তুলে জুড়ত ভূতের নাচ।
উঃ। একটি গাছ ছিল। সে সন্ধে হলেই দূহাত তুলে নাচ জুড়ত।
৯.২ বিষ্টি হলেই আসত আবার কম্প দিয়ে জ্বর। উঃ বিষ্টি আসতো। তখনই তার কম্প দিয়ে জ্বর আসতো।
৯৩ সকাল হল যেই, একটিও মাছ নেই। উঃ সকাল হল। দেখা গেল একটিও মাছ নেই।
৯.৪ মুকুট হয়ে ঝাঁক বেঁধেছে লক্ষ হীরার মাছ। উঃ মুকুট হয়েছে। তাতে লক্ষ হীরার মাছ ঝাঁক বেঁধেছে।
৯.৫ ভালুক হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে করত সে গরগর। উঃ ভালুক হয়ে ঘাড় ফোলাত। ঘাড় ফুলিয়ে সে গরগর করত।
১০. এলোমেলো বর্ণগুলিকে সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো
ছিঃ। রগরগ-গরগর। টকু মু-মুকুট। আয়াছাব- আবছায়া, র কি মি ঝি র কি– ঝিকিরমিকির।
রবে ভোলা- ভোরবেলা
১১.১ কবি অশোকবিজয় রাহার লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উঃ। কবি অশোকবিজয় রাহার লেখা দুটি বইয়ের নাম হল—'রুদ্র বসন্ত’, ‘ডিহং নদীর বাঁকে '।
১৯.২ তার কবিতা রচনার প্রধান বিষয়টি কী ছিল? উঃ তাঁর প্রধান বিষয়টি ছিল পাহাড় ও অরন্য প্রকৃতি।
১১.৩ ‘মায়াতরু' কবিতাটি তাঁর কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উঃ। ‘মায়াতরু’ কবিতাটি তাঁর ‘ভানুমতীর মাঠ’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
১২. দিনের কোন সময়ে কোন ঘটনাটি ঘটছে পাশে পাশে লেখো। খাতায় ছবি আঁকো :
১২.১ মুহাত তুলে জুয়ত ভূতের নাচ !! সন্ধ্যেবেলা
১২.২ ভালুক হয়ে খাড় ফুলিয়ে করত যে গরগর -
রাত্রিবেলা।
১২.৩ কেবল দেখি পড়ে আছে নিকি মিষ্টির আলোর রূপালি এক কালৰ। উঃ সকালবেলা।
১৩. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
১৩.১ 'মায়াতরু' শব্দটির অর্থ কী? কবিতায় গাছকে 'মায়াতরু' বলা হয়েছে কেন?
উঃ। মায়াতরু শব্দের অর্থ হল মায়াবী গছ। কবিতায় গাছটিকে দিনের এক এক সময় ও আলো-আঁধারি বর্ষায় এক এক রকম দেখতে লাগত। অনেকটা যেন মায়ার খেলা দেখা যেত গাছটিকে ঘিরে। তাই গাছটিতে মায়াবী বা 'মায়াতরু' বলা হয়েছে।
১৩.২ শব্দের শুরুতে 'মায়া' যোগ করে পাঁচটি নতুন শব্দ তৈরি করে। একটি করে দেওয়া হল : মায়াজাল।
উঃ মায়াবন, মায়ামৃগ, মায়াময়, মায়াজগৎ, মায়াপুরী।
১৩.৩ ভূতের আর গাছের প্রসঙ্গ রয়েছে এমন কোনো গল্প তুমি পড়েছ? পাঁচটি বাক্যে
সেই গল্পটি লেখো।
উঃ। একবার একটা লোক রাতের অন্ধকারে গ্রামের পথ দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ সে দেখল
সাদা শাড়ি পরা কে একজন তাকে হাত নেড়ে ডাকছে। সে প্রচন্ড ভয় পেয়ে চিৎকার করে
দৌড়তে দৌড়তে গিয়ে তাদের বাড়িতে ঢুকল। তার মুখে সব শুনে গ্রামের লোকেরা সবাই মিলে
সেইখানেতে এসে দেখে যে, সে লোকটি সাদা শাড়ি পরা মহিলা ভেবেছিল সেটা আসলে
একটা কলাগাছ। গ্রামের লোকেরা হাসাহাসি করতে করতে যে যার বাড়ি ফিরে গেল।
১৩.৪ দিনের বিভিন্ন সময়ে কবি গাছকে কেন কোন রূপে দেখেছেন?
উঠ। কবি সন্ধ্যাবেলায় গাছটিকে ভূতের নাচ নাচতে দেখেছেন। আবার রাত্রিবেলা চাঁদ উঠলে গাছটিকে দেখে তাঁর মনে হয়েছে , সে যেন ভালুক এবং বৃষ্টির সময় যেন তার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসছে। আবার যখন বৃষ্টি শেষ হয়ে যায় তখন তার মাথায় যেন লক্ষ হীরার মাছ মুকুট হয়ে ঝাঁক বেঁধে থাকে। কিন্তু যেই সকাল হয় তখন দেখা যায় সেখানে রূপালি আলোর এক ঝালর পড়ে আছে।
২০. যে গাছটিকে দেখে তোমার মনেও অনেক কল্পনা ভিড় জমায়, তার একটি ছবি আঁকো। সেই গাছটি সম্পর্কে পাঁচটি যারা লেখো।
নিজে কর
পাঠ মূল্যায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রশ্ন
প্রশ্ন:
১. গাছটা সন্ধ্যা হলে কি করত ?
গাছটা সন্ধ্যে হলে ভূতের মতন নাচতো।
২. গাছটি কখন ভাল্লুক হয়ে যেত
বোনের মাথায় ঝিলিক দিয়ে যখন চাঁদ উঠতো তখন গাছটি ভাল্লুক হয়ে যেত।
৩. ভাল্লুক হয়ে গাছটি কি করতো?
ভাল্লুক এই গাছটি ঘাড়ফুলি গরগর করত।
৪. বৃষ্টি হলে গাছটার কি হতো?
বৃষ্টি হলে গাছটির কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসতো
৫. বৃষ্টি থেমে গেলে চাঁদ উঠলে কি দেখা যেত?
বৃষ্টি থেমে গেলে চাঁদ উঠলে দেখা যেত লক্ষ হীরার মাছ যেন ঝাঁক বেঁধে গাছটিতে মুকুট হয়ে রয়েছে।
৬. সকাল হলে কি দেখা যেত?
সকাল হলে দেখা যেত যে কোন মাছ-ই নেই, কেবল রূপালী আলোর এক ঝালর সেখানে পড়ে আছে।
৭. মায়াতরু কবিতায় গাছটি কখন কি করত? তা নিজের ভাষায় লেখ।
মায়াতরু গাছটি সন্ধ্যে হলেই দুহাত তুলে ভূতের মত নাচ জুড়ে দিত। আবার যখন বোনের মাথায় ঝিলিক দিয়ে চাঁদ উঠতো তখন যেন গাছটি ভাল্লুকের মতো হয়ে ঘাড় ফুলিয়ে গড়গড় করত। আবার বৃষ্টি হলেই তার কম্প দিয়ে জ্বর এসে যেত। এক পশলা বৃষ্টির শেষে যখন আকাশে চাঁদ হেসে উঠত তখন মনে হতো গাছটির জায়গায় যেন লক্ষ্য হীরার মাছ মুকুট হয়ে ঝাঁক বেঁধে রয়েছে । আবার সকাল হলেই দেখা যেত কোন মাছ-ই নেই, ঝিকমিক করছে এমন এক রূপালী আলোর ঝালর সেখানে পড়ে আছে।
মন্তব্যসমূহ