কবিতা ঝড় । কবি মৈত্রেয়ী দেবী । Bangla Kobita | Jhor | ঝড় |Maitreyi Devi | মৈত্রেয়ী দেবী ৷

 কবিতা : ঝড়
কবি মৈত্রেয়ী দেবী


কবি পরিচিতি 

কবি মৈত্রেয়ী দেবীর জন্ম ১৯১৪ সালে দেবী খ্যাতনামা লেখিকা ও সমাজসেবিকা ছিলেন।তিনি রবীন্দ্রনাথের জীবনী রচনা করেছেন। তাঁর লেখা প্রথম কবিতার বই ‘উদিতা”। তাঁর রচিত অন্যান্য বইগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল 'মংপুতে রবীন্দ্রনাথ', 'স্বর্গের কাছাকাছি', 'ন হন্যতে' ইত্যাদি। ১৯৭৭ সালে তিনি পদ্মশ্রী উপধি পান। স্বনামধন্যা এই লেখিকা ১৯৯০ সালে দেহত্যাগ করেন।





ঝড় - কবিতাটির নামকরণের সার্থকতা বিচার কর :

 কবিতাটিতে রয়েছে একটি শিশুর ঝড় দেখার অভিজ্ঞতা। ঝড় কী তা সে জানে না, বোঝেও না, সে শুধু লোকমুখে ঝড়ের কথা শুনেছে সেই ঝড়কে প্রথম দেখার পর তার মায়ের কাছে সে গল্প বলছে। শিশুর চোখে দেখা ঝড়ের বর্ণনা অনুযায়ী কবিতাটি ঝড় নামকরণ সার্থক বলা যায় । 



ঝড় কবিতার সারমর্ম : একটি দুপুরবেলা হাটে গিয়েছে। হঠাৎ এলোমেলোভাবে বাতাস ছুটে এল এবং সমস্ত দিক অন্ধকারে ঢেকে গেল। সবাই বলল ঝড় এসেছে, ছুটে ঘরে পালাতে হবে। তবে শিশুটির কিন্তু ঝড় আসা খুব ভালে লাগলো। সে দেখল আকাশ, চাঁপার বন, বকুলতলা সমস্ত একেবারে কালো হয়ে গেছে। মাঝি তাড়াতাড়ি নৌকা চালিয়ে ফিরে এল। সে তার মাকে জিজ্ঞেস করে যে ঝড় কাকে বলে। তার যেন মনে হয় সে যেভাবে কালির দোয়াত তাদের মেঝেতে ফেলে দেয়, সেইভাবেই কাদের ছেলে যেন আকাশের চারিদিকে কালির দোয়াত ঢেলে দিয়েছে। তারপর আকাশ যেন তার নরম ঠোঁট দুটি মেলে বারবার হেসে উঠল। সেই হাসিতে যেন আগুন জ্বালা ছিল। তারপর আবার তারা ঘুরে ঘুরে সাত সমুদ্র পারে চলে গেল।



• ব্যাকরণের প্রশ্নোত্তর

শব্দার্থ : হাট–সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে বসা বাজার। পাড়ি - যাত্রা।  ভারী - খুব, অত্যন্ত। এলোমেলো - অগোছালো। কেমনে -  কীভাবে ।  ঢেকে - আড়াল করে। কয়- বলে। কোমল - নরম । সমস্ত - পুরো। বাতাস - হাওয়া। মেলে—ছড়িয়ে।  ধীরে - আস্তে।  কালির দোয়াত - লেখার জন্য কালি রাখার পাত্র । আসলো - এল।



বিপরীত শব্দ : এলোমেলো - সঠিক ।  ঢেকে  -  খুলে। ভালো - খারাপ। তাড়াতাড়ি-  দেরি। ঢালি-‌ তুলি।কোমল - কঠোর।  জ্বেলে-  নিভিয়ে। আকাশ-পাতাল। কালো-সাদা। দূরে-কাছে। ঘর-বাহির।



বাক্য রচনা করো

উঃ। ঝড় - বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে কালবৈশাখী ঝড় হয়।

হাট - আমাদের গ্রামে মশলার হাট বসে প্রতি সোমবার। 

আকাশ— রাতে তারা ও চাঁদ আকাশ দেখতে ভালো লাগে।

চাঁপার বন-গ্রামের মন্দিরের পাশে চাঁপার বন আছে।

মাঝি - মাঝে আমাদের নৌকা পারাপার করে। 

দোয়াত—আমাদের বাড়িতে পুরোনো কালীর দোয়াত   রাখা আছে।

আগুন - জঙ্গলে আগুন লেগে সব গাছপালা পুড়ে গেছে। 

সাগর- সাত সাগর পারে ঝড় পালিয়ে গেল।

কালো-  আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে গেছে।

কালি—আমরা কলমে কালি ভরে লিখি।



হাতে-কলমে

১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো :

১.১ পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী যে ঋতুতে হয় (গ্রীষ্ম/বর্ষা/শরৎ/শীত)।

উঃ। পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী যে ঋতুতে হয়- গ্রীষ্ম। 

১.২ দিনের যে সময়ে কলবৈশাখী ঝড় আসে (সকাল/দুপুর/বিকেল/রাত)।

উঃ। দিনের যে সময়ে কালবৈশাখী ঝড় আসে- দুপুর।

১.৩ যখন বড় ওঠে, তখন আকাশ থাকে (কালো/লাল/নীল/সাদা)। 

উঃ। যখন ঝড় ওঠে, তখন আকাশ থাকে কালো। 

১.৪ গ্রীষ্মের একটি ফুল হল (গাঁদা/গন্ধরাজ/চাপা/পদ্ম)। উঃ  গ্রীষ্মের একটি ফুল হল  চাপা।

২. 'ক'র সঙ্গে 'খ' স্তন্ত মিলিয়ে দেখে


মাঝি নাইয়া

ঝড় প্রবল হওয়া

সাগর সমুদ্র

চাঁপা চম্পক

এলোমেলো অগোছালো।


৩. 'চেয়ে’ ও ‘ভারী' শব্দ দুটিকে দুটি আলাদা আলাদা অর্থে বাক্যে ব্যবহার করো

উঃ চেয়ে – তুমি আমার চেয়ে ভালো গান গাও। 

চেয়ে -  আমি অবাক হয়ে চেয়ে রইলাম।

ভারী—আমার তোমার গান ভারী ভালো লাগল।

ভারী - লোহা খুব ভারী হয়।


8. বিশেষ্য ও বিশেষণ আলাদা করে লেখো

এলোমেলো বাতাস, চাঁপার বন, কালো জল, কালির দোয়াত, কোমল ঠোঁট।

বিশেষ্য- বাতাস, বন, জল, দোয়াত, ঠোঁট।

বিশেষণ- এলোমেলো, চাঁপার, কালো, কালির, কোমল ।



৫. ক্রিয়া পদ

৫.১ কোথা থেকে বাতাস এল। উঃ। কোথা থেকে বাতাস এল

৫.২ আসলো মাঝি তাড়াতাড়ি। উঃ আসলো মাঝি তাড়াতাড়ি।

৫.৩ আমি তোমার মেঝের উপর ঢালি। উঃ। আমি তোমার নেকের উপর ঢালি।

৫.৪ পালিয়ে গেল অনেক দূরে। উঃ। পালিয়ে গেল অনেক দূরে।

৫.৪ চেয়ে দেখি আকাশখানা এক্কেবারে কালো। উঃ চেয়ে দেখি আকাশখানা একেবারে আলো।



৩. কোনটি বেমানান, তার নীচে দাগ দাও

৩১ হাটবার, মাঠের ধার, দুপুরবেলা, ঝড়, বালি।  

৬২ কালো আকাশ, বকুলতলা, চাঁপার বন, কালো জল, হাটবার। 

৬০ ছেলে, কালির দোয়াত, মেঝে, ফেলে দেওয়া কালি, মাঠের ধার।

৫.৪ আকাশ, বিদ্যুৎ, ঝড়, সাত সমুদ্র, কালির দোয়াত। 

২৫ বাতাস, মাঝি, বড়, জল, ঘর। 



৭. 'অন্ধকার' শব্দটির মতো 'ন্ধ এর প্রয়োগ আছে, এমন পাঁচটি শব্দ তৈরি করো ও

উঃ বন্ধ, অন্ধ, সম্বন্ধ, গল্প, প্রবন্ধ।

৮. এলোমেলো বর্ণগুলিকে সাজিয়ে শব্দ তৈরি করো


লো লো এ মে—এলোমেলো, না কা আ শ খা-আকাশখানা, তাড়ি তাড়া তাড়াতাড়ি,

রে বা এ ক্কে - এক্কেবারে , লা কু ত ব ল - বকুলতলা।





১০. বাক্য রচনা করোঃ হাট, ভালো, সময়, পাড়ি, ভীষণ।

হাট -  অনেক গ্রামে সপ্তাহে একদিন হাট বসে।

ভালো  - আমার চেয়ে তোমার পরীক্ষার ফল ভালো হয়েছে।

সময় – সময় কখনোই নষ্ট করা উচিত নয়।

পাড়ি— সে শত সাগর পাড়ি দিয়ে বিদেশ গেল।

ভীষণ - কি ভীষণ গরম পড়েছে। 



১১. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো :

এলোমেলো – গোছানো। অড়াতাড়ি- দেরি।  কোমল -  কঠোর। জ্বেলে -  নিভিয়ে। দুরে - কাছে।


১২.  সূত্র অনুসারে একটি গল্প তৈরি করো- 

তুমি একা - বিরাট মাঠ - আকাশে ঘন মেঘ - গাছের পাতা নড়ছে না- ঝড় এল–প্রবল বৃষ্টি–কোথাও আশ্রয় নিলে-ঝড় থামলে রাতে বাড়ি ফিরলে।


উঃ: আমি সেদিন মামার বাড়ি থেকে ফিরছিলাম। আমার মামার বাড়ি থেকে আমাদের গ্রামে আসার মাঝে বিরাট একটা মাঠ পড়ে। আগে সেখানে কোনো রাজা বা জমিদারদের বসতি ছিল। তাঁদের পুরোনো বাড়ির ভাঙা অংশ আজও মাঠের আশেপাশে ছড়িয়ে রয়েছে। দুপুরবেলা আমার বেড়ানোর সময় আকাশ পরিষ্কারই ছিল। রাস্তা দিয়ে খানিকটা আসতে আসতে দেখি পশ্চিমদিক থেকে আলো মেঘ এগিয়ে আসছে। তাড়াতাড়ি পা চালাতে লাগলাম। মাঠের মধ্যে ঝড় উঠতে ধুলোয় কিছু দেখতে পাব না তাই দৌড়োতে লাগলাম। কিন্তু যা ভয় করেছিলাম তাই হল। একটু আগেও ভ্যাপসা গরম ছিল, গাছের পাতা নড়ছিল না। হঠাৎই কোথা থেকে ঠান্ডা দমকা হাওয়া এসে ঝাপিয়ে পড়ল। বুঝলাম আজ ঝড়ের মুখোমুখি হতেই হবে। আর কিছুটা পথ আসতে না আসতেই প্রবল বেগে ঝড় এল, সঙ্গে প্রচণ্ড বৃষ্টি। কী করি ভাবতে ভাবতে মাথা বাঁচানোর জন্য পড়ে থাকা পুরোনো ভাঙা বাড়িগুলোর একটার মধ্যে গিয়ে ঢুকলাম। সেখানে গিয়ে মাথার জল ঝেড়ে ভালো করে দাঁড়ালাম। ভরদুপুর বেলাই চারিটি যেন অন্ধকার হয়ে গেল।

এইভাবে প্রায় ঘণ্টাখানেক বৃষ্টির দাপট চলল।  তারপর তা ক্রমশ কমতে শুরু করল। আরও আধঘণ্টা বাদে ছেড়ে বেরিয়ে যখন বাড়ি ফিরে বগাম তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। ঝড়ের দাপট পুরোপুরি কমে গেল আর আকাশও আস্তে আস্তে কিছুটা পরিষ্কার হয়ে গেল। তারপর আমি আমার আশ্রয় ছেড়ে বেরিয়ে যখন বাড়ি এলাম তখন সন্ধ্যা হয়ে গেছে। 



১৪. 'কোমল' ও 'কমল' শব্দযুগলের অর্থপার্থক্য বাক্য রচনা করে বুঝিয়ে দাও।


কোমল-তোমার হাতটা কী কোমল। 

কমল-গ্রামে অনেক কমল ফুটতে দেখা যায়।


১৪. কোনটি কোন শ্রেণির বাক্য লেখো :

১৪.১ এই এসেছে ঝড়। উঃ। বিস্ময়বোধক বাক্য।

১৪.২ ঝড় কারে মা কয়? উঃ। প্রশ্নবোধক বাক্য।

১৪:৩ কেমন জানি করল আমার মন। উঃ। বিস্ময়বোধক বাক্য।

১৪.৪ চেয়ে দেখি - আকাশখানা এক্কেবারে কালো। উঃ। বর্ণনাত্মক বাক্য।

১৪.৫ পালিয়ে গেল অনেক দূরে-সাত সাগরের পার। উঃ। নির্দেশসূচক বাকা।

১৫.১ মৈত্রেয়ী দেবীর লেখা দুটি বইয়ের নাম লেখো। উঃ। স্বর্গের কাছাকাছি, ন হন্যতে।

১৫.২ তিনি কত সালে 'পদ্মশ্রী' উপাধি পান। 

উঃ। ১৯৭৭ সালে মৈত্রেয়ী দেবী পদ্মশ্রী উপাধি পান।



১৬.১ কবিতায় শিশুর দল ছুটে চলে যেতে চেয়েছিল কেন?

উঃ:  মাঠের ধারে খেলার সময় হঠাৎ কোথা থেকে এলোমেলো বাতাস এল।

অন্ধকারে সমস্ত দিক কীভাবে যেন ঢেকে দিল। তাই শিশুর দল ভয়ে ছুটে চলে যেতে চেয়েছিল।


১৬.২ দুপুরবেলা চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেল কেন?

উঃ দুপুরবেলা হঠাৎ এলোমেলো বাতাস বয়ে গিয়ে ঝড় এল এবং চারিদিক অন্ধকার হয়ে গেল।

১৬.৩ 'পালিয়ে গেল অনেক দূরে'–কে পালিয়ে গেল? পালিয়ে সে কোথায় গেল?

উঃ। ঝড় পালিয়ে গেল। পালিয়ে সে সাত সাগরের পারে গেল।

১৬.৪ ঝড়ের সঙ্গে শিশুর মনে কীসের তুলনা কবিতায় ধরা পড়েছে?

উঃ। ঝড়ের সঙ্গে এখানে কালির দোয়াতের তুলনা কবিতায় ধরা পড়েছে। শিশুটির মনে হয়েছিল যে সে যেমন মেঝের ওপর কালির দোয়াত ঢেলে দেয়, তেমনই কাদের ছেলে যেন আকাশটার ওপর কালির দোয়াত ঢেলে দিয়েছিল।

১৬.৫ 'ঝড়'-এর বর্ণনা দিতে 'মেঘ করে আসা’ আর ‘বিদ্যুৎ চমকানোর কথা কবিতায় কোন কোন পংক্তিতে ফুটে উঠেছে?

উঃ। ‘মেঘ করে আসা’ দ্বিতীয় পঙক্তিতে আর ‘বিদ্যুৎ চমকানো’র কথা কবিতার শেষ পঙক্তিতে ফুটে উঠেছে।

১৬.৬ ঝড়ের সময় নদী বা সমুদ্রে থাকলে কী ধরনের বিপদ ঘটতে পারে বলে তোমার মনে হয়?

উঃ। ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সময় যদি নৌকা বা জাহাজে থাকি তাহলে সেগুলো উলটে যেতে পারে। নদী বা সমুদ্রের জল নৌকা বা জাহাজে ঢুকে সেগুলিকে ডুবিয়ে দিতে পারে।


১৬.৭ সাতটি সাগরের নাম তোমার শিক্ষকের থেকে জেনে নিয়ে খাতায় লেখো।

উঃ। প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর, আটলান্টিক মহাসাগর, বঙ্গোপসাগর, আরব সাগর, সুমেরু মহাসাগর, কুমেরু মহাসাগর।

১৬.৮ কোনো একটি দিনে তোমার বড় দেখার কথা বন্ধুকে একটি চিঠি লিখে জানাও।

প্রিয় সুজয়,

আজকে আমি তোকে আমার একটা অভিজ্ঞতার কথা জানানোর জন্য চিঠিটা লিখছি। তুই তো জানিস গত সপ্তাহে আমরা ডুয়ার্সে বেড়াতে গিয়েছিলাম। ডুয়ার্সে বেড়াতে যাওয়া সত্যই এক রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা। কিন্তু আমার ডুয়ার্সের সাধারণ অভিজ্ঞতাগুলি ছাড়াও একটি দারুণ অভিজ্ঞতা হয়েছে। তা হল বনাঞ্চলের ঝড়কে প্রত্যক্ষ করা নিজের চোখে না বনাঞ্চলের ঝড় যে কী ভয়ংকর সুন্দর, তা না দেখলে বোঝা যায় না। আমরা যে বাংলোটাতে থাকতাম তা একেবারে জঙ্গলের গাঁ ঘেঁসে। সেখানে বাংলোর বারান্দায় আমরা রোজ বসে থাকতাম। একদিন বিকেলে বাংলোর বারান্দায় বসে আছি, এমন সময় দেখি জঙ্গলের মাথার উপরে মেঘ দেখা যাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই এক টুকরো মেঘ পুরো আকাশকে ঢেকে ফেলল। তার সাথে বইতে শুরু করল প্রচও হাওয়া।

খানিকক্ষণের ভেতরেই হাওয়ার বেগ দারুণ ভাবে বেড়ে গেল। জঙ্গলের গাছগুলোকে দেখে মনে হল কেউ যেন তাদের ঝুঁটি ধরে নাড়াচ্ছে। একটু বাদেই নামল বৃষ্টি। পাহাড়ের ঝড়ের যেমন প্রাবল্য, বৃষ্টির প্রাবল্যও তেমনই। বৃষ্টিতে বোধহয় বিশ হাত দূরের জিনিসও ভালো করে দেখা যাবে না। চৌকিদার বলল এখানকার ঝড়-বৃষ্টি এমনটাই হয়। আমরা বসে বসে অবাক হয়ে প্রকৃতির এই তাণ্ডব লীলা দেখছিলাম। এইভাবে বোধহয় ঘন্টাদেড়েক ধরে ঝড় চলন। বৃষ্টি চল প্রায় আরও আধঘন্টা। তারপর ধীরে ধীরে সব শান্ত হয়ে গেল।

অনেক ঝড় দেখেছি, অনেক বৃষ্টিতে ভিজেছি। কিন্তু জঙ্গলের এই ঝড়-বৃষ্টি আমার জীবনে দেখা এক অসাধারণ দৃশ্য। এর কোনো তুলনা হয় না। তোকে বলি যদি কখনও ডুয়ার্সে ঘুরতে যাস, তাহলে গ্রীষ্ম বা বর্ষার সময় যাওয়ার চেষ্টা করিস। ভাগ্য ভালো থাকলে দেখতে পাবি যে প্রকৃতির তাওবও কত সুন্দর হতে পারে। তোর জন্য শুভকামনা রইল।

ইতি- পলাশ



১৬.৯। ঝড়ের প্রকৃতির একটি ছবি আঁকো।

নিজে আঁকতে চেষ্টা করো।

পাঠ মূল্যায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :

১. পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী ঝড়ে কোন ঋতুতে হয় হয়? উঃ। পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী ঝড় গ্রীষ্ম ঋতু তে হয়।

২. শিশুটি কোন দিন কোথায় খেলতে গিয়েছিল ? শিশুটি হাটবারে মাঠের ধারে খেলতে গিয়েছিল।

৩. ঝড় দেখে সবাই কী বলল? 

উঃ। সবাই বললো এই ঝড় এসেছে, ঘরে পালাই।

৪. শিশুটি দিনের কোন সময়ে খেলতে গিয়েছিল?

উঃ। শিশুটি দুপুরবেলা খেলতে গিয়েছিল।

৫. হঠাৎ কীভাবে ঝড় এল?

উ:। হঠাৎ কোথা থেকে এলোমেলো বাতাস এল আর অন্ধকারে চারদিক থেকে নিয়ে ঝড় এল।

৬. ঝড় দেখে শিশুটির কেমন লাগল? উঃ। ঝড় দেখে শিশুটির খুব ভালো লাগল।

৭. কোন্ কোন্ জায়গা অন্ধকার হয়ে গেল? উঃ। আকাশ, বকুলতলা, চাঁপার বন সব অন্ধকার হয়ে গেল

৮. মাঝি কীভাবে চলে এবং? উঃ। মাঝি কালো জলে পাড়ি দিয়ে তাড়াতাড়ি চলে এল।

৯. আকাশ দেখে শিশুটির কী মনে হয়েছিল।

উঃ। আকাশ দেখে শিশুটির মনে হয়েছিল কাদের ছেলে যেন আকাশের উপর কালির দোয়াত ঢেলে দিয়েছে।

১০. আকাশ কেমন করে হাসল। উঃ। আকাশ তার কোমল ঠোঁটে আগুন জ্বেলে হাসল।

১১. ঝড় আবার কোথায় পালিয়ে গেল? উঃ। ঝড় সুরের সাত সাগরের পারে পালিয়ে গেল।


সংক্ষিত প্রশ্ন ও উত্তর :

১. শিশুটির বর্ণনায় কীভাবে ঝড় এসেছিল।

উঃ। শিশুটির বর্ণনা অনুসারে দুপুরবেলার মাঠের ধারে কোথা থেকে যেন হঠাৎ এলোমেলো বাতাস বইতে শুরু করল। অন্ধকারে সমস্ত কি একেবারে ঢেকে গেল। সমস্ত আকাশখানা, বকুলতলা ও চাপার বন কালো হয়ে গেল। কালো জলে পাড়ি দিয়ে মাঝি তাড়াতাড়ি ফিরে এল।

২. –ঝড় কারে মা কয়? 'আমার মনে হয়...' শিশুটির কী মনে হয়?

উঃ। ঝড় দেখে শিশুটির মনে হয় তাদের ছেলে যেন হঠাৎ করে যেন কালির দৌয়াত ফেলে দিয়েছে, ঠিক যেভাবে শিশুটি ঘরের মেঝের ওপর কালি ঢেলে দেয়। দোয়াতের কলি ঢাললে যেমন মেঝে কালো হয়ে যায় তেমনি ঝড় ও অন্ধকার আকাশ দেখে ছেলেটির মনে হয়েছে আকাশে কে যেন দোয়াতের কালি ঢেলে দিয়েছে।

৩. আকাশ বারে বারে কী করল?

-উঃ। আকাশ বারে বারে তার কোমল ঠোঁট মেলে হাসল, কিন্তু তার সেই হাসিতে এক ভীষণ রকমের আগুন জ্বলে উঠল।



নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন ও উত্তর

১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে বাক্যটি আবার লেখো:

(ক) মাঠের ধারে শিশুটি (স্নান/গল্প (খেলা) করতে গিয়েছিল।

উঃ। মাঠের ধারে শিশুটি খেলা করতে গিয়েছিল।

(খ) হঠাৎ করে (বৃষ্টি/বড় ভূমিকম্প) এল। 

হঠাৎ করে ঝড় এল।

মন্তব্যসমূহ