দিনলিপি
‘দিনলিপি’ লেখা হল সাল-তারিখ উল্লেখ করে প্রতিদিনের ঘটনা বলি পরম্পরা মেনে লিখে ফেলা। দিনলিপি’ নিয়মিত লেখার অভ্যাস করাই ভালো, কেননা এক-দুদিন পরে লিখতে বসলে দেখা যায় অনেক ঘটনাই আবছা হয়ে গেছে কিংবা ওলোটপালট হয়ে গেছে। দিনলিপি লেখার অভ্যাস ভাষার ওপর দখল তৈরি করে, নিজের অভিজ্ঞতাকে স্পষ্ট ভাষায় লেখার সাহস যোগায়। নিজের জীবনের একটা ইতিহাস এই দিনলিপিতে ধরা থাকে। অনেক বছর পরে বড়ো হয়ে সেই দিনলিপি পড়লে তা অনুধাবন করা যায়।
দিনলিপি লেখার জন্য প্রত্যেক দিন এবং সালের উল্লেখ থাকা একটি 'ডায়রি' জোগাড় করা দরকার। খাতাতেও লেখা যেতে পারে, তবে তাতে ৩৬৫ দিনের সাল-তারিখ নিজেদের লিখে নিতে হবে। ছোটো লেখা হলেও দিনলিপি প্রতিদিন লিখতে হয়, যাতে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। সারদিনের কোনো অভিজ্ঞতাকেই সাধারণ বলে উপেক্ষা করা যায় না। দিনলিপি লেখার সময় কোনো কথাই বানিয়ে লেখা উচিত নয়। নিজস্ব কোনো অনুভূতি বা অভিজ্ঞতাও সেখানে অকপটে লিখে রাখা উচিত।
দিনলিপি হল নিজের সঙ্গে কথা বলার একটি পরিসর। তাই সেখানে কোনো জাড়াল বা গোপনীয়তা না রাখাই ভালো। দিনলিপি থেকে, পরে অনেক কথা জানা যায়। বিভিন্ন সালের বিশেষ বিশেষ দিনটি তোমরা কেমনভাবে কাটিয়েছিলে, কী ভেবেছিলে, কী শপথই বা নিয়েছিলে তার সবই এতে ধরা থাকে। হতে পারে তা তোমার জন্মদিন বা সামাজিক বা একটি ধর্মীয় উৎসবের দিন, কোন দুখের দিন বা আনন্দের দিন ।
দিনলিপি-র একটি অন্য মজাও রয়েছে। মিলিয়ে দেখবে কোনো একজন মানুষের দিনলিপি অন্য একজনের থেকে অনেকটাই আলাদা। ফলে কারোর দিনলিপি দেখে হুবহু লেখা যায় না। অনেক বিখ্যাত মানুষ লেখক, সাহিত্যিকরা দিনলিপি লিখেছেন। যেমন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। তাঁদের লেখা দিনলিপি পড়লে এ বিষয়ে একটা ধারণা তৈরি হতে পারে। দিনলিপি নিয়মিত লিখতে গিয়ে বুঝতে পারবে এটা বেশ একটি আনন্দদায়ক অনুশীলন। তাই বছরের গোড়া থেকেই দিনলিপি লেখার অভ্যাস তৈরি করে ফেলো। তবে মনে রেখো, দিনলিপিতে সাল ও তারিখ ওপরে থাকতেই হবে আর কোনোভাবেই অন্যের লেখা বা বইয়ের লেখা মুখস্থ করে তোমরা দিনলিপি লিখবে না।
হাতে-কলমে
১. তোমার জন্মদিন তুমি কীভাবে কাটিয়েছ, “দিনলিপি'-র আকারে লেখো:
উ:
২. সরস্বতী পূজা তুমি কীভাবে কাটিয়েছ, “দিনলিপি'-র আকারে লেখো:
১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সাল
আজ সরস্বতী পূজা। আজকের দিনটা আমার খুব প্রিয়, আজ ভোর ৫.৩০ মিনিটে ঘুম থেকে উঠলাম। প্রচণ্ড শীতে কাঁপতে কাঁপতে কোনোরকমে স্নান করলাম। আমাদের বাড়িতেও পূজার আয়োজন হয়েছে। ঠাকুরঘরে নতুন জামা পরে গিয়ে দেখলাম যে ঠাকুরমশাই পূজা শুরু করে দিয়েছেন। মা, কাকিমার কাছে বসে ধুনো ধরালাম। তারপর বাড়িতে অঞ্জলি দিলাম। সকাল ১টা নাগাদ পূজা শেষ হতেই আমি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্কুলে গেলাম। বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য মন ছটফট করছিল। গোটা স্কুলময় বন্ধুদের সঙ্গে হইচই করে কাটালাম। বেলা ১টা নাগাদ স্কুলে খিচুড়ি, চচ্চড়ি, কুলের চাটনি , পায়েস ভোগ আর মিষ্টি খেলাম। তারপর বিকেল ৪টে নাগাদ বাড়ি ফিরে এলাম। সারাদিন উত্তেজনা আর আনন্দের মধ্যে দিয়ে দিনটা কেটে গেল।
৩. সবেবরাত - তুমি কীভাবে কাটিয়েছ, “দিনলিপি'-র আকারে লেখো:
৪. জিশুখ্রিস্টের জন্মদিন - তুমি কীভাবে কাটিয়েছ, “দিনলিপি'-র আকারে লেখো:
২৫ ডিসেম্বর, ২০১৯
আজ বড়োদিন (বড়দিন) । মহামানব যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন। ছুটির দিন থাকায় আজ একটু বেলা করে ঘুম থেকে উঠলাম। বার্ষিকপরীক্ষা শেষ তাই এখন পড়ার চাপ নেই। জলখাবার খেয়ে একটু টিভিতে কাটুন দেখতে বসলাম। একটু বাদেই বাবা একটি বড়ো ফ্রুট কেক, চকলেট আর কমলালেবু নিয়ে এলেন। আনন্দ করে কেক খেলাম। মায়ের কাছে শুনলাম সন্ধেবেলা বাবা আমাদের চার্চে নিয়ে যাবেন। মনটা আনন্দে ছটফট করছিল। বিকেল ৫টায়, বাবা-মা আমিও বোন বেড়াতে গেলাম চার্চে। সেখানে অনেক মানুষের ভিড়। আমরা কয়েকটি গোলাপ ফুল আর মোমবাতি কিনে চার্চের ভিতরে ঢুকলাম। আলো, মোমবাতি আর ফুলে সাজানো মহামানব যিশুর মূর্তি, তার সঙ্গে মা মেরী। আমি মোমবাতি জ্বেলে প্রণাম করলাম। সেখানে যিশুর জীবনীর বই পাওয়া যাচ্ছিল আমি একটা বই নিলাম, দোকানদার আমাকে একটি ইংরেজি ক্যালেন্ডার উপহার দিলেন, সন্ধ্যায় রাস্তায় নানা ধরনের আলোকমালায় সাজানো দেখতে দেখতে বাড়ি ফিরলাম। রাস্তায় দেখালাম উৎসবের আনন্দ। খুবই ভালো লাগলো। আনন্দ ও উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে আজকের দিনটা কাটালাম।
৫. বুদ্ধজয়ন্তী- তুমি কীভাবে কাটিয়েছ, “দিনলিপি'-র আকারে লেখো:
উ:
১২ জুলাই ২০১৯
আজ বুদ্ধপূর্ণিমা, মহামানব গৌতম বুদ্ধের জন্মদিন। আজ আমাদের বিদ্যালয় ছুটি ছিল। ছুটির দিন হলেও খুব একটা হইচই করতে পারলাম না। কারণ ঘুম থেকে উঠেই শুনলাম বাড়িতে নারায়ণ পুজো রয়েছে। একটু বেলার দিকে পূজা হল, প্রসাদ খেলাম। আমি ও ভাই মিলে পাশাপাশি বাড়িতে প্রসাদ দিয়ে এলাম। "শহরে কোথায় বুদ্ধজয়ন্তী কোথায় পালিত হয়"- বাবাকে এই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করায়, বাবা বললেন, বিকেলে এইরকমই একটি অনুষ্ঠানে আমাদের দুই ভাইকে তিনি নিয়ে যাবেন, আরও জানালেন যে চিন দেশে আজ বড় করে পালন করা হয় বুদ্ধজয়ন্তী । সন্ধে ৬টা নাগাদ বাবার সঙ্গে গেলাম দমদম মহাবোধি সোসাইটি আয়োজিত বুদ্ধজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে, দেখলাম খুব সুন্দর করে ফুল ও আলোকসজ্জায় সোসাইটির ভবনটি সাজানো হয়েছে। একটি ধর্মীয় সভা চলছে। সেখানে বসে আছেন কয়েকজন বৌদ্ধ সন্ন্যাসী এবং কয়েকজন গণমান্য ব্যক্তি। চিনতে পারলাম তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আমাদের মহামান্য রাজ্যপাল, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী। সভাগৃহে বাবার সাথে বসলাম। শান্ত ও সুন্দর পরিবেশ মনটা ভরিয়ে দিল। রাত ৮টা, সভা শেষ হওয়ার পর এক অন্যরকম অনুভূতি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে একটু চাইনিজ খাবার খেয়ে ফিরলাম । আজকে দিনটা খুব ভালো কাটলো ।
৬. মহাবীর জয়ন্তী - তুমি কীভাবে কাটিয়েছ, “দিনলিপি'-র আকারে লেখো:
উ: নিজেরা লিখতে চেষ্টা করো।
৭. উল্লেখযোগ্য ঘটনাবিহীন একটি দিন - “দিনলিপি'-র আকারে লেখো:
উ : নিজের অভিজ্ঞতা থেকে লেখো
৮. বাংলা নববর্ষ - তুমি কীভাবে কাটিয়েছ, “দিনলিপি'-র আকারে লেখো:
উ:
১৪ এপ্রিল ২০২২ সাল
আজ ১লা বৈশাখ। বাংলা নববর্ষ উৎসব। বাঙালির খুব প্রিয় ও শুভ একটি দিন। ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠলাম। স্নান সেরে ,মা নতুন জামাকাপড় পরিয়ে দিলেন। বেশ ভালো লাগল একটা নতুন জামাপ্যান্ট পেলাম। বারান্দা থেকে দেখলাম পাড়ার অনেক দোকানে আমপাতা ও কদমফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে, সেখানে নতুন খাতার পুজো চলছে, মিষ্টির প্যাকেট ও ঠাণ্ডা পানীয়তে দোকানগুলি ভরে আছে । আজ দুপুরে বাড়িতে বেশ অনেকরকম রান্না হয়েছিল, মাছ-মাংস, আমের চাটনি, দই- বেশ জমিয়ে খাওয়াদাওয়া হল। সন্ধে ৬ঃ৩০ টা নাগাদ বাবা ও মায়ের সঙ্গে বেরোলাম। পাড়ায় প্রচুর দোকানপাট আলো ও ফুল দিয়ে সাজানো। কয়েকটি দোকানে আগত অতিথিদের বেশ ভিড়। নানা বিপণীর দোকানেদেখলাম অতিথি আপ্যায়নের জন্য সরবত, কোল্ড ড্রিঙ্ক ও মিষ্টির প্যাকেট দিচ্ছে সঙ্গে রয়েছে বাংলা ক্যালেন্ডার। তবে সেই বাংলা ক্যালেন্ডার কি কাজে লাগবে তা বুঝতে পারলাম না। এখন তো সব তারিখ ইংরেজিতে লেখা হয় । দুটি দোকানে আমরাও গেলাম। রাত ৯টা নাগাদ বাড়ি ফিরে এলাম। অত্যন্ত আনন্দের সাথে ১লা বৈশাখ দিনটি।
মন্তব্যসমূহ