গল্পঃ মধু আনতে বাঘের মুখে
লেখক : শিবশঙ্কর মিত্র
লেখক পরিচিতি : শিবশঙ্কর মিত্র ১৯০৯ সালে বাংলাদেশের খুলনা জেলার বেলফুলি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর লেখার প্রিয় বিষয় হল সুন্দরবন। সারা জীবনে বহু বই তিনি লিখেছেন এবং বহু সময় সুন্দরবনে কাটিয়েছেন। ১৯৬২ সালে ভারত সরকার তাঁর লেখা 'সুন্দরবন' বইটির জন্য তাঁকে শ্রেষ্ঠ শিশু সাহিত্যের পুরস্কার দেন। সুন্দরবন নিয়ে তাঁর লেখা অন্যান্য বইগুলি হল 'বনবিবি', 'রয়েল বেঙ্গলের আত্মকথা', 'বিচিত্র এই সুন্দরবন', 'সুন্দরবনের আর্জান সর্দার' ইত্যাদি। সুন্দরবন প্রিয় এই মানুষটি ১৯৯২ সালে প্রয়াত হন। পাঠ্যাংশটি শিবশঙ্কর মিত্রের 'সুন্দরবন সমগ্র' বই থেকে নেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবন সম্পর্কে কয়েকটি কথা : বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণে অবস্থিত সুন্দরবন। বিরল জীববৈচিত্র্য, বিচিত্র গাছগাছালি, নৈসর্গিক দৃশ্যাবলি, নদী-খাঁড়ি-জলপথ, সর্বোপরি রাজনীয় বাংলার বাঘ সুন্দরবনের ঐতিহ্য। প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা ও সংরক্ষিত অবস্থায় টিকে থাকা পৃথিবীর একক-বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও অভয়ারণ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত সুন্দরবন। এ কারণে জাতিসঙ্ঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক পরিষদ (UNESCO) ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর সুন্দরবনকে 'World Heritage' বা 'বিশ্ব ঐতিহ্য' বলে ঘোষণা করে। পশ্চিমবাংলার দক্ষিণপ্রান্তে বঙ্গোপসাগরের পাড়ে এই অরণ্যের অজস্র জলাভূমি ও মোহনা পরিযায়ী পাখিনের বিচরণক্ষেত্র। পর্যটন, বিজ্ঞান, গবেষণ, তথ্য ও তত্ত্বের ভাণ্ডার এই ঐতিহ্যবাহী অরণ্যভূমি আমাদের গর্ব। প্রাকৃতিক বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতার অভাব আর চিরসঙ্গী দারিদ্র্যের কারণে সুন্দর ও তার জীববৈচিত্র্য ক্রমশ বিপন্ন হয়ে পড়ছে। সুন্দরবনের মিষ্টি মধু বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এপ্রিল আর মে মাস সুন্দরবনের মধু সংগ্রহের সেরা সময়। যারা এই মধু সংগ্রহ করে, তাদের মউলি বলে। সুন্দরবনে খলসি, গেওয়া, কেওড়া, গরান ইত্যাদি গাছে মৌচাক দেখা যায়। সেখান থেকে মউলিরা মধু ও মোম সংগ্রহ করে তাঁদের জীবিকা নির্বাহ করেন।

সারসংক্ষেপ। আর্জান, ধনাই আর কফিল মধু কাটতে জঙ্গলে গিয়েছে। মধু কাটার তিনটি স্তর আছে। তাতে তিনজন লোক চাই। একজন গাছে উঠে মধু কাটবে, একজন বাঁশের মাথায় আগুন জ্বেলে ধোয়া দিয়ে মৌমাছি তাড়াবে। আর একজন চাকের নীচে ধামা ধরে দাঁড়াবে যাতে মধু এবং চাক ধামাতেই পড়ে। ধনাই এদের মধ্যে মৌচাক কাটে। যে কেউ মৌচাক কাটতে পারে না। লোকে বলে মন্ত্র জেনে মৌমাছিকে ভুল পথে চালাতে হয়। ধনাই নিজে বলে সে মন্ত্র জানে, কিন্তু লোকে তা বিশ্বাস করে না। তারা বলে ধনাই মামু গোঁয়ার। বসন্তে সুন্দরবনে নানা গাছে ফুল ধরেছে। গরান গাছে হলদে রং-এর ছোটো ফুল। সকাল থেকে ধনাইরা বেশ কয়েকটা চাক পেয়েছে। তাদের মনে খুব আনন্দ। তারা আরও চাক খুঁজতে থাকে।একটা ট্যাক পেরিয়ে ধনাই মৌচাক দেখতে পায়। কিন্তু তারপর সে বুঝতে পারে যে সেখানে মধু নেই। আর্জান তাও সেই চাকে কাদা ছুঁড়ে মারে। মধুতো পড়েই না উলটে কয়েকটা মৌমাছি তাদের তাড়া করে। ওরা সেখান থেকে সরে পড়ে। ধনাই খানিকটা এগিয়ে গেছে। সে একটা 'শিষে’ পার হবার পরিকল্পনা করতে থাকে। কিন্তু সে ওদের সাড়া পাচ্ছে না কেন ভেবে পেছনে তাকাবার চেষ্টা করল। সেই অবকাশ ধনাই পেল না। একটা বিরাট বাঘ হুংকার দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল তার উপর। সেই হুংকারে থরথর করে বন কেঁপে উঠল। হুংকার শুনে কফিল ও আর্জান অসাড় হয়ে পড়ে। কিন্তু বাঘটা লক্ষভ্রষ্ট হয়ে পড়ে তবলা গাছের উপর। ধনাইকে ডিঙিয়ে বাঘের মাথা গাছে ঠোকর খায় প্রবল বেগে। সেখান থেকে বাঘটি শিষের মধ্যে গিয়ে পড়ে। বাঘের লেজের বাড়ি লাগে ধনাই-এর। তাতে তার মাথার মধু ভর্তি কলশ গিয়ে পড়ে বাঘের মাথায়, মধু ছড়িয়ে যায় বাঘের সারা মুখে। আর বাঘ চোখমুখ কুঁচকে বেফায় ফ্যোৎ ফোৎ করতে থাকে।
ব্যাকরণের প্রশ্নোত্তরঃ
শব্দার্থ : এক পা—সবসময় তৈরি। নাস্তা-জলখাবার। চট-পাটের সুতো থেকে তৈরি মোটা কাপড়। ধামা-শস্য রাখা বা মাপার জন্য তৈরি বেতের ঝুড়ি। গোঁয়ার—জেদি। স্ফূর্ত্তি—আনন্দ। ডিঙি–ছোটো হালকা নৌকা। পন্থা-- উপায়। একত্রে - একসঙ্গে। শূলো - শ্বাসমূল। তীক্ষ্ণ -খুব জোরালো। সাঁকো-সেতু। হতভম্ব - বৃদ্ধি ঘুলিয়ে গেছে এমন। দুর্দান্ত— ভয়ংকর। গোঁয়ার্তুমি—জেদের বশে কাজ। মন্ত্র—যে পবিত্র শব্দ পূজা, বশীকরণ প্রভৃতিতে ব্যবহার করা হয়। ট্যাক-দুটো ছোটো নদী এটা মিশবার ফলে এক ধরনের ত্রিভুজ আকারের জমির মাথা ট্যাক নামে পরিচিত। শিষে - সরু খাদ। অবকাশ–ফুরসত। হুঙ্কার - ডাক, গর্জন। ঠোকর- ঠোকা, ধাক্কা। খণ্ড-টুকরো।
বিপরীত শব্দঃ কাঁচা-পাকা। খোঁজ - নিখোঁজ। বিশ্বাস- অবিশ্বাস। বোঝাই - খালি। গভীর-অগভীর। ফুর্তি - বিষন্নতা । সোজা-বাঁকা । সমস্যা - সমাধান । দীর্ঘ-হ্রস্ব। পিছনে-সামনে। তীক্ষ্ণ-ভোঁতা। সরু-মোটা।আঘাত-প্রত্যাঘাত। পরিচিত-অপরিচিত। শত্রু-মিত্র। সম্ভব-অসম্ভব।
হাতে-কলমে
অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর
১.১ সুন্দরবনের যে অংশ পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে, তা কোন দুটি ঝোলায় মানচিত্র থেকে খুঁজে বের করো।
উঃ। পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় সুন্দরবনের অংশ রয়েছে।
১.২ সুন্দরবন অভয়ারণ্যের মধ্য দিয়ে যে যে নদী বয়ে গেছে, তাদের নামগুলি লেখো।
সুন্দরবনের অভয়ারণ্যের মধ্যে দিয়ে মাথাভাঙা, ইছামতী, মাতলা, ঠাকুরাইন, বিদ্যাধরী নদী বয়ে গেছে।
১.৩ পৃথিবীর বৃহত্তম ব দ্বীপ অঞ্চলটি কোন সমূদ্র উপকূলে অবস্থিত তা মানচিত্র থেকে খুঁজে বার করো।
পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ অনলটি বঙ্গোপসাগর উপকূলে অবস্থিত।
১.৪ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের বৈশিষ্ট্য শিক্ষকের থেকে জেনে নিয়ে লেখো।
উঃ। ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলে বিশেষ যে ধরনের গাছ দেখা যায়, তারা জম্মায় নোনা জল আর কাঁদায়। এই ধরনের গাছের দুরকম মূল হয়। গাছকে মাটিতে আটকে রাখতে মাটির ভিতরে যায় ঠেসমূল আর একরকম মূল মাটি থেকে উপরে উঠে । বাতাস থেকে অক্সিজেন সংগ্রহ করে। একে বলে শ্বাসমূল।
২. গল্প থেকে তথ্য নিয়ে বাক্য গুলি পূর্ণ করো :
উ। বনে মধু পানিতে গিয়েছিল ধনাই, আর্জান আর কফিল । মধু কাটতে তিনজন লোক চাই। তিনজনের কাজ হল-একজন চাক কাটে, একজন মশাল জ্বেলে মৌমাছি তাড়ায়, আর একজন চাকের নীচে ধামা ধরে থাকে। বাঘ ধনাইকে আক্রমণ করেছিল, কিন্তু সে নিজেই গিয়ে পড়ল 'শিষের’ ভিতর। মধুর কলশ তার মাথার উপর। বাঘের সারা নাকে মুখে মধু ছিটকে পড়ল।
এদের মধ্যে যে যে কাজটা করতো
ধনাই : মধু কাটত। আর্জান : মশাল জ্বেলে মৌমাছি তাড়াত। কফিল : ধামা ধরে চাকের নীচে দাঁড়াত।
৪. অর্থ লেখো : ধামা, গোঁয়াতুমি, চট, হাজির, বিরঝিরে।
উঃ/ ধামা-বেতের তৈরি ঝুড়ি, গোঁয়ার্তুমি–জেদের বশে কাজ, চট–পাটের সুতো দিয়ে তৈরি মোটা বস্ত্র বিশেষ। হাজির- উপস্থিত। ঝিরঝিরে—ছেটো ছোটো বা অল্প।
৫. বাক্য রচনা করো- নাস্তা, মৌচাক, রং, স্ফুর্তি, শ
নাস্তা—আজ আমি সকালে কলা ও পাউরুটি দিয়ে য় নাস্তা করেছি।
মৌচাক-মৌচাক থেকে মধু পাওয়া যায়।
রং- রং দোলে রং খেলা হয়।
স্ফূর্ত্তি-শরীর সুস্থ থাকলে মনে স্ফূর্ত্তি থাকে।
কলশ - কলশের জল ঠান্ডা থাকে।
৭. নিম্নলিখিত শব্দগুলির বিপরীতার্থক শব্দ লেখো : কাঁচা, ভর্তি, তীক্ষ্ণ দীর্ঘ, বোম্বাই।
উঃ। কাঁচা-পাকা৷ ভর্তি-শূন্য। তীক্ষ্ণ-ভোঁতা। দীর্ঘ- হ্রস্ব । বোঝাই-খালি।
৮. সমার্থক শব্দ লেখো: মৌমাছি, বাঘ, ফুল, বন, মাটি।
উঃ। মৌমাছি—মধুকর, মধুমক্ষিকা, অলি।
বাঘ-ব্যাঘ্র, শের, শার্দুল
ফুল-পুষ্প, কুসুম, প্রসূন।
বন-অরণ্য, জঙ্গল, কানন
মাটি- মৃত্তিকা, ক্ষেত্র, ভূমি
৯. নীচের ঝুড়িতে বেশ কিছু বন্যপ্রাণীর নাম দেওয়া রয়েছে। আমাদের সুন্দরবনে এদের মধ্যে করে করে দেখা মেলে।
কুমির, গভার, সিংহ, জিরাফ, ভালুক, হরিণ, জেব্রা, ক্যাঙারু, জলহস্তী, লালপন্ড, হাতি, কচ্ছপ, বুনো মহিষ, শিয়াল,
কাঁকড়া, বাঁদর, সাপ, শজারু, শূকর, হায়না, ওরাংওটাং, গোবিনা, রাল বেঙ্গল টাইগার।
উঃ। সুন্দরবনে যেসব প্রাণীর দেখা মেলে সেগুলি হল—কুমির, হরিণ, কচ্ছপ, শিয়াল, কাঁকড়া, শজারু, বাঁদর, সাপ, শূকর ও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
১০.১ পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল কোথায় রয়েছে?
উঃ। পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল রয়েছে সুন্দরবনে।
১০.২ সুন্দরবনের খ্যাতি ও সমাদরের দুটি কারণ লেখো।
উঃ। সুন্দরবনের খ্যাতি ও সমাদরের দুটি কারণ হল—
(১) পৃথিবীর একক-বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও অভয়ারণ্য। (২) সুন্দরবনের রাজকীয় বাঘ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
১০.৩ কোন কোন গাছে সাধারণত মৌচাক দেখা যায় ?
উঃ। খলসি, গেওয়া, কেওড়া, গরান ইত্যাদি গাছে মৌচাক দেখা যায়।
১১. 'ক' স্তম্ভের সঙ্গে 'খ' স্তম্ভ মিলিয়ে লেখো
মধু মৌচাক,
নাস্তা জলখাবার,
কাস্তে কাটারি
ডিঙি ছোট নৌকা
শিষে ছোট সরু খাদ
সাঁকো সেতু
১২. গল্পের ঘটনাগুলি ক্রমানুসারে সাজিয়ে দেখো
১২.১ মনের আনন্দে একটার পর একটা মধুর চাক কেটে চলেছে।
১২.২ আর্জান এক থাবা কাদা তুলে গোল করে পাকিয়ে নিয়ে ছুঁড়ে মারল চাক লক্ষ্য করে।
১২.৩ পেট পুরে নাস্তা খেয়ে বনে মধু কাটার জন্য তৈরি হল।
১২:৪ কয়েকটা মৌমাছি ওদের দিকে ভাড়া করল।
১২.৫ ডিঙি করে অনেক দূর বনের ভিতর গিয়ে তিনজনে ভাষায় উঠেছে।
উঃ। ১২.৩ পেট পুরে নাস্তা খেয়ে বনে মধু কাটার জন্য তৈরি হল।
১২.৫ ডিঙি করে অনেক দূর বনের ভিতর গিয়ে তিনজনে ডাঙায় উঠেছে।
১২.১ মনের আনন্দে একটার পর একটা মধুর চাক কেটে চলেছে।
১২.২ আর্লান এক থাবা কাদা তুলে গোল করে পাঠিয়ে নিয়ে ছুঁড়ে মারল চাক লক্ষ্য করে।
১২.৪ কয়েকটা মৌমাছি ওদের দিকে তাড়া করল।
১৩.১ শিবশঙ্কর মিত্রের লেখালিখির প্রিয় বিষয় কোনটি?
উ। শিবশঙ্কর মিত্রের লেখালিখির প্রিয় বিষয় সুন্দরবন।
১৩.২ কোন বইয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ শিশু সাহিত্যের পুরস্কার পান?
উঃ। ‘সুন্দরবন' বইয়ের জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ শিশু সাহিত্যের পুরস্কার পান।
১৩.৩ সুন্দরত্নকে নিয়ে লেখা তাঁর দুটি বইয়ের নাম লেখো।
উঃ। সুন্দরবনকে নিয়ে লেখা তাঁর দুটি বইয়ের নাম হল বনবিবি, বিচিত্র এই সুন্দরবন।
১৪ নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখে
১৪.১ বসন্তকালে সুন্দরবনের দৃশ্যটি
কেমন তা নিজের ভাষায় পাঁচটি বাক্যে লেখো।
উঃ। বসন্তকালে সুন্দরবনে গরান গাছে হলদে রঙের ছোটো ছোটো ফুল ধরে। সকাল থেকে ফুলের গন্ধে, মৌমাছির গুঞ্জনে বন মেতে ওঠে। চারদিকে হলুদ রঙের ছোঁয়া লেগে থাকে। ঝিরিঝিরি বসন্তের হাওয়া বনের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলে। দলে দলে মধু শিকারির দল বনে-জঙ্গলে মধুর চাক খুঁজে বেড়ায়।
১৪.২ যদি তুমি মি কখনও সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে যাও, তবে কাকে কাকে সঙ্গে নেবে? জিনিসপত্রই বা কী কী নিয়ে যাবে?
উঃ। আমি যদি কখনও সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে যাই সঙ্গে আমার বন্ধু
রাহুল ও রথীনকে নেব। আর সঙ্গে নেব মশাল, ধামা, চট, কাস্তে, কলশি ও লাঠি ।
১৪.৩ ‘বাংলার বাঘ’ নামে কে পরিচিত?
উঃ।, স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় 'বাংলার বাঘ' নামে পরিচিত।
১৪.৪ 'বাঘা যতীন' নামে কে পরিচিত?
বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বাঘা যতীন নামে পরিচিত।
১৪.৬ ধলাই কিসের মন্ত্র জানে?
উঃ। ধনাই মৌমাছি কে ভুল পথে চালিত করার মন্ত্র জানে।
১৪.৫ 'সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ'—এই বিষয়ে পাঁচটি বাক্য লেখো।
উঃ। সুন্দরবনের জলে কুমির, কামট প্রভৃতি প্রাণী থাকে। সুন্দরবনের জঙ্গলে মানুষ খেকো বাঘ আছে। মাটির ওপরে শ্বাসমূল বেরিয়ে থাকায় পা ফেলার অসুবিধে হয়। জঙ্গলের গাছে ও মাটিতে বিভিন্ন বিষাক্ত সাপের উপদ্রব। এছাড়াও আছে ডাকাতদলের উপদ্রব।
১৪.৭ গৱান গাছের ফুল দেখতে কেমন?
উঃ। গরান গাছের ফুল দেখতে ছোটো ছোটো ও হলুদ রঙের।
১৪.৮ ডিঙি করে মধু সংগ্রহ করতে কে কে গিয়েছিল?
উঃ। ধনাই, কফিল ও আর্জান ডিঙি করে মধু সংগ্রহ করতে গিয়েছিল।
১৪.৯ টীকা লেখো: 'ট্যাক', 'বিয়ে'।
উঃ। ট্যাক—দুটো নদীর মেশবার ফলে যে ত্রিভূজ খন্ড তৈরি হয় সেই ধরনের ত্রিভুজ আকারের জমির মাথাকে ট্যাক বলে।
শিষে- সুন্দরবনের জঙ্গলে একপ্রকার ছোটো সরু খাদ দেখা যায় একে শিষে বলে। এগুলি তিন চার হাত বা তার বেশিও চওড়া হতে পারে।
১৪.১০ মধুর চাক খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতিটি কী?
উঃ। মধুর চাক খুঁজে পাওয়ার পদ্ধতি হল মৌমাছি ফুল থেকে মধু নিয়ে কোনদিকে ছুটে চলেছে তা লক্ষ করা এবং তার পিছু পিছু ছুটে যাওয়া।
১৪.১১ কফিল ও আর্জানকে পেছনে ফিরে ডাকার সময় ধনাই দেখেছিল?
উঃ। কফিল ও আর্জানকে পেছনে ফিরে ডাকার সময় ধনাই দেখল বিকট হুংকার দিয়ে বাঘ তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
১৪.১২ বাঘটা শিষের ভিতর পড়ে গেল কীভাবে?
উঃ। বাঘটা ধনাই-এর ওপর ঝাপাতে গিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে পড়ল তবলা গাছের ওপর। গাছটাতে ঠোক্কর লেগে মাথার আঘাত পেয়ে বাঘাটা উলটে পড়ল শিষের ভিতরে।
১৪.১৩ ধনাই কীভাবে বাঘের হাত থেকে বেঁচে গেল?
উঃ। বাঘটি তবলা গাছে দুর্দান্ত ঠোক্কর খেয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে শিষের মধ্যে পড়ে গেল এবং বাঘের লেজের আঘাতে ধনাইয়ের মাথার মধু ভর্তি কলশিটা ভেঙে পড়ল বাঘের মাথার ওপর। বাঘের সারা মুখে নাকে মধু ছিটকে পড়ল। মুখে মধু পড়তেই হতভম্ব হয়ে গিয়ে বাঘ চোখমুখ কুচকে ফোৎ ফোৎ শব্দ করতে লাগল। এর ফলেই ধনাই বাঘের হাত থেকে বেঁচে গেল।
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর
১. কোন কোন গাছে সাধারণত মৌচাক দেখা যায়? গরান, খলসি, গর্জন গাছে মৌচাক দেখা যায়।
২. কে প্রথম চাকটা দেখতে পেয়েছিল? উঃ ধনাই প্রথম চাকটা দেখতে পেয়েছিল।
৩ চাকটা কোন্ গাছে হয়েছিল? উঃ। চাকটা গরান গাছে হয়েছিল।
৪. ধনাই চাকটা দেখে কী সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল?
উঃ। ধনাই চাকটা দেখে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে সেটিতে মধু নেই।
৫. কে বনে যেতে সব সময় তৈরি?
উঃ। আর্জান বনে যেতে সব সময় তৈরি।
৬. ধনাইরা কীসে করে ডাঙায় গিয়ে উঠল?
উঃ। ধনাইরা ডিঙিতে করে ডাঙায় গিয়ে উঠল।
৭. সারা বনে কী ছড়িয়ে আছে?
উঃ। সারা বনে শূলো বা শ্বাসমূল ছড়িয়ে আছে।
৮. মধু আছে কিনা দেখার জন্য আর্জান কী করেছিল?
উঃ। মধু আছে কিনা দেখার জন্য আর্জান মৌচাকে কাদা ছুঁড়ে মেরেছিল।
৯. আর্জানের কাদা ছোঁড়ার ফল কী হয়েছিল?
উঃ। আর্জানের কাদা ছোঁড়ার ফলে কয়েকটা মৌমাছি তাদের তাড়া করেছিল।
১০. সুন্দরবন অভয়ারণ্যের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া একটি নদীর নাম লেখো।
উঃ। মাতলা।
১১. কেন গাছ ধরে ধনাই 'শিষে' পেরোনোর পরিকল্পনা করেছিল?
উঃ। একটি তবলা গাছ ধরে ধনাই শিষ পেরোনোর পরিকল্পনা করেছিল।
১২. বাঘ কীভাবে ধনাই-এর উপর ঝাপিয়ে পড়ল? উঃ। বাঘ বিকট হুংকার দিয়ে ধনাই-এর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
১৩. বাঘ কোন গাছে ধাক্কা খেয়ে কোথায় গিয়ে পড়ল?
উঃ। বাঘ তবলা গাছে ধাক্কা খেয়ে শিষের ভিতর গিয়ে পড়ল।
১৪. সামনে একটা ট্যাক বা ত্রিভূজ খপ্ত কীভাবে তৈরি হয়েছে?
উঃ। দুটো ছোটো নদী মিশে যাবার ফলে সামনে একটা ত্রিভুক্ত খণ্ড তৈরি হয়েছে।
১৫. ধনাই এর মাথা থেকে কীভাবে মধুর কলশ পড়ে গেল।
উঃ। সপাং করে বাঘের ল্যাজের বাড়ি খেয়ে ধনাই এর মাথা থেকে মধুর কলশ পড়ে গেল।
১৬. ৰাঘ ফোৎ ফোৎ করতে লাগল কেন?
উঃ। কলশ ভেঙে মধু বাঘের সারা মুখে নাকে ছড়িয়ে পড়ায় বাঘ ফোৎ ফোৎ করতে লাগল।
১৭. মৌমাছিকে কীভাবে তাড়াতে হয়?
উঃ। লম্বা কাঁচা বাঁশের মাথায় মশাল জ্বেলে ধোঁয়া দিয়ে মৌমাছি তাড়াতে হয়।
১৮. যারা মধু সংগ্রহ করে তাদের কী বলে?
উঃ। যারা মধু সংগ্রহ করে তাদের মউলি বলে
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :
১. ‘মধু কাটতে তিনজন লোক চাই' তিনজন লোক মধু কাটতে কী কী কাজ
করে?
উঃ। তিনজন লোকের মধ্যে একজন চট মুড়ি দিয়ে গাছে উঠে পড়ে দিয়ে চাক কাটে।
দ্বিতীয়জন লম্বা কাঁচা বাঁশের মাথায় মশাল জ্বেলে ধোঁয়া দিয়ে মৌমাহি তাড়ায়। আর
তৃতীয়জন একটা বড়ো ধামা নিয়ে চাকের নীচে দাঁড়ায় যাতে চাক কাটা হলে সেগুলি
মাটিতে না পড়ে ধামার মধ্যে পড়ে।
২. কোথায় ধনাই মধুর চাক দেখতে পেল? মধুর চাক খোঁজবার পন্থাটি কী?
উঃ। ট্যাকের দিকে সামনেই একটা গরান গাছ আর তার ওপাশে হেঁদো বনের ঝোপ।
সেই গরান গাছেই ধনাই মধুর চাক দেখতে পেল। মধুর চাক খোঁজার পন্থাটি হল, মৌমাছি ফুল থেকে মধু নিয়ে কোনদিকে ছুটে চলেছে তা লক্ষ করা এবং তার পিছু পিছু সেদিকে যাওয়া।
৩. 'যে-সে কিন্তু মৌচাক কাটতে পারে না'- সবাই মৌচাক কাটতে পারে না কেন?
উঃ। সুন্দরবনের লোকেরা বলে মৌচাক কাটতে হলে মন্ত্র জানা চাই। মন্ত্র দিয়ে মৌমাছিকে ভুল পথে চালিত করতে হয়, না হলে লক্ষ লক্ষ মৌমাছি ছেকে ধরে যে মৌচাক কাটছে তাকে কামড়ে শেষ করে দেবে।
৪. ধনাই কীভাবে শিষে' পার হবার চেষ্টা করছিল?
উঃ। জঙ্গলে ধনাই খানিকটা এগিয়ে এসে দেখল সামনে তিন-চার হাত চওড়া একটা শিষে-ছোট সরু খাদ। কলশ মাথায় নিয়ে পার হতে অসুবিধা হওয়ায় সে তার লম্বা লাঠিটা সাঁকোর মতো করে ফেলে দিয়ে সামনের বাঁশের মতো সরু তবলা গাছটা ধরে শিষে পার হবার চেষ্টা করছিল।
৫. বাঘ কীভাবে 'শিষে'র গর্তের মধ্যে পড়লো?
উঃ। ধনাইকে লক্ষ্য করে বাঘ ঝাঁপ দিলেও ধনাইকে ডিঙিয়ে বাঘের মাথা গিয়ে পড়ল তবলা গাছের ওপরে। গাছের গায়ে দুর্দান্ত ঠোক্কর খেয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে বাঘ উলটে গিয়ে ধপাস করে পড়ল ‘শিষে'র গর্তের ভিতর।
৬. বাঘ ধনাই এর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার পর আর্জন ও কফিলের কী হয়েছিল?
উঃ। বাঘের বিকট হুংকারে বন থরথর করে কেঁপে উঠল। ঝোপের আড়ালে আর্জান ও কফিল হতভম্ব হয়ে গেল, তাদের কথা বলার শক্তি ছিল না। পালানো বা এগোবার জন্য নড়ার কোনো শক্তি আর তাদের ছিল না।
৪. সঠিক শব্দটি বেছে বাক্যটি পুনরায় লেখো।
(ক) মধু কাটতে (চার/তিন/দুই) জন লোক লাগে। উঃ। মধু কাটাতে তিন জন লোক লাগে।
(খ) মৌচাক কটিতে (কায়দা/মন্ত্র/নিয়ম) জানা লোক চাই। উঃ। মৌচাক কাটাতে মন্ত্র জানা লোক চাই।
(গ) গরান গাছের ফুল (লাল/সাদ/হলদে) রঙের। উঃ। গরান গাছের ফুল হলদে রঙের।
(ঘ) তিনজনে (জাহাজ /নৌকা/ ডিঙি) করে অনেক ভিতরে গিয়ে উঠল। উঃ। তিনজনে ডিঙি করে অনেক ভিতরে গিয়ে উঠল।
(ঙ) ধনাইয়ের মাথায় (চট/মধুর কলস/কাস্তে) রয়েছে। উঃ। ধনাইয়ের মাথায় মধুর কলশ রয়েছে।
(চ) ধনাই চাক দেখতে পায় (গরান/গেঁওয়া /সুন্দরি) গাছে। উঃ। ধনাই চাক দেখতে পায় ঘরান গাছে।
(ছ) আর্জান চাকেতে (বালি/কামা/ঢিল) ছুঁড়ে মারে। উঃ। আর্জান চাকেতে কাদা ছুঁড়ে মারে।
(জ) বাঘ (ধনাই / কফিল/আর্জনি) কে লক্ষ্য করে ঝাঁপ দিল। উঃ। বাঘ ধনাইকে লক্ষ্য করে ঝাঁপ দিল।
(ঝ) বাঘ গিয়ে পড়ল (নদী/ শিষ/গর্ত) -এর ভেত্তর। উঃ। বাঘ গিয়ে পড়ল শিষ-এর ভিতর।
(ঞ) কলশ ভেঙে পড়ল (বাঘের/ধনাই-এর/আর্জীন এর) মাথার উপর। উঃ। কলশ ভেঙে পড়ল বাঘের মাথার উপর।
মন্তব্যসমূহ