গদ্যাংশ : ছেলেবেলা
লেখক : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
(লেখক পরিচিতি: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালে কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। অল্পবয়স থেকেই ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত 'ভারতী' ও 'বালক' পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন।তাঁর রচিত ‘কথা ও কাহিনী', 'সহজপাঠ', 'রাজর্ষি', 'ছেলেবেলা', 'শিশু ভোলানাথ' 'হাস্যকৌতুক''ডাকঘর', 'গল্পগুচ্ছ'-সহ বহু রচনাই শিশু-কিশোরদের আকৃষ্ট করে। দীর্ঘ জীবনে অজস্র কবিতা, গান,ছোটোগল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ তিনি লিখেছেন ও ছবি এঁকেছেন। ১৯১৩ সালে 'Song Offerings'-এর জন্যে প্রথম এশিয়াবাসী হিসেবে তিনি নোবেল পুরস্কার পান। দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র ভারত আর বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তাঁরই রচনা।‘ছেলেবেলা' রচনাটি তাঁর 'ছেলেবেলা' বই থেকে নেওয়া হয়েছে।

সারসংক্ষেপ। এক শিশু তার বাড়ির চার দেওয়ালের মধ্যে পাঁচজনের নজরদারিতে সীমাবদ্ধ থাকলেও তার মানসিক জগৎ কোনো নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে আবদ্ধ থাকে না। রচনার শিশুটি ছাদে উঠে তার কল্পনার জগৎকে দিগন্তে ছড়িয়ে দেয় । শিশুটি দেখে তার বাবা ভোরবেলায় ছাদের উপর পাথরের মূর্তির মতো স্থির হয়ে বসে থাকেন। বাবা মাঝে মাঝে অনেক দিনের জন্য বাইরে গেলে ছুটির দিনে শিশুটিও ছাদে উঠে গিয়ে তার বাবার ঘরে বসে অ্যাকশকুসুম কল্পনা করে। সেখানটাতে গিয়ে সে পায় সাত সমুদ্র পারে যাওয়ার আনন্দ। ছেলেটি দুপুর বেলায় লুকিয়ে ছাদে উঠত। এই সময়টাই যেন তার মন ভুলিয়ে দিত। তার দেখাশুনো করার চৌকিদারেরা সে সময় ঝিমোত। ছাদে বসে সে শুনত ফেরিওয়ালার ডাক। সেই চুড়িওয়ালারা বাড়ির বাউলের হাতে চুড়ি পড়িয়ে দিত। বাড়ি সেই ছাদটা ছিল ছেলেটির কাছে বইতে পড়া মরুভূমি। সেখানে গরম বাতাস ছুটছে ধুলো উড়িয়ে। সেই মরুভূমির ওয়েসিসটা বাংলাদেশের সেই একমাত্র লিভিংস্টন ছেলেটি যেন খুঁজে পেয়েছিল। তখন তেতলায় কলের জল ছিল। সেই কল খুলে সেখানে স্নান করতো। তারপর বিছানার একখানা চাদর নিয়ে গা মুছে ছেলেটি সহজ হয়ে বসত।
দেখতে দেখতে ছুটির দিনটি ফুরিয়ে আসত। নীচের দেউড়ির ঘন্টায় চারটে বাজত ছেলেটির মনে হত রবিবারের বিশ্রী বিকেলের পর এবার যেন সোমবার হাঁ করে তাকে গিলতে আসছে। নীচে ততক্ষণে ছেলেটির খোঁজ পড়ে গেছে। মনখারাপ নিয়ে আবার ছেলেটি ছাদ থেকে ঘুরে আসত। নীচে তাকিয়ে সে দেখত ঘাটে লোকজনের আনাগোনা শুরু হয়েছে। দিনের আলো ঘোলা হয়ে আসছে।
• ব্যাকরণের প্রশ্নোত্তর:
শব্দার্থ : চিলেকোঠা- ছাদের উপরে সিড়ির ঘর। পিলপেগাড়ি - হাতিতে টানা গাড়ি। ঝাঁকড়া–উশকো খুশকো। বিবাগি–সংসারত্যাগী। খড়খড়ি- জানলা দরজার কাঠের আবরণ। জুড়িগাড়ি - দুই ঘোড়ায় টানা গাড়ি । সইস-ঘোড়ার দেখাশোনা করে যে। চৌকিদার- প্রহরী। গা মোড়া- আড়মোড়া। বেলোয়ারি- কাচের তৈরি জিনিস। কেতাব– গ্রন্থ, বই। মরুভূমি - জলহীন, বৃষ্ণহীন, বালুময় দেশ। ওয়েসিস-- মরুদ্যান। দেউড়ি - সদর, দরজা। পাকড়া-ধরা। ঝিমুনি- তন্দ্রা, অবসন্ন ভাব। হেঁকে- জোরগলায় ডাক ছেড়ে। ফিকে - হালকা। নাগাল--নিকট, কাছাকাছি। বিশ্রী- কুৎসিত। আনাগোনা - আসা যাওয়া। বিগড়ে - খারাপ হয়ে । গ্রহণ লাগা - গ্রহদের গ্রাস বা অদৃশ্য হওয়া, বৈজ্ঞানিক মতে সূর্য ও চন্দ্রের উপর পৃথিবীর ছায়া পড়ার মহাজাগতিক ঘটনা।
বিপরীত শব্দ । খোলা—বন্ধ। দেশ-বিদেশ। আড়ালে-সম্মুখে। দূর- নিকট। আনন্দ-নিরানন্দ। শেষ -শুরু।শুয়ে- উঠে। জুড়ে—ছেড়ে। পড়া-লেখা। গরম-ঠাণ্ডা। সহজ-কঠিন। বিশ্রী-সুশ্রী। ছায়া-রৌদ্র । খোঁজ নিখোঁজ, নীচে উপরে। ঢোকা–বেরোনো। অর্ধেক সম্পূর্ণ।
বাক্য রচনা করোঃ ছুটি, পাহাড়, মূর্তি, সবুজ, বিবাগি, চিল, ফেরিওয়ালা, জল, আকাশ, পুকুর।
ছুটি- রবিবার বিদ্যালয় ছুটি থাকে।
মূর্তি- কৃষ্ণনগরের মাটির তৈরি মূর্তি বিখ্যাত।
পাহাড়— দার্জিলিং এ অনেক পাহাড় দেখা যায়।
সবুজ— আমাদের বিদ্যালয়ের বাগান সবুজ ঘাসে ভরা।
বিবাগি- রতনের দাদা বিবাগি হয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।
জল–গরমকালে ঠান্ডা জল ঢেলে স্নান করতে খুব আরাম।
চিল-দুপুরের আকাশে চিল উড়ে বেড়ায়।
আকাশ — শরৎকালে ঘন নীল আকাশে সাদা তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়ায়।
ফেরিওয়ালা - আমাদের পাড়ায় রোজ ফেরিওয়ালা আসে।
পুকুর–আমাদের গ্রামে অনেকগুলি পুকুর আছে।
অনুশীলনীর প্রশ্ন ও উত্তর
হাতে-কলমে
১. ঠিক উত্তরটি বেছে নিয়ে লেখো ৪
১.১ 'চিলেকোঠা' হল (কাঠের ঘর/ তেতলার ঘর ছাদের উপরে সিঁড়ির ঘর/ বসবার ঘর)।
উঃ। 'চিলেকোঠা' হল ছাদের উপরে সিঁড়ির ঘর।
১.২ ভারতবর্ষের বিখ্যাত মরুভূমিটি হল (গোবি/ সাহারা/থর)।
উঃ। ভারতবর্ষের বিখ্যাত মরুভূমিটি হল থর মরুভূমি।
১.৩ লিভিংস্টন ছিলেন (ইতালি/জার্মানি/ইংল্যান্ড / স্কটল্যান্ড) দেশের মানুষ।
উঃ। লিভিংস্টন ছিলেন স্কটল্যান্ড দেশের মানুষ।
১-৪ জুড়িগাড়ি হল (ঘোড়ায় টানা/ছাতিতে টান!/ যন্ত্রচালিত। গৌরুতে টানা) গাড়ি।
উঃ। জুড়িগাড়ি হল ঘোড়ায় টানা গড়ি।
৩. কোনটি বেমানান খুঁজে নিয়ে লেখো :
৩.১ পুকুরের পাতিহাঁস, ঘাটে লোকজনের আনাগোনা, অর্ধেক পুকুর জোড়া বটগাছের ছায়া, জুড়িগাড়ির সইস।
উঃ। জুড়িগাড়ির সইস।
৩.২ তেতালা ঘর, সাত সমুদ্দুর, সেকেন্ড ক্লাস, শিলপেগাড়ি।
৩.৩ চুড়িওয়ালা, ফেরিওয়ালা, সইস, বালক সন্ন্যাসী।
৩.৪ পিলাপেগাড়ি, জুড়িগাড়ি, রিকশ, গাড়িবারান্দা।
৩.৫ চিল, রোদ্দুর, দুপুর, লোকবসতি।
উঃ। সাত সমুদ্দুর।
উঃ। বালক সন্নাসী।
উঃ। গাড়িবারান্দা।
উঃ। লোকবসতি।
৪. তোমার পাঠ্যে রয়েছে এমন পাঁচটি ইংরেজি শব্দ খুঁজে নিয়ে দেখো।
উঃ। রেলিং, সোফা, সেকেন্ড, ওয়েসিস, লিভিংস্টন।
৫. 'চুড়িওয়ালা' (চুড়ি + ওয়ালা), 'ফেরিওয়ালা' (ফেরি + ওয়ালা) এরকম শব্দের শেষে 'ওয়ালা' যোগ করে
পাঁচটি নতুন শব্দ তৈরি করো।
উঃ। 'বাসনওয়ালা-বাসন + ওয়ালা।
'মাছওয়ালা'—মাছ + ওয়ালা।
‘সবজিওয়ালা'—সবজি + ওয়ালা।
৮. ক্রিয়ার নীচে দাগ দাও:
৮.১ হঠাৎ তাদের হাঁক, পৌঁছত।
৮.২ সেইখানে অত্যন্ত একলা হয়ে বসতুম।
৮.৩ হাত গলিয়ে ঘরের ছিটকিনি দিতুম খুলে।
৮.৪ ধারাজল পড়ত সকল গায়ে।
৮.৫ পুকুর থেকে পাতিহাঁসগুলো উঠে গিয়েছে। উঃ।
● ডেভিড লিভিংস্টন সম্বন্ধে যা জানো লেখো।
উঃ। ইংল্যান্ড দেশের পাশেই ছোটো একটা দেশ স্কটল্যান্ড। সে দেশের লোক ছিলেন ডেভিড লিভিংস্টন। ইউরোপের
মানুষদের মধ্যে তিনিই প্রথম দক্ষিণ আর মধ্য আফ্রিশ্বর অনেকানি অংশে অভিযান করেছিলেন। নীলনদের উৎসস্থল
টাঙ্গানিকা হ্রদ আর ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত অবধি পৌঁছানোর কৃতিত্ব ছিল তাঁরই। জাম্বেসি ও কঙ্গো নদীপথ ধরে তাঁর
অভিযান পৃথিবীর অভিযাত্রার ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছে।
৯. বাক্য রচনা করো: প্রধান, দেশ, বালিশ, মরুভূমি, ধুলো
উঃ। প্রধান- আমাদের বাড়িতে আমার বাবা হলেন পরিবারের প্রধান।
দেশ—ভারতবর্ষ আমাদের দেশ।
বালিশ—বালিশ নরম হলে ঘুমোতে ভারী আরাম। মরুভূমি—বিশ্বের বৃহত্তম মরুভূমি হল সাহারা।
ধুলো-ঝড় উঠলে চারপাশে ধুলো ভরে যায়।
১০. 'গ্রহণ' শব্দটিকে দুটি আলাদা অর্থে ব্যবহার করে পৃথক বাক্য রচনা করো।
উঃ। গ্রহণ—বাবা বলেছেন ভালোবাসার দান সর্বদা গ্রহণ করা উচিত ।
গ্রহণ—আগামী সোমবার সকালে সূর্যগ্রহণ
হবে।
১১. বিপরীতার্থক শব্দ লেখো ও আড়াল, চুপ, আনন্দ, গলি, ফিকে।
উঃ। আড়াল-খোলা। চুপ–আওয়াজ। আনন্দ-দুঃখ। গলি-বড়োরাস্তা। ফিকে- ঘন
১২. অর্থ লেখো মূর্তি, পিলপেগাড়ি, বিবাগী, নাগাল, দেউড়ি।
উঃ। মূর্তি–পাথর, মাটি নির্মিত কোনো প্রাণী বা বস্তুর প্রতিকৃতি। বিবাগি—হতাশ।
পিলপেগাড়ি—হাতিতে টানা গাড়ি।দেউড়ি—সদর দরজা।
নাগাল—কোনো কিছু পর্যন্ত পৌঁছন।
১৩. প্রতিশব্দ লেখো পৃথিবী, পাহাড়, আকশ, জল, গাছ।
উঃ। পৃথিবী- ধরা, ধরিত্রী, বসুন্ধরা, বসুধা।
পাহাড়- পর্বত, গিরি, নগ।
আকাশ- গগন, নভঃ, অম্বর।
জল–বারি, অম্বু, সলিল, নীর।
গাছ—বৃক্ষ, তরু, মহীরুহ।
১৪. দুটি বাক্যে ভেঙে লেখো :-
১৪.১ আমার পিতা যখন বাড়ি থাকতেন তাঁর জায়গা ছিল তেতালার ঘরে।
উঃ। আমার পিতা মাঝে মাঝে বাড়ি থাকতেন। তার জায়গা ছিল তেতালার ঘরে।
১৪.২ আমি লুকিয়ে ছাদে উঠতুম প্রায়ই দুপুর বেলায়।
উঃ। আমি লুকিয়ে ছাদে উঠতুম। প্রায়ই দুপুর বেলা ছাদে উঠতুম।
১৪.৩ হঠাৎ তাদের হাঁক পৌঁছত, যেখানে বালিশের উপর খোলাচুল এলিয়ে দিয়ে শুয়ে থাকত বাড়ির বউ।
উঃ। হঠাৎ তাদের হাঁক গিয়ে পৌঁছত। বালিশের উপর খোলাচুল এলিয়ে দিয়ে শুয়ে থাকত বাড়ির বউ।
১৪.৪ বিছানার একখানা চাদর নিয়ে গা মুছে সহজ মানুষ হয়ে বসতুম।
উঃ। বিছানার একখানা চাদর নিয়ে গা মুছতুম। সহজ মানুষ হয়ে বসতুম।
১৪.৫ গরম বাতাস হু হু করে ছুটে যাচ্ছে ধুলো উড়িয়ে।
উঃ। গরম বাতাস হু হু করে ছুটে যাচ্ছে। ধুলো উড়ছে।
১৫.১ কলকাতায় রবীন্দ্রনাথের বাড়িটি কী নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত?
উঃ। কলবাভায় রবীন্দ্রনাথের বাড়িটি বিশ্বজুড়ে ঠাকুরবাড়ি নামে পরিচিত।
১৫.২ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটোদের জন্য লিখেছেন এমন দুটি বইয়ের নাম দেখো।
উঃ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছোটদের জন্য লিখেছেন এমন দুটি বই হল' 'শিশু' ও 'ছেলেবেলা'।
১৫.৩ ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত কোন্ দুটি পত্রিকায় তিনি নিয়মিত লিখতেন?
উঃ ঠাকুরবাড়ি থেকে প্রকাশিত 'ভারতী' ও 'বালক' পরিবার তিনি নিয়মিত লিখছেন।
১৬. নীচের প্রশ্নগুলির উত্তর নিজের ভাষায় লেখো
১৬.১ বালক রবীন্দ্রনাথের প্রধান ছুটির দেশ কী ছিল?
বালক রবীন্দ্রনাথের প্রধান ছুটির দেশ ছিল তাদের বাড়ির বাইরের খেলা ছাদ।
১৬.২ তার বাড়ির নীচতলায় বারান্দায় বসে রেলিঙের ফাঁক দিয়ে কী কী দেখা যেত?
উঃ। তাঁর বাড়ির নীচতলায় বারান্দায় বসে রেলিংয়ের ফাঁক দিয়ে দিয়ে রাস্তার লোক চলাচল দেখা যেত।
১৬.৩ পাঠ্যাংশে 'ওয়েসিস' এর প্রসঙ্গ কীভাবে রয়েছে?
উঃ। গরমকালে যখন ছাদের উপর দিয়ে হুহু করে মরুভূমির মতো গরম বাতাস বয়ে যেত, তখন সেই মরুভূমির মধ্যে তেতালার ঘরের নাবার অর্থাৎ স্নান করার ঘরটাকে বালক রবীন্দ্রনাথের মনে হয়েছিল ওয়েসিস বা একটি মরুদ্যান।
১৩.৪ পাঠ্যাংশে রবীন্দ্রনাথের পিতার সম্পর্কে
উঃ। রবীন্দ্রনাথের পিতা ছিলেন ধার্মিক প্রকৃতির মানুষ। ভোরবেলা সূর্য ওঠার আগে তিনি হাত দুটি কোলে জড়ো করে পাথরের মূর্তির মতো ছাদে চুপ করে বসে থাকতেন। মাঝে মাঝে অনেকদিনের জন্য তিনি পাহাড় পর্বতে চলে যেতেন।
১৬.৫ পিতার কলম্বরের প্রতি ছোট্ট রবির আকর্ষণের কথা কীভাবে জানা গেল?
উঃ। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড গরমে ছোট্ট রবি তার বাবার স্নানের ঘরটাকে মনে করত যেন মরুভূমির মধ্যে একখানি ওয়েসিস
বা মরূদ্যান। সে সেই ঘরটাকে লিভিংস্টন-এর মতো নতুন বেশ খুঁজে বের করে আনন্দ পেত। সেখানে গিয়ে সে কল খুলে দিত, সারা গায়ে তার ধারাজল পড়তো, স্নান করে, বিছানার চাদরে গা মুছে ছোট্ট রবি সোফায় এসে বসত।
১৬.৬ ছুটি শেষের দিকে এসে পৌঁছলে রবির মনের ভাব কেমন হত?
উঃ। ছুটি শেষের দিকে এসে পৌঁছলে রবির মনে হত রবিবারের বিকেলের আকাশের মুখটা বিশ্রীরকম বিগড়ে গেছে, তাকে যেন সোমবারের হাঁ করা মুখের গ্রহণ লাগানো হার গিলতে আসছে।
১৬.৭ পাঠাংশে কাকে, কেন বাংলাদেশের শিশু লিভিংস্টন' বলা হয়েছে?
উঃ। পাঠ্যাংশে ছোটো রবিকে বাংলাদেশের শিশু 'লিভিংস্টন' বলা হয়েছে। কারণ ডেভিড লিভিংস্টনের আবিষ্কারের মতো ছোট্ট রবিও যেন ছাদের ঘরে 'ওয়েসিস বা মরুদ্যান আবিষ্কার করেছিল।
১৬.৮ তুমি যখন আরও ছোটো ছিলে তোমার দিন তখন কীভাবে কাটত, তোমার চারপাশের প্রকৃতি কেমন ছিল ?
উঃ। আমি যখন ছোটো ছিলাম তখন আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগত ঠাকুমার কাছে গল্প শুনতে। হাতি, ঘোড়া, রাক্ষস-খোকস, রাজপুত্র, রাজকন্যা, রাজা-রানির গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়তাম। আমার ছেলেবেলাতে আমাদের গ্রামের
চারপাশে অনেক গাছপালা, পুকুর ছিল। সন্ধের পর ঝোপেঝাড়ে শেয়ালও ডাকত। সেই ডাক শুনে ভয়ে মা-ঠাকুমার কোলের মধ্যে গিয়ে বসতাম। সেই সময় আমাদের পরিবার বড়ো ছিল। বাবা, জেঠু সবাই একসাথেই থাকতাম। ছুটির দিনে বিকেল হলে সব ভাই-বোন মিলে একসাথে খেলা হত। রাতে সকলের সঙ্গে খেতে বসে নানারকম গল্প হত। এইভাবে পড়া, খেলা, গল্প ও বড়োদের স্নেহ-ভালোবাসায় আমার ছোটোবেলার দিনগুলি কাটতো।
পাঠ মূল্যায়নের জন্য অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর:-
অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তরঃ
১. কোন সময়টা বালক রবীন্দ্রনাথের মন ভুলিয়ে নিত?
উঃ। দুপুর বেলাটা বালক রবীন্দ্রনাথের মন ভুলিয়ে নিত।
২. রবীন্দ্রনাথের পিতা মাঝে মাঝে কোথায় চলে যেতেন?
উঃ। রবীন্দ্রনাথের পিতা মাঝে মাঝে অনেক দিনের জন্য পাহাড়-পর্বতে চলে যেতেন।
৩. রবীন্দ্রনাথের পিতা ছাদে কীভাবে বসে থাকতেন?
উঃ। রবীন্দ্রনাথের পিতা ছাদে ন সাদা পাথরের মূর্তির মতো কোলে হাতজোড় করে বসে থাকতেন।
৪. ছোটো বয়স পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের ছুটির দিনগুলি কোথায় কেটেছে?
উঃ। ছোটো বয়স পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের ছুটির দিনগুলি ছাদে কেটেছে।
৫. ছাদে উঠে কোন জিনিসটি পেরিয়ে যাওয়া যায়?
উঃ ছাদে উঠে লোকবসতির পিগপেগাড়ি পেরিয়ে যাওয়া যায়।
৬. বালক রবীন্দ্রনাথ কীভাবে ঘরের ছিটকিনি খুলতেন?
উঃ। বালক রবীন্দ্রনাথ গড়খড়ির ভিতর দিয়ে হাত গলিয়ে ঘরের ছিটকিনি খুলতেন।
৭. বালক রবি তেতলার ঘরে কোথায় গিয়ে বসত?
উঃ। বালক রবি তেতলার ঘরে দরজার সামনে রাখা একটা সোফায় গিয়ে বসত।
৮. কারা গা মোড়া দিতে দিতে মাদুরে শুয়ে পড়েছে?
উঃ। ছোট্ট রবিকে পাহারা দেবার দায়িত্ব যাদের সেই চৌকিদারেরা গা মোড়া দিতে দিতে মাদুরে শুয়ে পড়েছে।
৯. নিস্তদ্ধ দুপুরবেলায় বালক রবীন্দ্রনাথ বাড়ির সামনের গলি দিয়ে কার হাঁক দিয়ে যাওয়া শুনতে পেতেন?
উঃ। সামনের গলি দিয়ে হাঁক দিয়ে যাওয়া চুড়িওয়ালার ডাক তিনি শুনতে পেতেন।
১০. বালিশে খোলা চুল এলিয়ে দিয়ে কারা শুয়ে থাকত?
উঃ। বালিশে খোলা চুল এলিয়ে দিয়ে বাড়ির বউরা শুয়ে থাকত।
১১. সেদিনকার সেই বউরা আজকের দিনে কী করছে বলে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন?
উঃ। সেদিনকার সেই বউরা আজকের দিনে সেকেন্ড ক্লাসের পড়া মুখস্ত করছে।
১২. সেই চুড়িওয়ালা আজকের দিনে কী করে?
উঃ। সেই চুড়িওয়ালা আজকের দিনে হয়তো রিকশা ঠেলে।
১৩. বালক রবীন্দ্রনাথের বাড়ির নীচতলার বারান্দায় বসে রেলিঙের ফাঁক দিয়ে কী কী দেখা যেত?
উঃ। বাড়ির নীচুতলার বারান্দায় বসে রেলিঙের ফাঁক দিয়ে রাস্তার লোক চলাচল দেখা যেত।
১৪. ছাদের মরুভূমির ওয়েসিসটি আসলে কী ছিল?
উঃ। ছাদের মরুভূমির ওয়েসিসটি আসলে ছিল বালক রবীন্দ্রনাথের পিতার স্নানের ঘর ।
১৫. কী দিয়ে গা মুছে বালক রবি সহজ মানুষ হয়ে বসত?
উঃ। বিছানার চাদর দিয়ে গা মুছে বালক রবি সহজ মানুষ হয়ে বসত।
১৬. চিলেকোঠা কাকে বলে?
উঃ। উঁচু পাকাবাড়ির ছাদের একমাত্র ঘরটিতে চিলেকোঠা বলা হয়।
১৭, রবিবারের বিকেলের আকাশটা কেমনভাবে থাকত?
উঃ। রবিবারের বিকেলের আকাশটা বিশ্রী রকমের মূখ বিগড়ে থাকত।
১৮. কে আকাশটাকে গিলতে আসত?
উঃ। রবিবারের ছুটির পর আসতে থাকা সোমবারের হাঁ করা মুখের গ্রহণ লাগানো ছায়া আকাশটাকে গিলতে আসত।
১৯. নীচে ততক্ষণে কার খোঁজ পড়ে যেত?
উঃ। নীচে ততক্ষণে পাহারা-এড়ানো ছেলেটির খোঁজ পড়ে যেত।
২০. কারা ততক্ষণে পুকুর থেকে উঠে যেত?
উঃ। পাতিহাঁসগুলো ততক্ষণে পুকুর থেকে উঠে যেত।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর :
১. 'চিলেকোঠার আড়ালে দাঁড়িয়ে - কতদিন দেখেছি' ...... কে কী দেখতেন?
উঃ। বালক রবীন্দ্রনাথের পিতা যখন বাড়িতে থাকতেন তখন তাঁর জায়গা ছিল তেতালার ঘরে। চিলেকোঠার আড়াল
থেকে বালক রবীন্দ্রনাথ দেখতেন সূর্য ওঠার আগেই তাঁর পিতা কোলে দুটি হাত জড়ো করে সাদা পাথরের মূর্তির মতো ছাদে চুপ করে বসে আছেন।
২. 'ছাদটি ছিল আমার কেতাবে পড়া ......। বালক রবীন্দ্রনাথের কাছে ছাদটি কেমন ছিল?
উঃ। তেতালার ছাদটি লেখক রবীন্দ্রনাথের কাছে বইয়ে পড়া মরুভূমির মতো মনে হত। চারদিক ধু ধু করত, হু হু করে গরম বাতাস ধুলো উড়িয়ে ছুটে যেত। আকাশের নীল রং ফিকে হয়ে আসত।
৩. “এই ছাদের মরুভূমিতে তখন একটা ওয়েসিস দেখা দিয়েছিল।”- ওয়েসিস কথাটির অর্থ কী? এখানে ওয়েসিসটি
কী? সেখানে বালক রবীন্দ্রনাথ কী করতেন?
উঃ। ওয়েসিস কথাটির অর্থ হল মরুদ্যান।
এখানে ওয়েসিসটি আসলে হল রবীন্দ্রনাথের পিতার তেতালার স্নানের ঘর।
তখনকার দিনে তেতালার ঘরেও কলের জল পৌঁছত। বালক রবীন্দ্রনাথ সেই স্নানের ঘরে ঢুকে কল খুলে দিতেন, গায়ে ধারাজল পড়ত। তিনি স্থান করে বিছানার একখানা চাদর দিয়ে গা মুছে সহজ হয়ে বসতেন।
৪. 'সেদিনকার সেই বউ আজকের দিনে...।'- সেদিনকার ও আজকের বউদের সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ কী বলেছেন
এবং তার অর্থ কী?
উঃ। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন সেদিনকার সেই বউরা আজকের দিনে এখনও বউ হয়নি। তার সেকেন্ড ক্লাসে পড়া মুখস্থ করছে।
এই বাক্যটিতে লেখক রবীন্দ্রনাথ বোঝাতে চেয়েছেন সেই সময় অনেক কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যেত।
আজকের দিনে যা অসম্ভব। সেকেন্ড ক্লাসে পড়ার মতো বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হত।
৬. 'সামনের গলি দিয়ে হেঁকে যেত চুড়িওয়ালা।' – চুড়িওয়ালা কখন আসত? সে কী করত?
উঃ। যখন রোদ্দুর রাঙা হয়ে আসত, তখন সামনের গলি দিয়ে চুড়িওয়ালা হেঁকে যেত। তাদের হাঁক শুনে বালিশের
ওপর খোলাচুল এলিয়ে শুয়ে থাকা বাড়ির বউরা দাসীদের দিয়ে তাদের ডেকে পাঠাত। বুড়ো চুড়িওয়ালা এসে বাড়ির
বউদের কচি হাত টিপে টিপে তাদের পছন্দ মতো বেলোয়াড়ি চুড়ি পরিয়ে দিত।
৭. 'নীচের দিকে দেখলুম তাকিয়ে...'। নীচের দিকে তাকিয়ে লেখক কী কী দেখতেন? কী শুনতেন?
উঃ। দিনের আলো যখন ঘোলা হয়ে আসত, তখন লেখক রবীন্দ্রনাথ নীচের দিকে তাকিয়ে দেখতেন পুকুর থেকে পাতি হাঁসগুলো উঠে গিয়েছে, লোকজনের আনাগোনা শুরু হয়েছে ঘাটেতে আর বট গাছের ছায়া টা অর্ধেক পুকুর জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। রাস্তা থেকে জুড়ি গাড়ির সহিসের হাঁক শোনা যাচ্ছে ।
মন্তব্যসমূহ