পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে হিমালয়। সেই হিমালয়ের পাদদেশে রয়েছে সবুজ বন যার পােশাকি নাম তরাই। সেই সবুজ বনের আঁচল নেমে এসেছে নীচের সমভূমি পর্যন্ত। বনের গা দিয়ে বয়ে চলেছে। পাহাড়ি নদী তিস্তা, তাের্সা, রঙ্গিত...। এই নদী আর জঙ্গলের আঁকে বাঁকে মেচ, রাভা, গারাে, লেপচা আর টোটোদের বাস গােষ্ঠীগতভাবে বসবাস করলেও, গ্রামের আশেপাশের সমাজের লােকেদের সঙ্গেও রয়েছে এঁদের আত্মীয়তার সম্পর্ক। এঁদের প্রত্যেকের একটি করে নিজস্ব ভাষা আছে। সেই। ভাষায় কত শত বছর ধরে রচিত হয়েছে এঁদের গল্প আর গান। এই আদি জনগােষ্ঠীর উৎসব-পার্বণ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে গানের সুরে, নাচের ছন্দে। দল বেঁধে মাছ। ধরতে যাওয়া রাভা গােষ্ঠীর জীবনে এক আনন্দময় পর্ব। সেই রকম এক মুহূর্তের গান
বৃষ্টি আসে কেমন করে, তা নিয়ে একটি প্রচলিত গল্প আছে লেপচাদের কথার ভাড়ারে। সেই গল্পটি এরকম: একবার পৃথিবীতে খুব খরা হল। মানুষ, পশু, গাছপালা ধ্বংস হয়ে গেল। পৃথিবীর সব জন্তুরা এক হয়ে ভাবতে লাগল কীভাবে বৃষ্টি এনে পৃথিবীকে বাঁচানাে যায়। ব্যাঙ স্বেচ্ছায় বৃষ্টি আনার কাজে যুক্ত হল। সে ঠিক করল ভগবানের কাছে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করবে কেন সে তার সৃষ্টিকে এত অবহেলা করছে।
একদিন সকালবেলা সে যাত্রা শুরু করল। ভগবান থাকে অনেক দূরে আর তার প্রাসাদে যাওয়ার রাস্তা অত্যন্ত ক্লান্তিকর। যাওয়ার পথে ব্যাঙের সাক্ষাৎ হল মৌমাছির সঙ্গে। সে ব্যাঙ-কে জিজ্ঞেস করল, কোথায় যাবে?’ ব্যাঙ বলল, “ভগবানের কাছে। বড় খরা হে। মৌমাছি বলল, ‘বেশ চলাে, আমিও সঙ্গে চলি। খরায় আমরাও নাকাল। জল নেই, ফুলের আকাল, মধু পাব কোথায়! চলার পথে পরে দেখা হল মােরগের সঙ্গে। সে ব্যাঙের কাছে স্বর্গে যাওয়ার কথা শুনে রাগত স্বরে বলল, খরার ফলে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দানা ছাড়া বাঁচব কী করে? চলাে, আমিও যাব। এমন সময় গভীর জঙ্গলের মধ্যে একটি ক্ষুধার্ত বাঘের সঙ্গে দেখা। তারও একই প্রশ্ন, কোথায় যাচ্ছে তারা দল বেঁধে। তাকেও সব বুঝিয়ে বলল। সেই বাঘটিও তখন তাদের সঙ্গে যেতে এক পায়ে রাজি কারণ জীবজন্তুরা না খেয়ে মারা গেলে সে একা বেঁচে থাকতে পারবে না।
অবশেষে দীর্ঘ যাত্রা শেষে তারা ভগবানের প্রাসাদে পৌছল। দেখল সেখানে সবাই ব্যস্ত নানান। ভোেজ ও আনন্দ-উৎসবে। তাদের স্ত্রী ও মন্ত্রীদের মহানন্দ।ব্যাঙ বুঝতে পারল কেন রাজ্যে এত অভাব, এত কষ্ট। রাগে উত্তেজিত হয়ে তারা গেল ভগবানের কাছে। তাদের দেখে ভগবান তার রক্ষীদের ডাকল।
তখন মৌমাছিরা হুল ফোটাতে লাগল রক্ষীদের মুখে। বাঘ তাদের খেয়ে নেবে বলে ভয় দেখাল। এই সব গােলমালের মধ্যে মােরগও তার ডানা ঝাপটে ভয় দেখাচ্ছিল। তখন ভগবান তার মন্ত্রীদের ডাকল এবং তাদের গাফিলতির জন্য তিরস্কার করল। এরপর তাদের জয়ের জন্য গর্বিত ব্যাঙ তখনই উল্লসিত হয়ে সরবে পুকুরে ফিরে গেল। তারপর থেকে যখনই ব্যাঙ ডাকে, তখনই বৃষ্টি নামে।
রচনাটি সম্পর্কে দু-চার কথা: লেপচাদের মধ্যে প্রচলিত গল্পটির তরজমা করেছেন ঐন্দ্রিলা ভৌমিক। রাভা গানটি ‘জলপাইগুড়ি জেলার বর্ণময় লোকসংস্কৃতি, নৃত্যসংগীত' নামক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া। রচনাটি ‘পশ্চিমবঙ্গ' পত্রিকার জলপাইগুড়ি জেলা সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিল। প্রবন্ধটি লিখেছেন ও গানটির তরজমা করেছেন সুনীল পাল। এই গানটির মূল পাঠ সংগ্রহ ও শব্দার্থ চয়নে সাহায্য করেছেন লোকসংস্কৃতির বিশিষ্ট গবেষক দয়চাঁদ রাভা।
ব্যাকরণের প্রশ্নোত্তর:-
শব্দার্থ:- খরা—অনাবৃষ্টি। প্রাসাদ-বড়ো বাড়ি। সাক্ষাৎ–দেখা। দানা - শস্যের কণা। গাফিলতি উদাসীনতা।তিরস্কার – ধমক, বকা। উল্লসিত— আনন্দিত, খুব খুশি। না—মাছ। পিদান-নতুন, নব। চিক পিদানায়—মাঠ ভরতি জলে ক্রীঙাইভা—ডাকছে, কাঁদছে। সানি লামাইতারে—খাবার ইচ্ছা প্রকাশ করা। ইবায়—এদিকে। হাওয়াই - ওদিকে। মানা—সমর্থ। মাঞ্চা–অসমর্থ। প্রচলিত—চলিত। পোশাকি নাম - ভালো নাম। বাস-বসতি। নিজস্ব—নিজের, আপনা পর্ব, উৎসব—পূজা ও উৎসবের জন্য নির্দিষ্ট দিন। ভাঁড়ারে - সংগ্রহে। ধ্বংস- বিনাশ। যুক্ত-যোগ। অবহেলা-অনাদর। যাত্রা—যাওয়া, চলা। সাক্ষাৎ—দেখা। নাকাল — নাজেহাল, কাহিল। আকাল-দুর্ভিক্ষ, অভাব। ক্ষুধার্ত খিদেয় কাতর। দীর্ঘ—লম্বা। ভোজ—অনেকে মিলে খাওয়া। গাফিলতি-ব্যর্থতা। গর্বিত—গৌরবান্বিত।
বিপরীত শব্দ : আদি-অন্ত। প্রচলিত - অপ্রচলিত। খরা-বন্যা। ধ্বংস-সৃষ্টি। যুক্ত-বিযুক্ত। জিজ্ঞাসা - উত্তর। অবহেলা-যত্ন। ক্লান্তিকর—আরামদায়ক। সাক্ষাৎ-অসাক্ষাৎ। ক্ষুধার্ত - পরিতৃপ্ত। কষ্ট-আরাম। অভাব-প্রাচুর্য। উত্তেজিত–শান্ত। তিরস্কার - পুরস্কার। গর্বিত –লজ্জিত।
বাক্যরচনা করো :
হিমালয় – হিমালয় ভারতের উত্তর দিকে অবস্থিত।
স্বেচ্ছায়—বিপ্লবীরা দেশের জন্য স্বেচ্ছায় প্রাণ দান করেছেন।
নদী–গঙ্গা আমাদের দেশের বৃহত্তম নদী।
ফসল—ধান পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ফসল।
ভাষা - বাংলা আমাদের মাতৃভাষা ।
খরা-খরা হলে জলের অভাবে চারিদিক শুকিয়ে যায়।
আনন্দ—পুজো-পার্বনে আমরা খুব আনন্দ করি।
ভয়—হিংস্র প্রাণীকে সবাই ভয় পায়।
বৃষ্টি–বৃষ্টি হলে চাষিরা চাষের জন্য মাঠে নেমে পড়ে।
গর্বিত—সু-সন্তানের জন্য মা-বাবা অত্যন্ত গর্বিত বোধ করেন।
অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর
১. নিজের ভাষায় লেখো :
১.১ পশ্চিমবঙ্গের যেকোনো একটি পাহাড়ের নাম লেখো।
উঃ। পশ্চিমবঙ্গের একটি পাহাড় হল অযোধ্যা পাহাড়।
১.২ পাহাড়ের কথা বললেই কোন ছবি তোমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে
উঃ। পাহাড়ের কথা বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিশাল উঁচু পাথরের স্তূপ যা সবুজ জঙ্গলে ঢাকা তার মধ্যে দিয়ে নেমে আসা ঝরনার জল।
১.৩ বর্ষায় মাছ ধরা নিয়ে তোমার অভিজ্ঞতার কথা কিংবা মাছ ধরা নিয়ে তোমার পড়া একটি গল্প বা ছড়া লেখো।
উঃ। বর্ষার সময় আমরা বন্ধুরা সামনের নদীতে মাছ ধরতে যাই। বর্ষার সময় সব পুকুর, বিল ভোসে গিয়ে নদীতে অনেক মাছ এসে পড়ে। সেই সময় আমরা বন্ধুরা মিলে খুব আনন্দ করে নদীতে বা পুকুরে মাছ ধরি। আমরা সবাই মিলে
একটা জায়গায় ছিপ্ ফেলে বসি। মাছ ধরতে ধরতে আমরা নিজেরা গল্প-গুজব করে আনন্দে সময় কাটাই।
১.৪ বর্ষায় প্রকৃতির রূপ কেমন হয়? তোমার পাঠ্যবইতে বর্ষা নিয়ে আর কোন কোন লেখা রয়েছে?
উঃ। বর্ষায় প্রকৃতি যেন নতুন জীবন পায় । চারিদিকের গাছপালা সবুজ হয়ে ওঠে। নদী, নালা, খাল, বিল, পুকুর সমস্ত জলে ভরে ওঠে। চাষের খেত জলে পূর্ণ হয়ে যায়। এই সময় চাষিরা খুব আনন্দের সাথে মাঠে চাষ করে। মাটি থেকে সোঁদা গন্ধ ওঠে। প্রকৃতি এই সময় এক নতুন সাজে সেজে ওঠে।
বর্ষা নিয়ে আমার পাঠ্য বইতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা 'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর' কবিতাটি রয়েছে।
২. বাক্য মেলাও
চল মাছ ধরি গিয়ে নতুন বছরের নতুন জলে।
মাছরাঙা বার বার ছোঁ মেরেও পায়নি মাছ।
কুরুয়া পাখি উড়ে উড়ে কাঁদছে।
বকেরা উড়ছে সার বেঁধে।
ছাপিয়ে গিয়েছে নদীর কূল।
৩. প্রদত্ত সূত্র অনুসারে গানটি থেকে গল্প তৈরি করো।
উঃ। নতুন বছরের নতুন জলে আনন্দ করে সবাই মিলে মাছ ধরতে যাই চল। বর্ষার এই সুন্দর প্রকৃতিতে মাঠ-ঘাট
জল থই থই করছে। চারিদিকে নতুন প্রাণ সেজে উঠছে। মাঠ ঘাটে কত পাখি যেমন—মাছরাঙা, বক, কুরুয়া সব দেখা যাচ্ছে। তারা কেউ মাছ ধরছে, কেউ সার বেঁধে উড়ছে, কেউ উড়ে উড়ে কাঁদছে। একদিকে মাছ না পাওয়া গেলে
অন্য দিকে চল।
8. কোনো উৎসব বা অনুষ্ঠানে তুমি খুব হইচই আনন্দ করেছ আর মজা পেয়েছ। কী কী করলে সেই দিন তা
মিনলিপির আকারে খাতায় লেখো।
উঃ আজ ২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ সাল, রবিবার সকাল ১০টা। আমরা চার বন্ধু বেড়াতে এসেছি একটা গ্রামে। সেখানে
অনেক মানুষ খ্রিস্টান। আজ বড়দিন। তাই এদের এখানে আজ বিরাট উৎসব। এখানে আমরা আজ সারাদিন থাকব। এদের উৎসব দেখব।
বেলা ১২টা। আমরা সকলের সাথে আমরাও চার্চের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছি। এখানে তারা প্রার্থনা করে মোমবাতি জ্বালাবে।
দুপুর ১টা। চার্চে প্রার্থনা আর মোমবাতি জ্বালানো শেষ হল। এবার সমস্ত গ্রামের মানুষ এক জায়গায় জড়ো হয়ে নাচ-গান করবে। আমরাও তাদের সাথে যোগ দেব।
বেলা ৩টা। তুমুল নাচ-গান হল। এত আনন্দ আমি আগে কখনও পেয়েছি বলে মনে হয় না। এখন আমরা এদের সাথে খেতে বসব।
বিকেল ৫টা। দুপুরে পেটপুরে মাংস-ভাত খাওয়া হল। বিকেল গড়িয়ে এল। এবার আমাদের ফিরতে হবে।
রাত ৯টা। বাড়ি ফিরেছি। ফিরে বাবা-মাকে আর বাড়ির সবাইকে আজকের সারাদিনের গল্প শোনালাম। তারা শুনে খুব খুশি হলেন।
৫. মূল লেখাটা অন্য ভাষায়, কিন্তু নিজের ভাষায় তুমি পড়েছ আর দারুন লেগেছে এমন দুটি লেখার নাম করো।
উঃ। এইরূপ দুটি লেখা হল—'সেলফিস জায়েন্ট' অবলম্বনে ‘স্বার্থপর দৈত্য' এবং ‘চাষির ছেলে ইভান ও সাতমাথা দানব'।
৬. একটি বৃষ্টির দিনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বন্ধুকে চিঠি লেখো :
উঃ। প্রিয় রাজা,
অনেক দিন বাদে কাল তোর চিঠি পেলাম। তোরা ভালো আছিস জেনে ভালো লাগল। আমরাও সবাই ভালো আছি। তুই লিখেছিস গরমে খুব কষ্ট পাচ্ছিস। আর আমাদের এদিকে প্রবল বর্ষা। গত কয়েক দিন ধরে এখানে প্রবল বর্ষা হচ্ছে, চারিদিক সব সবুজ হয়ে গেছে। মাঠ ঘাট জলে ভরে উঠেছে।গতকাল স্কুল ছুটি ছিল। বর্ষায় সারাদিন দারুন কাটল। সকালে লুচি আর বেগুনভাজা দিয়ে টিফিন হল। তারপর বেরোলাম, মাছ ধরতে। নদীর ধারে এই সময় বেশ ভালোই মাছ পাওয়া যায়। তারপর দুপুরবেলা পেট ভরে ভাত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। বিকেলবেলা নীলুরা খেলতে ডাকল। বৃষ্টির মধ্যে কাদা মাখা মাঠে ফুটবল খেলতে যে কী আনন্দ তা তোকে বলে বোঝাতে পারব না। গতকালের দিনটা আমার বর্ষায় আনন্দ পাওয়া দিনগুলির একটি। ভালোভাবে থাকিস।
ইতি
তোর বন্ধু সঞ্জয়
রাজা রায় (ডাক টিকিট )
কলেজ রোড
কলকাতা ৯১
৭. এমন একটা ছবি আঁকো, যার মধ্যে কবিতার এই জিনিসগুলো থাকবে :
নদীর কুল, জল থইথই মাঠ, বকের সারি, মাছরাঙা, ছেলেমেয়ের দল।
উঃ। ছবি নিজেরা আঁকো।
৮. কথায় বলে 'মাছে ভাতে বাঙালি'। সেই বাঙালির পরিচয় গানটিতে কীভাবে ফুটে উঠেছে?
উঃ। গানটি তৈরি হয়েছে মাছ ধরতে যাওয়া নিয়ে। নতুন বর্ষার জলে মাছ বেড়েছে, তাই সবাই মিলে মাছ ধরতে যাচ্ছে। যেতে যেতে তারা বক, মাছরাঙা প্রভৃতি পাখির দিকে নজর রাখছে যাতে তারা বেশি মাছ খেয়ে না নেয়। একস্থানে মাছ পাওয়া না গেলে তারা অন্য স্থানে যেতেও রাজি। এই গানটির মধ্যে দিয়ে তাদের মাছ খেতে ভালোবাসার কথা ফুটে উঠেছে। কারণ তারা উৎসবের মধ্য দিয়ে তাদের মাছ খাওয়ার প্রতি ভালোবাসার কথা বলেছে। বাঙালিও মাছ খেতে ভালোবাসে, তাদের যে কোনো আনন্দে অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হল মাছ। নতুন বছরের শুরুতে বাঙালি জাতি নানা রকম মাছের পদ রান্না করে খায়, বর্ষার নতুন জলে ইলিশ মাছ খাওয়া বাঙালির জীবনের অন্যতম আনন্দ। সেই মাছ প্রিয় বাঙালির জীবনের পরিচয় কিছুটা এই গানে ফুটে উঠেছে।
৮.১ বৃষ্টি কীভাবে প্রকৃতিকে বাঁচায়?
উঃ। বৃষ্টি হলে গাছপালা বাঁচে, বেড়ে ওঠে ফসল। সেগুলি খেয়ে বেঁচে থাকে তৃণভোজী প্রাণীরা, তৃণভোজীদের খেলে বাঁচে মাংসাশী প্রাণীরা। বৃষ্টি না হলে ফুল ফোটে না, মৌমাছি মধু পায় না, বৃষ্টি না হলে গাছপালা, পশু, মানুষ সবই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
৮.২ 'খরা' বলতে কী বোঝায়?
উঃ। বহুদিন বৃষ্টি না হওয়ার ফলে জলের অভাবে গাছপালা, ফসল, পুকুর সব শুকিয়ে যায়। তার ফলে পশু-পাখি, মানুষ সবাই জল ও খাদ্যের অভাবে কাহিল হয়ে পড়ে, একেই খরা বলা হয়।
৮:৩ অনাবৃষ্টির ফলে গল্পে মানুষ, পশুপাখি, গাছপালার অবস্থা কেমন হয়েছিল?
উঃ। গাছপালা, পশুপাখি, মানুষ খরার ফলে সবই প্রায় ধ্বংস হয়ে যেতে বসেছিল।
৮.৪ ভগবানের প্রাসাদে পৌঁছে ব্যাং কী দেখল
উঃ। ভগবানের প্রাসাদে পৌঁছে ব্যাং দেখল সেখানে সবাই নানান ভোজ ও আনন্দ উৎসবে ব্যস্ত। মন্ত্রী ও তাদের স্ত্রীরা মহানন্দে দিন কাটাচ্ছে।
৮.৫ প্রাসাদের দৃশ্য দেখে ব্যাং রাগে উত্তেজিত হয়ে পড়ল কেন?
উঃ। ব্যাং দেখল ভগবানের প্রাসাদে সবাই আনন্দ করতে ব্যস্ত। এই ভোজ ও আনন্দ উৎসব দেখে ব্যাং বুঝতে পারল এই দৃশ্য দেখে কেন রাজ্যে এত অভাব, এত কষ্ট। এদিকে খরায় পৃথিবীর অবস্থা খারাপ আর এখানে সবাই আনন্দ করছে। দেখে ব্যাং রাগে উত্তেজিত হয়ে পড়ল।
৮.৬ ভগবান ও তার রক্ষীরা মৌমাছি, বাঘ, মোরগের হাতে কীভাবে নাকাল হল?
উঃ। ভগবান ও তার রক্ষীরা ব্যাং ও তার সঙ্গীদের ধরতে এলে মৌমাছি তাদের হুল ফোটাতে লাগল, বাঘ তাদের খেয়ে নেবে বলে ভয় দেখাল, মোরগও ডানা ঝাপটে তাদের ভয় দেখাতে লাগল।
৮.৭ শিক্ষক/শিক্ষিকার সাহায্যে বৃষ্টি নিয়ে প্রচলিত দুটি ছড়া ও দুটি গল্প সংগ্রহ করো।
প্রচলিত ছড়া (১)
বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর
নদেয় এল বান।
শিব ঠাকুরের বিয়ে হ'ল
তিন কন্যে দান।
প্রচলিত ছড়া (২)
আয় বৃষ্টি ঝেপে
ধান দেব মেপে
ধানের ভিতর পোকা
খোকন সোনা বোকা ৷৷
পাঠ মূল্যায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রশ্ন উত্তর:-
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :
১. হিমালয়ের পাদদেশে কী রয়েছে?
উঃ। হিমালয়ের পাদদেশে রয়েছে এক সবুজ বন, যার পোশাকি নাম তরাই।
২. বনের গা দিয়ে কোন্ কোন্ নদী বয়ে চলেছে?
উঃ। বনের গা দিয়ে তিনটি নদী বয়ে চলেছে – তিস্তা, তোর্সা, রঙ্গিত।
৩. উত্তরবঙ্গের কয়েকটি উপজাতির নাম করো।
উঃ। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি উপজাতি হল গারো, মেচ, রাভা ও টোটো।
৪. রাভাদের আনন্দময় উৎসব কী?
উঃ রাভাদের আনন্দময় উৎসব হল মাছ ধরা।
৫. কোন পাখি উড়ে উড়ে কাঁদছে?
উঃ। কুরুয়া পাখি উড়ে উড়ে কাঁদছে।
৬. কোন পাখি বার বার চেষ্টা করেও মাছ পায়নি? উঃ। মাছরাঙা পাখি বার বার চেষ্টা করেও মাছ পায়নি।
৭. বৃষ্টি আসা সম্পর্কিত গল্পটি কোন উপজাতিদের মধ্যে প্রচলিত।
উঃ। বৃষ্টি আসা সম্পর্কিত গল্পটি লেপচা উপজাতিদের মধ্যে প্রচলিত।
৮. ভগবান তার মন্ত্রীদের কী করলেন? উঃ। ভগবান তার মন্ত্রীদের গাফিলতির জন্য তিরস্কার করলেন।
৯. ভগবানের প্রাসাদে যাওয়ার রাস্তা কেমন? উঃ। ভগবানের প্রাসাদে যাওয়ার রাস্তা অত্যন্ত ক্লান্তিকর।
১০. যাওয়ার পথে ব্যাঙের সাথে কার কার সাক্ষাৎ হয়েছিল?
উঃ। যাওয়ার পথে ব্যাঙের সাথে মৌমাছি, মোরগ ও বাঘের সাক্ষাৎ হয়েছিল।
১১. সাপে উত্তেজিত হয়ে তারা কোথায় গেল?
উঃ। রাগে উত্তেজিত হয়ে তারা ভগবানের কাছে গেল।
১২. কে ভগবানের রক্ষীদের হুল ফুটিয়ে ছিল?
উঃ। মৌমাছি ভগবানের রক্ষীদের হুল ফুটিয়ে দিল।
১৩. মোরগ কীভাবে রক্ষীদের ভয় দেখাল?
উঃ। মোরগ ডানা ঝাপটিয়ে রক্ষীদের ভয় দেখাল।
১৪. কোন প্রাণী ডাকলে বৃষ্টি হয়?
উঃ। ব্যাং ডাকলে বৃষ্টি হয়।
১৫. জয়ের জন্য গর্বিত ব্যাং কোথায় ফিরে গেল? উঃ। জয়ের জন্য গর্বিত ব্যাং উচ্ছ্বসিত হয়ে পুকুরে ফিরে গেল।
১. তরাই অঞ্চল কাকে বলা হয়?
উঃ। পশ্চিমবঙ্গোর উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশে যে সবুজ বন রয়েছে তা নেমে এসেছে নীচের স্থলভূমি পর্যন্ত। এই
সবুজ বনাঞ্চলকে তরাই বলা হয় ।
২. তরাই অঞ্চলের যে সমস্ত আদি জনগোষ্ঠী রয়েছে তাদের জীবনযাত্রা সম্বন্ধে কয়েকটি বাক্য লেখো।
উঃ। তরাই অঞ্চলে নদী আর জঙ্গলের আঁকে বাঁকে বাস করে মেচ, রাভা, গারো, লেপচা ও টোটো জনগোষ্ঠী। গোষ্ঠীগত ভাবে বসবাস করলেও আশেপাশের গ্রামের সমাজের লোকেদের সঙ্গেও এদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর প্রত্যেকের একটি করে নিজস্ব ভাষা আছে। সেই ভাষায় বহু বছর ধরে এদের গল্প আর গান রচিত হয়েছে।
৩. ব্যাং যাত্রা শুরু করার পর কার সাথে কীভাবে দেখা হয়েছিল?
উঃ। ব্যাং একদিন সকালবেলা ভগবানের প্রাসাদে যাওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করল। সেই ক্লান্তিকর রাস্তায় ব্যাঙের সাক্ষাৎ হল মৌমাছির সঙ্গে। মৌমাছি ব্যাঙকে জানাল খরার ফলে জল নেই, ফুলও ফুটছে না, তাই মধু পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সেও ভগবানের কাছে যেতে চাইল। এরপর ব্যাঙের সাথে দেখা হল মোরগের। সে ব্যাঙের কাছে সব শুনে বলল খরার ফলে সব ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দানা ছাড়া কীভাবে বাঁচা যাবে, তাই সেও যেতে চাইল। এরপর গভীর জঙ্গলে এক ক্ষুধার্ত বাঘের সঙ্গে ব্যাঙের দেখা হল। সব শুনে বাঘও তাদের সঙ্গে যেতে চাইল। কারণ জীবজন্তুরা না খেয়ে মারা গেলে বাঘ একা বাঁচতে পারবে না। এরপর দীর্ঘ যাত্রা শেষে তারা ভগবানের প্রাসাদে পৌঁছল।
৪. কারা কারা ভগবানের প্রাসাদে পৌঁছেছিল? সেখানে তারা কী দেখল?
উঃ। ব্যাং, মৌমাছি, মোরগ ও বাঘ ভগবানের প্রাসাদে পৌঁছেছিল। সেখানে পৌঁছে তারা দেখল সবাই সেখানে নানান ভোজ ও আনন্দ উৎসবে ব্যস্ত। মন্ত্রী ও তাদের স্ত্রীরা মহানন্দে দিন কাটাচ্ছে।
৫. ভগবান শেষ পর্যন্ত কী করলেন? ব্যাং এরপর কী করল?
উঃ। ভগবান তাঁর মন্ত্রীদের ডাকলেন এবং গাফিলতির জন্য তাদের তিরস্কার করলেন। নিজেদের জয়ের জন্য গর্বিত ব্যাং আনন্দিত হয়ে পুকুরে ফিরে গেল। তারপর থেকে যখনই ব্যাং ডাকে তখনই বৃষ্টি হয়।
৬. তরাই অঞ্চলের আদি জনগোষ্ঠীর উৎসব সম্বন্ধে কী জানা যায়?
উঃ। তরাই অঞ্চলের এই আদি জনগোষ্ঠীদের উৎসব ও পার্বন উজ্জ্বল হয়ে ওঠে তাদের গানের সুরে ও নাচের ছন্দে। দল বেঁধে গান গাইতে গাইতে মাছ ধরতে যাওয়া রাভা গোষ্ঠীর জীবনে একটি আনন্দময় পর্ব।
৩. সঠিক শব্দটি বেছে বাক্যটি পুনরায় লেখো।
(ক) পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে(আরামী/আত্মস/হিমালয়) অবস্থিত। উঃ। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে হিমালয় অবস্থিত।
(খ) সবুজ বনের গা দিয়ে বয়ে চলেছে (তিস্তা/ গল্প / ব্রহ্মপুত্র নদী। উঃ। সবুজ বনের গা দিয়ে বয়ে চলেছে তিস্তা।
(গ) জঙ্গলের আঁকে বাঁকে বসবাস করে (বাঙালি / লেপচা/মাড়োয়ারি) জাতি।
উঃ। জঙ্গলের আঁকে বাঁকে বসবাস করে লেপচা জাতি।
(ঘ) রাভাগোষ্ঠীর জীবনে (ধানকাটা/মাছ ধরা/শিকার করা ) হল আনন্দ উৎসব।
উঃ। রাভাগোষ্ঠীর জীবনে মাছ ধরা হল আনন্দ উৎসব।
(৩) বৃষ্টি আসা সম্পর্কে প্রচলিত গল্পটি আছে (টোটো/লেপচা/মেচ) দের ভাঁড়ারে।
উঃ। বৃষ্টি আসা সম্পর্কে প্রচলিত গল্পটি আছে লেপচাদের, ভাঁড়ারে।
(চ) স্বেচ্ছায় ভগবানের কাছে যেতে চাইল (সাপ/ব্যাং/মৌমাছি)। উঃ। স্বেচ্ছায় ভগবানের কাছে যেতে চাইল ব্যাং।
(ছ) ব্যাং ভগবানের কাছে যাচ্ছিল (আগুন আনতে/বাতাস আনতে/বৃষ্টি আনতে)।
উঃ। ব্যাং ভগবানের কাছে যাচ্ছিল বৃষ্টি আনতে।
(জ) ব্যান্ডের প্রথম সঙ্গী হল (বাঘ/মোরগ/মৌমাছি)। উঃ। ব্যাঙের প্রথম সঙ্গী হল মৌমাছি।
(ঝ) রাগে উত্তেজিত হয়ে তারা (শয়তানের/ ভগবানের/ মানুষের) কাছে গেল।
উঃ। রাগে উত্তেজিত হয়ে তারা ভগবানের কাছে গেল।
(ঞ) ব্যাং তখনি উল্লসিত হয়ে (ডোবায় পুকুরে/ নদীতে) ফিরে এল।
উঃ। ব্যাং তখনি উল্লসিত হয়ে পুকুরে ফিরে এল।
৪. এলোমেলো শব্দগুলিকে সাজিয়ে অর্থপূর্ণ বাক্য তৈরি করো :
(ক) পাদদেশে সবুজ হিমালয়ের রয়েছে বন সেই। উঃ। সেই হিমালয়ের পাদদেশে রয়েছে সবুজ বন।
(খ) গা দিয়ে চলেছে বনের বয়ে তিস্তা নদী, ভোর্সা পাহাড়ি রঞ্জিত।
উঃ। বনের গা দিয়ে বয়ে চলেছে পাহাড়ি নদী তিস্তা, তোর্সা, রঙ্গিত।
(গ) সেই ভাষায় শত কত ধরে বছর হয়েছে রচিত এদের গান গল্প আর।
উঃ। সেই ভাষায় কত শত বছর ধরে রচিত হয়েছে এদের গল্প আর গান।
(ঘ) গেল হয়ে ধ্বংস গাছপালা পশু মানুষ।
উঃ। মানুষ পশু গাছপালা ধ্বংস হয়ে গেল।
(ঙ) সঙ্গে হল ব্যাঙের যাওয়ার পথে সাক্ষাৎ মৌমাছির।
উঃ। যাওয়ার পথে ব্যাঙের সাক্ষাৎ হল মৌমাছির সঙ্গে।
(চ) কোথায় মধু ফুলের জল নেই আঁকাল পাব।
উঃ। জল নেই ফুলের আকাল মধু পাব কোথায়।
(ছ) কাছে গেল হয়ে রাগে উত্তেজিত তারা ভগবানের।
উঃ। রাগে উত্তেজিত হয়ে তারা গেল ভগবানের কাছে
ব্যাকরণের প্রশ্নোত্তর
বাক্য রচনা করোঃ
জ্যোৎস্না রাত–পূর্ণিমার দিন জ্যোৎস্না রাত দেখা যায়।
সূর্য-সূর্য থেকে আমরা আলো ও তাপ পাই।
আঁধার—মেঘ করায় দুপুরবেলায় আঁধার নেমে এসেছে।
দেখা—এবার পুজোয় বাইরে ঘুরতে যাওয়ায় কলকাতার পুজো দেখা হয়নি।
কালো মেঘ - কালো মেঘ করেছে, এখনি ঝড়বৃষ্টি হতে পারে।
পাঠ মূল্যায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :
১. দিনের শেষে কেমন ৱাত নামল ?
উঃ। দিনের শেষে জ্যোৎস্নারাত নামল।
২. রাত হলেও তেমন আঁধার নেই কেন?
উঃ। রাতটা যেহেতু জ্যোৎস্নারাত, তাই রাত হলেও তেমন আঁধার নেই।
৩. টোটোরা কোন জিনিসটা না আসার জন্য প্রার্থনা করেছে?
উঃ। টোটারা প্রার্থনা করেছে কালো মেঘ যেন না আসে এবং চাঁদ যেন মেঘে ঢাকা না পড়ে।
৪. ভোরের সূর্য ওঠায় কী কেটে গেছে?
উঃ। ভোরের সূর্য ওঠায় অন্ধকার কেটে গেছে।
৫. এখন তারা কী করতে পারবে?
উঃ। এখন তারা সব জায়গায় অবাধে যেতে পারবে।
৬. কার ইচ্ছায় তারা অবাধে যেতে পারবে?
উঃ। ইসপা-র ইচ্ছায় তারা অবাধে যেতে পারবে।
৭. ইসপা কে?
উঃ। ইসপা হলেন টোটো জনগোষ্ঠীর দেবতা।
মন্তব্যসমূহ