ময়দানব । সুভাষ মুখোপাধ্যায় । Moydanob । subhas mukhopadhyay

 কবিতা : ময়দানব
কবিঃ সুভাষ মুখোপাধ্যায়


যখন থাকে না কেউ
নির্জন মাঠে।
হাওয়াসুর ঘুরে ঘুরে
শালপাতা চাটে।
রাস্তার বাতিগুলাে
গা ঢাকে আঁধারে
ঠেলা দিয়ে ফেলে দেয়।
আঁদাড়ে পাঁদাড়ে।
ময়দানবেরা সব
তাঁবু ছেড়ে এসে
দে গােল দে গােল বলে।
ধরবেই ঠেসে।
তাছাড়া তাে অ্যাং, ব্যাং।
আর আছে চ্যাং,
হা-ডু-ডু বলেই তারা
খুলে নেবে ঠ্যাং।
জোনাকিরা উড়ে এসে
গায়ে দেবে ছ্যাকা —
যেয়াে না কো রাত্তিরে
ময়দানে একা।


কবি পরিচিতি : সুভাষ মুখোপাধ্যায় আধুনিক যুগের বাংলার কবিদের মধ্যে অন্যতম। নিজের সম্পূর্ণ কর্মজীবনে ছোটো-বড়ো সবার জন্যে তিনি অসংখ্য কবিতা লিখেছেন। তাঁর লেখাগুলির মধ্যে অন্যতম হল ‘ছেলে গেছে বনে'। সাহিত্য কীর্তির জন্য ‘আনন্দ' সহ আরও নানা পুরস্কারে তিনি সম্মানিত হয়।


সারমর্ম : রাতের নির্জন মাঠে যখন কেউ থাকে না, তখন হাওয়াসুর ঘুরে ঘুরে শালপাতা চাটে। রাস্তায় বাতিগুলোকে ঠেলা দিয়ে ফেলে দেয় বলে তারা অন্ধকারে গা ঢাকা দেয়। ময়দানবরা ছুটে এসে গোল দিতে বলে ঠেসে ধরে। সেখানে গেলে অ্যাং, ব্যাং, চ্যাং-র হা-ডু-ডু বলে পা খুলে নেবে। জোনাকিরা উড়ে এসে গায়ে ছ্যাঁকা দেবে। তাই রাত্রিতে একা একা ময়দানে যেতে কবি নিষেধ করছেন।



ব্যাকরণের প্রশ্নোত্তর

শব্দার্থ : নির্জন-জনহীন। শালপাতা– শালগাছের পাতা, এতে ঠোঙা করে খাবার দেওয়া হয়। বাতি–আলো।আঁধারে—অন্ধকারে। আঁদাড়ে-পাঁদাড়ে—আস্তাকুড় বা ময়লা ফেলার স্থানে। ময়দানব- পুরাণ মতে একজন অসুর,রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনিতে এর কথা পাওয়া যায়। এখানে রাতের ময়দানে থাকা ভূতেদের কথা বলা হয়েছে। ঠেসে- চেপে। ঠ্যাং-পা। ছ্যাঁকা-জোরালো গরমের তাপ। রাত্তিরে - রাতে। হা-ডু-ডু–এক ধরনের খেলা। জোনাকি—–একধরনের পোকা, রাতে উড়লে এঁপের ডানায় আলো জ্বলে। তাঁবু - কাপড় দিয়ে তৈরি অস্থায়ী বাসস্থান।



বিপরীত শব্দ 

 নির্জন - জনবহুল। আঁধারে-আলোতে। ফেলে- তুলে, ছেড়ে - ধরে। খুলে– বন্ধ করে। বলে - করে। ঢাকে—খোলে।



১. যখন কেউ থাকেনা তখন কে কোথায় ঘুরে বেড়ায়? উঃ। যখন কেউ থাকেনা তখন নির্জন মাঠে হাওয়াসূর ঘুরে বেড়ায়।

২. হাওয়াসুর ঘুরে ঘুরে কী করে? উঃ। হাওয়াসুর ঘুরে ঘুরে শালপাতা চাটে।

৩. রাস্তায় বাতিগুলো কীসে গা ঢাকা দেয়? উঃ। রাস্তায় বাতিগুলো আঁধারে গা ঢাকা দেয়।

৪. 'কারা দে গোল দে গোল' বলে ঠেসে ধরবে? উঃ। ময়দানবেরা সব 'দে-গোল দে-গোল' বলে ঠেসে ধরবে। 

৫. রাস্তায় বাতিগুলোকে কে ঠেলা দিয়ে কোথায় ফেলে দেয়?

উঃ। রাস্তায় বাতিগুলোকে হাওয়াসুর ঠেলা দিয়ে আবাড়ে পাঁদাড়ে ফেলে দেয়।

৬. কারা উড়ে এসে গায়ে ছ্যাকা দেবে? উঃ। জোনাকিরা উড়ে এসে গায়ে ছ্যাঁকা দেবে।

৭. রাতে একা একা কোথায় যাওয়া উচিত নয়? উঃ। রাতে একা একা ময়দানে যাওয়া উচিত নয়।

৮. কারা তাবু ছেড়ে আসবে? উঃ। ময়দানবরা তাঁবু ছেড়ে আসবে।

৯. কারা কী বলে ঠ্যাং খুলে নেবে? উঃ। আং, ব্যাং আর চ্যাং হা-ডু-ডু বলে ঠ্যাং খুলে নেবে।

১০. অন্ধকার আর হাওয়া মাঠকে দেয় অন্য চেহারা, কেমন সে চেহারা, তা 'ময়দানব' কবিতাটি পড়ে।


উঃ। মাঠে যখন কেউ থাকে না তখন হাওয়াসুর ঘুরে ঘুরে শালপাতা চাটে। রাস্তায় বাতিরা অন্ধকারে গা ঢাকা দেয়। তাদের। ঠেলা দিয়ে আঁাড়ে পাঁদাড়ে ফেলে দেয়। ময়ানের যত দানবরা আছে তারা ছুটে এসে দে গোল, দে গোল বলে ঠেসে ধরে। এছাড়া অ্যাং ব্যাং চ্যাংরা তো রয়েছেই। তারা হা-ডু-ডু বলে ঠ্যাং খুলে নেবে। জোনাকিরা সব উড়ে উড়ে আসবে, এসে গায়ে ছ্যাকা দেবে। তাই রাত্রের ময়দানে একা যাওয়া উচিত নয়।


পাঠ মূল্যায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর


মন্তব্যসমূহ